• December 4, 2021

স্মৃতির পাতায় ফিরে দেখা মুকেশ

 স্মৃতির পাতায় ফিরে দেখা মুকেশ

স্মৃতির পাতায় ফিরে দেখা মুকেশ

বেনজির আলি : ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্রের একজন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী মুকেশ চন্দ মাথুর।যদিও সারা ভারতবর্ষ তাঁকে মুকেশ নামেই চেনেন।তাঁর গানেই মানুষ দশকের পর দশক,প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বুদ হয়ে আছে। ১৯২৩ সালের ২২শে জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনেই দিল্লির লুধিয়ানায় তাঁর জন্ম হয়।বেড়ে উঠেছেন দিল্লির দরবারি গানের আবহে।হিন্দি ছবির মোতিলাল এক বিয়ের আসরে কিশোর মুকেশের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যান এবং মুকেশকে মুম্বাই নিয়ে যান।সেখানে পন্ডিত জগন্নাথ প্রসাদের কাছে তিনি তাঁর গান শেখার ব্যাবস্থা করে দেন।১৯৪৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ নির্দোষ’ ছবিতে প্রথম তরুন মুকেশের স্বর্ণকন্ঠের সঙ্গে পরিচিত হন দর্শক – শ্রোতারা।১৯৪৫ সালে ‘ পেহলি নজর ‘ ছবিতে প্লেব্যাক গায়ক হিসাবে কেরিয়ার শুরু করেন তিনি।অভিনেতা রাজ কাপুর ও তাঁর যুগোল ভারতীয় সিনেমায় চিরস্মরণীয়।উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম না থাকা স্বত্বেও তিনি স্বচ্ছন্দে রাগপ্রধান গান গাইতে পারতেন।হিন্দি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় গায়ক- নায়ক কুন্দলাল সায়গলের ভক্ত ছিলেন মুকেশ।পরে অবশ্য সায়গলের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে নিজস্ব গায়কী অবলম্বন করেন তিনি।প্রায় ১৩০০ গানে কন্ঠ দেন তিনি। ‘ আওয়ারা ‘ ছবিতে পর্দায় রাজকাপুরের বিখ্যাত গান ‘আওয়ারা হু ‘ গেয়েছিলেন মুকেশ। ‘ শ্রী ৪২০’ ছবির ‘ মেরা জুতা হ্যায় জাপানি ‘ এই বিখ্যাত গানটি তারই গাওয়া। ‘মেরা নাম জোকার ‘ছবিতে ‘ জিনা ইহা মরনা ইহা ‘ গানটি তার গলায় হয়ে ওঠে অসামান্য।১৯৫৯ সালে ‘ আনাড়ি’, ৭০- এ ‘ পহেচান ‘, ৭২-এ ‘ মেহমান ‘ ও ৭৬- এ ‘ কভি কভি ‘ ছবিতে গান গাওয়ার সুবাদে তিনি ‘ ফিল্মফেয়ার’ পুরস্কার লাভ করেন।১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ রজনীগন্ধা’ চলচ্চিত্রের ‘কাই বার যুহি দ্যাখা হ্যায় ‘ গানটিতে কন্ঠ দেয়ার জন্য তিনি সেরা গায়ক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ‘ আনন্দ’, ‘ ছালিয়া’, ‘ ইশারা ‘, ‘হিমালয় কি গোদ মে’, ‘দিল হি তো হ্যায় ‘, ‘ছোটি ছোটি বাতে’, ‘ হাম হিন্দুস্থানি ‘, ‘ হানিমুন’, সত্যম শিবম সুন্দরম’,’ রাত অওর দিন ‘, ‘ কসম’, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর গাওয়া গান শ্রোতাদের মনে দোলা দিয়ে যায়।তাঁর গান মানুষ উপলব্ধি করতে পারতো,মানুষের হৃদয় ছুয়ে যেত।১৯৭৬ সালের ২৭ শে অগাষ্ট মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।আমেরিকার ডেট্রয়েটে একটি কন্সার্টে যোগ দিতে গিয়ে হোটেলের ঘরেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।ওই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন লতা মঙ্গেশকর।তাঁর মৃত্যুর পরও অনেক ছবি মুক্তি পায় যেখানে তিনি গান গেয়েছিলেন।রফি,কিশোর কুমার,আশা ভোসলে, শামসাদ বেগম,মান্না দে,হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, তালাত মেহমুদ,গীতা দত্ত সহ সে যুগের সব বিখ্যাত শিল্পীর সঙ্গেই তিনি কাজ করেছেন।রাজকাপুরের লিপে মুকেশের গান জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছায়। মহম্মদ রফি ও কিশোর কুমারের পাশাপাশি বহু বছর ধরে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে শাসন করেছেন তিনি।নিজের জগতে তিনি ছিলেন অনন্য।তার মৃত্যুতে সঙ্গীত জগতে যে শুন্যতার সৃষ্টি হয় তা অপূরণীয়। হিন্দিছবির স্বর্ণযুগের এই গায়কের কন্ঠ আজও শ্রোতার মনের মণিকোঠায় দোলা দিয়ে যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *