• May 25, 2022

ইউক্রেনে যুদ্ধ আসলে কিসের দ্বন্দ্ব

 ইউক্রেনে যুদ্ধ আসলে কিসের দ্বন্দ্ব

হর্ষ দাস

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া-ইউক্রেন সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান সূত্র বার করতে যখন ব্যস্ত নিরাপত্তা পরিষদ তখনই রাশিয়ার সর্বোচ্চ অধিনায়ক ভ্লাদিমির পুতিন সে দেশের সময় অনুযায়ী ভোর ৫.৫৫ মিনিটে (২৪.০২.২২) ঘোষণা করলেন পূর্ব ইউক্রেনের ডানবাসে সামরিক অভিযান চালাবে রুশ বাহিনী, তিনি বলেন এই অভিযান ইউক্রেন দখল করতে নয়, নাৎসিদের কবল থেকে ইউক্রেনকে মুক্ত করতে এই অভিযান। তারপরেই ডানবাস, ক্রিমিয়া ও বেলারুস- এই তিন দিক থেকে ইউক্রেনের আকাশ জুড়ে বোমার রোশনাই ও আওয়াজে সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে ইউক্রেনের জনগণ, অনেকেই পোল্যান্ডে পাড়ি দিতে শুরু করে, অনেকেই মাটির তলায় মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেয়। এ যেন ঠিক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রেপ্লিকা।

কে এই নাৎসী বাহিনী?

মূলতঃ মার্কিন মদতে ন্যাটোই হচ্ছে রাশিয়ার কাছে নাৎসি বাহিনী। একদিকে ন্যাটোকে দেখিয়ে রাশিয়া যেমন তার জনগণের ঘাড়ে যুদ্ধের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে, উল্টোদিকে আমেরিকাও ইউক্রেনের জনগণের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া পুনরায় ইউক্রেনের উপর আধিপত্য কায়েম করবে এই যুক্তিতে। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বার বার আমেরিকাকে সতর্ক করে তাদের দু’জনার ব্যাপারে নাক না গলাতে। তারা বলে – রাশিয়ার সাথে কথা বলে দ্বিপাক্ষিক স্তরে এর সমাধান আমরা ঠিক বার করে নেবো।

সমাধান সূত্র বেরলো না কেন?

এখানেই পথের কাঁটা হিসেবে উঠে আসছে পূর্ব ইউক্রেনের দুটি অঞ্চল– ডানিৎস্ক ও লুজানিস্ক, যা একসাথে ডানবাস বলে পরিচিত। এই দুই অঞ্চলের রুশপন্থীরা ইউক্রেন থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য গণভোট আয়োজন করে। এরপর থেকেই এই রাশিয়াপন্থীদের সাথে ইউক্রেন বাহিনীর লড়াই লেগেই আছে। রাশিয়া কার্যত এই দুই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত করছে বলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও রাশিয়া সেটাকে বার বার অস্বীকার করেছে। এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে ২০১৩ সালে, যখন ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তারপর থেকেই ইউক্রেন জুড়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে ইয়ানুকোভিচ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ২০১৪ সালে রুশপন্থী সমর্থকরা ডানবাস অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন করে ইউক্রেন থেকে স্বাধীন হতে চেয়ে। ইউক্রেনও এই অঞ্চলে রুশপন্থীদের উপরে পুলিশি নির্যাতন নামিয়ে আনে। এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যাপক ভান্ডার আছে, পাশাপাশি বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হওয়ার কারণে সোভিয়েত গঠনের সময় থেকেই এইখানে রাশিয়া থেকে প্রচুর শ্রমিক এসে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁরা এইখানকার বাসিন্দাও হয়ে যান। ফলে সোভিয়েত ব্যবস্থার সময় থেকেই ডানবাস অঞ্চলের সাথে রাশিয়ার জাতিগত সংযুক্তিকরণ এবং সাংস্কৃতিক মিলন অনেক বেশি। পাশাপাশি আবার ইউক্রেন উন্নত কৃষি নির্ভর, কিন্তু ডানবাস অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও উন্নত শিল্প থাকার ফলে ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও এই দুটি অঞ্চল খুব মূল্যবান।

আপাত চোখে কি মনে হচ্ছে?

উপর উপর দেখলে যা দেখা যায় তা হলো– মার্কিন দেশ রাশিয়ার সাথে থাকা পূর্বের সোভিয়েত অঞ্চলে ন্যাটোকে বিস্তার করার মাধ্যমে রাশিয়াকে ঘিরতে চাইছে, আর রাশিয়া এই বেস্টনী ভাঙতে চাইছে ইউক্রেনকে নিজের তাঁবে এনে। রাশিয়াকে ন্যাটো দ্বারা ঘেরা ও রাশিয়ার এই বেস্টনী ভাঙ্গার পিছনের কারণ কি? সোভিয়েত ভুক্ত অথবা অভুক্ত সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতে রাশিয়ার একাধিপত্য ছিল প্রশ্নাতীত। জনগণের তরফ থেকে বিক্ষোভ থাকলেও রাশিয়ার মদতপুষ্ট শাসকশ্রেণী সেই ক্ষোভকে শক্ত হাতে সামলাতো। কিন্তু ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত রাজ ভেঙ্গে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এবং দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভাঙার মধ্য দিয়ে যে রাশিয়ার জন্ম হলো তার চরিত্র কেমন দাঁড়ালো তা দেখা যাক। সেই রাশিয়াতে জার সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যকেই নতুন করে সামনে আনা হলো। কিন্তু রাশিয়ার জনগণ ভাতৃঘাতি এই যুদ্ধ চাইছেন না। তাহলে পুতিন কেন এই যুদ্ধে যাচ্ছে। আবার উল্টোটাও দেখা যাচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যুদ্ধে না গিয়ে অর্থনৈতিক অবরোধের কথা বলছে, আমেরিকাও তাই বলছে। ফলে ইউক্রেনের ঘাড়ে যুদ্ধ চেপে যাচ্ছে যেটা ইউক্রেনের জনগণও চান না।

পুতিন কেন যুদ্ধে গেল?

এটা বুঝতে গেলে পুঁজিবাদের ভিতরকার দ্বন্দ্ব আজ কোথায় গেছে বুঝতে হবে। পুতিন মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টির কম্পিউটার হ্যাক করে কিভাবে ট্রাম্পকে জিতিয়েছিল সেটা আলোচনা করলেই দেখা যাবে, যে যুদ্ধটা অন্যভাবে চলছিল সেই যুদ্ধটা সামনে চলে এলো। এই যুদ্ধটা চলছে কারেন্সি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ মার্কিন ডলার বিশ্বগ্রাহ্য অর্থ থাকার ফলে, সে একধরনের ডলার আধিপত্যবাদ কায়েম করেছে সোনার থেকে মুক্ত হয়ে। পৃথিবীতে কোন দেশই ডলার ছাড়া খনিজ তেল (crude oil) কিনতে পারবে না এই যুক্তিতে এক ধরনের একচেটিয়া অধিকার কায়েম রেখে এই আধিপত্যবাদ বিস্তার করা হয়েছে। উল্টোদিকে আবার দেখা যাচ্ছে ডলারকে অগ্রাহ্য করে ক্রিপ্টোকারেন্সিরও জন্ম হয়েছে। যে কারেন্সির মাথায় কোন রাষ্ট্র থাকতে পারে না। এই পথে আবার হাঁটলে রাশিয়া-রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়ে যাবে, সেটা আবার পুতিন পারবে না। ফলে পুতিনকে রাষ্ট্রবাদী পথেই এগোতে হবে এবং এগিয়ে রাশিয়ার পুরোনো যে এলাকা অর্থাৎ পুরনো সোভিয়েতরাজ এলাকায় তার একচ্ছত্র অধিকার কায়েম করতে হবে। আর রাষ্ট্রীয়বাদে এগোতে গেলে মার্কিন ডলার সাম্রাজ্যটাকে ধ্বংস করতে হবে আগে। তাই পুতিন চেষ্টা চালিয়েছিল মার্কিন দেশের মধ্যের থেকেই এই দ্বন্দ্বটাকে বিকশিত করার। ট্রাম্পের মত ছিল– বিশ্বব্যাপী আজকের লং ভ্যালুচেন বজায় রাখতে গিয়ে চীন রাষ্ট্র শক্তিশালী হচ্ছে আর মার্কিন রাষ্ট্র শক্তিহীন হচ্ছে, তাই তার পেটোয়া কিছু দেশ নেতাদের নিয়ে শর্ট ভ্যালু চেন গঠন করে বিশ্ববাজার থেকে চায়নাকে কোণঠাসা করতে চেয়েছিল। কিন্তু চায়না এরই মধ্যে মার্কিন কর্পোরেটদের পুঁজির মূল্য ক্ষয় আটকে মার্কিন রাষ্ট্রের থেকে চায়না তার রাষ্ট্রকে অনেক বেশিণ গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে মার্কিন কর্পোরেটদের কাছে। ফলে ট্রাম্প কর্পোরেটদের সাহায্য না পেয়ে ভোটে হেরে বাইডেনের উত্থানের রাস্তা প্রশস্ত করে তুলল। পাশাপাশি মার্কিন শ্বেত উগ্র জাতীয়তাবাদ, যা কালো মানুষদের বিরুদ্ধাচরণ এর উপর দাঁড়িয়ে আছে, তা মার্কিন জনগণের একটা বড় অংশ তভালোভাবে গ্রহণ করেন নি। বাইডেন ক্ষমতায় এসে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্যবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়, উল্টোদিকে ন্যাটোর বিস্তারের মাধ্যমে রাশিয়ার পুরানো জমিটা পুরোপুরি দখল নিতে চায়। দখল নিতে পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের উপর দখল রাখতে পারবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে রাশিয়া যেমন মাথাব্যথার কারণ, তেমন মার্কিন দেশও মাথা ব্যথার কারণ। ফলে যুদ্ধ ছাড়া কূটনৈতিক সমাধানের পথই তাদের কাছে কাম্য। যেটা ফ্রান্স ও জার্মানির মিলে এতদিন চেষ্টাও চালিয়েছে, কিন্তু রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পর তাদের রাশিয়াকে বিরোধিতা করা ছাড়া উপায় নেই।

এটা কি পুতিনের একগুঁয়েমি না অন্য কোন হিসাব:

২০০৮ সালে বিশ্ব পুঁজিবাদের সংকট এর পর থেকেই ডলার বেশ দুর্বল অবস্থানে চলে গেছে। আবার ভূউষ্ণায়নের কারণে তেলের ব্যবহার কমাতে হবে, ফলে তৈল উৎপাদন কমাতে হবে,তাহলে ডলার তার আধিপত্য এখন কিভাবে জারি রাখবে? এইখানে এখনো মার্কিন দেশ কোন উত্তর বার করতে পারেনি। উল্টে যুদ্ধে গেলে ডলারের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে যাবে, তখন চীনের ইউয়ান অথবা ইউরোপের ইউরো সেই ফাঁকা জায়গা দখল নিয়ে নেবে। ফলে যুদ্ধ করার অবস্থানেও নেই মার্কিনদেশ। আর এটাই পুতিন করতে চেয়েছিল ট্রাম্পকে এনে যুদ্ধে ফাঁসিয়ে দিয়ে। বাইডেন এটা ভালো বুঝেছে বলেই পাল্টা ন্যাটোকে বিস্তার ঘটাচ্ছিল রাশিয়ার পুরাণো সোভিয়েত এলাকায় ধীরে ধীরে। কিন্তু পুতিন ইউক্রেনকে আক্রমণ করে আমেরিকাকে একটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল। আমেরিকার সামনে এখন দুটি পথ আছে। একটি পথ হলো– ইউক্রেনকে ন্যাটো ভুক্ত করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এখনই যুদ্ধে নেমে পড়া। অথবা রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর। সেটা কি করে আবার করবে? রাশিয়া, ফ্রান্স, আমেরিকা, বৃটেন ও চীন হচ্ছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ। তাহলে রাশিয়াকে নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বার করে দিতে হয়। চীন সেটা কি তাহলে মেনে নেবে? আসলে রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত ফিন্যান্স পুঁজির আন্তর্জাতিক সংগঠনের মধ্যে একটা সংকটের জন্ম দিয়ে দিয়েছে। এই কারণেই আমেরিকা ১৯৭৩ সালে গঠিত G7 গ্রুপকে বেশি সক্রিয় করে তুলতে চাইছে। এই দেশ গুলি হলো আইএমএফ ভুক্ত কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ইউকে, এবং ইউএসএ। আইএমএফের হিসেব অনুযায়ী এই দেশগুলিতে পার্লামেন্ট বেশ শক্তিশালী এবং শেয়ারবাজারও খুব উন্নত। এরা পৃথিবীর ৫০% সম্পদের অধিকারী, ৩২ থেকে ৪৬ শতাংশ পৃথিবীর জিডিপির অধিকারী। জনসংখ্যা ৭৭০ মিলিয়ন যা পৃথিবীর জনসংখ্যার দশ শতাংশ। পৃথিবীর অন্যতম ক্ষমতাধরদের মধ্যে পড়ে এরা। এদের মধ্যে বোঝাপড়া আছে রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক, পরিবেশ, ধর্ম, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক স্তরে। ২০২২ থেকে জার্মানি এই গ্রুপের সভাপতি। এই কারণেই নাৎসির কথাটি সামনে এসেছে।

অন্য পথ:

G7 এর সমান্তরালভাবে চায়না ও রাশিয়াকে উঠে আসতে গেলে এবং ইউরোপে রাশিয়ার একাধিপত্য কায়েম করতে হলে এখনি হচ্ছে সবথেকে সুযোগ্য সময়। চায়না একটা জায়গা করে নিয়েছে মার্কিন দেশের পাল্টা হিসেবে, রাশিয়া এখনো সেটা করতে পারেনি অর্থনীতিতে। তাই তাদের পুরানো এলাকায় মিলিটারি ক্ষমতা জাহির করে উঠে আসার প্রচেষ্টা।

কেন রাশিয়াকে রাষ্ট্রের উপর জোর দিতে হচ্ছে:

যেসব এলাকায় ন্যাটো শক্তিবৃদ্ধি ঘটাতে চাইছে, সেইসব এলাকায় রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিনের। এইসব অঞ্চলগুলিতে অটোমান সাম্রাজ্য কায়েম ছিল দীর্ঘদিন ধরে। এইসব এলাকাগুলিতে অটোমান সাম্রাজ্যকে পরাস্ত করে রাশিয়ার জার সাম্রাজ্যের উত্থান হয়। যা বালটিক সমুদ্র থেকে ককেশীয় অঞ্চল অবধি বিস্তার লাভ করে। রুশ বিপ্লবের পরে এই দেশগুলিকে মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং সোভিয়েত ব্যবস্থার মধ্যে যুক্ত করা হয়। এই পুরাণো সাম্রাজ্য ফিরে পাবার সাথে রাশিয়ার পুঁজিবাদের এক যোগ সূত্র আছে। রাশিয়ায় শিল্পের বিকাশ রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের মধ্যে দিয়েই হয়। ব্যক্তি পুঁজির বিকাশ হয় নি। সোভিয়েত রাজ পতনের পর ব্যক্তি পুঁজির বিকাশ হলেও আমেরিকার সাথে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। ফলে তারা পুরনো রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যের মধ্যে দিয়ে (সোভিয়েতের পুরনো দেশগুলির মধ্যে তার কিছু এজেন্টও আছে) সেগুলিকে সংগঠিত করে নতুন এক ভ্যালু চেইন এর জন্ম দিতে চাইছে, বিশ্বব্যাপী ডলারের ভ্যালু চেইন এর বিপক্ষে। ইউক্রেন এখানে পথের কাঁটা হয়ে উঠেছে । তাই এই যুদ্ধ হচ্ছে ডলার ভ্যালু চেইন এর বিপক্ষে সোভিয়েত রাজ গঠন করে নতুন ভ্যালু চেইন তৈরি করা চীনকে যুক্ত করে। এবং এখানে তারা আমেরিকা মহাদেশের অনেক দেশ যেমন ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া, কিউবা, ইত্যাদিদের পাবে , এমনকি ইরান সহ আরো অনেক দেশকেই তারা যুক্ত করতে পারবে।

এই যুদ্ধে ভারত পড়েছে মহাসংকটে:

ভারতের কাঁটা কাশ্মীর। 370 ধারা তুলে দিয়ে যে কাশ্মীরকে ঘিরে এত দর্প দেখাচ্ছে মোদি-শাহরা তা চূর্ণ হয়ে যাবে রাশিয়া বিপক্ষে গেলে। কারণ একমাত্র রাশিয়ার সমর্থনে ভারতবর্ষ কাশ্মীর দখল রাখতে পেরেছে। এছাড়া ভারতবর্ষের সামরিক যন্ত্রপাতির ৬০% হার্ডওযারই হচ্ছে রাশিয়ার। এছাড়া চীন ও পাকিস্তান সর্বদাই সুযোগ খোঁজে ভারতের বিপক্ষে। উল্টোদিকে আমেরিকাকে খেপালে নিস্তার নেই। তাই সেই নেহেরুর পথে নরেন্দ্র মোদী। অর্থাৎ কোন পক্ষে না খিয়ে নীরব থাকা, non-aligned পথ। কিন্তু তফাৎ হচ্ছে দু’পক্ষকে সমালোচনা করার ক্ষমতা ছিল নেহেরুর। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি ৫৬ ইঞ্চি ছাতি নিয়েও নীরব।

  •  
  •  
  •  
  •  

1 Comments

  • খুবই যুক্তিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post