• June 29, 2022

Category :

দেশ

“শিক্ষার পায়ে বেড়ি”, ভারতবর্ষ জুড়ে রেলওয়ে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র সরকারের

ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পরই সবচেয়ে বেশি পরাধীন ভারতবাসী। একথা বলার বোধ হয় অপেক্ষা রাখে না৷ আর একথাও অতি সত্য যে বৃটিশদের থেকেও ভয়ানক ও ক্ষতিকারক স্বাধীন ভারতের প্রথম থেকে বর্তমান সরকার। এবার এই দুটি লাইনের ব্যাখ্যায় আসা যাক। বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের ব্যর্থতায় পেট্রোপণ্য, খাদ্য সুরক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার পায়ে বেড়ি পড়েছে। ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি যখন ভারত শাসনের সংকল্প নেয় তখন এই বিশাল ভূখণ্ডে সবচেয়ে সমস্যার দিক ছিল ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার৷ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত ও পণ্য আদান-প্রদানের সুব্যবস্থা ভারতে ছিল না৷ এই সংকট মোচনে শুরু হল রেলপথ নির্মাণ৷ তবে এটা মনে রাখতে হবে প্রথম এই রেল পরিষেবা পণ্য বহনের উদ্দেশ্য নিয়েই নির্মাণ শুরু হয়েছিল। যাত্রীবাহীর জন্য নয়৷ ভারতবর্ষে প্রথম রেলপথ স্থাপনের প্রস্তাব উঠেছিল ১৮৩২ সালে।তৎকালীন মাদ্রাজ শহরে। বর্তমানে যার নাম চেন্নাই। প্রস্তাব অনুযায়ী রেল পথ নির্মাণের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে শুরু হয় বাঁধ নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, টার্নেল নির্মাণ প্রভৃতি কাজ। ১৮৪৪ সালে বৃটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড হেনরি হার্ডিং ভারতের একাধিক বেসরকারি সংস্থাকে রেলপথ নির্মাণের অনুমতি দেন৷ পরে সমস্তটাই এক ছাতার তলায় আসে। এসবের পর ১৮৫১ সালের ২২শে ডিসেম্বর ভারতে প্রথম রেল চালু হয়। তবে এটি পণ্য সামগ্রী বহনের জন্য৷ এরপর ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল তৎকালীন বোম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম যাত্রীবাহী রেল চলে৷ এদিন থেকে ভারতের ইতিহাসে যেন গতি এল। দ্রুত বাড়তে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেলপথ নির্মাণের কাজ। একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে ১৮৬০ সালে ভারতে রেলপথের দৈর্ঘ্য ছিল ১,৩৪৯ কিলোমিটার। ২০ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১৮৮০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫,৪৯৫ কিলোমিটারে৷ এর থেকে বোঝা যাচ্ছে কত দ্রুত রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হয় ভারতে৷ এই রেলপথ নির্মাণের সময় দেশের বেশ কিছু ছোট-বড় শহরে গড়ে ওঠে রেল কলোনি। অর্থাৎ, একটি জায়গায় অস্থায়ী বসতি তৈরি করে শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার, অফিসারেরা আসেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় রেল লাইন বসানো, রেলের কামড়া নির্মাণ সহ বিভিন্ন কাজ করতে শুরু করে৷ কাজে আরও গতি আনার জন্য শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার, কর্মীদের খাওয়ার ব্যবস্থা, হাসপাতাল, স্কুল নির্মাণ করা হয়েছিল ওই কলোনিগুলিতে। কর্মীদের সন্তানেরা এই রেলের স্কুলেই পড়াশোনা শুরু করে। রেলের হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থাও ছিল। তবে, একটি বিষয় উল্লেখ্য, প্রথম রেলের স্কুল নির্মাণ হয়েছিল শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য৷ পরবর্তীতে সেখানে শ্রমিক, কেরানি, অফিসারদের সন্তানদের পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করা হয়। প্রসঙ্গত, এই মুহুর্তে ভারতীয় রেল বিশ্বের সর্ববৃহৎ পরিবহন ব্যবস্থা। সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থানের সংস্থান৷ রেল দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৮০ লক্ষের বেশি যাত্রী রেল পরিষেবা ব্যবহার করে থাকেন। ২০ লক্ষ টনের বেশি পণ্য সামগ্রী বহন করা হয়ে থাকে৷ বর্তমানে ৬৭,৪১৫ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে ভারতবর্ষে।Read More

দেশ

দেশে সন্ত্রাসবাদ রুখতে শুরু হচ্ছে জাতীয় ডাটাবেস তৈরীর কাজ, জানালেন অমিত শাহ

দেশের এবং দশের 'লাভ'-এর উদ্দেশ্যে এবার দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে একটি ডাটাবেস (Database) তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দেশে সন্ত্রাসবাদ রুখতে বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে একথা জানান তিনি। তিনি বলেন এতে লাভবান হবে গোটা দেশ।Read More

দেশ

পরিকল্পনাহীন সবুজ প্রযুক্তি আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন থেকে বাঁচাতে পারবে না

পরিকল্পনাহীন সবুজ প্রযুক্তি আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন থেকে বাঁচাতে পারবে না, আর তা বাঁচানোর জন্য নয়ও শুধুমাত্র মুনাফার জন্য; রাজস্থান ও গুজরাটের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্টকারী হাওয়াকল ও সৌরবিদ্যুত প্রকল্প তা প্রমান করেঃ থড় মরুভূমির মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৫০০০ আশ্চর্য সব প্রাকৃতিক বনভূমি, যা শত শত বছর ধরে মানুষ, প্রকৃতি ও তার ধর্মের এক অপূর্ব মরুদ্দান। এই কাটা ঝোপ, ঘাসভূমি, খেজরি, একাসিয়া ও অন্যান্য পর্ণমোচী উদ্ভিদ, জলাশয়ে ঢাকা অঞ্চলগুলো প্রকৃতপক্ষে একেকটি পবিত্র বনভূমি (sacred groves) যাকে বলা হয় ওরান (Oran)। জয়শালমিরের ডেগরাই মাতা মন্দির ট্রাস্টের অধীনে এমনই রয়েছে ডেগরাই ওরান। শতশত বছর ধরে যেখানে গাছ কাটা হয় না, কেই কাটে না। গাছের শুকনো ডালপালাই শুধু ব্যবহার হয়। যে বিশ্নই সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখানে থাকেন তারা পশুপালন করেন, রক্ষা করেন বৃক্ষ, জলাধার। এই অসামান্য মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের বাস্তুতন্ত্রে বহু বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থল, যেমন চিঙ্কারা, কৃষ্ণশার হরিণ ও গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড। শেষোক্ত প্রাণীটি একটি অতি বিপন্ন প্রজাতির পাখি যা এই ওরানের ঘাসবনে বসবাস করে ও যাদের স্ত্রী পাখি বছরে একটি মাত্র ডিম পাড়ে। জীববিজ্ঞানীরা বলছেন ভারতে আপাতত ১৫০ এরও কম এই পাখি প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে আছে।Read More

দেশপশ্চিমবঙ্গ

পরিবেশ বিপর্যয় ও জলসঙ্কট

দেখে অনেকেই বিরক্ত হতে পারেন। একথা মনে আসতেই পারে যে আবার পরিবেশ! ঠিকই, গত দুই দশক ধরে বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানকর্মী এবং অন্যান্যরা পরিবেশের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তর লেখালেখি ও আলোচনা করে চলেছেন। তার আগেও লেখা হতো তবে পরিমাণে কম। তাছাড়া সাম্প্রতিককালে টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদি ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় পরিবেশ সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা এবং খবর বেড়েছে। তারপরও পরিবেশ নিয়ে লেখা? হ্যাঁ ঠিক তাই। আসলে, যে সত্য আমরা সবসময় মনে রাখি না তা হল পৃথিবীর প্রতিটি সমাজেই চেনা প্রসঙ্গ,জানা বিষয়ই সময় ও অবস্থার পরিবর্তনে নতুন করে এবং নতুন জোরে এসে হাজির হয়। এক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সেই রকমই। পরিবেশের সমস্যাগুলি আজ শুধুমাত্র সিলেবাসের পাঠ্য, বিজ্ঞান কর্মীদের প্রচার আন্দোলন এবং কিছু সংখ্যক বিজ্ঞানীর দেওয়া সর্তকতা ও ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পরিবেশের বিষয়টা আজ সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে আবহাওয়ার খামখেয়ালীপনা ও দুর্যোগের সংখ্যা বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে। মানুষ জীবন দিয়ে বুঝতে পারছেন পরিবেশের বিপদ ও ভয়াবহতা। অন্যদিকে বিষয়টি এতটাই ভাবনার যে এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিধিও সাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। গতবছর (২১ শে মার্চ ২০২১) ইউ এন ও এর ইন্টার গভর্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) তার ষষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই রিপোর্টের ছত্রে ছত্রে রয়েছে ভয়ঙ্কর বিপদের বার্তা। আগ্রহী পাঠক আন্তর্জালে খোঁজ করলেই রিপোর্টটি দেখে নিতে পারবেন। আবার গত বছর লন্ডনে যে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন (cop26) অনুষ্ঠিত হয় সেখানেও পরিবেশ বিপর্যয় রোধের ব্যবস্থা বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। এইসব আশঙ্কার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী গবেষণার মাধ্যমে দাবি করেছেন যে পৃথিবীতে ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির পর্ব শুরু হয়ে গেছে। এই গণবিলুপ্তির কারণ একান্তভাবেই নৃতাত্ত্বিক (মনুষ্য সৃষ্ট),আগের পাঁচটির মতো প্রাকৃতিক নয়। তাই আজ পরিবেশ বিপর্যয় সংক্রান্ত সমস্যা মেনে নিলেই হবে না মনে নিতে হবে। বর্তমান পরিবেশ আন্দোলনের আইকন সুইডেনের মেয়ে গ্রেটা থুনবার্গের কথায় প্যানিকি হতে হবে যোগ দিতে হবে প্রতিকার আন্দোলনে। তাই পরিবেশ বিপর্যয় সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা, লেখালিখি চালিয়ে যেতে হবে নতুন নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে। সেই লক্ষ্যেই ক্ষুদ্র হলেও এই আন্তরিক প্রচেষ্টা। Read More

দেশ

বুলডোজারের বিরুদ্ধে যে বিরোধিতার প্রাচীর উঠলো, সেই ছবি আরও বেশী করে সামনে আনা জরুরী

যে কোনও একটি দৃশ্য তৈরি করা এখন আজকের সামাজিক মাধ্যমের সময়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা দিয়ে সমাজে প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব। প্রথমে আওয়াজ উঠলো হরিয়ানাতে, যে খোলা জায়গায় নামাজ পড়া যাবে না, বাধা দেওয়া হলো মুসলমান মানুষদের। তারপর দক্ষিণের কর্ণাটকে কিছু মানুষ প্রশ্ন তুললেন, মহিলাদের হিজাব পরা নিয়ে। সেই বিতর্ক গেল কর্ণাটকের উচ্চ আদালতে, সেখান থেকে রায় দেওয়া হলো, হিজাব ইসলামের অপরিহার্য নয়, তাই স্কুল কলেজে, মুসলমান মেয়েরা হিজাব পরে আসতে পারবেন না। কিছু হিন্দুত্ববাদী গুন্ডার, একটি একলা হিজাব পরিহিতা মেয়েকে ঘিরে ধরে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে লাগার দৃশ্য সারা দেশ দেখলো, তারপর বলা হলো, মাংস খেতে হলে ‘হালাল’ মাংস খাওয়া যাবে না, যেহেতু সেই পদ্ধতিতে হিন্দু মানুষজন মাংস কাটেন না। এতেও থামল না এই খাওয়া না খাওয়ার বিতর্ক। নিদান দেওয়া হলো, কোনও মন্দিরের সামনে মুসলমান মানুষজন তাঁদের পসরা নিয়ে বসতে পারবেন না। তারপরে এলো, রামনবমীর সময়ে আমিষ খাওয়া বন্ধ করতে হবে, আবার শুরু হলো বিতর্ক। কোনও একটি দেশের, একটি অঙ্গরাজ্যে একটি পৌরসভা আদৌ এমন কোনও নিয়ম কি চালু করতে পারে? যদি খেয়াল করা যায়, এই বিতর্কগুলো আসলে শুরুই হচ্ছে এক একটি দৃশ্যকল্প থেকে, যা আজকের আমাদের দেশের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ মানুষজন তৈরী করতে চাইছেন। এই দৃশ্যগুলোই আসলে এক একটি ‘বিকল্প সত্যি’, যা নির্মান করা হচ্ছে খুব সচেতনভাবে, যা নিয়ে আমরা আলোচনায় লিপ্ত হয়ে পড়ছি সামাজিক মাধ্যম থেকে পাড়ার আড্ডা বা অফিসের আলোচনায়। এর মধ্যে দিয়েই হিন্দুত্ববাদী আদর্শ নিয়ে আলোচনা চলছে, পক্ষে বিপক্ষে মত তৈরী হচ্ছে, আরও গভীরে প্রবেশ করছে ‘অপর’ মানুষদের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ। Read More

পশ্চিমবঙ্গ

শান্তিনিকেতনে আবার ছাত্রের মৃত্যু

বৃহস্পতিবার সকালে, পাঠভবনের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র অসীম দাসের মৃত্যু হয়।ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে চাঞ্চল্য ছড়ায় শান্তিনিকেতনে। ঠিক কি কারণে এই মৃত্যু তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আরেক দিকে মৃতের বাড়ির লোকের সাথে এখনো পর্যন্ত কথা বলেননি উপাচার্য। তাদের বক্তব্য, "আমাদের কে কোনো রকম কিছু জানানো হয়নি, ছেলরকে শেষ দেখা টুকু দেখতে দেয়নি।" উপাচার্যের এই রূপ কাজ কে ধিক্কার জানিয়েছেন শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন মহলের মানুষ।Read More

দেশ

জাহাঙ্গীরপুরী ও বুলডোজারঃ হিন্দু ভারতে আপনি স্বাগত

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভড়ংবাজিকে পদাঘাত করে,সবচেয়ে ওজনদার সংবিধানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে,ধর্মনিরপেক্ষতা, সমানাধিকার, আইনের শাসন প্রভৃতি বহু ব্যবহারে জীর্ণ শব্দমালাকে ডাস্টবিনে ফেলে উঠে দাঁড়াচ্ছে হিন্দু ভারত।মুন্ডাকা উপনিষদের সত্যমেব জয়তে মন্ত্রের মন্দ্র উচ্চারণ নয়,অশোক স্তম্ভের অমোঘ উপস্থিতি নয়,এই নতুন ভারতের অভিজ্ঞান বুলডোজার।২০১৪ সালে হিন্দু হৃদয় সম্রাট নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদি যখন দিল্লির মসনদে আসীন হয়েছিলেন তখন এক প্রবীণ বিজেপি নেতা মন্তব্য করেছিলেন পৃথ্বীরাজ চৌহানের পর আবার আজ এক হিন্দু দেশের শাসক হল,এরপর ভারত দেখবে প্রকৃত হিন্দু শাসন কি!আজ আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি হিন্দুত্বের অপার মহিমা।গত আট বছরে দেশ অনেক চড়াই -উতরাই প্রত্যক্ষ করেছে কিন্ত দিল্লির সরকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের গণশত্রু হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা ও হিন্দি- হিন্দু - হিন্দুস্তানের মতাদর্শে জারিত এক পিতৃতান্ত্রিক, ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারত তৈরির পরিকল্পনা থেকে এক চুল সরে আসে নি।এই হিন্দুত্ববাদী শক্তির মূল চালিকাশক্তি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বিজেপি ও অন্যান্য শাখা সংগঠনগুলোর জন্য যে রোডম্যাপ তৈরি করেছে সেই অনুযায়ী যাবতীয় ঘটনাগুলিকে সংগঠিত করা হচ্ছে। সংসদীয় বিধি ব্যবস্থা,প্রশাসন,আমলাতন্ত্র, বিচারবিভাগ,মিডিয়ার বৃহদংশ আজ হিন্দুত্বের গ্র্যান্ড ন্যারেটিভকে প্রশ্নহীন আনুগত্যে মেনে নিয়েছে।এটাই নতুন ভারত।আজ জাহাঙ্গীরপুরীতে যা ঘটেছে তা যত মর্মন্তুদ হোক না কেন,এটা নতুন কোন ঘটনা নয়।কদিন আগে মধ্যপ্রদেশেও এই একই ধরণের ঘটনা হয়েছে। অনেকেই এই ঘটনার মধ্যে একটা চেনা ছক( প্যাটার্ণ) লক্ষ্য করেছেন।রামনবমী বা হনুমান জয়ন্তীর মত চিরাচরিত অনুষ্ঠানগুলিকে এক উগ্র হিন্দুত্বের আদলে সাজিয়ে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে সেই শোভাযাত্রাগুলিকে মুসলিম মহল্লায় নিয়ে গিয়ে উত্তেজনা তৈরি করা,সংখ্যালঘুদের ধর্মস্থান গুলির সামনে বিভিন্ন পতাকা লাগানো,মাইক বাজানোর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো সেই ছকের একটা অংশ মাত্র,একমাত্র নয়।আজকের জাহাঙ্গীরপুরীর ঘটনা সেই ছকের আরেকটি অংশ।গত কয়েকদিন ধরে প্রথমে রামনবমী ও পরে হনুমানজয়ন্তীকে ব্যবহার করে দিল্লির বিভিন্ন অংশে কি করে চলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ বিভিন্ন উগ্র মৌলবাদী শক্তিগুলি তা সোসাল মিডিয়া ও মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে আলোচিত।এমনকি দিল্লি পুলিশও শোভাযাত্রার সংগঠকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।কিন্তু আসল রহস্য ফাঁস হল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দিল্লি শাখার হুমRead More

বিদেশ

“পাকিস্তানের জনগনের হাতেই পাকিস্তানের পরিবর্তন”

যারা ভাবছে ইমরান খান বিপুল ভোটে আগামী ২০২৩ এর ইলেকশনে ক্ষমতায় আসবে তাদের এই আশা নিয়ে আমি যথেষ্টই সন্দিহান। হ্যা এটা সত্যি জনগন ইমরান খানের পক্ষে। কিন্তু শুধু জনগনের ইচ্ছা আর ভোটের উপরে কি পাকিস্তানের ক্ষমতায় যাওয়া বা আসা নির্ভর করে? ১৯৪৭ থেকে এখন পর্যন্ত যা কিছু শোনা বা প্রত্যেক্ষ করেছে বিশ্ব তাতে স্পষ্ট পাকিস্তানের ক্ষমতার মসনদে কে থাকবে তা নির্ধারণ করে পশ্চিমা মদদপুষ্ট সেনাবাহিনী আর সর্বোচ্চ আদালত। তাই ইমরান খান যদি পশ্চিমা বিশ্বের অর্থাৎ আমেরিকার সামনে মাথা নত না করে তাহলে পাকিস্তানের জনগণের যাই ইচ্ছে থাকুক ক্ষমতায় বসবে তাদের অধিনস্ত শাসক নয়তো আবারও সামরিক শাসন জারি করা হবে এটা স্পষ্ট। এছাড়াও আরেকটা বিষয় খুব স্পষ্ট পাকিস্তানের যে মোল্লাতন্ত্র ধর্মের ধোঁয়া তুলে আমেরিকা কে গালাগালি দেয়, ধর্মনিরপেক্ষ পাকিস্তান গড়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়, নারী শিক্ষা এবং প্রগতির অন্তরায় তাঁরা কিন্তু এই পশ্চিমা মদদ পুষ্ট শাহবাজ শরীফের সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই ধর্মের ধোঁয়া তুলে বছরের পর বছর পাকিস্তান কে কোন অন্ধকারে পাঠানো হয়েছে তা বোঝা অসম্ভব নয়। তাই আজকের যুগে পাকিস্তানের ইয়াং জেনারেশন এবং সব বয়সের নাগরিকরাই খুব ভালো ভাবেই সেটা বুঝতে পারছে। তাই গতকাল রাতেই রাজপথে নেমে নজিরবিহীন প্রতিবাদ করেছে পাকিস্তানের জনগন। এই প্রথম পাকিস্তানের জনগনের মুখে তাদের সেনাবাহিনী কে টার্গেট করে বলতে শোনা গিয়েছে চৌকিদার চোর হে। অতএব এবারের হিসেবটা যে সহজ হবে না এটাও বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বর্বর ইতিহাস কারো অজানা নয়। ১৯৭১ এর সেই ভয়াবহতা প্রমান করে তাদের গণহত্যা চালানোর চরিত্র।Read More

দেশ

কোভিড- মানসিক স্বাস্থ্য বনাম পুঁজির মুনাফা বৃদ্ধি

গত ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২২, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট (২০২২-২০২৩) পেশ করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন যে কেন্দ্র একটি জাতীয় টেলি মানসিক স্বাস্থ্য প্রোগ্রাম (National Tele Mental Health Programme) চালু করবে। তিনি আরো বলেছেন যে, মহামারিটি সমস্ত বয়সের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এর আলোকে তিনি বলেন, নাগরিকদের গুনমান সম্পন্ন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেবার লক্ষ্যে ২৩টি টেলি মানসিক স্বাস্থ্য সেক্টরের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। যেখানে বেঙ্গালুরুতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেস (NIMHANS) এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি ব্যাঙ্গালোর (IIIT-Bangalore) প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করবে। তাহলে কি দাঁড়ালো: প্রথমত: অর্থমন্ত্রী স্বীকার করে নিলেন কোভিড কালে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের বিপর্যয় ঘটেছে। এই মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সামাজিক কারণ কি? কোভিড কালে মানুষকে নিদান দেওয়া হল – কোভিড থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব (Social Distance) বজায় রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মানুষকে অপর ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হল। আবার এই বিচ্ছিন্নতাটাই কোভিড-১৯ রোগের নিদান হিসাবে সামনে এলো সামাজিক দূরত্বের নামে। সামাজিক সহযোগিতার বিপরীতে মানুষ আরো ব্যক্তিকেন্দ্রিক হল। এতে মানুষের একাকিত্ব বাড়তে থাকল। কোভিডের আক্রমণ ব্যাপক মানুষের মৃত্যু আতঙ্ক বাড়িয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে একাকিত্ব, বেড়েছে অনিশ্চয়তা। বাচ্চাদের মধ্যে একরকম, বয়স্কদের মধ্যে একরকম, আর ছাত্র-যুবদের মধ্যে আরেক রকম। বাড়ির মহিলা বা কর্মী মহিলা থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন অংশে এর প্রভাব পড়েছে। MSME-র অধীনে থাকা ছোট ছোট কলকারখানাগুলি অধিকাংশই বন্ধ। সমাজের একটা বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পরিবহণ কর্মী, হকার, ছোট ব্যবসায়ী, হস্তশিল্প কারিগর, কলেকারখানায় অসংগঠিত শ্রমিক, পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে সমাজের আরো কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে। একদিনের নোটিশে শহর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের, তাদের দুRead More

পশ্চিমবঙ্গ

বাঙালি অষ্টোত্তর শতনাম

মীর রাকেশ রৌশান : যে জাতি তার ভাষা, সংস্কৃতি,ইতিহাস ভুলে যায় সে জাতির ক্রমে অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়।যদিও জাতি এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রচুর তর্কবিতর্ক থাকতেই পারে কিন্তু এটাও চিরন্তন সত্য জাতি থাকলে জাতীয়তাবাদ থাকে।তবে তা যেনো উগ্র না হয়।বাঙালি জাতি তার বাইরে নয়।বাংলা ও বাঙালির কথা আসলেই ক্রমে লালন শাঁই, চৈতন্যদেব,রামমোহন,বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,নজরুল ইসলামের কথা মনে আসে।যাঁরা গোটা বিশ্বের কাছে আমাদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছেন। এতোবড় একটা জাতি আর অসংখ্য গুণীজনের নিরন্তর প্রচেষ্টায় আমাদের সত্ত্বা টিকে আছে।আর সেই সব মানুষের গান,কবিতা,শিল্প,বিজ্ঞান, সাহিত্য পড়ে আমাদের বেড়ে ওঠা।আমরা যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বললেই মনের মধ্যে ভেসে আসে সাদা দাড়ি এবং বড় কোট বা পাঞ্জাবি পরা একটি মানুষের অববয়ব কিন্তু যদি ধরুন আমি আব্বাসউদ্দীনের নাম বলি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গানের লাইনের কথা মনে পড়ে, অজান্তেই আনমনে গুণগুণ করি কিন্তু তাঁর ছবি আমাদের চোখে ভেসে আসে না।এমন অসংখ্য বিখ্যাত বাঙালিকে আমরা ভুলে গেছি।আর ভুল যাওয়ার দায়ী আমরাই এটাও পুরোপুরি বলা যায়না কারণ আধুনিক ভারতরাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর উপর আঘাত আসছে।বহুত্ববাদী ধারার উপর চাপিয়ে দেওয়া চেষ্টা চলছে একদেশ,এক আইন,এক ভাষার মত তত্ত্ব।হিন্দু-হিন্দি-হিন্দুস্থান করা চেষ্টা চলছে।অনেক ক্ষেত্রে আমরা সেটা মেনেও নিচ্ছি,সেক্ষেত্রে সে দায় আমাদের।ওই যে আগেই বলেছি, যে জাতি তার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষাকে ভুলে যায় ক্রমেই সেই জাতির অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়। আর এই জায়গায় ভাবিয়ে তুলেছে শিল্পী শুভেন্দু সরকার।জ্যোর্তিময় ভট্টাচার্যের উপস্থাপনায় বিড়লা আকাদেমি অব আর্ট এন্ড কালচারে শিল্পী শুভেন্দু সরকার করতে চলেছেন " বাঙালি অষ্টোত্তর শতনাম"।অর্থাৎ তাঁর চোখে একশো আট জন এমন মানুষ যাঁরা গোটা বিশ্বের বুকে বাংলা ও বাঙালিকে চিনিয়াছেন এমন ব্যক্তিত্বের ক্যারিকেচার শিল্প।যেখানে থাকবে সদ্য প্রয়াত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় থেকে চৈতন্য দেবের জীবনচরিত।শিল্পী শুভেন্দু সরকারের ক্যারিকেচার আমরা ওয়ার্ডটুন পেজে এবং সোসাল মিডিয়ার বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পাই।তাঁর নানা ক্যারিকেচার এ ফুটে ওঠে শিল্পী, সাহিত্য, রাজনীতি, প্রতিবাদ থেকে বাংলা ও বাঙালি যাপনের চালচিত্র।নিঃসন্দেহে 'বাঙালি অষ্টোত্তর শতনাম ' এই মুহুর্তের একটি ব্যতিক্রমী শো,আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত চলবে।Read More