• July 3, 2022

Category : পাঠপ্রতিক্রিয়া

পাঠপ্রতিক্রিয়া

‘অ আ অন্নদাতার আন্দোলন’

সম্প্রতি বইমেলায় প্রকাশিত হল সাম্প্রতিক কৃষক আন্দোলনের আধারে সমীর সাহা পোদ্দার রচিত ‘অ আ অন্নদাতার আন্দোলন’ । বইটির প্রকাশক বহুবচন প্রকাশনী। বইটির সম্বন্ধে আলোচনার আগে আমাদের প্রজন্মের অর্থাৎ মোটামুটি পঞ্চাশের দশক থেকে এখন অবধি ভারতবর্ষের কৃষক আন্দোলনগুলির কথা একবার স্মরণ করে নেওয়া যেতে পারে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক পাঠকই এই আন্দোলনগুলি দেখেননি বা যখন দেখেছেন তখন সেই আন্দোলনগুলিকে অনুধাবন করার মতো বয়স তাদের ছিল না। আমাদের পরের প্রজন্মের কাছে এগুলি ইতিহাসমাত্র। তেভাগা আন্দোলন ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত চলে। বর্গা বা ভাগচাষিরা এতে অংশ নেয়। মোট উৎপন্ন ফসলের তিন ভাগের দুইভাগ পাবে চাষি, এক ভাগ জমির মালিক, এই দাবি থেকেই তেভাগা আন্দোলনের সূত্রপাত। আগে বর্গাপ্রথায় জমির সমস্ত ফসল মালিকের গোলায় উঠত এবং ভূমিহীন কৃষক বা ভাগচাষির জন্য উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক বা আরও কম বরাদ্দ থাকত। যদিও ফসল ফলানোর জন্য বীজ ও শ্রম দু'টোই কৃষক দিত। তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সময়কাল ১৯৪৬ থেকে ১৯৫১। তেলেঙ্গানাতে প্রায় সমস্ত চাষের জমি ছিল সামন্তপ্রভুদের দখলে। এই অঞ্চলের কৃষকরা ছিলেন সামন্তপ্রভুদের ক্রীতদাসের মতো। পাঁচের দশকের গোড়ার দিক থেকেই কম্যুনিস্টদের নেতৃত্বে কৃষকরা সংগঠিত হতে থাকেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে খাদ্যসঙ্কট দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। সামন্তপ্রভুদের হাতে এক কৃষকের হত্যাকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন জঙ্গী চেহারা নেয় ১৯৪৬-এর জুলাই মাসে। বিপ্লবীরা প্রতিষ্ঠা করেন প্রায় ৪০০০ গ্রামরাজ্যম বা কমিউন এবং ১৯৪৮ সালের মাঝামাঝি প্রায় সমস্ত তেলেঙ্গানা বিপ্লবীদের দখলে আসে। ১৯৫১ সালের শেষের দিকে নেহেরু সরকারের নির্দেশে আকস্মিক সামরিক হানায় পরাজিত হয় আন্দোলনকারীরা। তৎকালীন কম্যুনিস্ট পার্টির নির্দেশে অস্ত্র ত্যাগ করেন বিপ্লবীরা। নকশালবাড়ি কৃষক আন্দোলনের শুরু উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি অঞ্চলের নকশালবাড়ি ব্লকে ১৯৬৭ সালে। আদিবাসী এবং কম্যুনিস্ট কৃষক নেতাদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন তীব্রতা লাভ করে সি পি এম থেকে বেরিয়ে আসা সি পি আই (এম এল)-Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

কুড়ুয়া পাখির ডাক

"কুড়ুয়া পাখির ডাক"। মুন্ডাদের জীবন-কাহিনি এই ক্ষীণতনু উপন্যাসের উপজীব্য। নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের গরিব বঞ্চিত লখাই পদ্মজবা ফুলমণি ফুলি মঙ্গল সরস্বতী রামদাস শীতল বুধন চরিত্ররা সততা সংস্কৃতি আলো অন্ধকার নিয়ে উঠে এসেছে। বুধন স্বতন্ত্র একটি চরিত্র, প্রতিবাদী। এদের ভালোবাসা সহজ। যৌনতা সরল। লখাই-সরস্বতীর না-ভূমিষ্ঠ সন্তান জীবনের কী বিচিত্র নিয়মে বাবা হিসেবে পেতে চলেছে মঙ্গলকে। আদিবাসীদের রীতি-নীতি পরবের বিবরণ সুন্দর ভাবে এসেছে। নগেন সাঁপুই বড়োলোক। অনেক জমির মালিক। সে কাজ দেয় মুন্ডাদের। এমন চরিত্র সাধারণত অত্যাচারী শোষক হয়। কিন্তু মানুষটা সৎ। আর একজন ভালো মানুষ উমানাথ। বাড়িভাড়া এবং খাওয়ার খরচ না-নিয়ে উমানাথ মাস্টার শুভঙ্করকে থাকতে দিয়েছে। শুভঙ্কর কাহিনির সবচেয়ে দামি চরিত্র। যদি মুন্ডা সমাজের মানুষগুলো সলতে আর তেল হয়, বুধন তাহলে প্রদীপ। শুভঙ্কর সেই প্রদীপে আগুন জ্বেলে আলো ছড়ানোর কাজটা করে দিয়েছে। পঞ্চায়েত মেম্বার নিশিকান্ত সাহা এবং তার ভাই নিখিল খলচরিত্র। তাদের মিথ্যাচারিতার নষ্টামির শোষণের শিকার মুন্ডারা। বুধনের নেতৃত্বে মুন্ডারা জেগে উঠেছে। দাবি জানাতে শিখেছে। ফলে নিশিকান্তর লোকেদের হাতে বুধন আক্রান্ত হয়েছে। নিশিকান্ত না-বুঝে আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। মুন্ডারা তীর ধনুক টাঙ্গি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। 'যাদের গন্তব্য নিশিকান্ত সাহার বাড়ি।' উপন্যাসটির সমাপ্তি ছোটোগল্পের মতো। দারুণ ইতিবাচক ইঙ্গিত তৃপ্তিকর প্রশান্তি দেয়। ভাষা ঝরঝরে। সংলাপ বিশ্বাসযোগ্য। চমৎকার প্রচ্ছদ, কাহিনির সঙ্গে মানানসই। লেটারিং-এ শিল্পের ছোঁয়া আছে। কাগজ বাইন্ডিং প্রিন্ট সুন্দর। কুড়ুয়া পাখির ডাক - গৌতম বিশ্বাস। প্রচ্ছদ - সুদীপ্ত জানা বহুবচন প্রকাশনী। মূল্য - ১৫০Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

কে শময়িতা সেন?

বাংলা কবিতামহলে নতুন প্রশ্ন ‘শময়িতা সেন কে?’ বনলতা সেনের কেউ নয়, উত্তর দিয়েছেন স্বয়ং কবি। কবি, প্রশান্ত হালদার। পশ্চিমবঙ্গ লিটিল ম্যাগাজিন মেলার প্রাক্কালে শ্যামল বৈদ্য অনুপ্রেরণা সিরিজে 'মুক্তাঞ্চল' থেকে বেরিয়েছে পাঁচটি বই। চারটি কবিতার, একটি গল্পের। তার মধ্যে শূন্য দশকের কবি প্রশান্ত হালদারের একফর্মা কাব্যপুস্তিকার নাম ‘শময়িতা সেন’। অনেকেই বলছেন শময়িতা সেন আছেন। কলকাতাতেই আছেন। কবিকে জিজ্ঞাসা করলে বলছেন, বইটা পড়ুন, টেক্সট নিয়ে কথা হোক। কিন্তু বাংলা কবিতা মহলে চর্চা বন্ধ হয়নি। কলকাতার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার শময়িতা সেন-কে উদ্দেশ করে লেখা কিনা প্রশ্ন অনেকের। কবি প্রশান্ত হালদারের ‘শময়িতা সেন’-এর সঙ্গে এবার মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত ‘ম্যাট ব্ল্যাক’ কাব্যগ্রন্থের লেখক অংশুমান ফেসবুকে ‘শময়িতা সেন’ সম্বন্ধে পোস্ট করেছেন, “আপাতভাবে শুনে মনে হবে বনলতা সেন টাইপ মিউজ ধরে প্রেমযাতনার টানাটানি... না তা নয়, এ দুই শ্রেণী অবস্থানে থাকা মানুষের মধ্যে একজনের রাজনৈতিক মনোলগ... এবং প্রেমও এখানে রাজনীতি, রোম্যান্স, আর্তি, খোঁজ-এর বহিঃপ্রকাশ। এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই বই লেখার ধ্বক অনেকের নেই...” ধ্বক কেন নেই, সে প্রশ্নের উত্তর একমাত্র মিলতে পারে সেই বইয়ের মধ্যেই। কবি প্রশান্ত হালদারকে কাস্ট-রাজনীতি নিয়ে প্রায়শ সরব হতে দেখা যায়। অথচ শময়িতা 'সেন' কেন? হালদার, মন্ডল বা গায়েনের পরিবর্তে একজন সেন পদবিধারীর নাম নিয়ে কবিতার বইয়ের নাম কেন, এ প্রশ্নও উঠে এসেছে। কবি জানিয়েছেন শময়িতা সেন-তো আছেন। তাঁর কথা ভেবেই লেখা। এহেন পরিস্থিতিতে, যে সব মানুষ প্রশান্ত ও শময়িতা উভয়েরই পরিচিত তারা পড়েছেন দ্বিধায়, কারণ, কবিতায় আগেও উঠে এসেছে নানান নারীচরিত্রের নাম, যেমন, জীবনানন্দের বনলতা সেন, সুরঞ্জনা, সুনীলের নীরা, আরো অনেক, কিন্তু সেগুলো ছিল কাল্পনিক নাম। হয়তো বা কোনো বাস্তব নারীচরিত্রের অনুপ্রেরণায় সেগুলো তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এইভাবে বাস্তব চরিত্রের নাম ব্যবহার করায় একপ্রকার রহস্যজনক কনফ্লিক্ট তৈরি হয়েছে, যা আরো গুঢ় হয়েছে কবি প্রশান্ত হালদারের সাথে শময়িতার কোনো সরাসরি সম্পর্ক না থাকায়। এমনকি তারা একে অপরের সাথে সমাজ মাধ্যমেও যুক্ত নন। তাহলে কেন প্রশান্ত তার এই সাম্প্রতিক কবিতায় শময়িতার নাম তুলে আনলেন, এর পেছনে কি কাজ করছে শুধুই রাজনৈতিক অবস্থানের সূচক নাকি এটা নিছক ধন্দ তৈরির কারসাজি, না প্লেটোনিক প্রেম নাকি কবিতার নিজস্ব চাহিদায় তৈরি হয়েছে এই চরিত্র যার সাথে বাস্তবের কোনো যোগাযোগ নেই? বইটি এই মুহূর্তে পাওয়া যাচ্ছে বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিয়ন সংলগ্ন শঙ্খ ঘোষ মঞ্চের পাশে মুক্তাঞ্চল-এর নম্বরবিহীন টেবিলে। আর অবশ্যই বইমেলার পরে অনলাইন অর্ডার করে পাওয়া যাবে, www.muktanchal.com-এ।Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

আঙ্কেল স্যামের নামে খোলা চিঠি

পূর্বাঞ্চল নিউজ ডেস্ক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীতে আঙ্কেল স্যাম (আমেরিকা) ও মামা মালেনকফ (সোভিয়েত ইউনিয়ন) নিজেদের মধ্যে অন্যরকম এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। এই দুই পরাশক্তি— মানে চাচা ও মামা— দুজনেই নিজ আদর্শ, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করতে গিয়ে সারা বিশ্বকে মহাযুদ্ধের সময়কার মতো দু’ভাগ করে ফেলেন। ফলে বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রে ‘যুদ্ধ হবে হবে’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। চাচা স্যাম চাচ্ছিলেন গণতন্ত্র ও ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে পুঁজিতন্ত্রের পতাকা ওড়াতে, ওদিক থেকে মামা মালেনকফ চাচ্ছিলেন দুনিয়ার সব প্রলেতারিয়াতকে এক করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত গুঁড়িয়ে দিতে। কিন্তু কেউ তো কারো চেয়ে কম নয়। আবার যুদ্ধের ভয়াবহতা দুজনেরই চাক্ষুষ ছিল। তাই তারা চাচ্ছিলেন রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামরিক কলাকৌশলের মাধ্যমে একে অপরকে পরাভূত করতে। বোমা ছুড়াছুড়ি হয়নি বটে, তবুও যেহেতু যুদ্ধ, তাই ভাগ্নে-ভাতিজারা এই যুদ্ধের নাম দিয়েছে কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধ। কিন্তু সবসময় তো আর শীত থাকে না। তাই গরম আবহাওয়া নিয়ে মঞ্চে হাজির হলেন উত্তর কোরিয়া। কাহিনি অনেকটা এমন— ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া ছিল জাপানের অধীনে। যুদ্ধে জাপান পরাজিত হলে চাচা স্যাম ও মামা মালেনকফ উভয়ে কোরিয়াকে দাবি করে। ১৯৪৭ সালে কোরিয়া সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হলে চাচাজান অস্বীকৃতি জানান। ওদিকে মামাও কম যান না, তিনিও নিজ সৈন্য নিয়ে ঘাঁটি গাড়েন। অবশেষে ১৯৪৮ সালে কোরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণে চাচার মদদে প্রতিষ্ঠিত হয় রিপাবলিক অফ কোরিয়া নামে নতুন রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রপ্রধান হন ডানপন্থী সিঙগমান রি। এর প্রতিশোধ নিতে মামাজান উত্তরে কিম-ইল-সাঙের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করেন সাম্যবাদী রাষ্ট্র— পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কোরিয়া। ফলে ৩৮তম সমান্তরাল রেখাকে মাঝামাঝি রেখে এক দেশ থেকে দুই দেশ হয়ে যায় কোরিয়া। প্রথমে ভাবা হয়েছিল এই বিভাজন ক্ষণস্থায়ী হবে। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই দুই পক্ষই নিজ নিজ অধিকৃত এলাকায় নিজ নিজ মতাদর্শ বাস্তবায়নে জোর দিলে সৃষ্টি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এরই মধ্যে সীমানাপাড়ে বেশ কয়েকবার বিচ্ছিন্ন লড়াইও সংঘটিত হয়। এবং... শেষমেশ যুদ্ধ বেঁধেই যায়,— ১৯৫০ সালের ২৫ জুন মামাজানের সহায়তায় উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৭৫০০০ সৈন্য আচমকা দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর আক্রমণ করে বসে। চাচাজান এটাকে সমাজতন্ত্রের আগ্রাসী পদক্ষেপ বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সাহায্যে এগিয়ে আসেন। কারণ তিনি পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলেন পৃথিবীর যেখানেই সমাজতন্ত্রীরা আগ্রাসন চালাবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। চাচাজানের রাষ্ট্রপতি ট্রুম্যান উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণকারী বলে ঘোষণা করে এবং জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ারকে সাহায্য করার আবেদন জানান। এবং কৌশলে চাচাজানেরই সেনাপতি [ম্যাক আর্থার] জাতিসংঘের পতাকা হাতে তিন লাখের অধিক সৈন্য নিয়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। প্রথম দিকে কেবল প্রতিরক্ষা করে যাচ্ছিলেন, কিন্তু উত্তর কোরিয়ান সৈন্য যখন তিন মাসেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৯৫ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে নেয় এবং রাজধানী সিউল আক্রমণ করে, চাচাজান তখন জাতিসংঘ থেকে আরো সৈন্য নিয়ে কঠোর মোকাবেলা করে দক্ষিণকে মুক্ত করেন। সেনাপতি ম্যাক আর্থার এখানেই ক্ষান্ত দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি অতিউৎসাহী হয়ে উত্তর কোরিয়া দখল করে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যান। চেয়ারম্যান মাও-সে-তুং সাহেব চাচাজানের এই মাতবরি মেনে নিতে পারলেন না, তিনি তাৎক্ষণিক দক্ষিণে আক্রমণ করে সিউল দখল করে নিলেন। এভাবে এই যুদ্ধে চীনও জড়িয়ে পড়ল। ঠিক ওইসময় চাচাজানের এশিয়ায় ঘাঁটি ও সৈন্য সংগ্রহের প্রয়োজন বোধ হলো। ভারত কিছুটা সাড়া দিলেও পাকিস্তান সেই আবেদন নাকচ করে দিল। ব্যাপারটা চাচাজানের মনে আঘাত হানল। ভেবেচিন্তে তাই ভিন্নভাবে কাজ হাসিলের ফন্দি আঁটলেন— লেখক-বুদ্ধিজীবিদের নিজের দলে ভেড়াবার অভিযান শুরু করলেন, যেন তাদের কলম দিয়ে নিজের কুকীর্তি জায়েজিকরণ ও নিজ প্রভাববলয় নির্মাণ করা যায়। বলা আবশ্যক নয়, এটা ছিল ঠাণ্ডা যুদ্ধেরই একটি অংশ। ১৯৫১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মান্টো ‘চাচা স্যাম কে নাম এক খত’ প্রবন্ধটি লেখেন। (প্রবন্ধটি পরে ‘উপর, নীচে আওর দরমিয়ান’ নামক বইতে সংকলিত হয়।) চাচা স্যামকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন তার গণতন্ত্র ও ব্যক্তিস্বাধীনতার হাকিকত কী। আধিপত্য বিস্তারের নিয়তে অন্য দেশের বেলায় যে-নীতি খাটানো হয়, নিজ রাষ্ট্রে কি তা চলে? আর এই যে দেশ দুই ভাগ করার খেলা, এর পরিণতি নিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মূর্তপ্রতীক চাচা স্যামের কী কোনো মাথা ব্যথা আছে? মান্টো মনে করিয়ে দেন যে, ভারত-পাকিস্তান ভাগেও তার হাত ছিল। কিন্তু এই কথা তো চাচাজান স্বীকার করবেন না, এবং জনগণের বর্তমান দারিদ্রের দায়ভারও গ্রহণ করবেন না, উল্টো চেষ্টা করবেন ফ্রি গম পাঠিয়ে নিজেকে মসিহ প্রমাণ করতে। মান্টো লিখেন : ‘আমি দরিদ্র, এইজন্য যে আমার দেশ দরিদ্র। আমার তো তারপরেও দুবেলা রুটি কোনো না কোনো উপায়ে জুটে, কিন্তু আমার অনেক ভাই আছে যাদের এতটুকুও নসিবে হয় না। আমার দেশ দরিদ্র, জাহিল—কিন্তু কেন? এ তো আপনি খুব ভালো করেই জানেন চাচাজান। আপনি ও আপনার ভাই জন বুল (যুক্তরাজ্য) দুজন যৌথভাবে যে-কাহিনি ঘটিয়েছেন… থাক, সেই কাহিনির সুতা এখন টানতে চাই না।... ’ অথচ এই যুদ্ধের পেছনে তারা কারণ দর্শান বিশ্বশান্তি। মান্টো তাই লিখেন : ‘শুনিছে আপনি হাইড্রোজেন বোমা স্রেফ এই জন্য বানাচ্ছেন যে, পৃথিবীতে যেন পরিপূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তা কায়েম হয়ে যায়। এটা তো আল্লাহ, কেবল আল্লাহ তায়ালাই পারেন। কিন্তু তার পরেও আপনার কথায় আমার আস্থা আছে, কেননা প্রথমত আমি আপনার দেওয়া গম খাই, দ্বিতীয়ত আমি আপনার ভাতিজা। বড়দের কথা ছোটদের বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নিতে হয়, তবু একটা জিজ্ঞাসা— পৃথিবীতে যখন শান্তি ও নিরাপত্তা কায়েম করবেন, তখন পৃথিবীটা কতটুকু ছোট হবে? মানে, কতটা দেশ দুনিয়ার পৃষ্ঠা থেকে মুছে ফেলবেন? আমার এক ভাতিজা ইস্কুলে পড়ে, গতকাল আমার কাছে এসে পৃথিবীর একটা ম্যাপ এঁকে দিতে বলে। আমি তাকে বলি— এখন না এখন না, আমি আগে চাচাজানের সাথে বাতচিত করে জেনে নিই কোন কোন দেশ থাকবে আর কোন কোন দেশ থাকবে না, তারপর তোমাকে একদম লেটেস্ট মডেলের ম্যাপ এঁকে দিব, কেমন?’ প্রবন্ধগুলোতে হাইড্রোজেন বোমার পাশাপাশি চাচার তেল লুণ্ঠনের প্রসঙ্গও এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি, ইরানের ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং মুসলিম শাসকদের কিনে নেওয়ার কাহিনি অকপটে মান্টো বলে গেছেন— গত একশ বছর ধরে যেসব কাহিনি প্রতিমুহূর্তের জন্য বাস্তব। পড়তে পড়তে মনেই হবে না এই কথাগুলো ৭০ বছর আগের। উপমহাদেশের ধর্ম রাজনীতি অর্থনীতি ও বুদ্ধিজীবিদের স্বভাব নিয়ে তীব্র খোঁচা-মারা এই লেখা পড়ে আপনি হাসবেন না কাঁদবেন ঠাওর করতে পারবেন না। একই সত্যের মধ্যে আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি, মান্টো যা খুব ভালো করেই বুঝেছিলেন। বই শেষ হতে হতে আপনার চোখেও স্পষ্ট হয়ে যাবে বিশ্বরাজনীতির অনেক অন্ধকার দিক। বইটি অনুবাদ করেছেন মওলবি আশরাফ। বাংলাদেশের একুশে বইমেলায় স্বদেশ শৈলীর স্টলে (১১০) বইটি পাওয়া যাবে।Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

ওয়ারিশহীন শব্দগুচ্ছ

বর্তমান ভারতের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সবই সাম্প্রদায়িকতার বিষে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। আমরা যারা কলম চালাই বা কলমের কদর করি তাদেরকেই দায়ীত্বভার কাঁধে তুলে নিতে হবে এই বিষকে নির্বিষ করার। যাঁদা এই কাজে একনিষ্ঠ, কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক, গবেষক মনিরুদ্দিন খান তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। 'ওয়ারিশহীন শব্দগুচ্ছ' কবি মনিরুদ্দিন খানের এক গুচ্ছ কবিতার সমাহার। কবিতা না বলে শব্দগুচ্ছ বলাই সর্বোত্তম হবে। বইটির পাতায় পাতায় শব্দ গুলো কোথাও ছন্দময়তায় কোথাও ছন্দহীনতায় কবির মনের ভেতরের ক্ষোভ, দুঃখ, অভিমান, প্রেম, বিরহ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ব্যর্থ প্রচেষ্টা, জীবন যাত্রার কাঠিন্য, জীবনের স্বল্পতা, গতিময়তা, জীবনের নিশ্চলতা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে। কবি তাঁর কবিতাগুলোকে বাজারজাতকরণ বা বিপণনের কোন চেষ্টাই করেননি; বরং ছেড়ে দিয়েছেনRead More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

মন্দির-মসজিদ বিসম্বাদ

অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ চলছে সুপ্রিমকোর্টের আদেশ বলে। কিন্তু সেই মসজিদ-মন্দিরের ভাঙাগড়ার প্রকৃত ইতিহাস জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে “মন্দির-মসজিদ বিসম্বাদ” শীর্ষক এই বইটি।২০০৪ সালে প্রথম প্রকাশ হলেও সুপ্রিমকোর্টের রায়ের ফলে বাবরি মসজিদ ভেঙে নতুন করে রামমন্দির তৈরি হওয়ার কারণে এই বইটি পড়ার জন্য নানা দিক থেকে চাহিদা দেখা দেয়, সেই কারণে ‘বহুবচন’ প্রকাশনীর পক্ষ থেকে ২০২০ সালে নতুন করে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হয়।বিশিষ্ট সমাজ আন্দোলনের কর্মী ও মার্কসবাদী প্রাবন্ধিক অশোক মুখ্যোপাধ্যায়, সাহিত্যিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক উদাহরণ তুলে ধরে বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠকের কাছে প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে যে কোন স্তরের গবেষকের কাছে এই বিষয়ের প্রেক্ষাপটে এই বইটি অবশ্য পাঠ্য। এই বই না পড়ে যদি এই বিষয়ের উপর কেউ নতুন কিছু ভাবতে যান তাহলে তাঁর পাঠ বা ভাবনা সম্পূর্ণ হবে না বলে আমি মনে করি। আবার লেখকের রচনাশৈলীর গুণে অজস্র পরিমাণ তথ্য উদ্ধৃতি থাকা সত্ত্বেও বইটি পড়তে কখনও ক্লান্তি জন্মায় না। যিনি একবার এটি পড়তে শুরু করবেন, শেষ করার আগে সহজে হাত থেকে নামাতে পারবেন বলে মনে হয় না। একেবারে বাবরি মসজিদের প্রাথমিক ইতিহাস থেকে গত ৯ই নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের রায়ের মাধ্যমে রাম মন্দির নির্মাণ পর্যন্ত পুরো ইতিহাস নিয়ে আলোচনার জন্য লেখক সমগ্র বইটিকে মোট তেরোটি অংশে ভাগ করেছেন। ১২৬ পাতার এই বইতে নতুন ইতিহাস নির্মাণের সাথে সাথে মসজিদ ও মন্দিরের পক্ষে যত রকমের যুক্তি তোলা হয়েছে তা ধরে ধরে ঐতিহাসিকদের বিভিন্ন বই ও পত্র-পত্রিকার রেফারেন্স তুলে ধরেছেন। যাতে পাঠকদের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা না হয়। বইয়ের শুরুতে লেখক একটি স্বরচিত কবিতার মাধ্যমে ধর্মের নামে মৌলবাদী আগ্রাসনের থেকে সাধারন মানুষের খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান ও সুস্থ জীবন যাপনের সমস্যা দেশের এখন এক বড় সমস্যা, এটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। দেশের মালিক লুটেরা শাসকশ্রেণীর লুটের কারবারকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধর্মের নামে এক মিথ্যার প্রচার করে যাচ্ছেন। এই মূল্যবান বইটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে পাঠকদের পরিচিতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে আমি এর বিভিন্ন অধ্যায় ধরে ধরে সংক্ষেপে কিছু কথা তুলে ধরতে চাই। ১।‘প্রমাণের নামে রূপকথার আসর’ লেখক প্রথমেই দেখিয়েছেন যে দেশের ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করার জন্য বাবরি মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়কে বেছে নিয়েছেন, সেখানে মসজিদের জায়গায় প্রমাণের নামে বাস্তবে রূপকথার আসর বসিয়ে তারা মিথ্যা যুক্তিকে পাথেয় করেছেন। সেই জন্য বি বি লাল, এস পি গুপ্ত, কে বি সৌন্দররাজনের মত নামি দামি প্রত্নত্তত্ববিদকে সংঘপরিবারের সমর্থনে নিয়ে এসে তারা যুক্তি সাজাতে কাজে লাগালেন। সেই মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে মানুষকে প্রভাবিত করে কয়েক লক্ষ লোককে জড়ো করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯২ সালে ৬ই ডিসেম্বর সেই ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের সৌধকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন। ২। ‘কীভাবে জানব’ লেখক একটা মূল্যবান প্রশ্ন রেখেছেন: এই ইতিহাস আমরা ‘কীভাবে জানব’? অর্থাৎ ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রকৃত সত্যকে জানতে হলে প্রকৃত তথ্যকে আগে খুঁজে বের করতে হবে। সে জন্য প্রধান দুটি উপাদান হল প্রত্ন-সাক্ষ্য ও নথি সাক্ষ্য। অর্থাৎ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের সাথে সাথে সাহিত্যিক উপাদানও আমাদের কাজে লাগবে।লেখক মূলত এই দুই তথ্যকে হাতিয়ার করে বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিকে পাথেয় করে প্রকৃত তথ্যকে পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ৩। ‘রামায়ণ: পুরাণ না ইতিহাস’ এই অধ্যায়ে সাহিত্যিক উপাদানের ক্ষেত্রে রামায়ণের এক বড় ভূমিকা আছে। কারণ, রাম যেহেতু রামায়ণের এক প্রধান চরিত্র এবং অযোধ্যা যেহেতু সেই কর্মকাণ্ডের প্রধান ক্ষেত্র,রামায়নের রাম ও অযোধ্যার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে লেখক সামনে এনেছেন। সংঘ পরিবারের কাছের মানুষ,বিবেকানন্দের থেকে এই পুরাণ সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, সুনীতি চট্টোপাধ্যায় ও সুকুমার সেনের বক্তব্য সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন এবং এঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে রামায়ণের বিভিন্ন সময়ে যে বিবর্তন হয়েছে তাও উল্লেখ করে দেখিয়েছেন। ‘অযোধ্যার ইতিহাস-ভূগোল’ এই নামে অযোধ্যার স্থানের প্রকৃত ইতিহাস এবং অবস্থান গত দিক থেকে তার গুরুত্ব। রামায়ণের উল্লিখিত অযোধ্যার সাথে বর্তমান অযোধ্যার কী কী সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আছে, কেন রামায়ণের বর্ণিত অযোধ্যার সাথে আজকের মন্দিরওয়ালাদের অযোধ্যার কোন মিল নেই,সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও উল্লেখ করে দেখিয়েছেন। ৪। ‘লিখিত সাক্ষ্য- মন্দির নেই’ বর্তমানে বাবরি মসজিদের স্থানেই রামের জন্মস্থান এবং সেখানেই রাম মন্দির আগে থেকেই ছিল। মন্দিরওয়ালাদের এই দাবির পক্ষে তথ্য কী আছে বা প্রকৃত সত্য কী, এই বিষয়টিও লেখক অত্যন্ত সুন্দর ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এই জন্য খ্রিষ্টপূর্ব ৮ম-৫ম শতকের পাণিনি থেকে পতঞ্জলী, বিষ্ণুস্মৃতি সহ বিভিন্ন বৌদ্ধ গ্রন্থ, ফা-হি-ইয়েন, হিউ-য়েন-সাং থেকে হাল আমলের আকবরের সময়ের তুলসী দাস পর্যন্ত বিভিন্ন লেখকদের রচিত গ্রন্থ ধরে ধরে তিনি দেখিয়েছেন মন্দিরওয়ালাদের দাবি কতটা ভিত্তিহীন। সেখানে তাদের বর্ণিত মন্দিরের যে বাস্তবে কোন অস্তিত্ব ছিল না, পুরোটাই মিথ্যা যুক্তি, তিনি তা বিপুল পরিমাণ ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরে দেখিয়েছেন। এবং বাবরের আত্মজীবনী ‘বাবারনামা’-তেও যে এই মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরির কোন উল্লেখ নেই এটাও সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। ৫।‘সাক্ষ্যের নামে জালিয়াতি’ ‘মিথ্যা বল, জোর গলায় বল, বারে বারে বল, মিথ্যা সহজেই সত্যে পরিণত হবে’- হিটলারের প্রচার সচিব গোয়েবেলসের নীতি মেনে আমাদের দেশের সংঘের নেতারা ও মন্দিরের পক্ষে যুক্তি হিসাবে যে তথ্য পেশ করেছেন তার প্রায় পুরোটাই মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য। মন্দিরওয়ালারা সাক্ষ্যের নামে জালিয়াতি করেছেন কীভাবে তার এক সুন্দর তথ্য উপস্থাপনা করেছেন। এক্ষেত্রে অস্ট্রিয়ার জেসুইট পাদ্রি টিফেনঠেলার ও উইলিয়ালম ফিনচ এর বক্তব্যকে এরা কীভাবে বিকৃত করেছেন, প্রকৃত তথ্যই বা কী ছিল, বিস্তারিত উদ্ধৃতি সহকারে উপস্থিত করেছেন। এরা দেশীয় নথি হিসাবে ১৯৩৪ সালে কলকাতার মর্ডান রিভিউ পত্রিকাতে সত্যদেব পরিব্রাজকের প্রকাশিত মন্দির ধ্বংসের নামে ‘বাবরের আদেশ নামা’র নামে এক জাল কাগজ ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন। পরবর্তীকালে হরপ্রসাদ রায় ‘বাবারনামা’ র উল্লেখ করে বাবর, বাকি তাসখন্দিকে অযোধ্যার শাসক নিযুক্ত করে মন্দির দখল করে মসজিদ নির্মাণের ভার দেন। এটা যে বাস্তবে হরপ্রসাদ রায়ের বানানো 'বাবরনামাতেই’ সম্ভব লেখক তা দেখিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বহিন্দু পরিষদ তাদের বইতে উল্লেখ করেছেন ১লক্ষ ৭৪ হাজার হিন্দুকে হত্যা করেও মীরবাকি মন্দিরে নাকি ঢুকতে পারেননি, শেষে কামান দাগতে হয়। এই তথ্য সূত্রও যে বিকৃত করা, লেখক তাও প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। একই রকম ভাবে আইন-ই-আকবরী, দিবান-ই-আকবরী, জাফরনামা ও আলমগীরনামার নাম করেও মন্দিরপন্থীরা যে সমস্ত তথ্য মন্দিরের পক্ষে দিয়েছেন প্রতিটার সুত্র উল্লেখ করে ঐতিহাসিক তথ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, প্রতিটা তথ্যই আসলে ভুয়ো। এই কারণেই এই বইয়ের এই অংশটিকে আমি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করি। ৬। ‘প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্য- মন্দির ছিল না’ যদি মন্দির ভেঙে মসজিদ হয়ে থাকে তাহলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে তার কিছু নিদর্শন নিশ্চিত ভাবেই পাওয়া যাবে। ঐতিহাসিকরা সেই তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল হাসান ‘রামায়ণ বর্ণিত অঞ্চলে প্রত্নতত্ত্ব’ নামে যে প্রকল্প চালু করেন সেই প্রকল্পে কিন্তু অনেক খোঁড়াখুঁড়ি করেও সেই রকম কিছুই যে তথ্য পাওয়া যায়নি, বি বি লালের সেই রিপোর্ট উল্লেখ করে লেখক তা দেখিয়েছেন। আর সেই কারণেই ১৯৭৭ সালে মোরারজি দেশাই সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ি ও লালকৃষ্ণ আদবানি সেই প্রকল্প চালু রাখা দূরে থাক, তা এক প্রকার বন্ধই করে দেন। মজার বিষয় হল, এই রামায়ণ প্রকল্প যখন বন্ধ হয় সেই প্রকল্পের মন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার মন্ত্রী ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানি। আগামীদিনে খনন কার্যের নামে আসল সত্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়েই আদবানি ও বাজপেয়ির উদ্যোগেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যটিও লেখক বেশ সুন্দর ভাবে যুক্তি দিয়ে তুলে ধরেছেন। ৭। ‘অপসাক্ষ্যের আহাম্মকি’ ১৯৭৫Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

মাটির বাড়ি: বাংলার স্থাপত্য ঐতিহ্য

এই গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে বাংলার মৃৎ-স্থাপত্য বিষয়ক গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা, গবেষণা-পদ্ধতি, গবেষণার সীমাবদ্ধতা, পূর্ববর্তী গবেষণা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে বিশ্ব-ইতিহাসের প্রেক্ষাপটসহ বাংলা অঞ্চলের মৃৎ-স্থাপত্যের ইতিহাস। তৃতীয় অধ্যায়ে সমকালীন নিদর্শন হিসাবে একটি কাছারিসহ মোট ছয়টি বাড়ির বিস্তারিত স্থাপত্যিক বিবরণ উপস্থাপিত হয়েছে।Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

গ্রাম বাংলার কেচ্ছা-রূপকথা-লোককথা

লেখক / সংগ্রাহক – মুহাম্মদ আয়ুব হোসেনপ্রথম খণ্ডদ্য ক্যাফে টেবল পাঠ প্রতিক্রিয়া – নুরজামান শাহ একটা সময় ছিল যখন আমরা সন্ধ্যাবেলায় দাদি বা ঠাকুমার কাছে বিভিন্ন রূপকথা,লোককথা শুনতে শুনতে কল্পলোকে হারিয়ে যেতাম। চোখ বন্ধ করলে সেসব গল্পকাহিনির ছবি চোখের কোণে ভেসে উঠত।গ্রামীণ জনজীবনে ছড়িয়ে থাকা এইসব রূপকথা, লোককথা বা কেচ্ছাগুলোর কোনো লিখিত রূপ ছিল না, <a class="read-more" href="http://purbanchal.co/book-review/1457/">Read more</a>Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

ট্রায়ো

এই মুহূর্তে বাংলায় প্রকাশিত চলচ্চিত্রের যে গুটি  কয়েক বই বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে 'ট্রায়ো' তাদের মধ্যে একেবারেই ভিন্ন ধরনের। প্রেক্ষাপট এবং আঙ্গিক দুটি ক্ষেত্রেই এ বই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সত্যজিৎ, ঋত্বিক এবং মৃণালের তিনটি করে ছবি নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক। Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

ইন্দুবালা ভাতের হোটেল

"জ্যাঠামশাই, আমরা হিন্দুস্থান চলিয়া গিয়াছি, ইতি সোনা।" -- নিরুদ্দিষ্ট মণীন্দ্রনাথের উদ্দেশ্যে সোনার অর্জুন গাছের গায়ে লিখে যাওয়া এই ঠিকানাখানা দেশভাগ সম্পর্কিত আমার যাবতীয় ধ্যানধারনা পাল্টে দিয়েছিলো এক লহমায়। গতবছরের মাঝামাঝি দিকে। তারআগে কখনো দেশভাগ, ছিন্নমূল এই শব্দগুলো উচ্চারিত হলে বুকের ভেতরে এমনতর ব্যাথার মোচড় টের পেতাম না। বিষয়টা উপমহাদেশের রাজনৈতিক তর্ক আলোচনা সমীক্ষা তথ্য যুক্তি এইসব কঠিন কঠিন বিচার বিশ্লেষনের মধ্যেই আটকে থাকতো। ছোটোবেলা থেকে বড় হয়ে ওঠা যে পরিবেশে, খেলার মাঠ, বাড়ির উঠোন, পুকুর ঘাট, গৃহস্থালি - একলহমায় সেই সবকিছু ছেড়ে অন্য কোথাও জন্মান্তরের মতো পাড়ি দিতে হলে বুকের কোথায় রক্তক্ষরণ হয় সেটা হৃদয় দিয়ে অনুভব ই করতে পারতাম না এজীবনে যদি না সোনা, পাগলজ্যাঠা, ঈশম, ফতিমা, মালতীদের সাথে পরিচয় হতো। আর সে অনুভব এমনই যা একবার শুরু হলে তা শুধু মানুষকে তাড়িয়েই মারে।Read More