• January 17, 2022

Category : পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গ

অসময়ে মুকুল, হতাশ আমচাষিরা

বাপি সিংহ শীতের মরশুমেই মালদার আমবাগানে মুকুল ফুটেছে। মুকুলে ভরে গিয়েছে কোন গাছ, আবার কোন কোন গাছে কুঁড়ির দেখা মিলতে শুরু করেছে। অগ্রিম জেলার আম বাগান গুলিতে মুকুল ফুটতে শুরু করে হতাশ আম চাষিরা। তাদের আশঙ্কা শীতের দাপটে কুড়ি অবস্থাতেই ঝরে যাবে সমস্ত মুকুল। শীতের তাপমাত্রা কমলে বা কুয়াশার দাপট বাড়লে মুকুলে জন্ম নিবে ছত্রাক। যার নষ্ট করে দিবে আম হওয়ার আশা। আর তাতেই নিরাশ হয়েছেন জেলার আম চাষিদের একাংশ। যদিও জেলা উদ্যানপালন দফতরের কর্তারা আমচাষীদের আশ্বাস দিয়ে বলছেন, সঠিক পরিচর্যা করলে এখন ফোটা মুকুলেও আম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শীতের দাপট বাড়লে বা কুয়াশা পড়লে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যে সমস্ত গাছে আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেছে সেগুলিকে কীটপতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন উদ্যানপালন দফতরের কর্তারা। সাধারণত মালদা জেলায় বসন্তের শুরুতে আমের মুকুল ফুটতে শুরু করে। জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত হলো আমের মুকুল ফোটার অনুকূল আবহাওয়া। তবে চলতি মরশুমে আবহাওয়ার পরিবর্তন এর জন্যই শীতে আম গাছগুলোতে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। শীত থাকলেও এখন তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই আমের মুকুল ফোটার পক্ষে অনুকূল। তাই অধিকাংশ গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। আগামীতে আবহাওয়ার পরিবর্তন না হলে বা কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলেই মুকুল গুলিতেও আমের গুটি আসবে। এমনটাই দাবি জেলা উদ্যানপালন দফতরের কর্তাদের। মালদা জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক সামন্ত লায়েক বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের জন্য চলতি মরসুমে সময়ের আগেই কিছু আমবাগানে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। তবে সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে এই মুকুলের আমের গুটি আসবে। তবে এখন যদি শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে বা কুয়াশা পড়লে মুকুল গুলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আম চাষে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। মালদা জেলা উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে গত মরশুমে মালদা জেলায় মোট ৩১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল। ২০১৯-২০ মরশুমে জেলায় আম চাষের জমির পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৮৫০ হেক্টর। আগামী মরশুমে জেলার আম চাষের জমির পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা শুরু করা হয়েছে। গত মরশুমে মালদা জেলায় মোট আমের ফলন হয়েছিল ৩লক্ষ ৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন।২০১৯-২০ মরশুমে আমের ফলন হয়েছিল দুই লক্ষ আশি হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন।গত মরশুমে হেক্টর প্রতি ফলন ছিল ১১.৯৩ মেট্রিক টন।Read More

পশ্চিমবঙ্গ

গুরুদেবের শঙ্কা, অচলায়তনের পথেই বিশ্বভারতী

✍️ অভিষেক দত্ত রায় যে শঙ্কা ছিল গুরুদেবের মনে, সেই শঙ্কাই যেন অনেক গুলি দশকের পর আস্তে আস্তে শ্যাওলার মত ঘিরে ধরছে ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’কে। শিক্ষার পদ্ধতি, চেতনালোক সংক্রান্ত বিষয়ে কবির চিন্তাধারা, আদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষণ সমসাময়িক সময়ে ও তার পরবর্তী সময়ে বহু জায়গায়, বহু ক্ষেত্রেই হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্র গুলিতে চেতনা আনতে, শিক্ষাধারার অভিমুখ বদলাতে তৎকালীন শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক কর্তা ব্যাক্তিদের চোখের ঠুলি খুলে দিয়ে ১৯১১ সালে গুরুদেব লিখেছিল তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি ‘অচলায়তন’। প্রথম এই নাটকটি প্রকাশিত হয়েছিল ‘প্রবাসী’ পত্রিকায়। নাটকটির সারমর্ম রুদ্ধ শিক্ষার অবচেতন দেওয়াল ভেঙে তোলপার করে দিয়েছিল সমগ্র শিক্ষা ব্রহ্মাণ্ডকে। নাড়া দিয়েছিল প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজার কড়ায়। অতপর, ১৯২০ সালে আরও একবার কবির কলমে ধাক্কা খেয়েছিল চিরাচরিত শিক্ষা ব্যাবস্থা, শিক্ষার মান, শিক্ষার পরিকাঠামো। কবি রচনা করেছিলেন অতি তাৎপর্যপূর্ণ লেখনী ‘তোতা কাহিনী’। এই রচনাটিও যথেষ্ট শিক্ষামূলক সমালোচনায় জায়গা করে নিয়েছিল। কবিগুরুর চোখে তৎকালীন ও বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দিক ধরা পরেছিল। ধর্মীয় আগ্রাসন মূলক শিক্ষা, এক নায়কতন্ত্রী শিক্ষা প্রভৃতির পাঠ শুরু হয়েছে বহু আগে থেকেই। স্রোতের বিপরীতে হেঁটে গুরুদেব উন্মূক্ত শিক্ষায় বিশ্বাসী ছিলেন। যে শিক্ষা সমাজ গড়ে, যে শিক্ষা গৃহ বন্দী শিক্ষা নয়, মুক্ত আকাশের নিচে প্রকৃতিকে জানতে জানতে শেখা। বাস্তব ও বইয়ের পৃষ্ঠার পার্থক্য বুঝে পথ চলার শিক্ষায় বিশ্বাসী ছিলেন কবি। এই কথা গুলি কবি বার বার তাঁর বিভিন্ন লেখনীতেও ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি চেয়েছিলেন, পরিব্রাজকের শিক্ষা, সেখানে জ্ঞানের প্রাচীর থাকবে না। তিনি লিখেও ছিলেন, ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর’। এই চিন্তা চেতনা থেকেই কবিগুরু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আপন মনের মাধুরী মিশ্রিত ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’। যে বিশ্ববিদ্যালয় দেশে-বিদেশের আর পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন। কবি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, গাছের তলায়, প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকেও উচ্চ শিক্ষা লাভ করা সম্ভব। চার দেওয়ালের মাঝে নয়, ছয় ঋতুর মাঝে শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম নজির এই ‘বিশ্বভারতী’। “নতুন সভ্যতার উদয় যার হাত ধরে, সে সর্ব ক্ষেত্রে কৃষ্টি ধারী আলয়। পৃথিবীর দুই মেরু জুড়ে দেওয়ার সংস্কৃতির শ্রষ্ঠা, জ্ঞান গগণের উজ্বল ধ্রুবতারার নাম বিশ্বভারতী”।। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন গতিতে যেন বদলে যাচ্ছে এই ‘বিশ্বভারতী’। পাল্টে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সুর, পরিকাঠামো, পদ্ধতি, রীতি, রেওয়াজ। এক কথায় ‘বিশ্বভারতী’ যেন ধীরে ধীরে ‘অচলায়তনে’ পরিণত হচ্ছে। কার্যত এই ভয়টাই বারে বারে কুঁড়ে খেয়েছিল কবির মনে। এক সময়ের এক শোনা গল্প রয়েছে, গুরুদেব তখন জীবিত। বিশ্বভারতীর গুটি কতক আশ্রমিক, ছাত্রছাত্রীর অভিবাবক পঠন-পাঠন সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে এসেছিলো। গুরুদেব তাদের বলেছিলেন, ‘আমি চাই আপনারাও আপনাদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আশ্রমের পঠন-পাঠনে নিজেদের যুক্ত করে মনের মত সাজিয়ে তুলুল আশ্রমটি’। গুরুদেবের সেই কথায় অভিযোগ নিয়ে আসা অভিভাবকেরা মাথা নত করে বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁরা এক একজন একটি দিক সামলে ছিলেন আশ্রমের। অর্থাৎ গুরুদেব এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজ নিজ মননে, চেতনায় গেঁথে নেওয়ার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাই তো তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দিয়েছিলেন ‘বিশ্বভারতী’। এক্ষেত্রে কিছু কথা বলাই বাহুল্য, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রুপ’ শীর্ষক একটি নিবন্ধে প্রাচীন ভারতের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুলির ধারাবাহিকতা, শিক্ষা চরিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্বানের আসন চিরপ্রসিদ্ধ। সমস্ত সভ্য দেশ আপন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জ্ঞানের অবারিত আতিথ্য করে থাকে’। তাঁর মতে ‘বিশ্ববিদ্যালয়' হল একটি সাধনার পীঠস্থান। অর্থাৎ স্বদেশ, বিদেশ সকল জায়গার মানুষজনের জন্য জ্ঞানের সাধনা ক্ষেত্র হল বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি প্রাচীন ভারতের ইতিহাসকে আধুনিক মানুষের কাছে তুলে ধরেন এবং চীনা ও তিব্বতি ভাষায় শিক্ষা দানের কক্ষ শুরু করেন। পরে একে একে বহু ভাষায় শিক্ষা দান শুরু হয়। যেমন- মাদাম, লেভি, ফরাসি ভাষায় শিক্ষা দিতে শুরু করেন। প্রাচ‍্য জ্ঞান জগতে সুপরিচিতদের আগমন বিশ্বভারতীকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছিল। ‘বিশ্বভারতী’ আন্তর্জাতিক স্তরে সমৃদ্ধ লাভ করেছিল। রবীন্দ্র জীবনীকার প্রভাত মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রমের বিশ বতসর এইবার পূর্ণ হইল। এই দীর্ঘকাল বিদ্যায়তনের ব্যায়ের মূলাংশ কবি একাই বহন করিয়া আসিতেছিলেন, কিন্তু, বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার পর হইতে তাহার একার পক্ষে এ ভার বহন করা সম্ভব নহে। বিশ্বভারতীতে নানা বিষয় অধ্যায়ন, অধ্যাপনার পরিকল্পনা রহিয়াছে, বিদেশ হইতে গুণী জ্ঞানীদের আসিবার সম্ভাবনা। কবির মনে তাহাঁর ‘মিশন’ সম্বন্ধে কোন দ্বিধা নাই; তাহাঁর অন্তরের বিশ্বাস আন্তর্জাতিকতার মনোশিক্ষা না পাইলে ভাবীকালের সভ্যতা টিকিবে না’ (রবীন্দ্র জীবিনী তৃতীয় খন্ড)। ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে শান্তিনিকেতনের নতুন এক অধ্যায়, এক যুগের সূচনা হয়েছিল। নতুন যুগের, নতুন কালের সেই অতিথিশালায় মানুষের সঙ্গে মানুষের হার্দিক মিলন, যোগাযোগ অনেকাংশেই বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। এমনকী, শান্তিনিকেতন ত্যাগ করে অধ্যাপক বিধুশেখর ভট্টাচার্য সংস্কৃত শিক্ষার প্রসারের জন্য গ্রামে ফিরে গিয়ে টোল প্রতিষ্ঠা করতে ব্যার্থ হলে গুরুদেব পুনঃরায় তাঁকে ফিরিয়ে আনেন বলে শোনা গিয়েছিল। দেশ, বিদেশের গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গের সম্মিলনের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে ‘বিশ্বভারতী’। বিশেষ করে ১৯২২ থেকে ১৯২৩ সালে এই ‘বিশ্বভারতী’ নানা দিক দিয়ে, নানা ভাবে বিশ্বের শিক্ষা দরবারে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। বিদেশি অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে এই বিশ্ববিদ্যালয়। সকলের জন্য বিভিন্ন ভাষা, বিভিন্ন ধর্মের মানুষজনের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিন গুরুদেব। গুরুদেবের জীবনাবসানের পরে পরেও এই ধারা বজায় ছিল কয়েক দশক। কিন্তু, আশির দশকের শেষের দিক থেকে এই রীতি রেওয়াজে চির ধরতে দেখা যায়। বদলাতে শুরু করে বিশ্বভারতীর পঠন-পাঠন পদ্ধতি, নিয়ম শৃঙ্খলারও বদল ঘটতে থাকে কিছু কিছু করে। সময়ের সাথে সাথে একে একে বিসর্জিত হতে দেখা যাচ্ছে মূল আদর্শ গুলিকে। গুরুদেবের আদর্শের ধারক বাহকেরা আজ লুপ্ত প্রায়। কমে গিয়েছে গাছের তলায় বসে উচ্চ শিক্ষার পঠন-পাঠন। পাঠভবনের পঠন-পাঠন গাছের তলায় হলেও, চীনা ভবনের সামনে, গৌর প্রাঙ্গণের কাছে মুক্ত পরিবেশে ছাতার তলায় পঠন-পাঠন প্রায় বন্ধের মুখে। আশ্চর্য লাগে এই দেখে বা ভেবে, এই সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ কন্ঠে প্রতিবাদ করার, নতুবা হাল ধরার আশ্রমিকেরও আজ বড় অভাব। সকলের কন্ঠ যেন এক সাথে রুদ্ধ আজ। একদিকে গুরুদেবের চিন্তা চেতনা লোপ পাচ্ছে ‘বিশ্বভারতী’ থেকে, অন্যদিকে, আশ্রমিক নামক ব্যক্তিরা নামের তকমা জুড়ে সাহিত্য সভায় যোগ দেন মাত্র। আদর্শগত পার্থক্য তুলে ধরার, হাল ধরার মানুষটির অভাব আজ খুবই বিদ্যমান বিশ্বভারতীতে। যারাই অচলায়তনের পাঠ দান করেন, তাদেরই অচলায়তনের জন্য মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়। এখন বিশ্বভারতী অন্যান্য বানিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি থেকে কোন অংশে কম বলে মনে করার কোন রুপ প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাওয়া দায় হয়ে উঠেছে। একই ভাবে, গতানুগতিক শিক্ষা ধারা ব্যহত বর্তমানে, পাশাপাশি ডিগ্রি অর্জন। সম্প্রতিকালের ছাত্রছাত্রীরা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কতটা আদর্শগত শিক্ষিত হল সেটার থেকেও বড় ‘বিশ্বভারতী থেকে ডিগ্রি পেয়েছি’ এই বলে বিস্তার করার আত্মকেন্দ্রিক আনন্দ। এক কথায় যদি বলি, কবির ভয়ের জায়গাতেই পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর স্বপ্নের ‘বিশ্বভারতী’। পরিণত হচ্ছে শ্যাওলা ধরা এক অচলায়তনে, তোতা কাহিনীর মত পুঁথির পৃষ্ঠা মুখে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে পড়ুয়াদের। যা সত্যিই প্রকৃত রবীন্দ্র অনুরাগী মানুষজনের কাছে মর্মান্তিক কালো দিন ধেয়ে আসার মত যন্ত্রণাদায়ক। বিশ্বভারতীকে মানুষ বিশ্বের দরবার মনে করেন। সেই দরবারে দ্বার আজ সবার জন্য নয় অথবা সীমিত। যেটা কোন সচেতন মানুষের কাম্য নয়। আজ বিশ্বভারতী শেখায় শাসকের হয়ে বিজ্ঞাপন দিতে, আজ বিশ্বভারতী শেখায় শাসকে তোষণ করতে, আজ বিশ্বভারতী শেখায় শাসকের শোষণ সহ্য করতে, আজ বিশ্বভারতী শেখায় শাসকের চাটুকারিতা করতে৷ "প্রতিবাদ" শব্দটি ম্লান থেকে ম্লানতর৷ "আশ্রমিক" শব্দের ব্যবহার থাকলেও বিশ্বভারতীই আজ আশ্রম নয়, এটাই কঠিন বাস্তব৷ এর সমাধান যে নেই তা নয়, সমাধানের এক ও অদ্বিতীয় পথ হল বিশ্বভারতীকে রক্ষা করতে চাই বিরামহীন ভয়াবহ ‘শিক্ষা বিপ্লব’।Read More

পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের সাহিত্য থেকে রাজনীতি :চেতনার সংকট ও উত্তরণ

এম. রুহুল আমিন শিক্ষা যদি জাতির মেরুদন্ড ও সমাজ জীবন দেহ হয়, তবে সাহিত্য সংস্কৃতি তার আত্মা। এই আত্মার মৃত্যু মানে সমগ্র জাতির মৃত্যু। দেশ ভাগের ফলে বাংলার সাহিত্য জগতে একটা বিশাল আঘাত এলেও কিছু দিনের মধ্যে এপার বাংলা অনেকটাই মেরামত করে নেয়। তাতে অবশ্য ওপার বাংলা থেকে আগত একটা বিশাল সংখ্যক হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও উচ্চবিত্তের অবদান ও কম ছিল না। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে ওপার বাংলার মুসলিম সমাজ ও সাহিত্য সংস্কৃতির জগৎ যতটাই না সমৃদ্ধ হয়েছে ঠিক উল্টোটা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। যত দিন গেছে শিক্ষা -চাকরির সাথে সাথে সাহিত্য -সংস্কৃতি চর্চার দৈন্যদশা দিন দিন প্রকট থেকে প্রকটতর হয়েছে আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা সেটাকে আরও প্রসারিত করেছে । পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের সংখ্যা ২৭-৩০ শতাংশ।সংখ্যার নিরিখে 3কোটির কাছাকাছি। এতো বিপুল সংখ্যক মুসলিমদের অধিকাংশ গ্রামে বসবাসকারী নিম্নবিত্ত শ্রেণির। এদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের হার কি ভয়ঙ্কর ভাবে কম তার আর পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানোর দরকার পড়ে না। সাচার কমিটির রিপোর্ট তো তার যৎসামান্য প্রতিচ্ছবি, বাস্তব চিত্র আরও খারাপ। মুসলিম সমাজের পিছিয়ে থাকার কারণ হিসাবে বুদ্ধিজীবীরা যেসব কারণ গুলি উল্লেখ করে থাকেন তার মধ্যে অন্যতমগুলি হলো - 1)কলকাতা ও অন্যান্য শহর অঞ্চলের উচ্চবিত্ত ও বুদ্ধিজীবীদের দেশত্যাগ। 2)ইংরেজি শিক্ষার প্রতি বহুদিন যাবৎ মুসলিম সমাজের নেতিবাচক মনোভাব। 3)ইসলাম ধর্মের সামগ্রিক চিন্তাচেতনাকে রুদ্ধ করে শুধুমাত্র নামাজ -রোজা কে অধিক মাত্রায় গুরুত্ব দান। 4)উচ্চ মানের আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লোকের অভাব। 5)পিছিয়ে পড়া এই সমাজের জন্য সংবিধানে সংরক্ষণ সুবিধার অভাব। 6)মুসলিম সমাজের গড়েতোলা মাদ্রাসা গুলির সঠিক ব্যাবস্থাপনা ও পরিকাঠামোর অভাব। Read More

দেশপশ্চিমবঙ্গবিদেশ

জাহান্নামের আগুনে মুনাফা – কোভিড ভ্যাক্সিন

নিউ ইয়র্ক টাইমসের সংবাদ অনুযায়ী (৮.১২.২১) এই মুহূর্তে ১৬টি ভ্যাক্সিন ইমার্জেন্সি ব্যবহারের ছাড়পত্র পেয়েছে। এরকম ভাবার কোন কারণ নেই যে মডার্না বা ফাইজারের মতো দানবীয় হাঁ-মুখ বহুজাতিক কোম্পানি কোভিডের জন্য কোটি মানুষের মৃত্যুতে দুহাত দিয়ে দানসত্র খুলে বসেছে। আমি দেখার চেষ্টা করব “জাহান্নামের আগুনে” বসে মুনফার কত পুষ্প চয়ন করেছে এরা। অথচ এরা সরকারের অর্থ সাহায্য বিপুল পরিমাণে পেয়েছে। গতবছর যখন ভ্যাক্সিন তৈরির প্রবল উদ্যোগ চলছে সেসময় নেচার পত্রিকায় (২৭.০৮.২০২০) প্রকাশিত হয়েছিল “The unequal scramble for coronavirus vaccine” শীর্ষক প্রবন্ধ। প্রবন্ধে বলা হয়েছিল – “ধনী দেশগুলো ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর সাথে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডোজের চুক্তি করে ফেলেছে। এর ফলে পৃথিবীর মাঝারি এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ভ্যাক্সিনের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়বে … আগস্টের মাঝামাঝি তৈরির মাঝ পথে রয়েছে এরকম ৮০ কোটি ভ্যাক্সিন আমেরিকা কিনে নিয়েছে। এবং আরও প্রায় ১০০ কোটি কিনবে বলে স্থির করেছে। ইংল্যান্ড ৩৪ কোটি ডোজ (প্রতিটি নাগরিকের জন্য ৫টি করে ডোজ) এবং জাপান একশ কোটি ডোজের কাছাকাছি কিনে নেবে।” COVAX (COVID-19 Vaccine Global Access Facility) নামে একটি যৌথ উদ্যোগ জন্ম নিয়েছে এই অতিমারি শুরুর গোড়ার দিকে। এতে রয়েছে বিল এবং মেলিন্দা গেটস-এর সংগঠন GAVI (Global Alliance for Vaccines and Read More

দেশপশ্চিমবঙ্গ

কাজের প্রকৃতি এবং অবসরের পরিবর্তন

একটা কর্মদিবসের একটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা প্রায় অপরিচিতই তাই হল অবসর সময়। কাজের ক্ষমতা শুধুমাত্র শ্রমিকদের কায়িক পরিশ্রমের ওপরই নির্ভর করে না বরং এটি তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আবেগের পরিপূরক হিসেবেও কাজ করে। এই পর্যায় গুলির জন্য অবসর সময় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই কারণেই বিশ্বব্যাপী সমস্ত শ্রমিক শ্রেণী এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো কর্মদিবসকে ৮ ঘন্টা কাজের সময়, ৮ ঘন্টা অবসর সময় এবং ৮ ঘন্টা ঘুম অথবা বিশ্রামের সময় হিসেবে ঘোষণা করার জন্য সংগ্রাম চালিয়েছে।Read More

পশ্চিমবঙ্গ

সফদর বন্দেগী

সফদর হাসমী... সমাজ সচেতন প্রতিবাদী থিয়েটারের আরেক নাম। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি ও ভ্রষ্টাচার, কৃষক উচ্ছেদ, শিশুশ্রম - সমাজের জ্বলন্ত সমস্যা গুলো নিয়ে অবিরাম আমাদের নাড়া দিয়েছেন। তার এমনতর বেয়াড়া থিয়েটার সহ্য হয়নি ভারতীয় গণতন্ত্রের। ১৯৮৯ সালের ১লা জানুয়ারি শাহীবাবাদে তার হাল্লাবোল নাটক চলাকালীন তৎকালীন শাসকদলের বাহুবলীরা হাশমিকে টেনে হিঁচড়ে মারতে মারতে পাথর দিয়ে থেতলে দেয় তার মাথাটা। কিন্তু তার কণ্ঠ রোধ করা যায়নি, যায়ওনা! আজ হাতের মুঠোয় যখন যাবতীয় ফুর্তি, অক্লান্ত দাপাদাপি, শহরের রাস্তায় বেরোলেই শপিং মল আর নাইট ক্লাবের ঝলসানি তখন সফদর হাশমি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আদর্শে অবিচল থাকতে। "স্বভাবজ কর্ম স্বদোষ হইলেও তাহা পরিত্যাগ যোগ্য নহে। কারণ ধুমের দ্বারা যেমন অগ্নি আবৃত হয় সেই রূপ সকল কর্মই দোষ দ্বারা আবৃত হ‌ইয়া থাকে" -- (১৮/৪৮ ভাগবৎ গীতা) এই মরমে গত ৩১শে ডিসেম্বর ২০২১ ও ১লা, ২রা জানুয়ারি ২০২২ বিসর্গ থিয়েটার স্মরণ করে সফদর হাসমী কে। তিনদিন সফদর হাসমী কে নিয়ে থাকে আড্ডা, তাঁকে চেনা,জানা, অনুভব করা। প্রথমদিন কথায় গানে থাকেন বাকসভা, দ্বিতীয় দিন গানে গানে নীতিশ রায় স্মরণ করেন তাঁকে। তৃতীয় দিন অনিক রুদ্র স্মরণ করে তাঁকে কবিতার মাধ্যমে এবং কথায় গল্পে ১৯৮৯ এর ১লা জানুয়ারির সেই দিনটিকে তুলে ধরেন কল্লোল দাসগুপ্ত। নবকল্লোল, অদ্বিতীয়, আমতা পরিচয়, মধ্যমগ্রাম নৃত্যবিতান, কলকাতা নাট্যসেনা, সংশপ্তক চিনসুরা, নাটুকে বেদুইন তাদের নিজস্ব নাটকের উপস্থাপনার মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনদিন‌ই বিসর্গ থিয়েটার তাদের নাটক যথাক্রমে; 'নয়ন কবীরের পালা', 'সমীকরণ', 'বাঘ চাল' এর উপস্থাপনা করে সফদর বন্দেগীতে। গড়িয়াহাট ডোভার গেষ্ট হাউজের ছাদ 'শামিয়ানা' এ সঙ্গে থাকেন উপঢৌকন, শিল্পী বিতান, বিসর্গ এর নব্য প্রাচীন বসন এর পরিবেশ বান্ধব সম্ভার‌।Read More

পশ্চিমবঙ্গ

ওরা পারবে কি ভোলাতে “মধুমাখা ছুরিতে”

জয়তু দেশমুখ : দেউচা পাচামিতে খোলামুখ কয়লাখনি চাই না। এই ব্যানারে রাজ্যের বিভিন্ন বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সংগঠন ও ব্যাক্তিবর্গ আজ বীরভূম জেলা শাসকের দপ্তরে এক বিক্ষোভ ডেপুটেশন কর্মসূচী সংগঠিত করে।সাক্ষাৎকারে জেলা শাসক যৌথ প্রতিনিধি দলকে জানান – এই রাজ্যের তৃণমূল সরকার নাকি জমি অধিগ্রহণ বিষয়টাই বাদ দিয়ে দিয়েছে। দেউচা পাচামিতে আদৌ কোন জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে <a class="read-more" href="http://purbanchal.co/west-bangal/2261/">Read more</a>Read More

পশ্চিমবঙ্গ

নতুন প্রজন্ম মজেছে কেক-পেস্ট্রিতে,হারিয়ে যেতে বসেছে মালদার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি মহদিপুরের ‘মনোহরা’

কাঁপা কাঁপা হাতে পুরনো পিতলের গামলা থেকে মনোহরা তুলে দাঁড়িপাল্লায় মাপতে মাপতে সত্তরোর্ধ অজিত গুপ্ত বলেন,"আমার বাবা স্বর্গীয় অনন্তলাল গুপ্তর হাত ধরে বাংলাদেশের পাবনা জেলার শিবগঞ্জ থেকে এ মিষ্টি এসেছিলো এদেশে।ছানা না থাকায় এই মিষ্টি নষ্ট হতো কম।তাই এর কদর ছিলো খুব।একসময় মালদা টাউন থেকে পাইকারেরা এসে টাউনে বিক্রির জন্য নিয়ে যেত।এখন কোথায় আর সেসব দিন?" ক্ষীরের তৈরি সুস্বাদু এই মিষ্টির চাহিদা একসময় গোটা মালদা জেলা জুড়ে ছিল। মূলত মালদা জেলার ইংলিশ বাজার ব্লকের ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মহদীপুর গ্রামে এই মিষ্টি তৈরি হয়। অজিতবাবু ছাড়াও এখনো এলাকার বাজারে দুই একটি মিষ্টির দোকানে মনোহরা পাওয়া যায়। তবে অজিতবাবুর হাতে তৈরি মনোহরার মত বিকল্প আর কোথাও নেই। ছোটবেলা বাবা অনন্ত লাল গুপ্তের হাত ধরেই মনোহরা তৈরিতে হাতে খড়ি। ৫০ বছর ধরে মনোহরা মিষ্টি পেশার সাথে যুক্ত রয়েছেন অজিত বাবু। বাংলা ছাড়িয়ে অজিতবাবুর হাতে তৈরি মনোহরা উত্তরের কাশ্মীর থেকে Read More

পশ্চিমবঙ্গ

মুর্শিদাবাদ সোনাঝুরির হাট

মুর্শিদাবাদ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ৪১ টি স্টল এসেছিল এই মেলায়, ছোট পরিসরের মেলা হলেও বিরাট সাড়া ফেলেছে এই মেলা। ৪১ টি স্টল এর মধ্যে ৮ টি স্টল মুর্শিদাবাদের। শোলা শিল্প, কাঁথা স্টিচ ব্যাগ, নারকেল ছোবড়ার কাজ,কাঁথা স্টিচ শাড়ি, পুতির গহনা ইত্যাদি। হুগলি জেলা থেকে এসেছিল বড়ি, পাপড়, মসলা, আমসত্ত্ব ইত্যাদি।বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে এসেছিল পোশাকের স্টল, এছাড়াও ছিল ডোকরা শিল্পের গহনা।Read More

দেশপশ্চিমবঙ্গ

পাপিয়া মাণ্ডির পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ

পাপিয়া মাণ্ডির লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ২১ ডিসেম্বর ২০২১ রাজ‍্যের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচী সংগঠিত হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ও চন্দ্রকোনা, পূর্ব বর্ধমানে বোহার গদাইতলা বাজার, হুগলির ধনেখালি বিডিও অফিস এবং কলকাতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ‍্যালয়ে বিভিন্ন সংগঠনের উদ‍্যোগে প্রতিবাদী কর্মসূচী সংগঠিত হয়। পাপিয়া মাণ্ডির পাশে দাঁড়িয়ে জাতিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সুবিচারের জোরালো আওয়াজ তোলা হয়। মূল বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচীটি ছিল সবংএ। ভারত জাকাত মাঝি পারগাণা মহল (ভাজামাপাম) সবং ও পিংলা মুলুকের ডাকে সবং তেমাথানি মোড়ে কয়েকশ আদিবাসী নরনারী প্রথাগত পোশাকে, তুমদাঃ-টামাক্ ও ঘরোয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমায়েত হন এবং প্রতীকী বৃক্ষরোপণের মাধ‍্যমে প্রকৃতি আরাধনা করে এক সুশৃঙ্খল মিছিল সমগ্র এলাকা পরিক্রমা করে সবং সজনীকান্ত মহাবিদ‍্যলয়ের দরজায় হাজির হয়। দরজা বন্ধ দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সকলে, বিশেষত মহিলারা। কলেজের সামনে ব‍্যাস্ত হাইরোড অবরোধ করে বসে পড়েন সবাই। বিশাল পুলিশ বাহিনী দফায় দফায় আলোচনা চালায় নেতৃত্বের সাথে। প্রায় ৪৫ মিনিট অবরোধ চালিয়ে রাস্তা জুড়ে মিছিল করে ফিরে আসা হয় তেমাথানি সভাস্থলে। সভা চলে সন্ধ‍্যা অবধি। প্রথমে বক্তব‍্য রাখেন ফুলো-ঝানো তিরলো গাঁওতার নেত্রী স্বরস্বতী হাঁসদা ও সব শেষ বক্তা ছিলেন পাপিয়া মাণ্ডির ছোট ভাই পূর্ণেন্দু মাণ্ডি। তার মাঝে একে একে বক্তব‍্য রাখেন বিক্ষোভ কর্মসূচীর অন‍্যতম প্রধান উদ‍্যোক্তা মিঠুন মুর্মু, বাবলু হাঁসদা, সনাতন হেমব্রম, বিশ্বনাথ হেমব্রম, মনোরঞ্জন মুর্মু, রবি সিং সহ বিভিন্ন নেতৃত্বস্থানীয় পারগাণা মহল। আমন্ত্রিতদের মধ‍্যে থেকে বক্তব‍্য রাখেন মলয় তেওয়ারি ও ডিডি মুর্মু। সভাস্থল ও মিছিলকে শ্লোগানে উজ্জীবিত রেখেছিলেন পিংলা মুলুকের গোডেৎ পারগানা বিজয় হেমরম ও করকাই পিড় জগ পারগানা কুমার কিসকু। সভা পরিচালনা করেন খড়গপুর তল্লাটের গোডেৎ পারগানা অলোক বেসরা। আদিবাসী সমাজের মানুষেরা ছাড়াও বহু সাধারণ মানুষ আগ্রহভরে সভায় অংশ নেয় এবং মিছিলের সময়ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমর্থন লক্ষ‍্য করা যায়।Read More