• May 25, 2022

পৃথিবীর গতি ঠিক কোন দিকে?

 পৃথিবীর গতি ঠিক কোন দিকে?

শ্রেয়া চক্রবর্তী

রাশিয়ার এই আক্রমণে একদিকে যেমন বহু মানুষ প্রাণ হারান, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ বিপুল ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি রাশিয়ান শেলের আঘাতে প্রায় গুঁড়িয়ে যাওয়া বীজগুলো ঘরবাড়ি থেকে একথা স্পষ্টতই আন্দাজ করা যায় যে ইউক্রেনের সরকারকে গদিচ্যুত করতে দৃঢ় প্রকল্প ভ্লাদিমির পুতিন।

এক আলোচনা সভায় US এর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং NATO এর অন্যান্য সদস্যরা সিদ্ধান্তে আসেন যে পূর্ব ইউরোপে NATO এর অন্তর্ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো কে রক্ষা করার জন্য NATO তার নিজস্ব বাহিনী পাঠাবে। যদিও সদস্য দেশগুলোকে ঠিক কতটা সাহায্য করবে তারা, অথবা কি পরিমান বাহিনী পাঠানো হবে তা বিশদে জানায়নি NATO।

এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের কতটা অংশ আপাতত রাশিয়ার দখলে অথবা এখনও পর্যন্ত কতটা অংশ ইউক্রেন রক্ষা করতে পেরেছে তা খুব একটা স্পষ্ট নয়। ক্রেমলিন কিয়েভের আলোচনার প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন।যদিও, সুষ্ঠু আলোচনা নয়, আদতে বিপর্যস্ত ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা আদায় করতেই উক্ত আলোচনায় যোগ দিতে সম্মত হয়েছে ক্রেমলিন।

পুতিনের মূল দাবি গুলি কে সামনে রেখেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জিলোনস্কি প্রস্তাব করেন যে, ইউক্রেন NATO তে যোগ দেবে না এবং একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে অবস্থান করবে। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রথমে ক্রেমলিন বেলারুশে প্রতিনিধি দল পাঠাতে রাজি হলেও পরে পিছিয়ে আসে। এবং বলা হয় যে, এ সমঝোতার থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে মুখোমুখি হতেই রাশিয়া বেশি পছন্দ করবে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন যে, জিলেনস্কির আরো আগেই আলোচনায় বসা উচিত ছিল।

ইউক্রেনের রুশ আক্রমণের দ্বিতীয় দিনেই ভোর থেকে কিয়েভে বোমাবর্ষণ করতে শুরু করে রুশ বাহিনী। এমনকি কিয়েভের একেবারে প্রান্তে অবস্থিত বিমানবন্দরও দখল করে নেয় রাশিয়া।
তথ্যসূত্র খবর যে, ইতিমধ্যেই দেশের পশ্চিমাংশের সাথে কিভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বলতো আক্রমণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা বহু মানুষ, বহু গাড়ি এই মুহূর্তে পোলিশ সীমান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী করেছে যে, সুমি ও কনোটপ শহর দুটিও ইতিমধ্যে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। যদিও এই বিবৃতির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। জেনিফার নদীর কাছে একটি ব্রিজের প্রচন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়, বলতো এই মুহূর্তে প্রায় 200 জনের একটি ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা দল উক্ত অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। অপরদিকে কিয়েভের সাথে যুক্ত অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজও ধ্বংস করেছে রুশ বাহিনী।

ইউক্রেনের আধিকারিকদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় 137 জন অধিবাসীর এবং রাশিয়ার প্রায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও বা রাশিয়ার তরফ থেকে ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যু সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি এখনও পর্যন্ত।

ইউএন আধিকারিকদের মতে এয়ার স্ট্রাইকে অন্তত 25 জনের মৃত্যু হয়েছে। এবং প্রায় 10 লক্ষ মানুষ এই মুহূর্তে ঘর ছাড়া । ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সমগ্র বিশ্বের কাছে সাহায্য চেয়ে বলেন,
” When missiles kill our people , they kill all Europeans”
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় নেতৃত্ব এদের কাছে জিলেন্সকির প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানানোর পর সাময়িকভাবে তার গতিবিধি সম্পর্কিত সকল তথ্য গোপন রাখা হয়। যদিও পরবর্তীকালে ইউক্রেনের আধিকারিকদের তরফ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে ইউক্রেনে সরকারি ভবনের বাইরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এই মর্মে বক্তব্য রাখেন যে, তিনি এবং ইউক্রেনের অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরা কেউই রাজধানী ছেড়ে পালাবেন না।

আমেরিকার এক ইন্টেলিজেন্স অফিশিয়াল এর মতে কিয়েভের উত্তর ও পশ্চিম দিকে 50 কিলোমিটার দূরে রাশিয়ান বাহিনী অবস্থান করছে।
ইতিমধ্যে ইউক্রেনে প্রায় 200 টি মিসাইল লঞ্চ করেছে রাশিয়া। শুক্রবার ইউক্রেনের সরকারকে ‘ ড্রাগ এডিক্ট’ ও ‘ নিও নাৎসি’ বলে অপমান করে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বলেন পুতিন।
“We would find it easier to agree with you than with that gang of drug addicts and neo-Nazis who have holed up in Kyiv and have taken the entire Ukrainian people hostage.” — ভ্লাদিমির পুতিন

  •  
  •  
  •  
  •  

1 Comments

  • সাগরে বড় নৌকার পাশে ছোট নৌকার অসহায়ত্ব নিয়ে যুদ্ধের মাঠে ইউক্রেন একা। রাজধানী কিয়েভের পতন অত্যাসন্ন। রাজধানী থেকে মাত্র ১৫ মাইল দুরে দাড়িয়ে আছে রুশ বাহিনি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে বলা হয় উপনিবেশ ভাগবাটোয়ারার অবনিবনার যুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে প্রতিশোধের। পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধ ছিলো ইউরোপীয়দের, অথচ ওরা যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়েছিলো এশিয়া আফ্রিকার গরিবের দেশগুলোকে। এ্যালবার্ট আইনষ্টাইন এক সেমিনারে বিজ্ঞানীদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে কি কি মারনাস্ত্র ব্যবহার হবে তা বলতে পারবো না, তবে চতুর্থটার কথা বলতে পারি। সবাই একসাথে চিৎকার করে উঠে, সেগুলো কি কি? আইনষ্টাইন ফিস ফিস করে বললেন, লগি-বৈঠা আর পাথর। একজন সদস্য বললেন, জনাব মনস্তাত্তিক একটি সত্য হলো কাঁচের ঘরের বাসিন্দারা প্রতিবেশীর ঘরে ঢিল ছুরবে বলে মনে হয় না। আইষ্টাইন মুচকি হেসে বললেন, বাবুরের কথা ভূলে যাবেন না, মাত্র কয়েকটা কামানের বদৌলতে গোটা অঞ্চলটি দখল করে নিয়েছিলো, দখলেও রাখে দুশো বছর। আর ১২৪০খ্রি ওরই ভাই চেংগিসের ছেলে ওগোডেই খাঁন রাশিয়া, হাঙ্গেরী, পোল্যান্ড অধিকার করে নেন এবং এই কিয়েভ নগরী ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছিলেন। রেজাউল করিম মুকুল, ৯ মার্চ, ২০২২খ্রি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post