• December 4, 2021

বিদ্যাসাগর-দিনময়ী কথা

 বিদ্যাসাগর-দিনময়ী কথা

অশোক চট্টোপাধ্যায়(বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক) :- বিদ্যাসাগরের মাতৃভক্তি নিয়ে অনেক গল্প চালু আছে। এই গল্পরচনার সময় অনেক সময়ই গল্পের গোরু অবলীলায় গাছে উঠে গিয়েছে! কিন্তু এসব সত্ত্বেও তাঁর মাতৃভক্তি ছিল প্রশ্নাতীত। মাকে তিনি দেবতার মতোই জ্ঞান করতেন, পিতৃদেবকেও। বিদ্যাসাগরের মাতৃদেবীও পুত্র ঈশ্বরচন্দ্রকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। বাধ্য পুত্রের অনুশীলিত আচরণে তিনি গর্বিতা ছিলেন, বলাই বাহুল্য। মায়ের প্রাথমিক আপত্তি অগ্রাহ্য করেও তিনি বেশ কয়েকবার তাঁর মাকে রাজি করিয়েছিলেন তাঁর ছবি আঁকার জন্যে সাহেবের কাছে নিয়ে যেতে। পুত্র ঈশ্বরের অদম্য ইচ্ছার কাছে অবশ্য মা ভগবতী দেবী নমনীয় হয়ে পুত্রের ইচ্ছা পূর্ণ করেছিলেন।

বিদ্যাসাগর নারীজাতিকে মায়ের জাত হিসেবে গণ্য করতেন। এতে তাঁর মহত্বই প্রকাশ পায়, সন্দেহ নেই। কিন্তু মায়ের জাত তাঁর স্ত্রীর প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি প্রশ্নাতীত নয়। মাত্র আট বছর বয়সি কন্যা দিনময়ীকে তিনি বিয়ে করেছিলেন যখন তাঁর নিজের বয়স ছিল চোদ্দ বছর। তখন তিনি ছাত্র। বিয়ে করেছিলেন তাঁর পিতার ইচ্ছার বশবর্তী হয়েই! বিয়ের পরই তিনি স্ত্রীকে বীরসিংহের বাড়িতে রেখে কলকাতায় চলে যান তাঁর পড়াশুনার জন্যেই। বাস্তবিক তিনি তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে উদাসীনই ছিলেন। মাঝমধ্যে গ্রামের বাড়িতে যেতেন বটে, তবে স্ত্রীর সঙ্গে কথাবার্তা হতো না বললেই চলে! স্ত্রী স্বামীর খ্যাতির কথা শুনতেন, তাঁর কীর্তিকলাপে গর্বিতা হতেন, তবে স্বামীকে কাছে পেতেন কদাচিৎ। বিদ্যাসাগর বাড়ি এলে নিজের ব্যক্তিগত কাজেই ব্যস্ত থাকতেন, লেখালেখিতে নিজেকে ব্যাপৃত রাখতেন। স্ত্রী দিনময়ী দেখতেন আর তাঁর চোখের সামনেই স্বামীসঙ্গলাভের সুখ কর্পূরের মতো উবে যেতো। বিদ্যাসাগর কি তাঁর স্ত্রীর এই যন্ত্রণা উপলব্ধি করতেন?

একবার গ্রামের বাড়িতে এসে তিনি তাঁর প্রতিবেশী বন্ধু নিবারণের অসুস্থতাজনিত মৃত্যুর কথা শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর স্ত্রীকে বলেছিলেন যে বেচারীর ছেলেমানুষ বৌ, কী যে হবে তাঁর! নিজের স্ত্রীর সামনে বন্ধুর ছেলেমানুষ বৌয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তিনি বেমালুম বিস্মৃত হয়েছিলেন যে তাঁর নিজের স্ত্রী দিনময়ীও ছেলেমানুষ! তিনিও তো তাঁর স্বামীসঙ্গ থেকে বঞ্চিত! তিনি বন্ধুর মৃত্যুসংবাদ শুনে সেই রাত্রেই বন্ধুর শবানুগমনে চলে গিয়েছিলেন। আর তাঁর ঘরে তাঁর বঞ্চিতা স্ত্রী মুখ বুজে এই যন্ত্রণা হজম করে সংসারের কাজ করে যেতেন। আর একবার বিদ্যাসাগর গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। তাঁর স্ত্রী তাঁর যত্নের কোনরকম ত্রুটি রাখতেন না। বিদ্যাসাগর পান খেতেন। দিনময়ী নিজ হাতে পান সেজে বিদ্যাসাগরকে দেন। বিদ্যাসাগর পান খেতে খেতে খাতাকলম নিয়ে লিখতে বসে গেলেন। হতাশ দিনময়ী তাঁকে শান্তভাবে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কী লিখছেন? বিদ্যাসাগর বলেন, তিনি লিখছেন সীতার বনবাস। আর তখনই সক্ষোভে দিনময়ী বিদ্যাসাগরকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সীতার দুঃখ বোঝো তুমি?’ অত্যন্ত সংসবেদনশীল বিদ্যাসাগর কি স্ত্রীর কথার মর্ম বোঝেন নি?

বিদ্যাসাগর স্ত্রীশিক্ষার ব্যাপারে উদ্যোগী হলেও ঘরে তাঁর নিজের স্ত্রীর শিক্ষার ব্যাপারে কোনদিন উৎসাহী হননি। তাঁর স্ত্রী দিনময়ীর লেখাপড়া শেখার খুবই আগ্রহ ছিল। বিদ্যাসাগর বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় স্থাপন করছেন শুনে তিনি আক্ষেপ করেছেন তিনি যদি লেখাপড়া শিখতে পারতেন! বিবাহের দীর্ঘকাল পর দিনময়ী মা হন, জননী হন পুত্র নারায়ণের। এর আগে তাঁকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে সন্তানের জননী না-হতে পারার জন্যে! সেই অপমান দিনময়ী নীরবে হজম করেছেন, কোনদিন তাঁর স্বামীকে অভিযুক্ত করেন নি। পুত্র নারায়ণের প্রতি জননী দিনময়ীর স্নেহের আধিক্য তাঁকে কুপথে ঠেলে দিয়েছে এই অভিযোগ ছিল বিদ্যাসাগরের। আর প্রশ্নেই স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নৈকট্য দানা বাঁধেনি। এমনকি পুত্র নারায়ণের বিয়ের ব্যাপারে দিনময়ীর আপত্তি বিদ্যাসাগর অগ্রাহ্য করেছিলেন, এমনকি স্ত্রী দিনময়ীর অনুপস্থিতিতেই তাঁর কলকাতার বাড়িতে পুত্র নারায়ণচন্দ্রের বিয়ে দিয়েছিলেন ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের ১১ অগাস্ট! (পুত্র নারায়ণের জন্ম হয় ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে। তখন বিদ্যাসাগরের বয়স উনতিরিশ, আর দিনময়ীর তেইশ। বিদ্যাসাগর-দিনময়ীর বিয়ে হয় ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে। আর এই নারায়ণের বিয়ে হয় তাঁর একুশ বছর বয়সে)। নিজে ছিলেন বিধবাবিবাহের উদ্যোগ পুরুষ, ফলে পুত্র বিধবা ভবসুন্দরীকে বিয়ে করতে চাওয়ায় বিদ্যাসাগর এই বিয়ে দেওয়ার মধ্যে নিজের সাফল্যকে বড়ো করে দেখেছিলেন স্ত্রী আপত্তি অগ্রাহ্য করেই! সম্ভবত এইসব কারণেই দিনময়ী বিদ্যাসাগরকে ঘর জ্বালানে পর ভোলানে বলে আখ্যা দিয়েছিলেন (একথা জানিয়েছেন বিদ্যাসাগরের নাতনি সরযুবালা দেবী)।

স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত লিখেছেন যে মা ভগবতী দেবীর পাশাপাশি পত্নী দিনময়ী দেবীর প্রভাবও সমান কার্যকরী ছিল বিদ্যসাগরের জীবনে, অথচ বিদ্যাসাগরের জীবনালোচনায় একান্তই উপেক্ষিত থেকেছেন দিনময়ী দেবী। তাঁর ত্যাগ, ঔদার্য এবং সর্বোপরি সহনশীলতার নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ বিদ্যাসাগরকে মহিমান্বিত করেছে, অথচ এই মহিমময়ী স্ত্রী কোনদিন আলোচনার আলোকক্ষেত্রে প্রবেশের ছাড়পত্র পাননি! বিদ্যাসাগরের বন্ধু গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্নও মাত্র এগারো বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তিনি আজীবন যথোচিত গুরুত্ব দিয়েছিলেন তাঁর বিবাহিত স্ত্রীকে। তাঁর স্ত্রীও শাশুড়ির গঞ্জনা সহ্য করেও স্বামীর আগমনের আশায় উন্মুখ হয়ে বসে থাকতেন। বন্ধুর এই দৃষ্টান্ত থেকে কোন শিক্ষাই নেননি বিদ্যাসাগর।

কল্যাণী দত্ত তাঁর গত দিনের যত কথা গ্রন্থে জানিয়েছেন : বিদ্যাসাগরের মাতা ভগবতী দেবীর সংসারে পুত্রবধূ দিনময়ী দেবীর বাস্তবিক কোনও স্বাধীন সত্তা ছিল না।—

রান্না আর ভাঁড়ার, যেখানে মেয়েদের জীবন কেটে যেত বলা চলে সেখানে তিনি (দিনময়ী) আজ্ঞাবাহী মাত্র ছিলেন। তরকারি কুটতেন, মানে আলু-পটলের খোসা ছাড়াতেন—সেগুলো ডুমো ডুমো হবে না ফালি ফালি হবে, তা ভগবতী বলে দিতেন। থোড় আর মোচা দুটোর কোনটা রান্না হবে তাও তিনি এসে নিজে স্থির করতেন। এইসব তুচ্ছ খুটিনাটি বিদ্যাসাগরের পালিতা-কন্যা শিবমোহিনীর মুখে আমরা বহুবার শুনেছি। যে বিদ্যাসাগর দেসেহে স্ত্রী-শিক্ষা বিস্তারের প্রাণপুরুষ ছিলেন তাঁর নিজের ঘরেই তো ছিল প্রদীপের নীচে অন্ধকার!

এই পরাধীনতার নিগড়াবদ্ধ জীবন দিনময়ী নীরবে মেনে নিয়েছিলেন, বিদ্যাসাগরের সামনে কোনদিন কোনরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন নি। অথচ বিদ্যাসাগর তাঁর এহেন স্ত্রীকে যথোচিত মর্যাদাদানে কার্পণ্য দেখিয়েছেন!

১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মে বিদ্যাসাগর যে উইল বা ইচ্ছাপত্র নির্মাণ করেছিলেন, তাতে দেখা গিয়েছে তিনি মাসিক অর্থ বরাদ্দ করেছেন তাঁর পিতার জন্যে পঞ্চাশ টাকা, সহোদর দুই ভাইয়ের জন্যে চল্লিশ টাকা। আর মায়ের জন্য বরাদ্দ করেছিলেন তিরিশ টাকা এবং সঙ্গে অতিরিক্ত দু’শ টাকা। অথচ তাঁর স্ত্রী দিনময়ীর জন্যে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র তিরিশ টাকা! তিনি বহির্জগতে করুণাসাগর নামে আখ্যায়িত হলেও তাঁর স্ত্রীর প্রতি তাঁর এই করুণার বিসদৃশ ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। বিস্ময়কর হলেও এসব সত্যি।

বিদ্যাসাগরের আর এক জীবনীকার জানিয়েছেন যে তাঁদের একমাত্র পুত্র নারায়ণকে কেন্দ্র করে বিদ্যাসাগর এবং দিনময়ীর মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। বিদ্যাসাগর তো একসময় তাঁর পুত্রকে বর্জন পর্যন্ত করেছিলেন। মা দিনময়ী বিদ্যাসাগরের মতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অনেক সময়ই পুত্র নারায়ণকে গোপনে অর্থসাহায্য করতেন, এবং এই অর্থসংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁকে তাঁর নিজের অলঙ্কার বিক্রি করতে হয়েছিল। এজন্যে বিদ্যাসাগর তাঁকে ‘টাকাকড়ি দেওয়া বন্ধ’ করে দিয়েছিলেন! দিনময়ী বিদ্যাসাগরের কাছে কোনও কিছু চেয়ে না পেলে অভিমানাহত হতেন, তবে বিদ্যাসাগর তাতে কখনো বিচলিতচিত্ত হতেন না!

১২৭৬ বঙ্গাব্দের ১২ অগ্রহায়ণ (১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরের শেষাশেষি নাগাদ) পত্নী দিনময়ী দেবীকে এক পত্রে বিদ্যাসাগর লিখেছিলেন :

আমার সাংসারিক সুখভোগের বাসনা পূর্ণ হইয়াছে আর আমার সে বিষয়ে অণুমাত্র স্পৃহা নাই।…এক্ষণে তোমার নিকট এ জন্মের মত বিদায় লইতেছি এবং বিনয় বাক্যে প্রার্থনা করিতেছি যদি কখন কোন দোষ বা অসন্তোষের কার্য্য করিয়া থাকি, দয়া করিয়া আমায় ক্ষমা করিবে। তোমার পুত্র উপযুক্ত হইয়াছেন, অতঃপর তিনি তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন।…

এখানে বিদ্যাসাগর জানিয়েছেন যদি তিনি কখনো দিনময়ীর কোনও অসন্তোষের কারণ কিছু করে থাকেন, তার জন্যে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। এখানে তিনি সচেতনভাবে যদি শব্দটি ব্যবহার করেছেন! তিনি এখানে নারায়ণচন্দ্রকে তাঁর বা তাঁদের পুত্র না বলে তোমার পুত্র বলে উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে সে এখন উপযুক্ত হয়েছে সুতরাং সেই তাঁদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে! অর্থাৎ এব্যাপারে বিদ্যাসাগরের আর কোনও দায় নেই! অথচ এই উপযুক্ত পুত্রের বিয়ে বিদ্যাসাগর দিয়েছেন এই চিঠি লেখার ঠিক পরের বছর কলকাতায় পুত্রের মায়ের অনুপস্থিতিতেই! আর এই বিয়ে দেওয়ার ছয় বছর পরে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্ত্রী দিনময়ীকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। অর্থাৎ বিয়ের ঠিক বিয়াল্লিশ বছর পর বিদ্যাসাগর তাঁর স্ত্রীকে কলকাতায় নিয়ে আসেন! স্ত্রীর প্রতি বিদ্যাসাগরের এই দায়িত্বশীলতা কিন্তু প্রশ্নাকীর্ণ না হয়ে পারেনা।

১২৯৫ বঙ্গাব্দের ৩০ জ্যৈষ্ঠ (১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসের মাঝামাঝি নাগাদ) বিদ্যাসাগরকে লেখা এক চিঠিতে পুত্র নারায়ণচন্দ্র জানান যে তিনি আর কোনদিন তাঁর অর্থাৎ বিদ্যাসাগরের অণুমাত্র অসন্তোষের কাজ করবেন না, একমুঠো ভাত খেয়ে তাঁর অর্থাৎ বিদ্যাসাগরের চরণসেবা করে জীবন নির্বাহ করবেন। এই চিঠি পাঠ করে বিদ্যাসাগর পুত্র নারায়ণের প্রতি কিঞ্চিৎ প্রসন্ন হয়ে তাঁকে সপরিবারে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন। আর এই ঘটনার ঠিক দুই মাসের মাথায় (অগাস্ট ১৩, ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দ) বিদ্যাসাগরের স্ত্রী দিনময়ী দেবী প্রয়াত হন। প্রয়াণের আগে তিনি তাঁদের একমাত্র পুত্রের জন্যে করুণাভিক্ষা করেছিলেন বিদ্যাসাগরের কাছে এবং বিদ্যাসাগর তাঁকে অবশ্য এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছিলেন।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর বিদ্যাসাগর মাত্র তিন বছর জীবিত ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি রীতিমতো আঘাত পেয়েছিলেন। দিনময়ীর অসুস্থতার সময় তিনি যথেষ্ট সেবা-শুশ্রূষা করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুতে মুষড়ে পড়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর মাসখানেক পর ১২৯৫ বঙ্গাব্দের ২৮ ভাদ্র (১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ) পুত্র নারায়ণচন্দ্র আরও একটা চিঠি লেখেন পিতা বিদ্যাসাগরকে। সেই চিঠিতে নারায়ণ লিখেছিলেন :

…আমাকে যেরূপে হউক চরণে আশ্রয় দিতেই হইবে। আমার নিজের আফিস ও লোকেল বোর্ড আফিস দুইটা আফিসের কার্য্য সুচারুরূপে চালাইয়া মায়ামমতাশূন্য বিদেশীয় কর্ত্তৃপক্ষগণের মনে সন্তোষ জন্মাইতে পারিতেছি, আর দয়াময় পিতৃদেবের সন্তোষ জন্মাইতে পারিব না? নিষ্কর্ম্মা থাকিতে আমার আর সাহস হয় না। মহাশয়কে ছাড়িয়াও আর থাকিতে পারিব না। হেমলতা মাতৃদেবীর গহনা ও বাসনের চাবীকাঠি আমাকে দিতেছিলেন, কিন্তু, সে সমস্ত মহাশয়ের চরণে পঁহুছাইয়া দিতে হেমলতাকে বলিয়াছি।…

হতভাগা ভৃত্য—

শ্রী নারায়ণ শর্ম্মণঃ

বিদ্যাসাগর এরপর পুত্র নারায়ণকে ক্ষমাপূর্বক গ্রহণ করেছিলেন। স্ত্রীর সেবা করেছেন তাঁর জীবনের অন্তিম পর্যায়ে। বিদ্যাসাগর কি তাঁর ভুল বুঝতে পেরেছিলেন শেষ পর্যন্ত? যদি তাই হয়ে, তিনি বড্ড দেরি করে ফেলেছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post