• January 17, 2022

Category : পাঠপ্রতিক্রিয়া

পাঠপ্রতিক্রিয়া

ওয়ারিশহীন শব্দগুচ্ছ

বর্তমান ভারতের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সবই সাম্প্রদায়িকতার বিষে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। আমরা যারা কলম চালাই বা কলমের কদর করি তাদেরকেই দায়ীত্বভার কাঁধে তুলে নিতে হবে এই বিষকে নির্বিষ করার। যাঁদা এই কাজে একনিষ্ঠ, কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক, গবেষক মনিরুদ্দিন খান তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। 'ওয়ারিশহীন শব্দগুচ্ছ' কবি মনিরুদ্দিন খানের এক গুচ্ছ কবিতার সমাহার। কবিতা না বলে শব্দগুচ্ছ বলাই সর্বোত্তম হবে। বইটির পাতায় পাতায় শব্দ গুলো কোথাও ছন্দময়তায় কোথাও ছন্দহীনতায় কবির মনের ভেতরের ক্ষোভ, দুঃখ, অভিমান, প্রেম, বিরহ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ব্যর্থ প্রচেষ্টা, জীবন যাত্রার কাঠিন্য, জীবনের স্বল্পতা, গতিময়তা, জীবনের নিশ্চলতা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে। কবি তাঁর কবিতাগুলোকে বাজারজাতকরণ বা বিপণনের কোন চেষ্টাই করেননি; বরং ছেড়ে দিয়েছেনRead More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

মন্দির-মসজিদ বিসম্বাদ

অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ চলছে সুপ্রিমকোর্টের আদেশ বলে। কিন্তু সেই মসজিদ-মন্দিরের ভাঙাগড়ার প্রকৃত ইতিহাস জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে “মন্দির-মসজিদ বিসম্বাদ” শীর্ষক এই বইটি।২০০৪ সালে প্রথম প্রকাশ হলেও সুপ্রিমকোর্টের রায়ের ফলে বাবরি মসজিদ ভেঙে নতুন করে রামমন্দির তৈরি হওয়ার কারণে এই বইটি পড়ার জন্য নানা দিক থেকে চাহিদা দেখা দেয়, সেই কারণে ‘বহুবচন’ প্রকাশনীর পক্ষ থেকে ২০২০ সালে নতুন করে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হয়।বিশিষ্ট সমাজ আন্দোলনের কর্মী ও মার্কসবাদী প্রাবন্ধিক অশোক মুখ্যোপাধ্যায়, সাহিত্যিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক উদাহরণ তুলে ধরে বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠকের কাছে প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে যে কোন স্তরের গবেষকের কাছে এই বিষয়ের প্রেক্ষাপটে এই বইটি অবশ্য পাঠ্য। এই বই না পড়ে যদি এই বিষয়ের উপর কেউ নতুন কিছু ভাবতে যান তাহলে তাঁর পাঠ বা ভাবনা সম্পূর্ণ হবে না বলে আমি মনে করি। আবার লেখকের রচনাশৈলীর গুণে অজস্র পরিমাণ তথ্য উদ্ধৃতি থাকা সত্ত্বেও বইটি পড়তে কখনও ক্লান্তি জন্মায় না। যিনি একবার এটি পড়তে শুরু করবেন, শেষ করার আগে সহজে হাত থেকে নামাতে পারবেন বলে মনে হয় না। একেবারে বাবরি মসজিদের প্রাথমিক ইতিহাস থেকে গত ৯ই নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের রায়ের মাধ্যমে রাম মন্দির নির্মাণ পর্যন্ত পুরো ইতিহাস নিয়ে আলোচনার জন্য লেখক সমগ্র বইটিকে মোট তেরোটি অংশে ভাগ করেছেন। ১২৬ পাতার এই বইতে নতুন ইতিহাস নির্মাণের সাথে সাথে মসজিদ ও মন্দিরের পক্ষে যত রকমের যুক্তি তোলা হয়েছে তা ধরে ধরে ঐতিহাসিকদের বিভিন্ন বই ও পত্র-পত্রিকার রেফারেন্স তুলে ধরেছেন। যাতে পাঠকদের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা না হয়। বইয়ের শুরুতে লেখক একটি স্বরচিত কবিতার মাধ্যমে ধর্মের নামে মৌলবাদী আগ্রাসনের থেকে সাধারন মানুষের খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান ও সুস্থ জীবন যাপনের সমস্যা দেশের এখন এক বড় সমস্যা, এটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। দেশের মালিক লুটেরা শাসকশ্রেণীর লুটের কারবারকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধর্মের নামে এক মিথ্যার প্রচার করে যাচ্ছেন। এই মূল্যবান বইটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে পাঠকদের পরিচিতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে আমি এর বিভিন্ন অধ্যায় ধরে ধরে সংক্ষেপে কিছু কথা তুলে ধরতে চাই। ১।‘প্রমাণের নামে রূপকথার আসর’ লেখক প্রথমেই দেখিয়েছেন যে দেশের ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করার জন্য বাবরি মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়কে বেছে নিয়েছেন, সেখানে মসজিদের জায়গায় প্রমাণের নামে বাস্তবে রূপকথার আসর বসিয়ে তারা মিথ্যা যুক্তিকে পাথেয় করেছেন। সেই জন্য বি বি লাল, এস পি গুপ্ত, কে বি সৌন্দররাজনের মত নামি দামি প্রত্নত্তত্ববিদকে সংঘপরিবারের সমর্থনে নিয়ে এসে তারা যুক্তি সাজাতে কাজে লাগালেন। সেই মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে মানুষকে প্রভাবিত করে কয়েক লক্ষ লোককে জড়ো করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯২ সালে ৬ই ডিসেম্বর সেই ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের সৌধকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন। ২। ‘কীভাবে জানব’ লেখক একটা মূল্যবান প্রশ্ন রেখেছেন: এই ইতিহাস আমরা ‘কীভাবে জানব’? অর্থাৎ ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রকৃত সত্যকে জানতে হলে প্রকৃত তথ্যকে আগে খুঁজে বের করতে হবে। সে জন্য প্রধান দুটি উপাদান হল প্রত্ন-সাক্ষ্য ও নথি সাক্ষ্য। অর্থাৎ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের সাথে সাথে সাহিত্যিক উপাদানও আমাদের কাজে লাগবে।লেখক মূলত এই দুই তথ্যকে হাতিয়ার করে বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিকে পাথেয় করে প্রকৃত তথ্যকে পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ৩। ‘রামায়ণ: পুরাণ না ইতিহাস’ এই অধ্যায়ে সাহিত্যিক উপাদানের ক্ষেত্রে রামায়ণের এক বড় ভূমিকা আছে। কারণ, রাম যেহেতু রামায়ণের এক প্রধান চরিত্র এবং অযোধ্যা যেহেতু সেই কর্মকাণ্ডের প্রধান ক্ষেত্র,রামায়নের রাম ও অযোধ্যার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে লেখক সামনে এনেছেন। সংঘ পরিবারের কাছের মানুষ,বিবেকানন্দের থেকে এই পুরাণ সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, সুনীতি চট্টোপাধ্যায় ও সুকুমার সেনের বক্তব্য সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন এবং এঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে রামায়ণের বিভিন্ন সময়ে যে বিবর্তন হয়েছে তাও উল্লেখ করে দেখিয়েছেন। ‘অযোধ্যার ইতিহাস-ভূগোল’ এই নামে অযোধ্যার স্থানের প্রকৃত ইতিহাস এবং অবস্থান গত দিক থেকে তার গুরুত্ব। রামায়ণের উল্লিখিত অযোধ্যার সাথে বর্তমান অযোধ্যার কী কী সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আছে, কেন রামায়ণের বর্ণিত অযোধ্যার সাথে আজকের মন্দিরওয়ালাদের অযোধ্যার কোন মিল নেই,সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও উল্লেখ করে দেখিয়েছেন। ৪। ‘লিখিত সাক্ষ্য- মন্দির নেই’ বর্তমানে বাবরি মসজিদের স্থানেই রামের জন্মস্থান এবং সেখানেই রাম মন্দির আগে থেকেই ছিল। মন্দিরওয়ালাদের এই দাবির পক্ষে তথ্য কী আছে বা প্রকৃত সত্য কী, এই বিষয়টিও লেখক অত্যন্ত সুন্দর ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এই জন্য খ্রিষ্টপূর্ব ৮ম-৫ম শতকের পাণিনি থেকে পতঞ্জলী, বিষ্ণুস্মৃতি সহ বিভিন্ন বৌদ্ধ গ্রন্থ, ফা-হি-ইয়েন, হিউ-য়েন-সাং থেকে হাল আমলের আকবরের সময়ের তুলসী দাস পর্যন্ত বিভিন্ন লেখকদের রচিত গ্রন্থ ধরে ধরে তিনি দেখিয়েছেন মন্দিরওয়ালাদের দাবি কতটা ভিত্তিহীন। সেখানে তাদের বর্ণিত মন্দিরের যে বাস্তবে কোন অস্তিত্ব ছিল না, পুরোটাই মিথ্যা যুক্তি, তিনি তা বিপুল পরিমাণ ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরে দেখিয়েছেন। এবং বাবরের আত্মজীবনী ‘বাবারনামা’-তেও যে এই মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরির কোন উল্লেখ নেই এটাও সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। ৫।‘সাক্ষ্যের নামে জালিয়াতি’ ‘মিথ্যা বল, জোর গলায় বল, বারে বারে বল, মিথ্যা সহজেই সত্যে পরিণত হবে’- হিটলারের প্রচার সচিব গোয়েবেলসের নীতি মেনে আমাদের দেশের সংঘের নেতারা ও মন্দিরের পক্ষে যুক্তি হিসাবে যে তথ্য পেশ করেছেন তার প্রায় পুরোটাই মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য। মন্দিরওয়ালারা সাক্ষ্যের নামে জালিয়াতি করেছেন কীভাবে তার এক সুন্দর তথ্য উপস্থাপনা করেছেন। এক্ষেত্রে অস্ট্রিয়ার জেসুইট পাদ্রি টিফেনঠেলার ও উইলিয়ালম ফিনচ এর বক্তব্যকে এরা কীভাবে বিকৃত করেছেন, প্রকৃত তথ্যই বা কী ছিল, বিস্তারিত উদ্ধৃতি সহকারে উপস্থিত করেছেন। এরা দেশীয় নথি হিসাবে ১৯৩৪ সালে কলকাতার মর্ডান রিভিউ পত্রিকাতে সত্যদেব পরিব্রাজকের প্রকাশিত মন্দির ধ্বংসের নামে ‘বাবরের আদেশ নামা’র নামে এক জাল কাগজ ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন। পরবর্তীকালে হরপ্রসাদ রায় ‘বাবারনামা’ র উল্লেখ করে বাবর, বাকি তাসখন্দিকে অযোধ্যার শাসক নিযুক্ত করে মন্দির দখল করে মসজিদ নির্মাণের ভার দেন। এটা যে বাস্তবে হরপ্রসাদ রায়ের বানানো 'বাবরনামাতেই’ সম্ভব লেখক তা দেখিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বহিন্দু পরিষদ তাদের বইতে উল্লেখ করেছেন ১লক্ষ ৭৪ হাজার হিন্দুকে হত্যা করেও মীরবাকি মন্দিরে নাকি ঢুকতে পারেননি, শেষে কামান দাগতে হয়। এই তথ্য সূত্রও যে বিকৃত করা, লেখক তাও প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। একই রকম ভাবে আইন-ই-আকবরী, দিবান-ই-আকবরী, জাফরনামা ও আলমগীরনামার নাম করেও মন্দিরপন্থীরা যে সমস্ত তথ্য মন্দিরের পক্ষে দিয়েছেন প্রতিটার সুত্র উল্লেখ করে ঐতিহাসিক তথ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, প্রতিটা তথ্যই আসলে ভুয়ো। এই কারণেই এই বইয়ের এই অংশটিকে আমি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করি। ৬। ‘প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্য- মন্দির ছিল না’ যদি মন্দির ভেঙে মসজিদ হয়ে থাকে তাহলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে তার কিছু নিদর্শন নিশ্চিত ভাবেই পাওয়া যাবে। ঐতিহাসিকরা সেই তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল হাসান ‘রামায়ণ বর্ণিত অঞ্চলে প্রত্নতত্ত্ব’ নামে যে প্রকল্প চালু করেন সেই প্রকল্পে কিন্তু অনেক খোঁড়াখুঁড়ি করেও সেই রকম কিছুই যে তথ্য পাওয়া যায়নি, বি বি লালের সেই রিপোর্ট উল্লেখ করে লেখক তা দেখিয়েছেন। আর সেই কারণেই ১৯৭৭ সালে মোরারজি দেশাই সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ি ও লালকৃষ্ণ আদবানি সেই প্রকল্প চালু রাখা দূরে থাক, তা এক প্রকার বন্ধই করে দেন। মজার বিষয় হল, এই রামায়ণ প্রকল্প যখন বন্ধ হয় সেই প্রকল্পের মন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার মন্ত্রী ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানি। আগামীদিনে খনন কার্যের নামে আসল সত্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়েই আদবানি ও বাজপেয়ির উদ্যোগেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যটিও লেখক বেশ সুন্দর ভাবে যুক্তি দিয়ে তুলে ধরেছেন। ৭। ‘অপসাক্ষ্যের আহাম্মকি’ ১৯৭৫Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

মাটির বাড়ি: বাংলার স্থাপত্য ঐতিহ্য

এই গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে বাংলার মৃৎ-স্থাপত্য বিষয়ক গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা, গবেষণা-পদ্ধতি, গবেষণার সীমাবদ্ধতা, পূর্ববর্তী গবেষণা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে বিশ্ব-ইতিহাসের প্রেক্ষাপটসহ বাংলা অঞ্চলের মৃৎ-স্থাপত্যের ইতিহাস। তৃতীয় অধ্যায়ে সমকালীন নিদর্শন হিসাবে একটি কাছারিসহ মোট ছয়টি বাড়ির বিস্তারিত স্থাপত্যিক বিবরণ উপস্থাপিত হয়েছে।Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

গ্রাম বাংলার কেচ্ছা-রূপকথা-লোককথা

লেখক / সংগ্রাহক – মুহাম্মদ আয়ুব হোসেনপ্রথম খণ্ডদ্য ক্যাফে টেবল পাঠ প্রতিক্রিয়া – নুরজামান শাহ একটা সময় ছিল যখন আমরা সন্ধ্যাবেলায় দাদি বা ঠাকুমার কাছে বিভিন্ন রূপকথা,লোককথা শুনতে শুনতে কল্পলোকে হারিয়ে যেতাম। চোখ বন্ধ করলে সেসব গল্পকাহিনির ছবি চোখের কোণে ভেসে উঠত।গ্রামীণ জনজীবনে ছড়িয়ে থাকা এইসব রূপকথা, লোককথা বা কেচ্ছাগুলোর কোনো লিখিত রূপ ছিল না, <a class="read-more" href="http://purbanchal.co/book-review/1457/">Read more</a>Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

ট্রায়ো

এই মুহূর্তে বাংলায় প্রকাশিত চলচ্চিত্রের যে গুটি  কয়েক বই বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে 'ট্রায়ো' তাদের মধ্যে একেবারেই ভিন্ন ধরনের। প্রেক্ষাপট এবং আঙ্গিক দুটি ক্ষেত্রেই এ বই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সত্যজিৎ, ঋত্বিক এবং মৃণালের তিনটি করে ছবি নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক। Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

ইন্দুবালা ভাতের হোটেল

"জ্যাঠামশাই, আমরা হিন্দুস্থান চলিয়া গিয়াছি, ইতি সোনা।" -- নিরুদ্দিষ্ট মণীন্দ্রনাথের উদ্দেশ্যে সোনার অর্জুন গাছের গায়ে লিখে যাওয়া এই ঠিকানাখানা দেশভাগ সম্পর্কিত আমার যাবতীয় ধ্যানধারনা পাল্টে দিয়েছিলো এক লহমায়। গতবছরের মাঝামাঝি দিকে। তারআগে কখনো দেশভাগ, ছিন্নমূল এই শব্দগুলো উচ্চারিত হলে বুকের ভেতরে এমনতর ব্যাথার মোচড় টের পেতাম না। বিষয়টা উপমহাদেশের রাজনৈতিক তর্ক আলোচনা সমীক্ষা তথ্য যুক্তি এইসব কঠিন কঠিন বিচার বিশ্লেষনের মধ্যেই আটকে থাকতো। ছোটোবেলা থেকে বড় হয়ে ওঠা যে পরিবেশে, খেলার মাঠ, বাড়ির উঠোন, পুকুর ঘাট, গৃহস্থালি - একলহমায় সেই সবকিছু ছেড়ে অন্য কোথাও জন্মান্তরের মতো পাড়ি দিতে হলে বুকের কোথায় রক্তক্ষরণ হয় সেটা হৃদয় দিয়ে অনুভব ই করতে পারতাম না এজীবনে যদি না সোনা, পাগলজ্যাঠা, ঈশম, ফতিমা, মালতীদের সাথে পরিচয় হতো। আর সে অনুভব এমনই যা একবার শুরু হলে তা শুধু মানুষকে তাড়িয়েই মারে।Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

মগ্নপাষান

গল্প, উপন্যাস আমার খুবই পছন্দের জঁর। শরদিন্দুর 'ঝিন্দের বন্দী' নভেলখানা সবে শেষ করেছি। গৌরিশঙ্কর, কস্তুরি, ধনঞ্জয়,  ময়ূরবাহনরা মাথায় ভর করে আছেন তখনো।Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

কাব্য সমালোচনা

কাব্য সমালোচক সুদিপ পাল স্থিতধী নিঃশব্দেরা বলে দেয় সহস্র কথাস হস্র প্রশ্নের সহজ উত্তরদাতা’৷ কবি সংযুক্তা পান তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অপরাজিতা’-তে এভাবেই ব্যাখা করেছেন নিঃশব্দকে। কবি তাঁর কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন – ‘কাব্য কিনা জানিনা। তবে প্রকৃতি সমাজ বা সম্পর্কের স্পর্শে মনোভূমিতে স্পন্দন লাগলে চেনা-অচেনা সাঁঝবাতিরা নিয়ম করে আলো জ্বালিয়ে যায় তখন। সেই আলোর অনুসরণ নানা <a class="read-more" href="http://purbanchal.co/review/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%Read More