• December 4, 2021

মায়া পথ ছায়া পথে

 মায়া পথ ছায়া পথে

ড. মো. শওকত হোসেন
অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

স্কুল জীবনে কবি সুকুমার রায়ের অনেক কবিতাই বেশ মজা করে পড়তাম। কিছু কিছু কবিতা একটু একটু বুঝতাম, আবার কোন কোন কবিতা একেবারেই বুঝতাম না। এরকম অবোধ্য কবিতার মধ্যে একটি কবিতা কোন এক অনুষ্ঠানে আমাকে আবৃত্তিও করতে হয়েছিলো। কবিতাটির নাম ‘ছায়াবাজি’। কবিতাটি শুরু হয়েছে এভাবে: “আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা/ ছায়ার সাথে কুস্তি করে গাত্র হল ব্যথা!/ ছায়া ধরার ব্যবসা করি তাও জানো না বুঝি,/ রোদের ছায়া, চাঁদের ছায়া, হরেক রকম পুঁজি!” সুকুমার রায় নিজেই হয়তো ভাবতেন যে, তাঁর কথা আমার মত অনেক পাঠকই বুঝবেনা এবং বিশ্বাসও করবে না কেউ কেউ। তাই ঐ দীর্ঘ কাব্য-বয়ানের এক পর্যায়ে তিনিই বলে গেছেন: “কেউ জানে না এসব কথা কেউ বোঝে না কিছু,/ কেউ ঘোরে না আমার মত ছায়ার পিছু পিছু।”
তবে হ্যাঁ, সুকুমার রায়েরও অনেক আগে, আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছরেরও বেশি পূর্বে গ্রিক দার্শনিক প্লেটোও ছায়াবাজি বিষয়ে অবগত ছিলেন। এবং সুকুমার রায়সহ আমাদের সকলকে এই ছায়াবাজি থেকে বিরত থাকতে অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। প্লেটোর মতে, আমরা যে জগতে বাস করি অথবা সমগ্র মহাবিশ্ব বা ইউনিভার্স বলতে যা কিছু আছে সবই ছায়া। এ জগৎ ছায়ারই জগৎ। তাঁর মতে, দুই ধরনের জগৎ আছে, তা হলো সত্তার জগৎ (World of reality) এবং ছায়ার জগৎ (World of shadows or copies)। আমাদের চারপাশের যে দৃশ্যমান জগৎ তা খাঁটি জগৎ নয়; এটি ছায়ার জগৎ। এটি বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়াদি দ্বারা গঠিত জগৎ। এর কোনটিই খাঁটি বস্তু বা বিষয় নয়। সবই ছায়া, কায়া নয়। এখন প্রশ্ন হলো এগুলো কিসের ছায়া? এ প্রশ্নের জবাবে প্লেটো বলেন, এগুলো সত্তার জগতের সার্বিক ধারণার ছায়া। সত্তার জগতে রয়েছে বিভিন্ন সার্বিক ধারণা। জগতে যত রকম বস্তু বা বিষয়াদি দেখি তার জাতিগত সার্বিক ধারণা রয়েছে সত্তার জগতে। ঐ সার্বিক ধারণাই খাঁটি (real)। বস্তুজগতের বিশেষ বিশেষ বস্তু বা বিষয় হলো তারই ছায়া বা অনুলিপি (imitation)। আমরা দৃশ্যমান জগতে যে মানুষ দেখি তা বিশেষ বিশেষ মানুষ। এই মানুষ হলো সত্তার জগতের সার্বিক ‘মানুষ ধারণা’-এর অনুলিপি, ছায়া বা নকল। মানুষের সার্বিক ধারণাই হলো খাঁটি। জগতের ঘোড়া খাঁটি নয়, ধারণার জগতের সার্বিক ঘোড়ার ধারণা হলো খাঁটি। এভাবে বস্তুজগতের প্রত্যেকটি বস্তুর শ্রেণিবাচক সার্বিক ধারণা রয়েছে সত্তার জগতে। বিড়ালের জন্য সার্বিক বিড়াল, সাদা বস্তুর জন্য সার্বিক শ্বেতত্ব, লাল বস্তুর জন্য লালত্ব, শুভ বিষয়ের অন্তরালে শুভত্ব, সুন্দর বিষয়ের অন্তরালে সার্বিক সৌন্দর্য হলো মূল উৎস। এগুলো খাঁটি এই জন্য যে, এগুলো অপরিবর্তনীয়, অব্যায়, অক্ষয়। পার্থিব জগতের কোন বিশেষ সদস্যের অস্তিত্ব অনস্তিত্বের ওপর এর বাস্তবতা নির্ভর করে না। সার্বিক ধারণাসমূহ অপরিবর্তনীয় এবং অব্যায়-অক্ষয়। প্লেটোর মতে, এই সকল সার্বিক ধারণার সামঞ্জস্য বিধানের জন্য সর্বোচ্চ একটি ধারণা বিদ্যান আছে, এই ধারণাকে তিনি কল্যাণের ধারণা (Idea of good) বলেছেন। প্লেটো এই কল্যাণের ধারণাকে পরমসুন্দরও (absolute beauty) বলেছেন। তাঁর নিকট পরমসুন্দর ও পরমমঙ্গল (absolute good) একই। তিনি একে পরমসত্য (absolute truth) বলেও অভিহিত করেছেন। প্লেটোর এই ধারণাতত্ত্বের মাধ্যমে এটা সুস্পষ্ট যে, পার্থিব জগতের সকল কিছু সত্তার জগতের সার্বিক ধারণাসমূহের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সকল সার্বিক ধারণার মধ্যেও সংহতি বা সামঞ্জস্য বিধান করা দরকার। প্লেটো এই সংহতি বা সামঞ্জস্যতা বিধান করেছেন পরমঙ্গলের বা পরমসুন্দরের ধারণা দিয়ে। যাকে তিনি পরমসত্যও বলেছেন।
প্লেটো তাঁর এই ধারণাতত্ত্বের মাধ্যমে যে ভাববাদী মতাদর্শ প্রদান করেছেন তা সাধারণের বোধগম্য নাও হতে পারেন এই আশঙ্কা প্লেটো নিজেই করেছিলেন। সাধারণ মানুষ পার্থিব সৌন্দর্য দেখেই মুগ্ধ। তাদের পক্ষে একে সৌন্দর্যের ছায়া বা নকল বলে ভাবতে চাওয়াটাই অস্বাভাবিক হবে। প্লেটোর মতে, কেবল দার্শনিকের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেই বিষয়টি বোধগম্য হতে পারে। আর সাধারণ মানুষ এটা অনুমোদন করতে বা জগতের এই রহস্যের জাল ভেদ করতে অসমর্থ হওয়ায় তাঁর তত্ত্বের কার্যকারিতা বিনষ্ট হবেন এমন মনোভাব তিনি পোষণ করেননি। তিনি বরং তাঁর মতের স্বপক্ষে একটি রূপক গল্পের অবতারণা করেন। তিনি তাঁর গুহারূপক (Allegory of the cave) নামক গল্পে বিষয়টি বোঝাবার চেষ্টা করেন। সেখানে তিনি দেখাতে চেষ্টা করেন যে, যথার্থভাবে প্রজ্ঞা দ্বারা চালিত হলেই মানুষ প্রকৃত জগৎ বা সত্তার জগৎকে উপলব্ধি করতে পারে। তা না হলে মানুষ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা চালিত হয়ে ছায়ার জগতেই কেবল বিচরণ করে। তাদের যথার্থ জগতের জ্ঞান হয় না। যাইহোক গল্পটি এরকম : প্লেটো আমাদের এমন কয়েকজন মানুষের অবস্থা ভাবতে বলেন যারা শৈশব থেকে একটি গুহার মধ্যে বন্দী হয়ে আছে। তাদের পিছনে একটি অগ্নিকুন্ড এবং সামনে দেয়াল রয়েছে। এবং তাদের হাত পা শিকল দিয়ে এমনভাবে বাধা যে তারা শুধু সামনের দেয়ালটাকেই দেখতে পায়। তাদের এবং দেয়ালের মাঝখানে কিছুই নেই। স্বাভাবিক কারণে তারা যা কিছু দেখতে পায় তা হলো দেয়ালে প্রতিফলিত তাদের নিজেদের ও পেছনের বস্তুসমূহের ছায়া। আর এ ছায়াগুলোকেই তারা সত্যিকারের বস্তু বলে মনে করে থাকে। কেননা পিছনের যে সব বস্তু থেকে ছায়াগুলোর উদ্ভব সেসব বস্তু সম্পর্কে বন্দীদের কোন ধারণাই নেই। অবশেষে তাদের একজন গুহা থেকে পালিয়ে বাইরের জগতে এসে সূর্যালোকিত বস্তু দেখতে পেলো এবং বুঝতে পারলো যে, এযাবৎ বন্দীদশায় সে এবং তার গুহার বাসিন্দারা শুধু বস্তুর ছায়াই দেখেছে, প্রকৃত বস্তু দেখেনি। সে এবার ছায়ার জগৎ ছেড়ে এসেছে কায়ার জগতে। সে ফিরে গিয়ে গুহাবাসীদের একথা বোঝাতে চাইলো। কিন্তু তার কথা গুহাবাসী বিশ্বাস করলো না। রূপকে উল্লেখিত গুহাটি পরিদৃশ্যমান বা অবভাসিক জগৎ ছাড়া আর কিছুই নয়। আর গুহা থেকে বন্দীর পলায়ন মানবআত্মার বুদ্ধিগ্রাহ্য প্রজ্ঞার জগতে উড্ডয়নের সঙ্কেত। জ্ঞানের কাজই হলো ইন্দ্রিয়জগতের গুহা থেকে মুক্তিলাভ। গুহার মানুষের ধারণা ছায়ার জগৎই প্রকৃত জ্ঞানের বিষয়। আমাদের বস্তুজগৎও এরকম একটি গুহা যার মধ্য থেকে আমরা পরিবর্তনশীল ছায়ার জগৎকে দেখতে পাই। কিন্তু খুব কম লোকই আছেন যাঁরা তাঁদের প্রজ্ঞার মাধ্যমে উপলব্ধি করে সত্তায় জগতের অনন্ত সর্বিক প্রত্যয়সমূহ। এই মুষ্টিমেয় ব্যক্তিরাই হলেন দার্শনিক এবং এরাই প্রকৃত জ্ঞানী।
গল্পটি শেষ হবার পর Republic গ্রন্থের কেন্দ্রিয় চরিত্র সক্রেটিস তাঁর সাথে সংলাপে অংশগ্রহণকারী গ্লাউকনকে বললেন : “…আমরা জ্ঞানচক্ষুর সাহায্যে যে জগৎ প্রত্যক্ষ করি তার সঙ্গে যদি গুহা-কক্ষের এবং গুহাস্ত প্রদীপের সঙ্গে সূর্যরশ্মির তুলনা কর, এবং সেই সঙ্গে বন্ধনমুক্ত লোকটি যে পথ বেয়ে ভূ-পৃষ্ঠে আরোহন ক’রে সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছে সে পথকে জ্ঞানমার্গ ধরে নাও তবেই বুঝতে পারবে আমি কী ভাবছি। তুমি বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে চাও তা জানি; সে জন্যেই বিষয়টি আমার মনে যেভাবে ধরা দিয়েছে তা-ই প্রকাশ করতে চাই, এখন বিধাতা জানেন আমার চিন্তায় কোন অনিষ্টতা আছে কিনা। সত্য মিথ্যা জানি না, তথাপি আমার মনে হয় জ্ঞান জগতে আমরা সবশেষে যা প্রত্যক্ষ করে থাকি- যা প্রত্যক্ষ করা কষ্টকরও বটে, তা হলো ‘কল্যাণের রূপ’। সে রূপ আমাদের দৃষ্টিতে যখনি ধরা পড়ে তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই উপলব্ধি করি যে, জগতের যা কিছু সুন্দর ও মহৎ তার জন্ম হয়েছে এই রূপ থেকেই।” এই কল্যাণের রূপকেই প্লেটো পরমসৌন্দর্য বলেছেন। প্লেটোর দর্শনে, সুন্দর সত্য ও কল্যাণ একাত্ম। জগতের সকল সত্যই এই সুন্দর ও কল্যাণ/ মঙ্গলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমনকি ন্যায়বিচারকেও প্লেটো এই ধারণার সাথে সম্পর্কিত করতে চান। Republic গ্রন্থে কল্যাণের রূপ (পরমসৌন্দর্য) সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলা হয়েছে : “…এই রূপ দৃশ্যমান পৃথিবীতে আলোক … , জ্ঞানজগতে ন্যায় ও সত্যের উৎস এবং একে প্রত্যক্ষ করার শক্তি যার নেই সে কখনো ব্যক্তিগত জীবনে অথবা রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সমর্থ হবে না।”
প্রকৃত সত্তা বা পরমবাস্তব আধ্যাত্মিক সত্তা না মেনে না জেনে কেবল পার্থিক জগতের অখাঁটি ও ছায়া সদৃশ বিচিত্র বিশেষ বস্তু ও ঘটনাকেই যারা অধিক মূল্যবান ভাবেন তারা এই ছায়ার জগতেই আটকে থাকেন। এই জগতের লোভে পড়ে তারা পরম কল্যাণকে আর পান না। ব্যক্তিজীবনে তাই এই ধরনের মানুষ ন্যায়নীতি চর্চার চাইতে, সত্যের সাধনার চাইতে ভ্রান্ত ছায়ার পিছনে ঘোরে।
ভারতীয় দর্শনের প্রখ্যাত বেদান্ত তাত্ত্বিক শংকর আচার্যও জগৎ সম্পর্কে প্লেটোর মতো এক ধরনের ভাবাবাদী মতাদর্শ প্রচার করেছেন। তাঁর মতবাদ ‘মায়াবাদ’ বলে পরিচিত। এই মতবাদের মূল কথা হলো জগতের সবকিছুই হলো মায়া, এক ধরনের ভ্রান্ত বা ছায়াসদৃশ রূপ। মায়ার জগৎ নির্দিষ্ট করে সংয়জ্ঞায়ন করা সম্ভব নয়। একমাত্র পরমসত্তা বা God (তাঁর ভাষায় ব্রহ্ম) হলো পরম অর্থে বাস্তব (real) বা খাঁটি। জগৎ-সংসারে ব্যক্তি, বস্তু, বিষয়, ঘটনা যাই দেখি সবই পরিবর্তনশীল ছবি বা চলচিত্র মাত্র। সর্বশক্তিময় সত্তার অসংখ্য গুণের মধ্যে মায়ারূপে প্রকাশিত হওয়াও একটি অনন্য ক্ষমতা। মানুষের বিদ্যা-বুদ্ধির স্বল্পতার কারণে এই মায়ারূপকে ভেদ করে সামগ্রিকভাবে খাঁটি সত্তা বা পরমসত্য তথা পরম কল্যাণকে উপলব্ধি করতে অনেকেই ব্যর্থ হয়। অবিদ্যার কারণেই মানুষ মায়ার জগতে আটকে পড়ে। আত্মা-মন বন্ধনযুক্ত হয়ে পড়ে।
শংকর আচার্য বিভিন্নভাবে জগতের মায়ারূপ বোঝাতে চেষ্টা করতেন।কিন্তু খোদ তাঁর শিষ্যদের অনেকেই এটা বুঝতে অসমর্থ হন। এ নিয়ে একটি মজার গল্প প্রচলিত রয়েছে। একবার শংকর তাঁর কয়েকজন শিষ্যকে নিয়ে জঙ্গলের ধারে একটি খোলা ময়দানে বসে মায়াতত্ত্ব বোঝাচ্ছিলেন। তাঁর গায়ে ছিলো একটি লাল চাদর। হঠাৎ করে একটি বুনো ষাঁড় লাল রং দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে শংকর আচার্যের দিকে ধেয়ে আসে। যথারীতি প্রাণ বাঁচাতে গুরু দৌড় শুরু করেন। শিষ্যরাও তাঁকে অনুসরণ করেন। কিন্তু ষাঁড়ের লক্ষ্য কেবল গুরুকেই ঘায়েল করা। এক পর্যায়ে তাঁর এক বুদ্ধিমান শিষ্য গুরুকে গায়ের লাল চাদরটি ফেলে দেবার পরামর্শ দেন। গুরু তাই করলেন। ষাঁড়টিও আক্রমণ বন্ধ করে বনে ফিরে গেলো। আবারও গুরু-শিষ্যের জ্ঞানের আসর বসলো। এক কূটতার্কিক শিষ্য শংকর আচার্যকে জিজ্ঞাসা করলো: “গুরু আপনি না শিখাচ্ছিলেন জগতের সব ঘটনাই মায়া। তাহলে ঐ ষাঁড়টিও তো মায়া হওয়ার কথা। কিন্তু ঐ মায়ারূপ তথা অসত্য ছায়াস্বরূপ ষাঁড়টির ধাওয়া খেয়ে আপনি এত দৌড়ালেন কেন?” গুরু শান্তভাবে বললেন: “তোমরা ঠিকই বুঝেছো যে, ষাঁড়টি ছিলো মায়া; কিন্তু তোমাদের এটাও বোঝা উচিত হবে যে, আমার দৌড়টাও ছিলো এক ধরনের মায়া।” জগতের অনেক বিশেষ ঘটনাকে আমরা আদি-অন্ত না জেনে ভুলভাবে বিচার-বিবেচনা করি। অনন্ত বা অসীমের সাথে যোগ করে সামগ্রিকভাবে দেখতে পারি না। পরিবর্তনশীল বিচ্ছিন্ন মায়ার জগতের প্রতি মোহগ্রস্থ হয়ে পড়ি। আসলে, এই মায়ার জগৎ বা ছায়ার জগতের প্রতি অনাকাক্সিক্ষত আশক্তিই মানুষের জীবনের সকল অজ্ঞতা, অশুভ বন্ধন ও অমঙ্গলের আসল উৎস; এই কথাই হয়তো প্লেটো এবং শংকরের মত মনীষীগণ শিক্ষা দিতে চেয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post