• September 27, 2022

কেন্দ্রীয় বাজেট: ২০২২ – ২০২৩ – কোন দিশা হাজির করলো

 কেন্দ্রীয় বাজেট: ২০২২ – ২০২৩ – কোন দিশা হাজির করলো

হর্ষ দাস

সংসদে বাজেটের প্রস্তাব পেশ হওয়ার পর থেকেই বিরোধী মতই বেশী শোনা যাচ্ছে। তাই এই বাজেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু কী সেই আলোচনাকে প্রথমে সামনে আনা উচিত। তারপরে বিরোধীদের মতকে সামনে এনে, আলোচনায় অনুপ্রবেশ করলে বাজেটের প্রকৃত বিষয়টি সামনে আসবে এবং আজ বাজেটের মর্মবস্তু কি হওয়া উচিত সেটি পরিস্কার হবে।

এই বাজেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু কি?

বাজেটের নাম রাখা হয়েছে “অমৃতকাল” বাজেট। অর্থাৎ এই বাজেটের থেকে অমৃত ঝরতে সময় লাগবে ২৫ বছর। এই ২৫ বছর ধরে বাজেটের মূল অক্ষরেখা কি হওয়া দরকার সেটা সামনে আনা হয়েছে। ১৫তম ফিন্যান্স কমিশনের চেয়ারম্যান “এন. কে সিং” অর্থাৎ যার বেশ কিছুটা হাত আছে এই বাজেটে, তিনি কি বলছেন দেখা যাক – “It seeks symmetry between pulls and pressures of growth and stability, finds a path of continuity, trust” (The Indian express 3/2/22)
তিনি খুব পরিষ্কার করে দুটির মধ্যে সমতা আনার কথা বলেছেন। একদিকে বৃদ্ধি (growth) আর একদিকে স্থায়িত্বের (stability) মধ্যে একটি চলমান পথের কথা বলেছেন। এর সাথে তিনি যেটা বলেছেন – একদিকে প্যানডেমিকের সময় যেমন উদ্যোগপতিদের উপর ট্যাক্স চাপানো হয়নি, উল্টোদিকে আবার Capex (Capital expenditure) – এর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২১ অর্থবর্ষে যার পরিমাণ ছিল ৪.৩ ট্রিলিয়ন, তাকে ২৬% বাড়িয়ে ৫.৫৪ ট্রিলিয়ন লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছে ২০২২-এর বাজেটে।

এই বর্ধিত capex এর কারণ কি?

এখন চলাচলের যে দুটি ক্ষেত্র আছে তার মধ্যে একটা হলো প্রকৃত (real) ক্ষেত্র যথা হাইওয়ে, রেলওয়ে ইত্যাদি। আর একটি হচ্ছে তথ্য চলাচলের ক্ষেত্র। এই দুটি ক্ষেত্রেই গতিবৃদ্ধি করা হবে। অর্থাৎ বড় বড় রাস্তা ও রেলের ট্রাকের গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি, সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে ইন্টারনেট দুনিয়ার গতি বৃদ্ধি করতে হবে। 5G নেটওয়ার্কের বৃদ্ধির মাধ্যমে একদিকে অনলাইন ইউনিভার্সিটি গঠন করতে হবে ও ২০০টি TV স্টেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত অফলাইন এডুকেশন এর মধ্যে ৪০% অনলাইন এডুকেশনের প্রসার ঘটানো হবে। আরেক দিকে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে আইনসঙ্গতভাবে স্বীকৃতি দিয়ে বাজারের গতি বৃদ্ধি করা হবে। সরকার নিজেও ডিজিটাল কারেন্সি নিয়ে আসবে। অর্থাৎ পরিকাঠামো তৈরি করে পুঁজির টার্নওভার এর গতি বৃদ্ধি করতে হবে। যত দ্রুত পুঁজির টার্নওভার বাড়বে ততই বেড়েই চলবে মুনাফার হার। টার্নওভার মানে হচ্ছে অর্থকে পন্য উৎপাদনে নিয়ে এসে, সেই নতুন পণ্য আবার বিক্রি করে মুনাফা সহ বর্ধিত অর্থে রূপান্তর ঘটানো।

কার বিনিময়ে করা হবে

N K Singh কি বলছেন দেখা যাক – “This focus on productive capex comes ahead of election in 5 states. The government could have been distracted by more direct monetary support to influence the electoral psyche. The decision to stay away from populist budgets is consistent with the PM’s objective to enhance our long-term competitive efficiency supporting growth objectives and a new thrust.”
এখানে খুব পরিস্কার ভাবে বলা হয়েছে– infrastructure ক্ষেত্রের পুঁজির জন্য সরকার মানুষের হাতে টাকা দেওয়ার পপুলিস্ট প্রোগ্রাম নিচ্ছে না পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন থাকা সত্ত্বেও। প্যানন্ডেমিক পিরিয়ডে সাধারণ মানুষকে কষ্ট সহ্য করতে হবে, কারণ ভারতবর্ষকে বিশ্ববাজারে সক্ষম প্রতিযোগী হয়ে উঠতে হবে।

এই প্রতিযোগী করে তোলার জন্য সরকার এতদিন কি করেছে?

প্রতি বছর গুটিকয়েক ব্যবসায়ী সরকারী ব্যাংক থেকে যে ধার নিল তার একটি বড় অংশকে দেনা থেকে মুক্ত করা হয়েছে (শুধুমাত্র ২০২০-র হিসেব ৬.৬ লক্ষ কোটি টাকা) এবং প্রায় প্রতি বছর ২ লক্ষ কোটি টাকা করে ট্যাক্সও ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারের যুক্তি হচ্ছে – সরকার ভেবেছিল, এই ছাড় দেওয়ার মধ্য দিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুঁজিপতিরা সারা দেশে পুঁজির জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরিকাঠামো গড়ে তুলবে। কিন্তু তারা তা করেনি। উল্টে টাকা লুট করে নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছে বেশ কিছু পুঁজিপতি, যার পরিমাণ শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই ১৫ লক্ষ কোটি টাকা। অথচ সেই পুঁজিপতিরাই যাতে বিদেশি বহুজাতিকদের সাথে লড়তে পারে তার জন্যই এই আয়োজন।

বিরোধী মত

এই পলিসির ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে আছে বামপন্থী অর্থনীতিবিদরা। তাই তাঁদেরই মধ্যে নামকরা একজন অর্থাৎ প্রভাত পট্টনায়কের মত তুলে ধরলাম। তিনি বলেছেন–
“Union budget was quite unprecedented: Acute unemployment, growing poverty, burgeoning wealth and income inequalities and accelerating inflation. One expected to find in the budget some measures for stimulating the economy, and also some gestures toward alleviating distress.
প্রভাত বাবুর কথা হচ্ছে এই বাজেটে যেহেতু কোনো stimulus measure নেই তাই প্রচণ্ড হারে গরিব-বড়লোকের আয়ের ব্যবধান বাড়বে, বেকারত্ব ও দারিদ্রতা চূড়ান্ত জায়গায় যাবে, আর মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে ব্যাপকহারে । তার কারণ হিসেবে তাদের মত MGNREGA তে অর্থাৎ ১০০ দিনের কাজে অর্থ সংকোচন হয়েছে, কৃষিপণ্যে ন্যূনতম সহায়তা মূল্যকেও কমানো হয়েছে। গ্রামীণ বিকাশের খাতে কোন পরিকল্পনা নেই। উল্টোদিকে তেলের দাম বৃদ্ধিতে চাষের খরচ আরো বেড়ে যাবে, ফলে কৃষকদের চাষ করার অর্থনৈতিক ক্ষমতা হারিয়ে জমি থেকে উৎখাত হবে।

  চিত্র ১              

ওপরের চিত্র থেকে বোঝা যাচ্ছে সরকার কি ভাবে জনগনের হাতে প্রাপ্ত টাকা কমিয়ে দিচ্ছে।

সরকারের অর্থ কোথা থেকে আসবে

কর্পোরেটদের ট্যাক্সের পরিমাণ কমানো হয়েছে।
Business Standard – এর লেখা “Further in order to provide relief to companies which continue to avail exemption / incentives, the rate of minimum alternate tax has been reduced from existing 18.5% to 15%”
তার মানে যাদের হাতে টাকা আছে তাদের ট্যাক্স ছাড়। তাহলে টাকা আসবে কোথা থেকে? অতএব সরকারি শিল্পের বিলগ্নীকরণ চলবে। যদিও এ বছর বিলগ্নীকরণের পরিমান রাখা হয়েছে আগের থেকে কম, যার পরিমাণ ধার্য্য হয়েছে ৭৮ হাজার কোটি টাকা। আর ট্যাক্স আসবে সাধারণ মানুষের থেকে, সেই জন্যই সাধারণ মানুষের ট্যাক্সে ছাড় দেওয়া হয়নি। তাহলে এই বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে? এর পরিষ্কার হিসাব নেই। উল্টে পট্টনায়কের কথা হচ্ছে — “True the budget envisages a rise in capital expenditure by the government but if you look at total government expenditure, which is what matters from the point of view of aggregate demand is only ₹1.75 lakh crore from ₹ 30.70lakh crore in 2021-22 (RE) to ₹ 39.45 lakh crore in 2022-23 which is a rise of 4.5% only . This is even lower than the inflation rate. In real terms total expenditure change is thus negative. Government expenditure as a proportion of GDP is set to decline sharply, entailing a dampening effects on the economy”.

এখানে পরিষ্কার সরকারের ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচারের বৃদ্ধি হয়েছে যেখানে মাত্র ৪.৫% তা যদি মূল্যবৃদ্ধির সাথে তুলনা করা যায়, তাহলে দেখা যাবে বৃদ্ধি ঋণাত্মক। ফলে অর্থনীতির মধ্যে একটা মারাত্মক ধস তৈরি হবে।

আসলে বিরোধ কোথায়?

এই বিরোধ বুঝতে হলে বিশ্ব ব্যাংকের সভাপতি ডেভিড মালপাসের একটি মন্তব্য তুলে ধরা যাক। তাঁর মতে– “৭৫ টি দেশের মাথাপিছু আয় যেখানে ০.৫% ( যদিও সেটা এখনো হয়ে ওঠেনি, হয়ে উঠবে)। সেখানে উন্নত দেশগুলিতে মাথাপিছু আয় ৫%। ফলে ধীরে ধীরে এই দরিদ্র দেশগুলি পিছনে চলে যাচ্ছে”।
পিছনে চলে যাওয়ার জন্য তাদের এতো দুশ্চিন্তা কেন? তার কারণ এই দেশগুলি গ্লোবাল ভ্যালু চেইন-এর মধ্যে থাকতে পারবে না, ফলে এই সব দেশে প্রকৃতি ও শ্রম সস্তা থাকার কারণে যে পুঁজি বিনিয়োগ হয় তা হতে পারবে না, এই সকল দেশের জনগণ শ্রমশক্তি যোগান দিতে ব্যর্থ হবে, কারণ শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে কোভিডের কারণে। তাই তাঁর মতে প্রতি বছর ৮ বিলিয়ন ডলার করে এই দেশগুলিকে তিন বছরে যদি ২৪ বিলিয়ন ডলার দেওয়া যায় তাহলে তাদের সক্ষম করে তোলা যাবে। কিন্তু সেই অর্থ পাওয়ার বদলে দেখা যাচ্ছে– যারা এই সকল দেশকে ধার দিয়েছে তারা এই সময়েই ৩৫ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছে এই সকল দেশ থেকে, ফলে এদের বৃদ্ধি ঋনাত্বকে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিশাল কিছু দেশে যেমন এই অর্থ সংকট দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে একা Microsoft শুধু মাত্র একটা চুক্তিতেই বিনিয়োগ করবে ৭৫ বিলিয়ন ডলার ভিডিও গেমে। ডেভিড মালপাসের দুশ্চিন্তা এখানেই। যেখানে বাজার আছে সেখানেই অন্ধ গতিতে অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে। তাও সেটিও আবার ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে, অথচ real-world যেখানকার শ্রমে ক্যাপিটাল তৈরি হয় তার বৃদ্ধি ঋনাত্বক হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত পুঁজির যে চক্র তা থমকে যাবে। অথচ যে ফিকটিসাস ক্যাপিটাল বেড়ে চলেছে ঊর্ধ্বগতিতে, তার গতির বৃদ্ধি আরো বেড়ে যাবে। পুঁজিবাদের মধ্যে এক বিরাট ধস নেবে আসবে। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি পুঁজিবাদেরই দুটি পথ। একটি পথ কর্পোরেটদের অন্ধগতিতে মুনাফার হার বাড়িয়ে যাওয়া, যেটা মোদীরা করতে চাইছে আদানি আম্বানিদের স্বার্থে। আর একটি পথ হলো দুটির মধ্যে ব্যালেন্স করে চলা, অর্থাৎ পুঁজির উৎপাদনের গতিকে পুঁজির রিয়েলাইজেশনের গতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে চলতে হবে, না হলেই বিপদ। পুঁজিবাদী উৎপাদনকে রিয়েলাইজ করতে হলে চাই বিশ্বজুড়ে ভোগ্যপণ্যের এক বিরাট বাজার। অর্থাৎ উৎপাদিত পণ্যকে কেনার মতো লোক না থাকলে পুঁজি রিয়ালাইজড হতে পারবে না। যেটা মালপাস ও প্রভাত পট্টনায়কদের পথ, প্রতিমুহূর্তে এই ক্রেতাকে বাজারে রেখে দিতে হবে, জনগণের হাতে আরও টাকার যোগান বাড়াতে হবে। উল্টে মোদিরা তা কমিয়ে দিচ্ছে। অথচ এই দুটি পথের কোনোটিতেই আজকের সমস্যা মিটবে না।

অন্য পথ

এই দুটি পথের মধ্যে বিরোধ হচ্ছে। কারণ,একটি পথ দ্রুত সঙ্কটটাকে সামনে আনবে। আর একটি পথে বিপদ একটু দেরীতে আসবে। আসলে যা ঘটবে তা হচ্ছে আজকের প্রযুক্তি যদি পুঁজির উৎপাদন ও পুনরুৎপাদনের চক্রের গতি বৃদ্ধি করে, তাহলে Blockchain-এবং AI-এর মতো প্রযুক্তি দরকার। ফল হিসাবে শুধুমাত্র বেকারত্বই বাড়াবে না, এই প্রযুক্তি বিপুল শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কার্বন ফুটপ্রিন্ট বাড়িয়ে চলবে। ফলে ২০৩০-২০৪০ সালের মধ্যে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে। বাংলার মানুষ এটা খুবই অনুভব করতে পারছে আজ– প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বৃষ্টি ও নিম্নচাপ, এমনকি শীতের সময়ও অকাল দুর্যোগ-দুর্বিপাক। বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা ২৬.৫° সেলসিয়াসের মাত্রাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যার হাত ধরে বেড়েই চলেছে দানবীয় সামুদ্রিক ঝড়-ঝঞ্ঝার সংখ্যা ও তীব্রতা। তাই আজ দরকার পুঁজির পুনরুৎপাদন নয়, প্রকৃতির পুনরুৎপাদন। প্রকৃতির পুনরুদ্ধার ও পুনরুৎপাদনের জগতে বেকারত্ব শুধু কমবেই না, বরং প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হবে, মানুষের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার হবে। শুধু তাই নয়, যখনই মানুষ প্রকৃতি নিয়ে ভাবতে যাবে, তখনই মানুষ প্রাকৃতিক হবে। বর্তমানের Demand-driven অর্থনীতি মধ্যবিত্তের মধ্যে যে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করেছে তার থেকেও বেরিয়ে আসবে। মানুষে মানুষে হানাহানি কমে গিয়ে সহযোগিতা বাড়বে। কারণ, কোন একটি দেশ একা প্রকৃতিকে ঠিক করতে পারবে না, চাই বিশ্বব্যাপী মানুষের সহযোগিতা। এই বাজেটে পরিবেশের নাম করে একটি ধোঁকা সামনে আনা হয়েছে। তা হলো গঙ্গার পাড় জুড়ে জৈব চাষ। আসলে গঙ্গা ও হিন্দু ধর্মের সংমিশ্রণে জৈব চাষের নামে একটি ধর্মীয় জাল বিস্তার করে কৃষকদের উচ্ছেদ করবে এইসব উর্বর জমি থেকে।

আদানি আম্বানিরা সারা বিশ্বের প্রতিযোগিতায় কী করে বলবান ও বেগবান হবে– এই হচ্ছে আজকের সরকারের চিন্তা। আর উল্টো দিকে মানুষকে হিন্দু-মুসলিম ভাগে ভাগ করে, আম্বানিদের স্বার্থে জমি দখল চলবে । NRC করে এই কাজে হাত পাকিয়েছে আসামে। তাই মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যেকার সম্পর্ক, আর মানুষে মানুষের মধ্যেকার সম্পর্ক কিভাবে প্রাকৃতিক হবে সেটাই হওয়া উচিত বাজেটের উদ্দেশ্য, পুঁজির উৎপাদন ও পুনরুৎপাদন নয়। এটাই আজকের সময়ের দাবি।

হর্ষ দাস

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post