• January 17, 2022

Category : রবিবারের সাহিত্য

রবিবারের সাহিত্য

আফজল আলির কবিতা

আমার শহরে কবে আসছেন ডানা মেলে চলে গেছে রোদ্দুর, স্বপ্ন দেখা বারণ তবু যেন মনে হয় বলছে -আমার শহরে কবে আসছেন মেঘ ছায়া পার হয়ে অনেক দূর , মন ব্যক্ত করে সিঁড়ি সিঁড়ি সন্ধ্যা প্রচণ্ড ব্যাকুল ওই তো দিগন্ত , নিরামিষ করিডোর হয়ে মাখন মাখন সরগম তুলে ,মনে হয় তবু যেন বলছে - আমার শহরে কবে আসছেন যাব একদিন হাতছানি দিয়ে ছন্দ শহরের বুকে বিরাম যেখানে ঘুম থেকে তোলে ,কুয়াশার কাচ চোখে মাথার ভিতরে জাল বোনে দৃশ্যের বিনুনি কথা রূপালি ব্যথার ফেস-ওয়াশ তুলতুলে গালখানা হৃদয় ভেঙেছে জ্যোৎস্না শায়েরী অমোঘ কথার প্রত্যয় কারবারি ভুলে যাই সব, ভুলে যাই সব শিকল ছিঁড়ে উড়িয়ে দেওয়া পাখির কলরব সময় সরছে , ঘাড় ঘুরিয়ে তবু যেন বলছে আমার শহরে কবে আসছেন , কবে আসছেন শহরে হাতের দাগ এবং চায়ের কাপ আজ সকালে দেখলাম কাপটা ঠিক জায়গাতেই আছে জলের বোতল এবং চামচ রাখার পটটিও এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে ওগুলো সরে যেতে পারে তবু চা খাওয়ার সময় হাতের দাগটা আমি দেখতে পেলাম হাতের দাগ এবং চায়ের কাপ আজ দিনটা কি একটু অন্যরকম হতে পারে কেন নিজেকে define করতে পারছি না বড়ো জোর আমি চাইছিলাম বান্ধবীকে নিয়ে ঘুরতে আমাকে পাহারা দিচ্ছিল একটি (a+b)² এর ফর্মুলা এখন শীতকাল, সিলিং ফ্যান নিয়ে আলোচনা মুলতুবি নিম্নচাপে গরম ফিরে আসতে পারে , এসেছেও গতকাল অনেক ছবি ওকে দিয়েছিলাম, একটা ভিডিও ক্লিপ ও তবু মনে হচ্ছে এ সময়টা আমাকে থাপ্পড় দেবেই তখন আমি কোথায় যাব , জ্যামিতি নাকি পরিমিতি চায়ের কাপটা কিছু বলছে না দেখে একটু অবাক-ই হচ্ছিRead More

রবিবারের সাহিত্য

মানস মণ্ডলের কবিতা

মুহূর্তটা মানস মণ্ডল আমি সেই মুহূর্তটা যাকে উষাপর্ব বলে ভুল করে লোকে সূর্যও করে ইশারার কয়েকটুকরো তুলে নিয়ে সকালের কোলে মাথা রেখে বিকেলের গায়ে হেলান দেওয়া বুকে করে মুহূর্তটা পাশ ফেরে পৃথিবী ডেকেছে পৃথিবীর হাঁটা ব্যাপারে একটা চমৎকার আছে ওলট-পালট আছে একটা নতুন সন্ধ্যা আর আকাশের দোলাচলের মাঝে একটুকরো আবার এসো মাঝে মাঝে ফিরে আসে দাঁড়ায় একটু সুধাদির পুরনো চাঁদের জানলায় Read More

রবিবারের সাহিত্য

হত অথবা নিহত

পৌলমী গুহ যে কোনও একটিই বেছে নেওয়া সামনে সাজানো থাকে। কিছুজন ধুলোতে গড়ায়, আরও কিছু রাস্তায় নামে। কখনও রাষ্ট্রের নামে পিষে যায়, খবরে পড়ি, অমুকে এই বলেছে। নিশ্চিন্ত হই, বাজারে মাছের দাম দেখি। আমাদের আসলে যায় আসে না, আসেনি কোনওদিন। কবিতা-উৎসবে ডাক পেলেই জীবন সার্থক হয়। বিপ্লব স্রেফ বিলাসিতা।Read More

রবিবারের সাহিত্য

মুল্যবান পরামর্শ

তিনি ট্রান্সফার নিয়ে সেই অফিসে এসেছিলেন কোনো এক শনিবার। রবিবার ছুটির দিন। সোমবার দুপুরেই তাঁর নতুন নামকরণ হয়েছিল: বড়দা। কিছুদিন আগে ওই অফিসেই ছিলেন এক প্রবীণ ভদ্রলোক। তাঁর নাম ছিল রমাপদ পাল। তিনি কোনো একটি সেন্টেন্স বলতে গিয়ে মাঝে বার দুই ‘আ -আ’ করতেন। এই নতুন ভদ্রলোককে প্রতিটি সেন্টেন্সে কম করে বার চারেক ‘ অঁ-অঁ ‘ -করে গোঙাতে লক্ষ্য করেছিলেন অল্পবয়সী শিক্ষকরা ।Read More

রবিবারের সাহিত্য

সীমিতা মুখোপাধ্যায়ের তিনটি কবিতা

কটা ব্যর্থ-সকাল তাকিয়ে আছে জলভরা আকাশের দিকে, ছাতিমের বেতার-তরঙ্গ বয়ে আনছে মেঘলাবেলার ঘ্রাণ, শিউলিঘর সেজে উঠছে এক ছাপোষা-উচ্ছলতায়— সেই সাদামাটা গেরস্থালী থেকে ম্লান আলোর মতো চুঁইয়ে পড়ছি আমি, নিচে জেগে আছে প্লাস্টিক-বাঁধানো পৃথিবী।Read More

রবিবারের সাহিত্য

জাতীয়তাবাদের একাল ও সেকাল

ভারতীয় উপমহাদেশে প্রকৃত অর্থে জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে। এই জাতীয়তাবাদের উন্মেষের কারন ছিল ইউরোপিয়ানরা। তাদের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সেসময় অখণ্ড ভারতে নব কলবরে সৃষ্টি হয় ঐক্যবদ্ধ জাতীয়তাবাদের ধারনা, যা সমাজের সর্বস্তরের মানুষকেই প্রভাবিত করেছিল। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদ। ডঃ এ. আর. দেশাই এর কথায় “স্বার্থের সংঘাতের ফলেই জন্ম নেয় ভারতীয় জাতীয়তাবাদ। ব্রিটেনের স্বার্থ হল ভারতকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তার অধীনস্থ করে রাখা, আর ভারতীয় জনগণের স্বার্থ হল ভারতীয় সমাজের অবাধ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তন ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে নির্বিঘ্নে রাখা।“ যার পরিপূর্ণ রূপ পায় সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আবির্ভাব ঘটে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস, ঋষি অরবিন্দ প্রমুখ ব্যক্তিত্বের। যাঁরা প্রতিনিয়ত এই জাতীয়তাবাদ আন্দোলনের রসদ জোগান দিয়ে গেছেন। আর এই আন্দোলনের ফসল হল “নবজাগরণ”। একটি রাষ্ট্রের জনগণ একত্রিত হলে সমাজে তার কি প্রভাব পড়তে পারে তা বর্তমান যুগের প্রায় সকলেই অবগত।Read More

রবিবারের সাহিত্য

মনে থাকবে ?

পরের কোনো জন্মে আবার,তোমরা আমার প্রথম দেখায়,উড়তি লেখকের বাইয়ের মতো,তোমার প্রথম উপন‍্যাস হবো….মনে থাকবে? বকুল ফুলের মালা নিয়ে ,তোমার গলায় দেব যত্ন ভরে,রাতের গহীন অন্ধকারে,হঠাৎ করে আতকে উঠে,জাপটে ধরবে আমায় তুমিঅনেক সন্তর্পণে ভালোবেসে….মনে থাকবে ? গ্রীষ্মের প্রখর দাহে,আমি শীতলপাটি পেতে দেব,তুমি শরীর রেখে শান্ত হবে,এভাবেই দুপুরগুলো মিষ্টি করে পেড়িয়ে যাবে…মনে থাকবে ? ভোরের শিশির শিউলী <a class="read-more" href="http://purbanchal.co/robibarersahitto/1881/">Read more</a>Read More

রবিবারের সাহিত্য

যোগাড়ে

মৌসুমী বিলকিস : রোদের কী তাত্! ছেলেটির মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম। একবিন্দু ঘাম চুল থেকে গড়িয়ে থুতনি বেয়ে পায়ের পাতায় টপ্। : জুতা কই রে? : খুলে থুয়েছি। ছাদের এক কোণে একপাটি ওল্টানো হাওয়াই চপ্পল। ছড়ানো ইঁট, বালি, কালো পাথরের টুকরো। কাদা-ধুলোবালি পা উঠছে তিনতলায়। নামছেও।Read More

রবিবারের সাহিত্য

মাৎস্যন্যায়

অংশুক উদোম পাহাড়ের গায়ে গায়ে খনির নীলচে হাঁ মুখ।আফ্রিকান প্রবাদেরা বহুদূর থেকে তাদের জন্য রক্ষাকবচ গড়ে রেখেছে। আকাসিয়া গাছের গন্ধ জংলী সারাৎসার নিয়ে ছুটে আসে। বুজে আসে অমোঘ হাঁ।মাটির গহীনে অদম্য খোঁড়াখুঁড়ি রহস্যের মতো ঘুমিয়ে।বিষাক্ত লতা উঠে আসে সেখান থেকেই। সান বাথের অভিজাততন্ত্র যেন কুমীরের রোদপোহানো আর আড়ালে শিকার হবার অপেক্ষায় কোটি কোটি ঘেমো শরীর!সমুদ্রের <a class="read-more" href="http://purbanchal.co/robibarersahitto/1753/">Read more</a>Read More

রবিবারের সাহিত্য

সুনীল শৈশবের কবিতা

বেঁচে থাকার শ্লোক আওড়ায়ে যাই আলো থেকে অন্তর্হিত হয়ে,চোখের জোছনায় অপূর্ব আভা মেখে বেঁচে রয়েছি সপ্রতিভ, তুমি মৃগনাভির মতো নদীর জলসিঁড়ি টপকাও জলের শরীর থেকে ঝেরে ফেলো রৌদ্রের ওমরঙ; বহুদিন গেছে রোদ-জলে মাখামাখি করে তোমাকে পড়ে রেখেছিলাম গুপ্তধনের মতো, সমুদ্রের মতো কিছুপথ থাকে অচেনা,অন্ধকার মাইলের পর মাইল পাখি বাসনাময়।... ফাঁকির কৌশল শিখিনি জীবনকে করেছি ভোগ চাঁদের ভুলে মেঘের চাদরে উড়িয়েছি চোখাশ্রু তোমার থেকে বিদায় নিতে হবে-আমি সে ঘ্রান জানি তোমার হৃদয় যবে স্পর্শ করেছিলাম প্রতীতি উৎসবে। দিবারাত্রি রক্তচাপ নিয়ে ভালোাবাসি করুণ ভোর বেঁচে থাকার এক-একটি শ্লোকে জীবন বিভোর। মায়া ----Read More