• December 9, 2021

মাৎস্যন্যায়

অংশুক

উদোম পাহাড়ের গায়ে গায়ে খনির নীলচে হাঁ মুখ।আফ্রিকান প্রবাদেরা বহুদূর থেকে তাদের জন্য রক্ষাকবচ গড়ে রেখেছে।

আকাসিয়া গাছের গন্ধ জংলী সারাৎসার নিয়ে ছুটে আসে।

বুজে আসে অমোঘ হাঁ।মাটির গহীনে অদম্য খোঁড়াখুঁড়ি রহস্যের মতো ঘুমিয়ে।বিষাক্ত লতা উঠে আসে সেখান থেকেই।

সান বাথের অভিজাততন্ত্র যেন কুমীরের রোদপোহানো আর আড়ালে শিকার হবার অপেক্ষায় কোটি কোটি ঘেমো শরীর!
সমুদ্রের নোনা ছিটেতে খেরোর খাতায় লবণকল খোলার আশ্বাস;ছোট্ট ক্ষত গ্যাংগ্রিনের পথে…
বোধের বোঁচকা তখন ছোট্ট ছোট্ট ডোঙায় দূরান্তে ভেসে যায়—
মাছেদের ফাঁদ হবার জন্য।

খাবার ছুঁলে নাকি পেট?

নিদারুণ দক্ষিণ দরজায় মহান জোয়ার।বাঁদিক ঘেঁষে পেরিয়ে যায় বিষণ্ণ নালা।নির্ধারিত ম্যানহোলের ওপর বিস্ফোরণের দাগ এঁকে রেখেছে সিনেম্যাটিক আবেশ।
নিরন্ন সন্ধ্যায় বৃষ্টির ছিটেফোঁটা।শার্সির গায়ে অনঙ্গ আস্তরণ।আঙুলের ওপর আঙুল চলে;জলকাটা পথ।

মনস্তত্ত্বে পদাধিকারের ওম লেপ্টে থাকে।
ইত্যবসরে রাতের খাবারের রুটিন পেট চাপড়ে দিয়ে যায়।তরকারির হলদে রঙ তখন ল্যাম্পপোস্টের সাথে মিশে ভিজতে থাকে—রোমান্টিক আকুলতা।

  কোনো অদূর হুইসেল  হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে।একমাত্র তাড়না ও জেগে থাকার নাকি ঘুমাবার...

সাংকেতিক সন্দেহ।

ফলাহার

আবেগের প্রত্যাখান ডুবে যায় প্রথাগত ঘুমে।অপরাধ প্রবণ এলাকাতেই তাঁবু ফেলে হতাশ প্রকাশভঙ্গিমা।বন্ধ দরজার সামনে আদম আর ঈভ আপেলের অপেক্ষা করে।উন্মুক্ত পৃথিবীর উন্মুক্ত নর নারী কেতাবি গন্ধে বুঁদ হয়ে শুয়ে থাকে।অবিন্যস্ত পুস্তিকা হাতে হাতে নগ্নতা বিলোয় তবুও ন্যাংটো হওয়াটাই দোষের।
ইমারতের লালসা।কারশেডের কর্মব্যস্ততা।নির্জর শিশু উদ্যান।চুল্লীর উড়ন্ত প্রকরণ।শ্মশানচেরা মহৎ চিৎকার।গ্রাম,শহর ও মফঃস্বলের অবাক জলপান!
গাথার গহন থেকে কোথায় যেন চলে গেল মানব মানবী ঠিক ঠাহর করা যায় নাই। আপেলের নির্যাস জড়িয়ে সন্ন্যাসী সাপ,প্রাণ থাকতে তা কাউকে ছুঁতে দেবে না সে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post