• May 22, 2022

‘বিরহী’, এ এক অন্য রুটের গল্প

 ‘বিরহী’, এ এক অন্য রুটের গল্প

মীর রাকেশ রৌশান

গ্রামবাংলার যাপনের চালচিত্র নাকি অন্য কিছু?গল্পের প্রথম থেকে একটা সাসপেন্স। যারা পয়সা খরচ করে এখন ওয়েব সিরিজ দেখছে, যারা প্রতিদিনের সেমি-পর্ণ দেখতে দেখতে ক্লান্ত তারা অবশ্যই দেখুন ‘বিরহী’।উরিবাবা ইউটিউব চ্যানেলে বিনাখরচায় দেখতে পাবেন।যাইহোক বিষয়ে আসা যাক,বিরহী ওয়েব সিরিজের প্রথম পর্ব সাত্যকি ব্যানার্জীর গান ‘জানু’ দিয়ে শুরু।আমরা যারা নাইটিজের কিড তারা এই দৃশ্যের সঙ্গে অনেকটাই পরিচিত। তারপর একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় যুগের শেষের দিকে এসে এই পরিচিত দৃশ্য দেখে অজান্তেই একটা শিশ কেটে দিতেই পারেন।ওই যে আগেই বলেছি আমরা যারা নাইনটিজের কিড তারাও সিনেমাহলে বা গ্রামবাংলার ভিডিও হলে এই দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত।তারপর কৃষ্ণ(সায়ন ঘোষ)নামক বেকার যুবকের স্ট্রাগল, অন্যান্য বেকার যুবকের মতই।

হাতের কাছে যা পায় সেই কাজই কৃষ্ণ করে থাকে।দেখতে দেখতে গল্পে ডুবে যেতে পারেন।কারণ গল্প গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি বেকার যুবকের দৈনন্দিন যাপনের চিত্র।মনে দাগ কাটবে ছোট ছোট ঘটনা, যেমন ধরুন টিউশন পড়াতে গিয়ে কৃষ্ণকে দেওয়া আধখানা বিস্কুট, বেকার কৃষ্ণকে ছেড়ে যাওয়া প্রেমিকা।আদতে প্রায়শই আমরা আমাদের চারপাশে দেখে থাকি বেকার কৃষ্ণ প্রেমিক হিসেবে ভালোই কিন্তু স্বামী হিসেবে নয়।টিউশনের পয়সা থেকে বাবার জন্য মদ,বিরহী স্কুলে জয়েন করতে যাওয়ার সময় বাসের মধ্যে হাঁস,মুরগী, ছাগল যা দেখে মধ্যবিত্ত স্কুল মাস্টারের নাকসিটকানী…এই এতো কিছু দেখতে দেখতে আপনি হারিয়ে যেতেও পারেন আপনার ফেলে আসা অতীতে। মাঝে মাঝে বেজে উঠছে নাল,খোল,বাঁশি,দোতারা,আমাদের বাংলার কীর্তন।দৃশ্যের সাথে কি অদ্ভুত সংমিশ্রণ… পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য ও মিউজিক ডিরেক্টর সাত্যকি ব্যানার্জী এই জায়গায় সফল।আমাদের চারপাশের গল্প ও আমাদের গ্রামবাংলার সুর আমাদের মধ্যেই ছড়িয়ে দিয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে।অতো জাঁকজমক নেই, সরল সুর কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর এবং অভিনয়,কস্টিউমে কোন কৃত্রিমতা নেই।ওয়েব সিরিজের মধ্যে কীর্তনের ব্যবহারের কথা হয়তো কেউ ভাববেই না,ঠিক এই জায়গাতেই শিল্পীর সাফল্য।হঠাৎ কৃষ্ণের প্রাইমারি স্কুলে চাকরি পাওয়া এবং চাকরিতে যুক্ত হতে যাওয়ার আনন্দের মাঝে আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরছেন।

গল্পের পিছনে আরেকটা গল্প হলো পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের বেড়ে ওঠা নদীয়া মুর্শিদাবাদে।তাই হয়তো চেনা ছকেই পরিচালক গ্রাম-গঞ্জের সামাজিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে এতো সুন্দর ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম।গল্পে উঠে এসেছে বিরহী প্রাইমারি স্কুলে জয়েন করতে যাওয়ার সময় কৃষ্ণের অন্তর্বাস পরে ঘাড়ে সাইকেল জামাকাপড় নিয়ে নালা পার হওয়া।এই দেখে অনেকের হাসি পেতে পারে। কিন্তু আমরা যারা গ্রামের বাসিন্দা তারা এই ঘটনা প্রায়শই দেখতে পাই।পশ্চিমবঙ্গের বহু শিক্ষক এই ভাবেই বহু জায়গায় চাকরি করেন।পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য খুব সুক্ষ্মভাবে এই রাজনৈতিক দৃশ্যগুলো তুলে ধরেছেন।আর গল্প শেষ হচ্ছে কৃষ্ণ এতো প্রতিকূলতা পেরিয়ে যখন বিরহী প্রাইমারি স্কুলের সামনে ঠিক তখনই বোমার শব্দ… তারপর প্রথম পর্ব শেষ। ঠিক এরপর কি হবে দ্বিতীয় পর্বে দেখার অপেক্ষায়…


যাইহোক ‘বিরহী’ ট্রেলার রিলিজের সময় পোস্টারে একদিকে কাস্তে অন্যদিকে পিস্তল তারমধ্যে সাইকেলে টোপর মাথায় কনে বরকে সাইকেলের ক্যারিয়ারে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সময় পোস্টার দেখে আকৃষ্ট হয়েছিলাম।প্রথম পর্ব দেখার পর মনে হলো গ্রামবাংলার প্রেক্ষাপটে স্বপরিবারে দেখার একটি জমজমাটি ওয়েব সিরিজ। যদিও ভাল লাগা মন্দ লাগা একটা মানসিক প্রতিক্রিয়া এবং এটি একটি আপেক্ষিক ব্যপার। আর বাকিটা ব্যক্তিগতই থাক…

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post