• December 4, 2021

আবার অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের উপর পুলিশি সন্ত্রাস এরাজ্যে

 আবার অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের উপর পুলিশি সন্ত্রাস এরাজ্যে

পূর্বাঞ্চল নিউজ ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ কি ধীরে ধীরে এক পুলিশি রাজ্যে পরিণত হচ্ছে? আজ হাজরা মোড়ে ডেপুটেশন দিতে যাওয়ার সময় অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের উপর পুলিশের ঝাপিয়ে পড়া ও পরবর্তীতে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এই প্রশ্ন তুলছেন আজকের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।অধিকার, এপিডিআর,বন্দী মুক্তি কমিটি,পপুলার ফ্রন্ট একুশের ডাক সহ আরো অনেক সংগঠনের কর্মীদের আজ সুরাফ হোসেনের উপর পুলিশি অত্যাচারের ঘটনার প্রেক্ষিতে আলিপুর ডিএম অফিসে ডেপুটেশন দিতে যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। এজন্য তারা যখন হাজরা মোড়ে জমায়েত হচ্ছেন তখনই এই ঘটনা ঘটে।অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের দাবি ছিল তিনটে — ১)সুরাফ হোসেনের পরিবারকে ন্যায় বিচার দান,২) পুলিশের নগ্ন সাম্প্রদায়িক গৈরিকীকরণ বন্ধ ৩) দোষী পুলিশ কর্মীদের কঠোর শাস্তি।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাতাশা খান,শাওন দাস,জুবি সাহা,রঞ্জিত শূর,জগদীশ সরদার সহ তিরিশ জনকে গ্রেপ্তার করে।প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য স্থানীয় তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বেনে বৌ গ্রামের অধিবাসী ও অশোকনগর থানার ক্যাম্প ইনচার্জ সুরাফ হোসেনকে নগ্ন করে পেটায় সোনারপুর থানার পুলিশ।তার স্ত্রীও অত্যাচারের শিকার হয়।পুলিশ তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মন্তব্যও করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর অধিকার কর্মীরা সরব হয়।


এই গ্রেপ্তারির ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে পূর্বাঞ্চল নিউজ ডেস্কের পক্ষ থেকে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে।এপিডিআরের সহ সম্পাদক আলতাফ আমেদ জানালেন –সোনারপুর, বেনিয়া বৌ গ্রামের পুলিশকর্মী সুরাফ হোসেনের উপর, সোনারপুর থানার পাশবিক ও বেআইনী অত্যাচারের বিরুদ্ধে আজ আলিপুরে ডি,এম ডেপুটেশন উপলক্ষে জড়ো হয়ে স্লোগান দেবার অপরাধে নির্লজ্জ গ্রেফতারের বিরুদ্ধে জানাই ধিক্কার। এরাজ্যে বাক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের অবশিষ্ট কিছুই নেই!
এপিডিআর এর রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মৌতুলি সরকার জানালেন -পুলিশকর্মী সুরাপ হুসেনের উপর সোনারপুর থানার পাশবিক অত্যাচারের বিরূদ্ধে আজ ডি এম ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলেন গণ আন্দোলনে কর্মীরা । শান্তিপূর্ণভাবেই স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল । স্লোগান , যা যেকোনো প্রতিবাদী কর্মসূচীর অন্যতম অংশ । কিন্তু এই অপরাধেই লালবাজার থানার পুলিশ গ্রেফতার করল রঞ্জিত শূর, জুবি সাহা, জগদীশ সর্দার, চঞ্চল চক্রবর্তীসহ একাধিক গণ আন্দোলনের কর্মীকে, যারা আজ কর্মসূচী নিয়েছিলেন। পুলিশমন্ত্রী কি বিষ্মৃত হয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের হৃদয়ে আছে দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাসে লালিত সংগ্রামী চেতনা ? ক্ষমতার বলে পুলিশ দিয়ে এই চেতনার ওপর যে আঘাত হানা যাবেনা , একথা ও কি তিনি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন?বিরোধী স্বরকে দমন করতে আজকের এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাই ও আটককৃত সমস্ত সাথীদের নিঃ র্শত মুক্ত চাই ।


মানবাধিকার কর্মী ও প্রাবন্ধিক সুমন কল্যাণ মৌলিকের মতে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর এই অল্প সময়ে একাধিক ঘটনা ঘটছে যা নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত।সরকার স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রকাশ।কখনো স্কুল খোলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র ছাত্রী দের উপর,কখনো পেশাগত দাবিতে সরব শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।এর বিরুদ্ধে আজ সমস্ত গণতান্ত্রিক মানুষ ও সংগঠনকে সরব হতে হবে।দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলির সমন্বয়কারী মঞ্চের অন্যতম সংগঠক আশিষ গুপ্ত এই গ্রেপ্তারির তীব্র প্রতিবাদ করে অবিলম্বে ধৃতদের মুক্তির দাবি করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post