• December 9, 2021

ভাঙন প্রতিরোধ এবং বিধ্বস্ত মানুষের সহায়তায় সাধারণ ছাত্র যুবরা

 ভাঙন প্রতিরোধ এবং বিধ্বস্ত মানুষের সহায়তায় সাধারণ ছাত্র যুবরা

রুদ্র প্রভাকর দাস

১৯৭০ সালে ফারাক্কা বাঁধ তৈরির পর থেকেই মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গঙ্গার পাড় ভেঙে তলিয়ে গিয়েছে নদীতে। যে জায়গায় হাজার হাজার বাড়ি ছিলো আজ সেটা গঙ্গা। বাঁধ নির্মাণের সময়ে বারবার উঠে এসেছে এই ভাঙনের আশঙ্কা, তবুও সেই আশঙ্কা কে গুরুত্ব না দিয়ে বাঁধ নির্মাণ হয়। ভারত সরকার সেই সময়ে গঙ্গার পাড় যাতে না ভাঙে সেই জন্য সুরক্ষিত স্থান পর্যন্ত গঙ্গার পাড় বেঁধে দেওয়ার আশ্বাস দেই। আজ প্রায় পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেছে এখনও পর্যন্ত পাড় বাঁধানো হয়ে ওঠেনি কেন্দ্রীয় সরকারের। বাঁধ নির্মাণের সময় বলা হয়েছিল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হবে, যা একেবারেই নদীর নিম্ন গতিতে সম্ভব নয়। নিকটবর্তী অঞ্চলের চাষের সুবিধা তো দূর তাদের জমি গুলো আজ গঙ্গা হয়ে গেছে।


ফারাক্কা সহ নিকটবর্তী অনেক ব্লক প্রতিবছর শুধুই কী কলকাতা আর হুগলির বন্দরে জল সাপ্লাই এর জন্য বিপন্ন হতে থাকবে বছরের পর বছর ?
যে হাজার মানুষের বাড়ি বছরের পর বছর ভেঙে যাচ্ছে তাদের পুনর্বাসনের জন্যও মাথা ব্যাথা নেই কেন্দ্রীয় সরকারের। রাজ্য সরকার কিছু পুনর্বাসন দিলেও বঞ্চিত বেশির ভাগ মানুষই।
চলতি বছরে মালদহ জেলার প্রায় দেড় হাজারের বেশি বাড়ি ভেঙেছে, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে বাড়ি ভেঙেছে শতাধিক। পূর্ববর্তী সময়ে আরও বহু অঞ্চলে হাজার হাজার বাড়ি তলিয়ে গেছে গঙ্গায়। গঙ্গা ভাঙন শুরু হলে শেষ সম্বল বাঁচানোর সময় পাওয়া যায়না বলে আতঙ্কে এলাকার মানুষ নিজেদের বাড়ি ঘর ভাঙতে থাকে ইটগুলো বাঁচানোর জন্য।


মালদা, মুর্শিদাবাদের ভাঙন বিধ্বস্ত এই অঞ্চলের ছাত্র যুব শ্রমিক কৃষক সকল স্তরের মানুষদের নিয়ে বিপ্লবী গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ সমিতি তৈরি হয়েছে। তারই প্রথম উদ্যোগে নভেম্বরের ২ তারিখ সামশেরগঞ্জের লালপুরে বিপন্ন মানুষের জন্যে কিছু প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কাজ সম্পূর্ণ হলো।
এই দিন লালপুরের ৮৫ টা পরিবারের কাছে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।


আগামী দিনে অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছানোর প্রয়াসো ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে । এক বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে, ভাঙন বিধ্বস্ত সমস্ত মানুষকে লড়াইয়ে সামিল করার লক্ষ্যে আগামী দিনে বিপ্লবী গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ সমিতি প্রয়াস চালিয়ে যাবে। আন্দোলনের পাশাপাশি বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ প্রয়াস সংঘটিত করার জন্যও বদ্ধপরিকর এই সমিতি।

রুদ্র প্রভাকর দাস : গবেষক ও রাজনৈতিক কর্মী।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post