• December 9, 2021

“মঈনুল হক এবং শেখ ফরিদের মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে হত্যাকাণ্ড” – সিপিআই(এমএল) লিবারেশন

 “মঈনুল হক এবং শেখ ফরিদের মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে হত্যাকাণ্ড” – সিপিআই(এমএল) লিবারেশন

(২৬ সেপ্টেম্বর সিপিআই(এমএল) লিবারেশন পার্টির পক্ষ থেকে আসামের ঘটনায় একটি তথ্য অনুসন্ধানী দল আসামে গিয়ে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং করে যা দেখেন এবং তাদের দলের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয় তা নিম্নে দেওয়া হল)

সিপিআই(এমএল) লিবারেশন টিম আসামের দরং জেলার ধলপুরে কুখ্যাত উচ্ছেদক্রিয়া ও হত্যার স্থান পরিদর্শন করেছে। দলে ছিলেন পলিটব্যুরোর সদস্য কবিতা কৃষ্ণান, বিহারের সিপিআই(এমএল) বিধায়ক রামবলি সিং যাদব, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং কর্ণাটক রাজ্য সম্পাদক ক্লিফটন ডি’রোজারিও, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং আসাম রাজ্য কমিটির সদস্য বালিন্দ্র সাইকিয়া। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিহারের যুব কর্মী রবি রঞ্জন, এআইকেএস নেতা জয়ন্ত গগৈ, জিপাল কৃষক শ্রমিক সংঘের নেতা প্রণব দোলে, সংগ্রামী কৃষক শ্রমিক সংঘের নেতা দীনেশ দাস এবং জহিরুল ইসলাম।

দলের প্রাপ্ত তথ্য: মঈনুল হককে হত্যা করা হয়েছে

● আসাম পুলিশের গুলিতে নিহত মঈনুল হকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমরা দেখা করেছি। আমরা তাঁর ছোট মেয়ে এবং ছেলের সাথে দেখা করেছি। মেয়েটি অসহনীয় কাঁদছিল এবং ঘটনার পর থেকে তার খাওয়া বা পান করার কিছু ছিল না। পরিবার এবং সম্প্রদায়, বিশেষ করে শিশুরা মানসিক এবং শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পড়েছেন। পুরো পরিবার টিনের একটি অস্থায়ী টুকরোর নিচে বসবাস করছে।

● আমরা মঈনুল হকের বাড়ির কাছাকাছি আরও দুটি বাড়ি দেখেছি, যেগুলো শুধু ভেঙে দেওয়া হয়নি বরং পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

● মঈনুল পুলিশ ও ডিএম অফিসের সাথে যুক্ত “ফটোগ্রাফার”-এর অগ্নিসংযোগ ও গুলির হাত থেকে তাঁর বাড়িকে রক্ষা করছিলেন। কেবল একটা লাঠি হাতে একাকী একটা লোকের ওপর আসাম পুলিশের ১৭ জনের সশস্ত্র বাহিনীর ঘিরে ধরে গুলি চালানোকে আর কীভাবে যুক্তিযুক্ত করা যায়? এটি ভিড় নিয়ন্ত্রণ নয়, এটি “এনকাউন্টার” নয়, এটি একটি হত্যা।

অবৈধ উচ্ছেদ

● কাউকে কাউকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে আগের রাতে হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে, কেউ কেউ উচ্ছেদের পরে নোটিশ পেয়েছেন এবং কেউ কেউ এখনও নোটিশ পাননি।

● যথাযথভাবে বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে জোর করে উচ্ছেদ করার পেছনে কীসের তাড়া ছিল?

“দখলদার” নয়, নদী ভাঙনে উদ্বাস্তু কৃষক

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের কাছে ১৯৭৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির নিষ্পত্তির(সেটেলমেন্ট) কাগজপত্র রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে তাঁরা দখলি-কর প্রদান করে আসছেন। সরকার আঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং স্কুল ইত্যাদি স্থাপন করেছে। যখন নদী তাঁদের জমি প্লাবিত করে তখন তাঁরা সরকারী জমিতে স্থানান্তরিত হন। এই ধরনের ঘরবাড়িগুলিকে কীভাবে “জবর দখল” বলা যেতে পারে?

অন্যায় ভূমি নীতি, লাভ শুধু কর্পোরেটের, “আদিবাসী”-দের নয়

২০১৯ সালের ভূমি নীতি এবং ব্রহ্ম কমিটির রিপোর্টে সরকারী জমি থেকে অ-আদিবাসী “জবর দখলকারিদের” উচ্ছেদ করে সেই জমি “আদি বাসিন্দাদের” মধ্যে বন্টন করার কথা বলা হয়েছে। গৃহীত এই নীতিতে “আদি বাসীন্দা” শব্দের সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি – ৪ বা ৫ দশক ধরে বসবাস করার পরও কেন বাঙালি-বংশোদ্ভূত মুসলমান পরিবারকে ‘আদি বাসিন্দা’ নয় বলে বিবেচনা করা হবে?

তাছাড়া তিনসুকিয়ার লাইকা ও দাদিয়ায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যারা বিজেপির “আদি বাসিন্দা” সংজ্ঞার সাথে খাপ খায় তারা যে সরকারি জমি দাবি করছেন তা এখনও পাননি। কেন ভূমিক্ষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদেরকে জাতিগত বা ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করা হবে?

ভূমি নীতির সূক্ষ্ম ছাপ স্পষ্ট করে দেয় যে, এমনকি “আদি বাসিন্দা” অসমিয়ারাও কোন জমি পাবেন না। পুরো ব্যাপারটি কর্পোরেটদের হাতে জমি দখলের চক্রান্ত, যা বিমানবন্দরের কাছাকাছি মিকির বামুনি ইত্যাদি জায়গায় ইতিমধ্যেই ঘটছে।

আমাদের দাবি

● যে মুখ্যমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক উচ্ছেদ নীতির জন্য দায়ী এবং যার ভাই দরং-এর এসপি এই হত্যাকাণ্ড চালান, সি মুখ্যমন্ত্রীকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।

● পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া [(২০১৪) ১০ এসসিসি ৬৩৫] (পুলিশ এনকাউন্টার হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে) মামলায় ২৩-০৯-২০১৪ তারিখে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। মহিনুল হক এবং শেখ ফরিদের হত্যার বিষয়ে এফআইআর নিবন্ধন হওয়া উচিত। এই বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র তদন্ত অবশ্যই কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে অন্য থানার সিআইডি বা পুলিশ দল দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপাদান সহ ফরেনসিক এবং ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণের দ্রব্যাদি/অস্ত্র সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে সমর্পণ করতে হবে।

● গুলি ও অগ্নিসংযোগে জড়িত দরং-এর এসপি এবং পুলিশ কর্মীদের বরখাস্ত করতে হবে, গ্রেপ্তার করতে হবে এবং হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার চেষ্টাসহ উপযুক্ত সমস্ত অপরাধমূলক ধারায় অভিযুক্ত করতে হবে।

● কোনো অজুহাতে দরিদ্রদের আর উচ্ছেদ করা যাবে না। এর পরিবর্তে সেই সব অতি ধনী ব্যক্তিদের উচ্ছেদ করুন যারা বনভূমি অঞ্চলে রিসর্ট তৈরি করেছে, যেসব চা কোম্পানি চা বাগান স্থাপনের জন্য অবৈধভাবে ৬,৩৫৪ একর জমি দখল করেছে, যে সব শিল্পপতিরা আদিবাসীদের জমি জবরদখল করেছে এবং গুয়াহাটিতে সরকারি জমিতে যারা বিজেপি অফিস নির্মাণ করেছে।

● সাম্প্রদায়িক প্রচার বন্ধ করুন এসব দাবি করে যে মন্দিরগুলি “অবৈধ অভিবাসীদের” দ্বারা দখল হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে দরং-এ মন্দিরটি এমন একটি এলাকায় বরাবর নিরাপদে আছে যেখানে প্রায় ৯৯% পরিবার মুসলমান। মন্দিরের হিন্দু তত্ত্বাবধায়ক পার্বতী দাসকেও ভূমি নীতির অধীনে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যদি সরকার পবিত্র স্থান (“সাত্রগুলি”) সংরক্ষণের কথা বলে – তাহলে কেন সরকার বিমানবন্দরের কাছে জমি দখল অভিযানে “কৈটা সিদ্ধি সত্র”-কে ধ্বংস করছে?

● স্থানীয় জনগণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ত্রাণ প্রদান করছেন, কিন্তু সরকারকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে এবং চিকিৎসা শিবির, পানীয় জল, খাদ্য, আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যবিধি সহ ত্রাণ প্রদান করতে হবে।

● দরং-এ সব উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের তাঁদের জমিতে পুনস্থাপন করতে হবে এবং তাঁদের বাড়িগুলি পুনর্নির্মাণ করে দিতে হবে।

(এই বক্তব্যের সাথে পোর্টালের কোন সম্পর্ক নেই)

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post