• May 25, 2022

ওড়িশ্যা ঢিনকিয়াতে  JSW প্রকল্পের বিরোধী প্রতিবাদী মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীদের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন- একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট(১৮.১২.২০২১)

 ওড়িশ্যা ঢিনকিয়াতে  JSW প্রকল্পের বিরোধী প্রতিবাদী মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীদের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন- একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট(১৮.১২.২০২১)

অনুসন্ধানকারী দল : Civil Society Forum on Human Rights (CSFHR),Human Rights Defenders Alert -india (HRDA),Indian Social Action Forum(INSAF)

অনুবাদক : জয়দীপ ঘোষাল

পস্কো ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড জগৎসিংপুর থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছিলো ২০১৭ সালের মার্চ মাসে। জগৎসিংপুর একটি উপকূলবর্তী জেলা যা কয়লা ও লৌহ আকরিকে সমৃদ্ধ।এই পশ্চাদপসারণের পেছনে দায়ী গ্রামবাসীদের ১২ বছরের সংঘবদ্ধ আন্দোলন।এই প্রকল্পের সাথে জড়িত ছিলো ৫০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ।বনবিভাগ এই প্রকল্পটিকে ২০১১ এর মে মাসে ছাড়পত্র দিয়েছিলো যাতে ১,২৫৩.২২৫ হেক্টর জমির চরিত্র বদলে ফেলে একটা পূর্ণাঙ্গ স্টীল প্ল্যান্ট গড়ে তোলা যায়।বন অধিকার আইন ২০০৬ এর অন্তর্গত বন অধিকার সংক্রান্ত পুনর্বাসনের বিষয়গুলি নিয়ে এটি তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল।

পস্কো বিদায় নেওয়ার পর জুন ২০১৭ তে উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের নেতৃত্বাধীন হাই- লেভেল- ক্লিয়ারেন্স অথরিটি জমিটি JSW উৎকল স্টীল লিমিটেডকে(JUCL) দিয়ে দেয়।JUCL হলো জিন্দাল স্টীল ওয়ার্কস(JSW) এর অধীন একটি কোম্পানি।তারা চাইছিলো ১৩.২ মিলিয়ন টন পার অ্যানাম(MPTA) উৎপাদন ক্ষমতা বিশিষ্ট একটি সুসংহত স্টীল প্ল্যান্ট বানাতে।যেখানে থাকবে ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা বিশিষ্ট একটি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ১০ MPTA ক্ষমতা বিশিষ্ট একটি সিমেন্ট গ্রিন্ডিং মিক্সিং ইউনিট।

রাইট টু ফেয়ার কম্পেনসেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি ইন ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসেটেলমেন্ট অ্যাক্ট(LARR), ২০১৩ অনুযায়ী ২৭০০ একর জমি যা পস্কোর জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনফ্রাসট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন(IDCO) জোর করে অধিগ্রহণ করেছিল তা এলাকার অধিবাসীদের অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে।যদিও ওড়িশা সরকার ২০১৫  সালে কিছু নীতি সংশোধনের মাধ্যমে যা LARR এর বিপরীত স্থির করেছিল যে এই ধরণের জমি রাজ্য সরকার ‘ল্যান্ড ব্যাংকে’ রাখতে পারে।অন্য রাজ্য সরকারগুলোও একই পন্থা অবলম্বন করেছিলো।

প্রায় ২ বছর পরে মিনিস্ট্রি অফ এনভায়রনমেন্ট, ফরেস্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জের অধীন ফরেস্ট অ্যাডভাইসারী কমিটি এই সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রদান করেছিলো।পূর্বে স্থায়ীকৃত ১২৫৩.২২৫ হেক্টরের বদলে এবার এলাকা কমে দাঁড়িয়ে ছিলো ১০৩৩.৬৯১ হেক্টর।

       JUCL দাবি করেছিলো প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য একটি জনশুনানি ওড়িশা স্টেট পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড(OSPCB) ২০১৭ সালের ২০শে ডিসেম্বর গড়কুজহ গ্রামে আয়োজন করেছিলো।যদিও গ্রামবাসীদের দাবি এক বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকা ঘিরে ছিলো এবং গ্রামবাসীদের জনশুনানিতে যোগ দিতে দেয়নি।কেবলমাত্র একজন গ্রামবাসী বলার সুযোগ পায়।গ্রামবাসীদের দাবি EIA রিপোর্ট ওড়িয়া ভাষায় অনূদিত হয়নি।এবং যথা সময়ে তা মানুষের কাছে পৌঁছয়নি।জনশুনানির অসঙ্গতি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীরা OSPCB র কাছে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।এক্সপার্ট অ্যাপরেইসাল কমিটির যা ইউনিয়ন মিনিস্ট্রি অফ এনভায়রনমেন্ট ফরেন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জের অধীন,মিনিট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে(২০২১ এর ৩-৪ মার্চ, ২৩-২৪ জুন, ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর)সঠিক তথ্যের অভাবে এই প্রকল্পের প্রস্তাব বার বার পেছনো হচ্ছিল।এই মিনিটের আলোচ্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন(যার অন্তর্ভুক্ত বন্দর)।

উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী

সরকারী দাবি অনুযায়ী এই রাজস্ব গ্রামগুলি সরকারী প্রকল্পগুলির পরিধি আরও বিস্তার ঘটাবে এবং গ্রামে বসবাসকারী মানুষদের কাছে আরও সুবিধা পৌঁছে দেবে।যদিও ধিনকিয়ার মানুষদের ধারণা এই ‘রাজস্ব গ্রামগুলির’ ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য জমি অধিগ্রহণ।যা করা হবে JUCL প্রকল্পের জন্য এবং আন্দোলনের ক্ষতি সাধন করা।তারা জমি বিভক্তিকরণের উপর ভিত্তি করে নতুন রাজস্ব গ্রাম তৈরির বিরুদ্ধে তীব্র আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন।ধিনকিয়া যেখানে এক বড় অংশের জনগোষ্ঠী বাস করে, তার জন্য বরাদ্দ ৪৮ একর।অন্যদিকে ধিনকিয়ার অপর প্রান্তের মহালা এবং পাটানার জন্য নির্দিষ্ট ৩৫০ একর।গ্রামবাসীরা আশঙ্কিত যে রাষ্ট্র কর্পোরেটের আঁতাত মহালা এবং পাটানার উপর আক্রমণ নামিয়ে আনবে যেখানে জমির আয়তন বৃহৎ কিন্তু জনসংখ্যা অল্প।গ্রামবাসীদের দাবি অনুযায়ী ধিনকিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে মহালা ও পাটানার জনগণও JUCL এর বিরোধীতা করছে।

       গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন ধিনকিয়া ‘পল্লী সভার’ সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি(পল্লী সভা পঞ্চায়েতী রাজের চতুর্থ স্তর)।একটি গ্রামের সব রেজিস্টার্ড ভোটার এর সভ্য।নতুন ‘রাজস্ব গ্রাম’ সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে গ্রামবাসীরা অতল তিমিরে।২০২১ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর পঞ্চায়েত অফিসে একটি নোটিশ দেখে তারা অবাক হয়ে যায়।সেখানে বলা হয়েছিল ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১ এর মধ্যে এই সংক্রান্ত কোনো দাবি থাকলে তা জানাতে হবে।যদিও গ্রামবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নোটিশের তারিখ দেওয়া হয়েছিল ১৬ই আগস্ট ২০২১।কিন্তু ওটা কখনোই জনসমক্ষে আনা হয়নি।কেবলমাত্র ‘ডেডলাইনের’ দুদিন আগে এটিকে জনসমক্ষে আনা হলো।উপরোল্লিখিত নোটিশটি ছাড়াও এরাসামার  তহশিলদার প্রজেক্ট এলাকার সমস্ত পঞ্চায়েতকে ১৮ই আগস্ট, ২০২১ নোটিশ পাঠায়(P.R no 810)।তার মোদ্দা বক্তব্য পস্কো এবং ল্যান্ড ব্যাংকে রাখা জমি অধিগ্রহণ করা হবে।গ্রামবাসীদের আপত্তি ২০ই আগস্ট ২০২১- অর্থাৎ ৫ দিনের মধ্যে জানাতে হবে।

       এইভাবে ধিনকিয়া অঞ্চলে JUCL এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের নতুন অধ্যায় সূচিত হল।নতুন ‘রাজস্ব গ্রাম’ তৈরীর যে কোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে গত ছমাস ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন ও ধর্না চলছে।এই প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেবেন্দ্র সোয়েন। তিনি ধিনকিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা।পস্কো বিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ এবং শান্তিপূর্ণ পন্থায় জিন্দাল প্রতিরোধ সংগ্রাম সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে দেখাচ্ছে-রাষ্ট্র ও কর্পোরেট দেবেন্দ্র সোয়েন এবং JUCL এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আক্রমণের লক্ষবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবাদ

প্রথম প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয় জুলাই ২০২১ এ মহালা গ্রামে। ২০২১ এর ২৪ শে জুন একটা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় তাতে বলা হয় ৫ই জুলাই ২০২১ মহালা গ্রামে চিহ্নিতকরণের কাজ হবে। সেই দিনটিতে গ্রামবাসীরা রাজস্ব দপ্তরের আধিকারীদের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এবং কাজটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।

 উপরিল্লিখিত বিতর্কিত নোটিশ ছাড়া পরবর্তী ৪ মাসে পাটানা ও মহলা গ্রামে কোন চিহ্নিতকরণের কাজ হয়না।

 ২৯শে নভেম্বর ২০২১- এ পাটানায় আবার একটি নোটিশ সেঁটে জানানো হয় চিহ্নিতকরণের কাজ ৩০শে নভেম্বর ২০২১ এ করা হবে। একইভাবে ৩০শে নভেম্বর ২০২১ এ মহালাতেও একটি নোটিশ সেঁটে জানানো হয় ১লা ডিসেম্বর,২০২১ এ চিহ্নিতকরণের কাজ হবে। জুলাই মাসে চিহ্নিতকরণে ৭ দিনের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এবার তা কেবলমাত্র একদিনের।

      এই স্বল্পকালীন নোটিশ সত্বেও যখন রাজস্ব বিভাগের কর্তাব্যাক্তিরা ১৪ প্ল‍্যাটুন পুলিশ নিয়ে পাটানাতে ৩০শে নভেম্বর ২০২১ এ পৌঁছায় তখন গ্রামবাসীরা স্থানীয় মন্দিরের পাশে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে। গ্রামবাসীদের দাবি সশস্ত্র পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছিলো গ্রামবাসীদের ভয় দেখানোর জন্য।

      ২১শে ডিসেম্বর ২০২১এ পঞ্চানন্দ দাসের নেতৃত্বে রাজস্ব বিভাগের আধিকারিকরা  মহালা গ্রামে চিহ্নিতকরণের উদ্দেশ্যে পৌঁছেছিল। তাদের সাথে ছিল এক বিশাল পুলিশবাহিনী। কিন্তু সাধারণ গ্রামবাসীরা এক মানব শৃঙ্খল রচনা করে তাদের অগ্রগতি  রুখে দিয়েছিল।প্রায় ৩০০ জনের মতো সাধারণ মানুষ যার অধিকাংশই মহিলা এবং শিশু দাবি করেছিল যে পুলিশ বাহিনী ফিরে যাক। কিন্তু মিস্টার দাস ও সরকারি আধিকারিকরা এই দাবি মানতে চায়নি।এবং প্রায় ৫ ঘন্টা ধরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে চিহ্নিতকরণের কাজ বাতিল হয়।রাজস্ব আধিকারিক এবং পুলিশ অফিসাররা ফিরে যায়।

 চিহ্নিতকরণের জায়গায় প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হওয়ার সাথে সাথে খোলা জায়গায় সমুদ্রের কাছে ধিনকিয়ার পাশে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার মহিলা, শিশু,বাচ্চা এতে অংশ নেয়।মূল রাস্তাগুলি দিয়ে বিশাল মিছিল বেরোয়। সেখানে সরকারি অত্যাচারের বিরুদ্ধে সমস্বরে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়। এবং গ্রামবাসীরা জানায় তারা জমি ত্যাগ করবে না।

প্রতিবাদীদের উপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন

পাটানা ও মহালাতে চিহ্নিতকরণের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর পুলিশ ও সরকার JUCL এর প্রোজেক্টের বিরোধীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন নামিয়ে আনে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামবাসী এবং অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের FIR দায়ের করা হয়। যা সবকটিই সাজানো। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গ্রামবাসীদের সাথে কথা বার্তার পর জানতে পারে অনেকে যারা জীবিকা সূত্রে সেদিন বাইরে ছিল তাদের নামও FIR এ আছে।সত্তরোর্ধ মানুষ এবং যারা দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল তাদের নামও FIR এ আছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী পুলিশ ভোটার লিস্ট ব্যবহার করে গ্রামবাসীদের বিভিন্ন কেসে জড়ানোর চেষ্টা করেছে।বিশেষত দেবেন্দ্র সোয়েনের সাথীদের টার্গেট  করা হচ্ছে। তার সমস্ত আত্মীয় পরিজন এমনকি দুর সম্পর্কের হলেও আজ তারা পুলিশের লক্ষ্যবস্তু। মিথ্যে বানানো FIR আজ পুলিশের প্রধান অস্ত্র । পস্কোর বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রথম থেকে প্রায় ৪০০ FIR দায়ের করা হয়েছে।কিন্তু আজ অবধি একজনের বিরুদ্ধেও দোষ প্রমাণিত হয়নি।এর থেকেই  অভয়চাঁদপুর পুলিশ স্টেশনের কার্যক্রম আন্দাজ করা যেতে পারে।

   গত এক বছরে ধিনকিয়া পঞ্চায়েতের অধিবাসীরা যারা JUCL প্রোজেক্টের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের বিরুদ্ধে লাগু হওয়া ১০টা FIR পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ৬টাই ১লা ডিসেম্বরের চিহ্নিতকরণের কাজ ব্যর্থ হওয়ার পর দায়ের করা হয়েছে। তাছাড়াও যখন গ্রামবাসীরা জনশুনানিতে স্টিল কমপ্লেক্সের অন্তর্গত পাওয়ার প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে এবং সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, তখনও তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।

FIR no 123/2024

১লা ডিসেম্বর ২০২১ এ রাত ৮টার সময় অভয়চাঁদপুর পুলিশ স্টেশনে ৩৪ জন মানবাধিকার কর্মী যার মধ্যে বিবেকানন্দ শাহু এবং মুরলীধর সোয়েনও আছেন এবং ৩০০ জন নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধেও FIR দায়ের করা হয়।অভিযোগকারী হল এরসামার তহশিলদার চৌধুরী প্রজনন দাস। তার অভিযোগ অনুযায়ী প্রায় ২০০ মহিলা ও ১০০ জন পুরুষ মুরলিধর সাহু ও দেবেন্দ্র সোয়েনের নেতৃত্বে ৩০শে নভেম্বর ২০২১ এ মহালাতে রাজস্ব অধিকার এর কাছে বাধা দেয়।অভিযুক্তদের ভারতীয় দণ্ডবিধির 143(unlawful asembly), 341(wrongful restraint), 284(obscence acts and songs), 506(criminal intimidation), 353(assault or use of criminal force public servant), 186(voluntarily * any public servant in the discharge of his public function), 149(common intent) সাব ইন্সপেক্টর কে. সিএইচ নায়েক এই মামলার তদন্তকারী অফিসার।

  অভিযুক্ত HRD দের মতে চার্জগুলি বানানো এবং পুলিশ চার্জগুলি দিয়েছে যেহেতু তারা একদিন আগে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছে। “ওই দিনটিতে আমরা একটা খোলা জায়গায় যা সাইটের খুব কাছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলাম। রাজস্ব আধিকারিকরা চিহ্নিতকরণের কাজ চালাচ্ছিল। এবং এক বিশাল পুলিশবাহিনী আমাদের ঘিরে ছিলো। আধিকারিক দের সাথে কোন বাক-বিতণ্ডা হয়নি। কিন্তু আমরা যারা প্রতিবাদীদের জল, বিস্কুট দিচ্ছিলাম তাদের নামই FIR এ আছে। এবং তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে”-

মুরলীধর সাহুর বক্তব্য অভিযুক্তদের ভারতীয় দণ্ডবিধির 143(unlawful asembly), 341(wrongful restraint), 284(obscence acts and songs), 506(criminal intimidation), 353(assault or use of criminal force public servant), 186(voluntarily obstructing any public servant in the discharge of his public function), 149(common intent) সাব ইন্সপেক্টর কে. সিএইচ নায়েক এই মামলার তদন্তকারী অফিসার।

  অভিযুক্ত HRD দের মতে চার্জগুলি বানানো এবং পুলিশ চার্জগুলি দিয়েছে যেহেতু তারা একদিন আগে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছে। “ওই দিনটিতে আমরা একটা খোলা জায়গায় যা সাইটের খুব কাছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলাম। রাজস্ব আধিকারিকরা চিহ্নিতকরণের কাজ চালাচ্ছিল। এবং এক বিশাল পুলিশবাহিনী আমাদের ঘিরে ছিলো। আধিকারিক দের সাথে কোন বাক-বিতণ্ডা হয়নি। কিন্তু আমরা যারা প্রতিবাদীদের জল, বিস্কুট দিচ্ছিলাম তাদের নামই FIR এ আছে। এবং তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে”-এটি হল মুরলীধর সাহুর বক্তব্য।

      FIR no. 124/2021

  ২০২১ এর ২রা ডিসেম্বর রাত ৭টার সময় একটা FIR(124/2021) অভয়চাঁদপুর পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন রাজু কাতিকিয়া এবং অন্য ৫-৭ জন যাদের নাম জানা যায়নি। অভিযোগকারী মিঃ সুরেন্দ্র জেনার মতে যখন সে এবং অন্যরা প্রশাসনিক কর্তাদের চিহ্নিতকরণের কাজে সহায়তা করছিল তখন রাজু কাতিকিয়া এবং অন্যরা বলে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাজে সহায়তা না করতে। না হলে তারা তার সুপারি বন পরিবার নষ্ট করে দেবে।জেনার মতে, ২রা ডিসেম্বর সকালে তিনি দেখেন তার সুপারি বন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির 294(obscene acts and songs), 506(criminal intimidation), 427(mischief causing damage up to Rs.50 or upwards), 379(theft), 34(common intent) দায়ের করা হয়েছে। সাব ইন্সপেক্টর আশুতোষ হোতা এই মামলার তদন্তকারী অফিসার।মিঃ রাজু কাতিকিয়া এবং অন্যদের মতে অভিযোগগুলি সব সাজানো। তিনি বলেন, “এটা সত্যি যে আমরা মহলা এবং পাটানা গ্রামে চিহ্নিতকরণের কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলাম। কিন্তু আমরা কাউকে হুমকিও দিইনি অথবা মিঃ সুরেন্দ্র জেনার সুপারি বাগান নষ্টও করিনি। যেহেতু মিঃ জেনা সরকার অনুগামী অথবা পুলিশের ধামাধারী হিসাবে পরিচিত, আমরা বিশ্বাস করি যে কর্তৃপক্ষ তার সাথে যোগসাজশ করে আমাদের ফাঁসিয়েছে।

FIR no s 125 -127/2021

   ডিসেম্বর ৪, ২০২১ এ ভোর ৩টে থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মিঃ দেবেন্দ্র সোয়েন, মিঃ বসন্ত গোছাইয়াত, মিঃ চুগুনা জেনা ও অন্যদের বিরুদ্ধে তিনটে FIR দায়ের করা হয়।প্রথম FIR এ(125/2021) মিঃ সোয়েন, মিঃ গোছেইত, মিঃ জেনা ও অন্য তিনজনের নাম ছিল। Section 294(obscene acts and songs), 506(criminal intimidation) Indian Penal Code এর 307 এবং 34 Explosive Substances Act এর Section 3 এবং 4 – এইগুলি তাদের উপর আরোপ করা হয়েছিল।

  এই কেসের অভিযোগকারী হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মিঃ প্রভাত কুমার রাউত। সকাল তিনটের সময় অভয়চাঁদপুর পুলিশ স্টেশনে তিনি একটা লিখিত অভিযোগ জানান। প্রায় এক ঘন্টা আগে মিঃ বসন্ত গোছাইত, মিঃ চুগনা জেনা এবং অন্যরা তার বাড়িতে বোম ছোঁড়ে এবং ধিনকিয়ার দিকে মোটর সাইকেলে পালিয়ে যায়।মিঃ রাজু কাতিকিয়া এবং অন্যদের মতে অভিযোগগুলি সব সাজানো। তিনি বলেন, “এটা সত্যি যে আমরা মহলা এবং পাটানা গ্রামে চিহ্নিতকরণের কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলাম। কিন্তু আমরা কাউকে হুমকিও দিইনি অথবা মিঃ সুরেন্দ্র জেনার সুপারি বাগান নষ্টও করিনি। যেহেতু মিঃ জেনা সরকার অনুগামী অথবা পুলিশের ধামাধারী হিসাবে পরিচিত, আমরা বিশ্বাস করি যে কর্তৃপক্ষ তার সাথে যোগসাজশ করে আমাদের ফাঁসিয়েছে।

FIR no s 125 -127/2021

   ডিসেম্বর ৪, ২০২১ এ ভোর ৩টে থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মিঃ দেবেন্দ্র সোয়েন, মিঃ বসন্ত গোছাইয়াত, মিঃ চুগুনা জেনা ও অন্যদের বিরুদ্ধে তিনটে FIR দায়ের করা হয়।প্রথম FIR এ(125/2021) মিঃ সোয়েন, মিঃ গোছেইত, মিঃ জেনা ও অন্য তিনজনের নাম ছিল। Section 294(obscene acts and songs), 506(criminal intimidation) Indian Penal Code এর 307 এবং 34 Explosive Substances Act এর Section 3 এবং 4 – এইগুলি তাদের উপর আরোপ করা হয়েছিল।

  এই কেসের অভিযোগকারী হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মিঃ প্রভাত কুমার রাউত। সকাল তিনটের সময় অভয়চাঁদপুর পুলিশ স্টেশনে তিনি একটা লিখিত অভিযোগ জানান। প্রায় এক ঘন্টা আগে মিঃ বসন্ত গোছাইত, মিঃ চুগনা জেনা এবং অন্যরা তার বাড়িতে বোম ছোঁড়ে এবং ধিনকিয়ার দিকে মোটর সাইকেলে পালিয়ে যায়।যেখানে তারা মিঃ দেবেন্দ্র সোয়েইনের বাড়িতে ঢোকে। তিনি দাবি করেন ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ যখন মহালা গ্রামে চিহ্নিতকরণের কাজ চলছিল মিঃ সোয়েন তাকে মারার হুমকি দিয়েছিলেন।

  দ্বিতীয় FIR (126/2021) এ ১৫ জন ব্যক্তির নাম আছে। যার মধ্যে আছে মিঃ সোয়েন, মিঃ গোছাইত, মিঃ জেনা ও অন্যান্য ১৫-২০ জনের নাম। অভিযুক্তদের দেওয়া হয়েছে Indian Penal Code এর section 395(dacoity)। সাব ইন্সপেক্টর মিঃ সি. আর পানি এই মামলার তদন্তকারী অফিসার।এই কেসের অভিযোগকারী আশুতোষ হোতা ভোর ৪টের সময় অভয়চাঁদপুর পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে তিনি জানান যখন তিনি ও অন্যান্য পুলিশকর্মীরা গোবিন্দপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন FIR 125/2021 এর তদন্ত করতে তখন মিঃ সোয়েন ও অন্যান্য ২০-২৫ জন সমাজবিরোধী তাদের রাস্তা আটকায় এবং গালিগালাজ করে। এবং জোর করে মিঃ হোতার সার্ভিস রিভলবার(Butt no. js – 37) কেড়ে নেওয়া হয়। এবং তাদের বাধ্য করে পিছু হটতে।তৃতীয় FIR (127/2021) টি ৬০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন মিঃ সোয়েন, মিঃ গোছাইত, মিঃ জেনা ও ১০০ জন নামহীন লোক।Sections – 147, 148, 341, 333, 353, 307, 427, 294, 379, 186, 149, 332, 506 – IPC এর ধারাগুলি এবং Prevention of damage to public property act – এর Sections 3 and 4 criminal law amendment act এর Section – 7 আরোপ করা হয়েছিল।

   অভিযোগকারী ছিলেন মিঃ প্রদুন্ম বেহেরা। অভয় চাঁদপুর পুলিশ স্টেশনে সকাল ৭টার সময় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানানো হয় মিঃ বেহেরা ও অন্য পুলিশ আধিকারিকরা যখন সকাল ৪:৩০টের সময় মিঃ সোয়েনের বাসস্থানে পৌঁছান মিঃ হোতার সার্ভিস রিভলভার উদ্ধারের জন্য তখন প্রায় ১০০ জন গ্রামবাসী যারা ওত পেতে ছিল তার আক্রমণ করে। তারা পাথর ছোঁড়ে, গালাগালি দেয়। প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এর ফলে পুলিশ বাহিনী পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

  ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম এই FIR নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালায়। এবং প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় এই সবকটিই সাজানো।এটা লক্ষণীয় বিষয়, ঘটনার কিছু আগেই সাইক্লোন জাওডাদ আছড়ে পরে। এবং পরদিন বিকেল অবধি জেলা জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছিল। সাইক্লোনের আগে সরকার অ্যালার্ট জারি করেছিল এবং ধিনকিয়া ও পার্শ্ববর্তী নিচু এলাকা থেকে লোকজনদের সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল নিরাপদ জায়গায়।

   সাইক্লোনের আগের প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া এবং ২টো থেকে ৪:৩০ এর মধ্যে “ঘটনাবলী যদি লক্ষ্য করা যায় মিঃ গোছাইত, জেনা ও অন্যরা গোবিন্দপুর গ্রামে বোমা ছোড়ে, মিঃ রাউতের থানায় অভিযোগ মিঃ সোয়েন ও অন্যদের পুলিশকে কাজে বাধা, সার্ভিস রিভলবার চুরি করা, ধিনকিয়া গ্রামে পুলিশ আসার সাথে সাথে গ্রামবাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়া উপন্যাসকেও হার মানাবে এইসব।আসলে FIR গুলো দায়ের করা হয়েছিল ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ ভোরবেলায়। প্রতিকূল আবহাওয়ার অন্তরালে পুলিশের বেআইনি রেড ও সম্পত্তি, ঘরবাড়ি ধ্বংস করার জন্য।

  অভয়চাঁদপুর পুলিশ স্টেশন এবং গোবিন্দপুর গ্রাম যেখানে বোমা ছোড়া হয়েছিল প্রায় ১০ কিমি। অন্যদিকে পুলিশ স্টেশন থেকে ধিনকিয়ার দূরত্ব ৫ কিমি। পারাদ্বীপ থানার পুলিশও উপস্থিত ছিল। সাধারনত এই থানা ও গ্রামগুলিতে যাতায়াত করতে দেড় থেকে দুই ঘন্টা লাগে। সুতরাং এটা কার্যত অসম্ভব যে এক বৃষ্টিভেজা ঝোড়ো রাতে পুলিশ তিনবার ৩ ঘন্টায় এই দূরত্ব অতিক্রম করবে।

     ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ এর ঘটনাবলী হাড় হিম করা। পুলিশটা সমস্ত রকম চেষ্টা চালাচ্ছিল দেবেন্দ্র সোয়েনকে ফাঁসাতে। সোয়েন এবং পুলিশি অত্যাচারের শিকার গ্রামবাসীদের মতে ভোর ৩টের সময় একদল পুলিশ পারাদ্বীপের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ মিঃ নিমাইচরণ শেঠির নেতৃত্বে ১০টা গাড়ি নিয়ে মিঃ সোয়েনের বাড়ি তাকে গ্রেপ্তার করতে পৌঁছয়। তার সাথে ছিল সাব ইন্সপেক্টর মিঃ আশুতোষ হোতা, মিঃ চিন্ময় পানি ও ৪ প্ল‍্যাটুন সশস্ত্র পুলিশ।যখন তার মা দরজায় ধাক্কার সাড়া দেন এবং জোর করে পুলিশ ঢোকার প্রতিবাদ করেন তখন মিঃ আশুতোষ হোতা কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করেন। এবং সোয়েনের বাড়িতে দরজা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজার উপর অবিশ্রান্ত রাইফেলের বাঁট ও লাঠি আওয়াজ পড়তে থাকে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পুলিশ প্রতিবাদকারী গ্রামবাসীদের উপর লাঠিচার্জ করছে ও তাড়া করছে।

     মিসেস শান্তি দাস একজন বয়স্ক মহিলা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মী তার ডান হাতের আঘাতে ফোলা জায়গার দিকে নির্দেশ করে বলেন” যখন আমরা দেবেন্দ্রর বাড়িতে গন্ডগোলের আওয়াজ পাই তখন আমরা সেখানে ছুটে যাই এবং চিৎকার চেঁচামেচি করি।কারণ আমরা বুঝতে পারি পুলিশ দেবেন্দ্রকে গ্রেপ্তার করতে চাইছে।আমাদের তাড়াতে পুলিশ ব্যাটন চার্জ করে।এবং তাতে অনেকে আহত হয়।আমার চুড়ি ভেঙে যায়।যার ফলে ডান হাতে আঘাত লাগে।তখনো একটা টুকরো বিঁধে আছে।”মিঃ দাস ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মতে, যখন এক বিশাল সংখ্যক গ্রামবাসী প্রবল বৃষ্টি সত্বেও ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় এবং পুলিশি অত্যাচার এর বিরোধিতা করে, তখন পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল থেকে সরকারি গাড়ি করে চলে যায়। অসংখ্য গ্রামবাসী যারা পুলিশির অত্যাচারে সাক্ষী তারা নিজেদের দেহেও আঘাতের চিহ্ন বহন করছে।

     ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ এর পর ভোরবেলায় মিঃ সোয়েনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, ধিনকিয়াতে বোকার সমস্ত রাস্তার মুখে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছিল যাতে, স্থানীয় মানুষদের চলাফেরা নজরদারি করা যেতে পারে।ধিনকিয়ার এক বাসিন্দা অজয় কুমার দাস জানিয়েছেন, ” প্রত্যেক পিকেটে ১০-১২ জন পুলিশকর্মী সব সময় দাঁড়িয়ে থাকত। তারা আমাদের আধার কার্ড দেখতে চাইতো এবং না থাকলে যেতে দিত না। এমনকি আধার কার্ড থাকলেও কোনো না কোনো অজুহাতে হেনস্তা করত। আমরা নিজের গ্রামেই স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতে পারছি না। এমন কি কাজের জন্য বাইরেও যেতে পারছি না, যা আমাদের জীবন-জীবিকায় আঘাত ফেলছে”। অন্যান্য গ্রামবাসীরাও এই বক্তব্যকে সমর্থন করেন।

     ২০শে ডিসেম্বর, ২০২১ এ যখন নতুন করে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয় তখন গ্রামবাসীরা তা সোচ্চারে প্রতিবাদ করেন। এর পরেই অন্য দিক থেকে পুলিশ সাতটা জিপে করে হাজির হয়। এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদরত গ্রামবাসীদের উপর বর্বর অত্যাচার নামিয়ে আনে।তারা আবার দেবেন্দ্র সোয়েনকে ধরার চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়। কিন্তু তার কাকা অযোধ্যা সোয়েন এবং বড় মেয়ে মিলি সোয়েনকে ধরে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছে যখন পুলিশ দেবেন্দ্র সোয়েনের বাড়ি গিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় তখন তার কাকা এবং বোনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু জানায়না কোথায় তাদের নিয়ে যাচ্ছে এবং কেন। অযোধ্যা সোয়েন একজন ৭১ বছর বয়সী প্যারালাইসিস রুগি এবং এবং মিলি সোয়েনের বয়স ২২ বছর। পুলিশ ফলস কেস দিয়েছে তাদের।ধারাগুলি হলো IPC এর 147(rioting), 149(unlawful asembly), 294(use of obscene language), 427(mischief causing damage), 506(criminal intimidation)

মিঃ দেবেন্দ্র সোয়েনকে টার্গেট

দেবেন্দ্র সোয়েন যেহেতু আন্দোলনের নেতা তাই তার বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা ছাড়াও তাকে বিভিন্ন প্রতিশোধাত্মক আচরণের সম্মুখীন হতে হয়।তিনি ধিনকিয়া পঞ্চায়েত সমিতিতে ২০১৭ সালে নির্বাচিত হন।মিঃ সোয়েন নতুন রাজস্ব গ্রাম তৈরির বিরোধিতা করেন।এবং জুলাই মাসের ২১ তারিখ থেকে পাটানা ও মহালা অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেন। চিহ্নিতকরণের কাজে পর্যাপ্ত নোটিশ দেওয়া হয়নি– এই বিষয়েও তিনি প্রতিবাদ করেন।যেহেতু তিনি যথোপযুক্ত পদ্ধতি অবলম্বনের কথা বলেছিলেন, তাই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ এ উড়িষ্যা সরকারের পঞ্চায়েত দপ্তর তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ দায়ের করে(NO.PR – PADM – ESTT – 0025  – 2021)।নোটিশে বলা হয়, ” জগৎসিংপুরের কালেক্টরের রিপোর্ট থেকে বোঝা যায় ‘মিঃ সোয়েন’ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার”।অ্যানেক্সচারে বর্ণিত চার্জগুলো হল —

   ১. পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হওয়া সত্বেও সরকারি গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া, মিটিংয়ে উপস্থিত সরকারি আধিকারিককে গালিগালাজ করা।

 ২. সরকারি আধিকারিককে বোম ব্লাস্টের মাধ্যমে মারার হুমকি।এটা বেশ বোঝা যাচ্ছে তার এবং অন্যদের বাজে ব্যবহার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 ৩. সরকারি আধিকারিকরা উপরোক্ত অভিযোগে FIR দায়ের করেন। তিনটি কেসে চার্জশিট দেওয়া ছাড়াও অন্য কেস sub-judice অবস্থায় আছে।

 ৪. PRI এর মাধ্যমে যেসব উন্নয়নমূলক কাজেও সে বাধা দেয়। জনগণ এর ফলে সুযোগ সুবিধা থাকে বঞ্চিত হচ্ছে।শোকজ নোটিসে মিঃ সোয়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয় কেন আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? আরও বলা হয় সে যদি চায় তাহলে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে শোকজের উত্তর দিতে পারবে।মিঃ সোয়েন জানান এই শোকজ নোটিশের পর অক্টোবর মাসে ২০২১, তাকে পঞ্চায়েত সমিতির অফিস থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।শোকজ নোটিসে মিঃ সোয়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয় কেন আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? আরও বলা হয় সে যদি চায় তাহলে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে শোকজের উত্তর দিতে পারবে।মিঃ সোয়েন জানান এই শোকজ নোটিশের পর অক্টোবর মাসে ২০২১, তাকে পঞ্চায়েত সমিতির অফিস থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

  সরকারি তরফ থেকে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুবই শোচনীয় বার্তা বহন করে আনে।কারণ পঞ্চায়েত সমিতির কার্য্যভার আর দু-তিন মাসেই শেষ হয়ে যাচ্ছিল।এবং ২০২২ এর প্রথমেই ওড়িশায় পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।আঞ্চলিক প্রশাসনের দ্বারা একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিদায় এক অশুভ সম্ভাবনার দিকনির্দেশক।

আমাদের প্রস্তাব

 রাজস্ব গ্রাম তৈরি, জমি চিহ্নিতকরণের জন্য গ্রামসভার পর্যাপ্ত চিন্তাভাবনা, আলোচনার সময় দেওয়া উচিত।প্রশাসনের গ্রামসভার অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। JUCL এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উপর থেকে সমস্ত কেস প্রত্যাহার করতে হবে।

* অবিলম্বে সমস্ত সিকিউরিটি ফোর্স প্রত্যাহার করতে হবে।কোনোমতেই সন্ত্রাসের পরিবেশ কায়েম করা চলবে না।শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনা চালাতে হবে।

* জাতীয় এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকে ধিনকিয়া অঞ্চলে চলা পুলিশি সন্ত্রাসের তদন্ত করতে হবে।ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।দোষী পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের শাস্তি দিতে হবে।

* জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কোর গ্রুপ Business Environment and Human Rights এবং NGOs and Human Rights Defenders যৌথভাবে JUCL এর প্রজেক্ট সংক্রান্ত অনুসন্ধানের কাজ করবে।সঠিকভাবে আইনি পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে কিনা দেখবে।জগৎসিংপুর ও ধিনকিয়াতে  পুলিশি সন্ত্রাসের তদন্ত করবে। * ধিনকিয়া ও জগৎসিংপুরে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকার তদন্তের জন্য সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমন- মানবাধিকার, আইন, বনাধিকার, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স থেকে লোক নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।JUCL এর প্রোজেক্টের জন্য আইনে বর্ণিত পদ্ধতি যথাযথ ভাবে মেনে চলা হয়েছে কিনা দেখতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.