• December 4, 2021

প্রশ্নকারীর কণ্ঠরোধই কি রাষ্ট্রের রুটিন কাজ?

 প্রশ্নকারীর কণ্ঠরোধই কি রাষ্ট্রের রুটিন কাজ?

রুপল চক্রবর্তী

গত কয় বছরে আমরা স্বাক্ষী থেকেছি কিভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে নেমে আসছে একের পর এক রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন। প্রশ্ন করলেই, প্রতিবাদ করলেই ‘ antisocial’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। আমাদের দেশের স্বঘোষিত চৌকিদারের ভাষায় দেশের যুবসমাজ বিপথে চালিত। আসলে পৃথিবীর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিই চায় না নাগরিকরা সুশিক্ষিত হোক, তারা প্রশ্ন করুক। রাষ্ট্রশক্তি সবসময়ই চায় প্রশ্নহীন আনুগত্য। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবে একের পর এক শিক্ষাক্ষেত্রে নেমে আসছে আগ্রাসন। এবং করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় দেড় বছর ধরে সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার সুযোগে এই আগ্রাসন আরো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
ব্যতিক্রম নেই রবীন্দ্রনাথের সাধের বিশ্বভারতীও।দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বভারতী প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর একনায়কতন্ত্রের উদাহরণ ভুরি ভুরি। নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ও সেটা টিকিয়ে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বারংবার তিনি তৈরি করেছেন অগণতান্ত্রিক পরিসর।বিশ্বভারতীর মুক্ত শিক্ষার আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক পরিসর বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর তৎপরতায় কি ভীষণ পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত তা আরো একবার প্রমাণিত হল। বিগত নয় মাস ধরে বিশ্বভারতীর তিন শিক্ষার্থী ফাল্গুনী পান ,রুপা ও সোমনাথকে ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ দেখিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করে রেখেছিল, এবং গতকাল অর্থাৎ ২৩/৮/২০২১ তারিখে তাদেরকে আগামী তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।
গত ৭’ই জানুয়ারি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য্যকে সাসপেন্ড করেন যে তিনি বিশ্বভারতী বিষয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন এই অজুহাতে। আসলে তিনি পাঠভবনের অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে উপাচার্য, আচার্য ও রাষ্ট্রপতিকে ই-মেইল করেন এবং বিভিন্ন সময়ে তিনি ক্যাম্পাসের গৈরিকীকরনের প্রতিবাদ করেন।
ওইদিন ছাত্রছাত্রীরা সুদীপ্ত’দার অন্যায় সাসপেনশন ও উপাচার্যের বিভিন্ন স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপের প্রতিবাদে ছাতিমতলার সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। উপাচার্যের উপাসনা শেষ হলে ছাত্রছাত্রীরা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীরা ছাত্রছাত্রীদের বাধা দেয় এবং উপাচার্য পিছন দিক দিয়ে সেখান থেকে পালান। এরপর ছাত্রছাত্রীরা অর্থনীতি বিভাগে গিয়ে পোস্টারিং করে। তার ফলস্বরূপ১৪’ই জানুয়ারি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ফাল্গুনী, সোমনাথ ও রূপাকে তিনমাসের জন্য সাসপেন্ড করে। তারপর আবার দু-দফায় তিনমাস করে তাদের সাসপেনশন বাড়ানো হয়। সাসপেনশন করার অনেক পরে তদন্ত কমিটি তৈরি হয়। তদন্ত কমিটি গত আটমাসে দু’বার ছাত্রছাত্রীদের তদন্তের প্রয়োজনে ডেকেছিল। তিনজন ছাত্রছাত্রী তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে।
স্পস্টতই এই ঘটনা একটি বিষয় পরিস্কার করে যে উক্ত তিন ছাত্রের ওপর যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহিন এবং সেটিকে ধামাচাপা দেওয়ার তাগিদেই এই নয় মাস সময়ে নিয়েছে কত্রপক্ষ। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুযোগ ব্যবহার করে একের পর এক শোকজ, সাসপেনশন এবং বহিষ্কারের নোটিশ জারি করে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিরোধিতার ক্ষীণতম সম্ভাবনাকে নির্মূল করতে চাইছে।উক্ত তিন ছাত্র কে ২৭ তারিখ অবদি সময়ে দেওয়া হয়েছে জাতে তারা তাদের বক্তব্য প্রকটর কে জানাতে পারে।দেশের ফ্যাসিস্ট বিজেপি সরকার যেভাবে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হরণ করছে সেই একই ভাবেই বিশ্বভারতীতে উপাচার্য সবার অধিকার হরণ করে বিশ্বভারতীকে ফ্যাসিস্ট আরএসএস বিজেপির ঘাঁটি বানাতে চাইছেন। আর এই কাজকে মসৃণ করার জন্যই এই সাসপেনশন।

  •  
  •  
  •  
  •  

1 Comments

  • যথার্থ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post