• December 4, 2021

‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সংগ্রাম কমিটি’ ১৯৯৬-২০২১ এক হার না মানা লড়াই

 ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সংগ্রাম কমিটি’ ১৯৯৬-২০২১ এক হার না মানা লড়াই

মীর রাকেশ রৌশান : সালটা ১৯৯৬ কান্দিতে একের পর এক ছোট ছোট শ্রমিক আন্দোলনে পুষ্ট ‘শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম কমিটি’ র মধ্যে আলোচনা চলে শুধু শ্রমিকদের দাবি দাওয়া লড়ায়ে কিছু অধিকার পূরণ হলেও তাদের দুর্দশা অসহায়ত্ব ঘুচছে না। কারণ শ্রমিক পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে কান্দি মহকুমার একমাত্র মহকুমা হাসপাতাল যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ নির্ভরশীল সেখানে সেই সময় হাসপাতালে ছিলোনা হাসপাতাল সুপারিন্টেনডেন্ট, অপারেশন থিয়েটার অকেজো, ছিলোনা এনাস্থেসিস। কার্যত নামকাওস্তা একটি মহকুমা হাসপাতালের কাঠামোটি দাঁড়িয়ে ছিলো। ‘আসুন হাসপাতাল বাঁচায়’ এই ডাক দিয়ে শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম কমিটির ডাকে তদানীন্তন সময়ের বাম সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে শুরু হয় দুর্বার আন্দোলন। প্রচুর জনসমর্থন নিয়ে কান্দিতে সাত মাস ধরে চলে এই আন্দোলন। অনশন,মিটিং-মিছিল,এমনকি কান্দি বন্ধ এর মাধ্যমে সরকার বাধ্য হয় দাবিগুলো মানতে।এই দীর্ঘ সাত মাসের লড়াইটা মোটেও সহজ ছিলো না।বর্তমানে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে সুপার আছে, অপারেশন থিয়েটার চালু আছে কিন্তু সরকারের উদাসিনতা,সমস্ত কিছু বেসকারি করার লক্ষ্যে সচেতন ভাবে সরকারি স্বাস্থ্য পরিসেবা অচল করে রাখার মাধ্যমে এখনো ঐ হতদরিদ্র আপামর সাধারণ জনগণ সঠিক পরিসেবা থেকে বঞ্ছিত। তাই ঐ ১৯৯৬ সালে দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া সংগঠন ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সংগ্রাম কমিটি’ আজও “সবার জন্য স্বাস্থ্য” এই ভাবনা কে সমানে রেখে কান্দি তথা মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষের সহযোগিতায় ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন করে চলেছে। শুধু আন্দোলনই নয় যখনই মানুষ কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়,কোভিড-১৯ এর মতো অতিমারিতেও বিপদে পড়েছেন তখনও সংগঠন তার সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। তাই বর্তমান অতিমারীর সময় যখন একদিকে বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের জন্য মানুষ অসহায় হয়ে পরছেন তখন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সংগ্রাম কমিটি প্রায় ২৯দিন ধরে কান্দিতে এবং বহরমপুরে দীর্ঘ দিন ২৪ ঘণ্টা দুটি ফোন নাম্বার সহ সশরীরে উপস্থিত থেকে করোনা সহায়তা শিরির পরিচালনা করে।যে ফোন নাম্বার দুটো এখনও চালু আছে।

একদিকে যেমন করোনায় আক্রান্ত মানুষের পাশে থেকেছে ঠিক তেমনি সরকারের এই বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে।তাদের দাবি ১)করোনায় আক্রান্ত সমস্ত রোগীর চিকিৎসা সরকারি পরিকাঠামোয় এনে বিমামুল্যে দিতে করতে হবে। ২)ইচ্ছুক ব্যক্তিকেই ভ্যাকসিন দিতে হবে। ভ্যাকসিন বাধ্যতামূলক করার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়া চলবে না।৩) ব্যাপক হারে করোনা পরিক্ষা করাতে হবে এবং সঠিক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।৪)শুধু করোনা নয় সাধারণ চিকিৎসা পরিসেবা যাতে বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া যায় তার সমস্ত ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। সার্বিকভাবে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার কাঠামোকে আর উন্নত করতে হবে। এ প্রশ্নে সরকারকে আরও স্বাস্থ্য খাতে ব্যায় বৃদ্ধি করতে হবে।

এই আন্দোলন এত দিন ধরে কান্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমানে আন্দোলন গোটা মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে বিস্তৃত।এবছর ১১ জুলাই মুর্শিদাবাদ জেলা জনস্বার্থ সুরক্ষা সংগ্রাম কমিটি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে একটি নাগরিক কনভেনশন ডাক দিয়েছিলো তারা।কনভেনশন উঠে এসেছে বেশ কিছু নতুন দাবি-

বহরমপুর সদর হাসপাতাল পুনরায় চালু করতে হবে।জেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ করা থেকে নানাবিধ দাবি দাওয়া।শুধু তাই নয় জেলায় রক্তের অভাব যাতে না হয় তার জন্য তারা বিগত ১৫ জুলাই বহরমপুরে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন জন করে।এবং ২৫ জুলাই তারা কান্দী শহরেও একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে।

সেই ১৯৯৬ সাল থেকে ২০২১ সাল, কেটে গেছে দুই যুগ তবুও এই হার না মানা এক লড়াই চলছে।সবার জন্য স্বাস্থ্য, সবার অধিকার স্বাস্থ্য। আগামী দিনে জেলা জুড়ে অধিকার রক্ষা কমিটিও বিগত দিনের বাম সরকারের মতন বর্তমান সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে লড়াই চালিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।

  •  
  •  
  •  
  •  

4 Comments

  • চমৎকার রিপোর্ট

    • অসংখ্য ধন্যবাদ।

  • ঐতিহাসিক ঘটনাকে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।

    • লেখাটা পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post