• December 4, 2022

হাকিম আজমল খান : ইতিহাসের এক ভুলে যাওয়া নাম

 হাকিম আজমল খান : ইতিহাসের এক ভুলে যাওয়া নাম

সৈয়দ নকীব মাহমুদ

আমরা মোটামুটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাইট উপাধি ফেরত দেয়ার গল্প সবাই জানি। কিন্তু ইনার সম্বন্ধে আমরা কয়জন জানি ?

হাকিম আজমল খান ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং দিল্লির একজন প্রভাবশালী বাসিন্দা। তাঁরা বহু প্রজন্ম ধরে মুঘল শাহীর চিকিৎসক ছিলেন। তার ঠাকুরদা শরিফ খান দ্বিতীয় শাহআলমের চিকিৎসক ছিলেন। তিনি শরিফ মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা। এখানে চিকিৎসা করা হত এবং ইউনানি চিকিৎসাবিদ্যার শিক্ষাও দেওয়া হত। তিনি 1863 সালে আব্দুল মজিদ খানের ঐরসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিল্লির করোলবাগে অবস্থিত আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি টিবিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ও একজন প্রতিষ্ঠাকারী ছিলেন। তার পত্রিকা ‘আখমাল-ই-আকবর’ ব্রিটিশ বিরোধী বহু কার্যক্রমে অংশীদার ছিল।

আজমল খান জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও খেলাফত আন্দোলনে তার সম্পৃক্ততা ছিল সর্বাত্মক। যদিও চিকিত্সক হিসাবে তাঁর পরিষেবাগুলি 1908 সালের প্রথম দিকে ব্রিটিশ সরকার দ্বারা স্বীকৃত হয়েছিল, আজমল খান জালিয়ানওয়ালাবাগ, অমৃতসরের গণহত্যা (13 এপ্রিল, 1919) এবং নির্বিচারে গুলি চালানোর পরে সরকারকে তাঁর খেতাব (হাফিজ উল মুলক) এবং স্বর্ণপদক উভয়ই ফিরিয়ে দেন।

তিনি একমাত্র মুসলিম যিনি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয়ের সভাপতি ছিলেন এবং 1927 সালে মারা যাওয়া পর্যন্ত কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন।

সৈয়দ নকীব মাহমুদ : ইতিহাস বিষয়ক প্রাবন্ধিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.