• January 17, 2022

সফদর বন্দেগী

 সফদর বন্দেগী

সফদর হাসমী…
সমাজ সচেতন প্রতিবাদী থিয়েটারের আরেক নাম।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি ও ভ্রষ্টাচার, কৃষক উচ্ছেদ, শিশুশ্রম – সমাজের জ্বলন্ত সমস্যা গুলো নিয়ে অবিরাম আমাদের নাড়া দিয়েছেন।
তার এমনতর বেয়াড়া থিয়েটার সহ্য হয়নি ভারতীয় গণতন্ত্রের।

১৯৮৯ সালের ১লা জানুয়ারি শাহীবাবাদে তার হাল্লাবোল নাটক চলাকালীন তৎকালীন শাসকদলের বাহুবলীরা হাশমিকে টেনে হিঁচড়ে মারতে মারতে পাথর দিয়ে থেতলে দেয় তার মাথাটা।
কিন্তু তার কণ্ঠ রোধ করা যায়নি, যায়ওনা!

আজ হাতের মুঠোয় যখন যাবতীয় ফুর্তি, অক্লান্ত দাপাদাপি, শহরের রাস্তায় বেরোলেই শপিং মল আর নাইট ক্লাবের ঝলসানি তখন সফদর হাশমি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আদর্শে অবিচল থাকতে।

“স্বভাবজ কর্ম স্বদোষ হইলেও তাহা পরিত্যাগ যোগ্য নহে।
কারণ ধুমের দ্বারা যেমন অগ্নি আবৃত হয় সেই রূপ সকল কর্মই দোষ দ্বারা আবৃত হ‌ইয়া থাকে” — (১৮/৪৮ ভাগবৎ গীতা)

এই মরমে গত ৩১শে ডিসেম্বর ২০২১ ও ১লা, ২রা জানুয়ারি ২০২২ বিসর্গ থিয়েটার স্মরণ করে সফদর হাসমী কে।

তিনদিন সফদর হাসমী কে নিয়ে থাকে আড্ডা, তাঁকে চেনা,জানা, অনুভব করা।
প্রথমদিন কথায় গানে থাকেন বাকসভা, দ্বিতীয় দিন গানে গানে নীতিশ রায় স্মরণ করেন তাঁকে।
তৃতীয় দিন অনিক রুদ্র স্মরণ করে তাঁকে কবিতার মাধ্যমে এবং কথায় গল্পে ১৯৮৯ এর ১লা জানুয়ারির সেই দিনটিকে তুলে ধরেন কল্লোল দাসগুপ্ত।

নবকল্লোল, অদ্বিতীয়, আমতা পরিচয়, মধ্যমগ্রাম নৃত্যবিতান, কলকাতা নাট্যসেনা, সংশপ্তক চিনসুরা, নাটুকে বেদুইন তাদের নিজস্ব নাটকের উপস্থাপনার মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনদিন‌ই বিসর্গ থিয়েটার তাদের নাটক যথাক্রমে; ‘নয়ন কবীরের পালা’, ‘সমীকরণ’, ‘বাঘ চাল’ এর উপস্থাপনা করে সফদর বন্দেগীতে।

গড়িয়াহাট ডোভার গেষ্ট হাউজের ছাদ ‘শামিয়ানা’ এ সঙ্গে থাকেন উপঢৌকন, শিল্পী বিতান, বিসর্গ এর নব্য প্রাচীন বসন এর পরিবেশ বান্ধব সম্ভার‌।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *