• October 7, 2022

কয়লাঞ্চল বাঁচাও মঞ্চ, পশ্চিমঙ্গের প্রতিনিধি দলের দেওয়া-পাঁচামি অঞ্চলে পরিদর্শনের রিপোর্ট

 কয়লাঞ্চল বাঁচাও মঞ্চ, পশ্চিমঙ্গের প্রতিনিধি দলের দেওয়া-পাঁচামি অঞ্চলে পরিদর্শনের রিপোর্ট

কয়লাঞ্চল বাঁচাও মঞ্চের এক প্রতিনিধি দল ১১ই ডিসেম্বর তারিখ বীরভূম জেলার দেওচা-পাঁচামি অঞ্চল পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ১। গৌতম ঘটক, ২। ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, ৩। গৌতম মন্ডল, ৪। দুগাই মূর্মু।
এলাকা পরিদর্শন কালে এলাকার জনসাধারণ ও আদিবাসীদের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের দীর্ঘক্ষন কথা হয়। খোলামুখ খনি খোলার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি তারা অনাগ্রহ ও বিরুদ্ধ মত পোষণ করে।
এই এলাকার এক আদিবাসি পাড়া গবরবাথান যা চাঁন্দা পঞ্চায়েতের সাগরবান্দী গ্রামের মধ্যে অবস্থিত। সেখানকার আদিবাসীরা ব্যপক সংখ্যায় জমায়েত হয়ে প্রতিনিধি দলকে বলে যে শহরের বাবুরা এখানে এসে তাদের ছবি তুলছে ও কথা রেকর্ড করছে। তবুও শহরে গিয়ে মিথ্যে বলছে যে তারা গ্রাম ছেড়ে যেতে রাজি। খুবই জোড়ের সঙ্গেই তারা জানিয়েছে যে গ্রাম তারা ছেড়ে দেবে না। কোন টাকার বিনিময়েও না। আদিবাসী মহিলা পুরুষেরা পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছে যে দশ বিশ লাখ টাকা দিয়ে তারা কতদিন খাবে। তারা চাষ আবাদ করে ও খেটে খেতে চায়। গ্রাম ছাড়তে তারা রাজি নয়। কোন মতেই তারা গ্রাম ছেড়ে যাবে না। এমন কি জোড় করে ছাড়াতে গেলে তারা একজোট হয়ে লড়বে।
এলাকার আরও বহু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিধিদল বুঝতে ও জানতে সমর্থ হয়েছে যে পিতৃভূমি ছেড়ে কেউই যেতে চায় না। তীব্র অনীহা তাদের মধ্যে রয়েছে।
এলাকাবাসীরা এও জানিয়েছে এলাকার ৩৬টি গ্রামের সাথে তাদের যোগাযোগ ও সমন্বয় আছে। সবারই একই মত খোলামুখ খনি তারা করতে দেবে না। সকলেই খোলামুখ খনির বিরুদ্ধে।
এলাকাবসীর কাছে আরও জানা গেল যে কয়লা খুব নীচে আছে। পাথর না কেটে কয়লা তোলা সম্ভব নয়। এছাড়া পাথরের স্তরের পরে ভুস আছে। সুতরাং কয়লা তোলা খুব সহজ সাধ্য হবে না।
প্রতিনিধি দলকে গবরবাথানের আদিবাসীরা জানিয়েছে যে পানীয় ও ব্যবহারযোগ্য জল এখানে অপ্রতুল। বিদ্যুতের খুঁটি ও তার থাকলেও বিদ্যুৎ নেই। বিলের কাগজ আসে, কিন্তু যেহেতু বিদ্যুৎ নেই তাই তারা বিলের টাকা দেয় না। কোন চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। চিকিৎসার জন্য তাদের ২০ কিমি দূরে সিউড়ি যেতে হয়।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে কোল ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০০ মিলিয়ান টন কয়লা তুলতে কেন আগ্রহী হল না? আসলে এই কয়লা তুলে তাদের কোন মুনাফা হবে না। বরং লোকসানই হবে। এটা বুঝতে পেরে এই প্রজেক্টটিকে তারা ছেড়ে দিয়েছে।
যতদূর জানা গিয়েছে ২৫০ মিটার বা ততোধিক পুরু পাথর কেটে কয়লার স্তরে পৌছতে হবে। ভারতীয়দের হাতে এত শক্ত পাথর কাটার প্রযুক্তি নেই। বিদেশী সাহায্য প্রয়োজন। এছাড়া ব্যপক সংখ্যক আদিবাসী ও এলাকার মানুষকে উচ্ছেদ করেই এই কাজ করতে হবে।
প্রতিনিধি দল মনে করে সরকারকে বিশেষ করে রাজ্য সরকারকে তাদের খোলামুখ খনি খোলার পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকা উচিত।

রানীগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলে ধস কবলিত এলাকার মানুষের পুনর্বাসন এবং খোলামুখ খনি বন্ধের দাবিতে কয়লাঞ্চল বাঁচাও মঞ্চ ২০১৮ সাল থেকে কাজ করে চলেছে।

1 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post