• December 4, 2021

একটু বেশি খাবার লাগে আমদের

 একটু বেশি খাবার লাগে আমদের

সুকৃত দে :- ‘একটু বেশি খাবার লাগে আমদের’–কথা বলতে বলতে একটা সময় বলছিলেন বর্ষীয়ান নাটুয়া শিল্পী হাড়িরাম কালিন্দী।নাটুয়া নাচের জন্য অনেকটাই শারীরিক পরিশ্রম হয় বলছিলেন উনি।পুরুলিয়া ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খন্ডের কিছু জায়গায়,গ্রামাঞ্চলে বেঁচে থাকা এই “নাটুয়া” নাচের ইতিহাস “ছৌ” এর থেকেও পুরোনো।মূলত নাচটির উৎপত্তি সম্পর্কে শিবপুরাণ ও অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা লোকগাথা থেকে যা উঠে আসে তা হলো বুড়োবাবা অর্থাৎ শিব যখন পার্বতীর সাথে বিয়ে করতে যাবে সেদিন ঠিক হয় যে তার সাথে নন্দী ভৃঙ্গি সহ বাকি যেসব চ্যালারা যাবে,সবাই নাচতে নাচতে যাবে।তো নাচার জন্যতো ভালো বাদকের দরকার, সেই দরকারেই পৃথিবীতে প্রথম দুজন মানুষ সৃষ্টি হয় শিবের নির্দেশে,যারা হলো আদিবাসী… কালিন্দী।এরাই হলো সেই “ভূতের বারাতের” বাদক, পৃথিবীর প্রথম মানুষ।সেই মতো নাটুয়ার অন্যান্য শারিরীক কৌশল বাদ দিয়েও একটি প্রধান বিষয় হল “চৌঘরি”,শিবের বিয়ে করতে যাওয়ার নাচ।

নাটুয়ায় মূল বাদ্যযন্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়ূ ধামসা,ঢাক,সানাই।বাদকরাও নাচে অংশগ্রহণ করে।নাটুয়ার ভিতর ঝুমুর গান ব্যবহার করা হয়।মজার বিষয় হলো সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে এই কারনে কালিন্দী আদিবাসীরা গর্ব অনুভব করে,অঞ্চলে প্রচলিত একটা কথা আছে-” প্রথমে ডোমনা তারপর বামনা।”বছরের পর বছর এভাবেই বুড়া(শিব)তাদের অনেক কাছের,ঘরের লোক।এই নাচের মধ্যে থাকে গায়ে ছাই মেখে নাচ,মুখ দিয়ে আগুন বের করা,গায়ে আগুন মাখা,তলোয়ার,ঢাল কখনো বা ঢেঁকি এইসব নিয়ে খেলা,নাচ।শোনা যায় পরবর্তীতে ওস্তাদ গম্ভীর সিং মুরার হাত ধরে এই নাচ থেকেই তৈরী হয় “ছৌ” এর বর্তমান আঙ্গিক।এই নাচের চর্চা এখনো পুরুলিয়া এবং সংলগ্ন ঝাড়খন্ডের গ্রামগুলিতে নিজস্ব ঘরোয়া সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে শত কষ্টের ভিতরেও টিকে আছে।

কৃতজ্ঞতা:হাড়িরাম কালিন্দী ,জগন্নাথ কালিন্দী ,কম্পাউন্ডার কালিন্দী,বীরেন কালিন্দী,উৎপল দাস(Utpal Das),ডাক্তার কালিন্দী ও নাম না জানা অনেক নাটুয়া শিল্পীদের।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post