• July 3, 2022

Category : পশ্চিমবঙ্গ

দেশপশ্চিমবঙ্গ

হুল দিবসের অঙ্গীকার

হুল দিবসের অঙ্গীকার মলয় তেওয়ারি সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, চুয়াড় বিদ্রোহ, ফরিদপুরের দিদুমীর, চিটাগাঙের চাকমা বিদ্রোহ, কোল ও ভূমিজ সহ অসংখ্য বিদ্রোহের পথ বেয়ে এসেছিল ১৮৫৫’র হুল বা সাঁওতাল বিদ্রোহ যা এক তীব্র সশস্ত্র গণসংগ্রামের রূপ নিয়েছিল। হুল বিদ্রোহ সাঁওতাল সমাজকে বিপ্লবী জাতীয়তাবাদে ঐক্যবদ্ধ করে এবং অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠিকে উজ্জীবিত করে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালানোর যে দৃষ্টান্ত ও সম্ভাবনা হুলের মধ্যে দিয়ে সাঁওতাল জাতি সামনে এনেছিল তা সমগ্র ভারতে স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে জাগিয়ে তুলেছিল। হুRead More

পশ্চিমবঙ্গ

সীমান্ত বঙ্গের হাট

লোকসংস্কৃতি- লোকযানের নিরিখে সমগ্র বাংলাকে প্রধানত চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করা যায় ---পশ্চিম, উত্তর, উত্তরপূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত । পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রাম এলাকা তথা অধুনা ঝাড়্গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, বিনপুর, শিলদা থেকে শুরু করে শালবনি , গোদাপিয়াশাল পর্যন্ত । বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণ অংশ ---রাণীবাঁধ, সিমলাপাল, রাইপুর, তালডাংরা, বিবড়দা, হাড়মাসড়া, খাতড়া, সুপুর, হাতীরামপুর, ইঁদপুর ,ছাতনা, শালতোড়া ইত্যাদি আর কাশীপুর-বেগুনকোদর -বাগমুন্ডি -ঝালদা -বরাবাজার- মানবাজার- রঘুনাথপুর- বান্দোয়ান সহ সমগ্র পুরুলিয়া জেলা । এছাড়া পুরুলিয়া ছোঁয়া ঝাড়খন্ডের পূর্বাঞ্চল । ভাষাতত্ত্বের বিচারে এই এলাকার মানুষ প্রধানত বাংলাভাষী কিন্তু সে ভাষা একটি স্বতন্ত্র উপভাষার বৈশিষ্ট্য সমুজ্জ্বল , তা-ও আবার দশ-বারো কিলোমিটার এলাকা পর পর ভিন্ন ভিন্ন রূপে অংশত রূপান্তরিত । সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল রূপেও Read More

পশ্চিমবঙ্গ

পটলডাঙ্গার টেনিদা

আমহার্স্ট স্ট্রিটের মোড় থেকে পোস্ট অফিসের দিকে একটু এগোলেই পড়বে পটলডাঙা স্ট্রীট। অবশ্য পঞ্চাশ ষাট দশকের পটলডাঙার সঙ্গে আজকের আকাশছোঁয়া বহুতলের ঘুপচি গলিতে পরিণত হওয়া পটলডাঙা স্ট্রীটের সাযুজ্য নেই বললেই চলে। তবু একটু কষ্ট করে উঁকি ঝুঁকি মারলে দু একটা জরাজীর্ণ রকের মধ্যে থেকে হয়তো আবিষ্কার করে ফেলবেন সেদিনের চাটুজ্জের রক। বাংলা সাহিত্যের রক কালচারের অন্যতম পীঠস্থান। এখানেই টেনিদার মুখেন মারিতং জগতং' এর সঙ্গী ছিলো প্যালা, হাবুল ও ক্যাবলা। চেনা চেনা মুখ, চেনা চরিত্র যেন পাশের বাড়ির ছেলেগুলোর মতোই আর তাদের গুরু হলো ঐ বখাটে টেনিদা ( সে ম্যাট্রিক দিয়েছে, কে জানে এন্ট্রান্সও দিয়েছে কিনা। মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালির কাছে এ হেন ছেলে বখাটে তো হবেই)Read More

পশ্চিমবঙ্গ

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এর পঞ্চাশ বছর পূর্তিঃপায়ে পায়ে পঞ্চাশ

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এর পঞ্চাশ বছর পূর্তিঃপায়ে পায়ে পঞ্চাশ। এভাবেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে দেশের প্রমুখ মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এর দীর্ঘ পথচলাকে।জরুরি অবস্থার সেই নিকষ কালো দিনে যখন বিরুদ্ধ স্বর নিষিদ্ধ, বাক স্বাধীনতা বিপন্ন তখন গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ কিছু মুক্ত মনা মানুষ গড়ে তুলেছিলেন এই সমিতি। তারপর বহু সময় পার হয়েছে,এপিডিআর হয়ে উঠেছে মানুষের প্রতিবাদের ভাষা।আজ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সমিতির বহু ইতিহাসের সাক্ষী অফিস ঘর ১৮,মদন বড়াল থেকে শুরু হল এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। সূচনা করলেন অমিতদ্যুতি কুমার,সঙ্গে ছিলেন দেবপ্রসাদ রায়চৌধুরী, কৃষ্ণা বন্দোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতিনিধিরা।এই মিছিল যায় হেদুয়া পর্যন্ত। মুসলিম ইন্সটিটিউটের অপর একটি অনুষ্ঠানে মানবাধিকার আন্দোলনের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বিভিন্ন বক্তারা।তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল মহাবোধি সোসাইটির অনুষ্ঠান। উপচে পড়া মানুষের ভিড়ে বক্তব্য রাখেন বোলান গঙ্গোপাধ্যায়, অরুনাভ ঘোষ,সুমন কল্যাণ মৌলিক, আশিষ গুপ্ত, মিলন দত্ত, অমিতদ্যূতি কুমার প্রমুখ।আজ উত্তর বঙ্গে শিলিগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও এই পঞ্চাশ বছর উৎসব পালন করে সেখানকার এপিডিআর কর্মীরা।আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান আওয়াজ ছিল ঐক্যবদ্ধ অধিকার আন্দোলনের।Read More

দেশপশ্চিমবঙ্গ

“ভারতীয় কলারত্ন আর্ট এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড” জিতে নজর কারল বাংলার ময়ূখ

দেশের সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী, কোকিলা কোন্ঠী লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে সংগীত শিল্পী কে শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন করতে মাত্র তিন মিনিটে এঁকে ফেলেছিলেন তাঁর ছবি। আর সেই শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন এনে দিলো ময়ূখের হাতে "ভারতীয় কলারত্ন আর্ট এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড"।Read More

দেশপশ্চিমবঙ্গ

পলাশী যুদ্ধ : চক্রান্ত , ট্র্যাজেডির ইতিহাস

পলাশী যুদ্ধ : চক্রান্ত , ট্র্যাজেডির ইতিহাস হাসিবুর রহমান ভারত বর্ষের ইতিহাসে চক্রান্ত ও ট্র্যাজেডির সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হল ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধ । পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধ যুদ্ধ নামক প্রহসনের মধ্য দিয়ে ইংরেজরা ভারতে মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে তাদের দেড়শ ' বছরের বেশি সময়ের চক্রান্তের সফল বাস্তবায়ন করে । ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় । স্বাধীনতার বিমূর্ত প্রতীক দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে তারা নির্মম ও নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর দেহকে নিয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম তামাশায় লিপ্ত হয় । দেশ ও মানবতার শত্রুরা নবাবের পবিত্র চতুষ্পদ জন্তুর সাথে বেঁধে দিনভর মুর্শিদাবাদের রাজপথে টেনে হিঁচড়ে বেড়িয়েছিল । সবশেষে দেশপ্রেমিক নবাবের অসাড় দেহকে কেটে টুকরো টুকরো করে কুকুর - শৃগালের খাবার হিসেবে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলেছিল । বস্তুত , দেশ ও মানবতার ঐ শত্রুরা সেদিন বাংলা ও ভারতের স্বাধীনতা সূর্যকেই অতল অন্ধকারে ছুঁড়ে মেরেছিল । জুন মাস আমাদের ইতিহাসের সেই ট্র্যাজেডিকে স্মরণ করিয়ে দেয় । ১৭৫৭ সালে ইংরেজ ও তাদের দালালদের চক্রান্তে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় । সে সাথে তাঁর জীবনে মহানুভবতা , বিচক্ষণতা , বীরত্ব ও মহত্ত্বকে ইচ্ছাকৃতভাবে ইতিহাসে বিকৃত করা হয়েছে । আর ভারতের মাটি রক্ষা করতে নিজের দেহের সমস্ত রক্তবিন্দু দিয়ে যিনি ভারতের মাটিকে রক্ত রঞ্জিত করলেন তাঁর ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য সামান্যতম চেষ্টার পরিবর্তে অসামান্য Read More

দেশপশ্চিমবঙ্গ

লকডাউনের ভবিষ্যৎ

মধুরিমা দাস মোদী সরকার দ্বারা লাগুকৃত প্রথম লকডাউন জনগনের গন্তব্য পরিবর্তনের একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের তত্ত্বাবধানে পর্যায়ক্রমিক শ্রমবাহিনীর সমীক্ষা দ্বারা প্রকাশিত তথ্য এই বিষয়টির প্রমানকে মান্যতা প্রদান করেছে। "ভারতে অভিবাসন ২০২০-২০২১" শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে সমীক্ষাটি, জুলাই ২০২০ থেকে জুলাই ২০২১ এই এক বছর সময়ের মধ্যে অভিবাসন এবং অভিবাসীদের অবস্থার একটি বিবরণ তুলে ধরেছে৷ সমীক্ষাটিতে মোট ১,১৩,৯৯৮ অভিবাসীদের ক্ষেত্রমাপ করা হয়েছে। লক্ষ্য করার বিষয় এই যে ৫১.৬% গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাসকারী জনগন মহামারীর পরে শহরাঞ্চল থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে।এই পরিসংখ্যানটি অভূতপূর্ব বেকারত্বের সংকটকে প্রমাণ করে যা প্রথম লকডাউনের পরের মাসগুলিতে যন্ত্রণাদায়ক ভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। লকডাউনের পর সরকারের তরফ থেকে বেকারত্বের পরিসংখ্যান ও সঙ্কট বিষয়ে তথ্য প্রদান না করা হলেও, CMIE এর মতো নির্ভরযোগ্য বেসরকারি সংস্থা তাদের সমীক্ষা দ্বারা প্রাপ্ত তথ্য প্রদান করে বিষয়টিকে সর্বসম্মুখে তুলে ধরেছে। CMIE এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে গ্রামে এবং শহরে মোট ১২২ মিলিয়ন মানুষ চাকরি হারিয়েছে। সাধারান মানুষের চাকরি খোয়ানোর এই পরিসংখ্যান, FY21 এর প্রথম ত্রৈমাসিকে নথিভুক্ত করা জিডিপি ডেটার সাথে মিলে যায় যা Read More

আসামপশ্চিমবঙ্গ

ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া

ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া জয়শ্রী ভূষণ অনেকদিন থেকেই "ভার্চ্যুয়াল" শব্দটি মাথায় ফাঁক ফেলেই উঁকিঝুঁকি মারছিল, মাঝে মাঝেই বনবন করে ঘুরছিল, এবং ইদানীং যেন আরও বেশি-ই । অনেকবারই ইচ্ছে হয়েছে কিছু লিখি, কিন্তু হয়ে উঠেনি। সব কথা ভার্চ্যুয়াল রয়ে গেছে মনে মনে। আসলে সত্যি কথা বলতে কি একেক সময় মনে হয়, আমাদের সব কিছুই তো ভার্চ্যুয়াল। আজ বর্তমান, মূহুর্ত, এই সব কিন্তু এক পলকের। অতীত ও ভবিষ্যৎ, সময়, প্রকৃত অর্থেই ভার্চ্যুয়াল। সত্যিই বাস্তব তো ক্ষণিকের। আমাদের মন, মগজ, পৃথিবী,আমাদের চারপাশের যে অবয়ব, ধর্ম, অতীত, ভবিষ্যৎ, সব কিছুই ভার্চুয়াল মনে হয়। সবই অধরা। কি কি ছুঁতে পারি ? মন,ভাবনা, রাগ, দুঃখ, ভালোবাসা কিছুই তো ছুঁয়ে দেখতে পারি না,সবই তো অনুভব করি। এই অনুভবের অনুভূতি কিন্তু আবার নিজে Read More

পশ্চিমবঙ্গ

হিন্দু মুসলমান

<!-- wp:paragraph --> <p>লোকে বলে হিন্দু মুসলমানের সবেতেই উল্টো।আর তাই দুই সম্প্রদায়ের ঝগড়া-ঝাঁটি লেগেই আছে সেই মধ্যযুগ থেকে আজও।কিন্তু রাঢ় অঞ্চলের লোকজীবনে লোকধর্মে লোকসংস্কৃতিতে যেন 'একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু মুসলমান'।</p> <!-- /wp:paragraph --> <!Read More

পশ্চিমবঙ্গবিনোদন

বিরল ব্যতিক্রমী সঙ্গীতাচার্য আবু দাউদ

বিরল ব্যতিক্রমী সঙ্গীতাচার্য আবু দাউদ অনল আবেদিন প্রাচীন ভারতে শিক্ষাদান চলত গুরুগৃহে। তার মোক্ষম দৃষ্টান্ত রামায়ণ। সেখানে আমরা দেখি, রামচন্দ্রের যমজ সন্তান লব ও কুশের যাবতীয় শিক্ষাদীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে মহর্ষি বাল্মিকীর কুটিরে ও বাল্মিকীর হাতে। একই প্রথার প্রমাণ আছে মহাভারতে। গুরু দ্রোণাচার্যের গৃহে ও তাঁর হাতেই কৌরব ও পাণ্ডবরা শিক্ষাদীক্ষা পেয়েছিলেন বলে মহাভারতে উল্লেখ রয়েছে। আজ আর সেই রাম নেই, নেই সেই রাজত্বও। এখন আর শিক্ষাদান করা হয় না। এখন অনেক ক্ষেত্রেই মুদিখানার সওদার মতো শিক্ষা বিক্রি করা হয়। শিক্ষা কেনা হয়। গুরুশিষ্যের চালচিত্র আজ বদলে গিয়েছে ক্রেতাবিক্রেতার দেনাপাওনার সম্পর্কে। এই আবহেই বিরল ব্যতিক্রমী এক অনন্য শিক্ষকের হদিশ রয়েছে এপার বাংলার এক মফস্বল শহরে। পুরাকালে বাল্মিকী ও দ্রোণাচার্য তাঁদের নিজগৃহে রেখে শিষ্যদের দিয়েছিলেন অস্ত্রসস্ত্র শিক্ষা। আধুনিক কালের ওস্তাদ আবু দাউদ খাঁ (১৯২৬-১৯৯৯) তাঁর শিষ্য-শিষ্যাদের নিজগৃহে রেখে শিখিয়েছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, খেয়াল-ঠুংরি। তাঁর পৈত্রিক নাম আবু দাউদ। তবুও তিনি তাঁর সুরের বিস্তারের সঙ্গেই রসিকজন থেকে শুরু করে আমজনতা পর্যন্ত সবার কাছেই হয়ে উঠেছিলেন 'ওস্তাদ আবু দাউদ খাঁ'।Read More