• January 17, 2022

ওরা পারবে কি ভোলাতে “মধুমাখা ছুরিতে”

 ওরা পারবে কি ভোলাতে “মধুমাখা ছুরিতে”

জয়তু দেশমুখ :

দেউচা পাচামিতে খোলামুখ কয়লাখনি চাই না। এই ব্যানারে রাজ্যের বিভিন্ন বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সংগঠন ও ব্যাক্তিবর্গ আজ বীরভূম জেলা শাসকের দপ্তরে এক বিক্ষোভ ডেপুটেশন কর্মসূচী সংগঠিত করে।সাক্ষাৎকারে জেলা শাসক যৌথ প্রতিনিধি দলকে জানান – এই রাজ্যের তৃণমূল সরকার নাকি জমি অধিগ্রহণ বিষয়টাই বাদ দিয়ে দিয়েছে। দেউচা পাচামিতে আদৌ কোন জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে না।সরকার নাকি মালিকদের থেকে জমি কিনে নিচ্ছে! জমিদাতারা সম্মতিপত্র দিয়ে দিচ্ছেন। তাতে লেখা রয়েছে সরকারের কয়লা উত্তোলন প্রকল্পে তারা জমি দিতে রাজী। সরকারী পূনর্বাসন প্যাকেজে তারা সহমত। ৮৫০ টি পরিবারের মধ্যে ৫৫০ টি পরিবার নাকি ইতিমধ্যে সন্মতিপত্রে স্বাক্ষর করে দিয়েছে। ক্ষেত মজুরদের কথাও নাকি সরকারের বিবেচনায় আছে।

এ যেন সেই ইচ্ছে পূরণের কাহিনী কিংবা মরিচীকা মায়াতে ভূলিয়ে দেওয়ার গল্প! শোনালেন বীরভূমের জেলাশাসক বিধান চন্দ্র রায়! প্রকল্প এলাকার ২০ কিমি দূরে জেলা সদর সিউড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে জেলা শাসকের দপ্তরে মিছিল করে গিয়ে ডেপুটেশনে যাওয়া প্রতিনিধিরা পাল্টা প্রশ্ন করলেন – অধিগ্রহণ যদি নাই হয়ে থাকে তাহলে পূনর্বাসনের কথা সরকার ঘোষণা করলো কেন? এ দুটি তো পরস্পরের পরিপূরক। খোলামুখ কয়লাখনির সামাজিক পরিবেশগত সমীক্ষা রিপোর্ট আজও প্রকাশ করা হয়নি কেন? জীবন,জীবিকা, পরিবেশের প্রশ্নে যে ভয়ংকর বিপর্যয়ের মধ্যে আমাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে সেই রিপোর্ট জনসমক্ষে নিয়ে আসার এই পূর্বশর্তকে মান্যতা দেওয়া হলো না কেন? ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী জনশুনানী বা সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ বাধ্যতামূলক। সরকার সেই আইনকে তোয়াক্কা করলো না কেন? বলা বাহুল্য জেলা শাসক এসব প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারলো না। স্পষ্ট হয়ে গেলো প্রকল্প নিয়ে সরকারের চরম অস্বচ্ছতা। আদিবাসী মহিলাদের উপর পুলিশ ও গুন্ডাদের হামলা, মিথ্যা মামলা হলো কেন এ প্রসঙ্গে ডিএম বললেন “অনভিপ্রেত”! ব্যস, যেন সাতখুন মাফ! নারী নিগ্রহের বিচার অধরাই থেকে গেলো।

ঐ এলাকা থেকে আসা রিপোর্টে জানা গেল বাস্তবে জোর করেই গ্রামবাসীদের তথাকথিত “সম্মতি” আদায় করে নেওয়া হচ্ছে। সমগ্র এলাকায় শাসকদলের বাইক বাহিনী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সৃষ্টি করা হয়েছে পুলিশ ও শাসকদলের গুন্ডাবাহিনীর প্রবল সন্ত্রাস। সরকার বেআইনীভাবে প্রকল্প রূপায়নের কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।কেড়ে নেওয়া হয়েছে ঐ এলাকার উচ্ছেদ হওয়া মানুষ ও রাজ্যবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার। জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সভা থেকে নেতৃবৃন্দ এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আগামীতে তীব্রতর করে তোলার আহ্বান জানান। আগামীকাল সংগঠনসমূহের এক প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন তদন্তে যাবেন।
প্রতিনিধি দলে থাকবেন ইয়ং বেঙ্গলের প্রসেনজিৎ বসু,কিষাণ মহাসভার জয়তু দেশমুখ,মহিলা স্বরাজের সফিয়া খাতুন, স্থানীয় সংগঠক উৎনাও এর মোহন চন্দ্র মন্ডল। বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের মলয় তেওয়ারী, আরওয়াইএর সন্তু ভট্টাচার্য, এআইসিসিটিইউ এর জীবন কবিরাজ, গোপাল ঘোষ, সুরিন্দর কুমার, কৃষ্ণ প্রামানিক, কুনাল বক্সী, উৎনৌ সংগঠনের কুনাল দেব, আমরা এক সচেতন প্রয়াসের ফারুক ইসলাম, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারি আন্দোলনের কর্মী পীযূষ রায়,
ইয়ং বেঙ্গলের অনিন্দ্য সরকার,আইসার
রুদ্র প্রভাকর দাস প্রমূখ।

জয়তু দেশমুখ : রাজনৈতিক কর্মী।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post