• December 2, 2022

ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া

 ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া

জয়শ্রী ভূষণ

অনেকদিন থেকেই “ভার্চ্যুয়াল” শব্দটি মাথায় ফাঁক ফেলেই উঁকিঝুঁকি মারছিল, মাঝে মাঝেই বনবন করে ঘুরছিল, এবং ইদানীং যেন আরও বেশি-ই । অনেকবারই ইচ্ছে হয়েছে কিছু লিখি, কিন্তু হয়ে উঠেনি। সব কথা ভার্চ্যুয়াল রয়ে গেছে মনে মনে। আসলে সত্যি কথা বলতে কি একেক সময় মনে হয়, আমাদের সব কিছুই তো ভার্চ্যুয়াল। আজ বর্তমান, মূহুর্ত, এই সব কিন্তু এক পলকের। অতীত ও ভবিষ্যৎ, সময়, প্রকৃত অর্থেই ভার্চ্যুয়াল। সত্যিই বাস্তব তো ক্ষণিকের। আমাদের মন, মগজ, পৃথিবী,আমাদের চারপাশের যে অবয়ব, ধর্ম, অতীত, ভবিষ্যৎ, সব কিছুই ভার্চুয়াল মনে হয়। সবই অধরা। কি কি ছুঁতে পারি ? মন,ভাবনা, রাগ, দুঃখ, ভালোবাসা কিছুই তো ছুঁয়ে দেখতে পারি না,সবই তো অনুভব করি। এই অনুভবের অনুভূতি কিন্তু আবার নিজে ছাড়া অন্য কাউকে দেখাতেও পারি না,যদি না অন্য মানুষ দেখতে চায় বা বুঝতে চায় এবং সেই বোঝার ও দেখার ক্ষমতা থাকে সেই ব্যক্তি বিশেষের তবেই তা বোধগম্য করানো যায়। সেটাও একরকমের ভার্চুয়ালই হয়। যাইহোক বেশিরভাগ সময় মানুষ এসব বোঝাবুঝি নিয়ে মাথা কমই ঘামায় বা বুঝতে পারে না। আর এই বুঝতে না পারা নিয়েই আজকের বিশ্বের এত অসমতা মানুষের মাঝে। বিভেদের সৃষ্টি। তাই অনেক সময় মনে হয় এই ব্রহ্মাণ্ড, জাগতিক বিষয় গুলোও বেশিরভাগই আসলে হয়তো ভার্চ্যুয়ালই। এই দুনিয়ায় সব কিছুই এক একটা ভিন্ন বিষয়। আমরা এক একজন মানুষ এক একজন ভিন্ন সত্ত্বা। খুব গভীর ভাবে ভেবে দেখলে বোঝা যাবে এই পৃথিবীতে সব কিছুই একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র। আসলে এই মহাজাগতিক বিশ্বে আমরা এক একজন, এক একটি বস্তু, গাছপালা, প্রাণী, মানুষ সব কিছুই ভিন্ন অথচ সব কিছুই আবার একে অপরের সাথে এক অপার্থিব সুতোয় বাঁধা যেন। আকাশ এর সাথে মাটি, জল মেঘ, সমুদ্র সব যেন এক একটা সরলতম এবং একই সাথে জটিলতম ভাবে এক অপার্থিব সূত্রে জুড়ে আছে। অনেকদিন থেকেই এই ভার্চ্যুয়াল অর্থাৎ অপার্থিব শব্দটি যখন থেকেই মাথায় এলোমেলো ভাবে মনের গহীনে এলোপাথাড়ি ছুটে বেড়াচ্ছিল, ভাবছিলাম নিছক শব্দ নয় কিন্তু । ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড শব্দটি আসলেই এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবীর আকাশে ঘুরতে ঘুরতে অনেক ভাবনার দল যারা সব সময় ভার্চ্যুয়ালই হয়, তাদের আমি বাস্তবে অক্ষর বন্দী করার কথা মনে মনে মনস্থির করে ছিলাম।

এই ভার্চ্যুয়াল ওয়ার্ল্ড শব্দটি আমার মাথায় প্রথম ঢুঁ মেরেছিল সেদিন, যেদিন প্রথম লক্ষ্য করছিলাম, হঠাৎ করেই মানুষ সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে সারাদিন রাত্তির মোবাইলে ইন্টারনেটে বুঁদ হয়ে থাকছে। আশেপাশের মানুষজন, পরিবার, সুন্দর এই পৃথিবী, এই প্রকৃতি সব কিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে দিব্বি কিছু মানুষ মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। সেই থেকেই এই ভাবনাদের কিলি বিলি আমার মাথায় শুরু। ভেবে দেখলাম আসলে মানুষের সচেতন এবং অবচেতন দুটো সত্ত্বায়ই মানুষ একা থাকতে চায় না। আমরা আসলে সব সময় বুঝিনা যদিও, সচেতন ভাবেও আমরা অবচেতন মনের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় এক অন্য অপার্থিব দুনিয়ায় বুঁদ হয়ে থাকি এবং সেই দুনিয়ার নাম মন। আসলে আমাদের মস্তিষ্কের জটিলতম গড়ণ ও গঠনের মতো হয়তো এই বিশ্বের সবকিছুই। শুধু আমরা তা বুঝতে পারি না এই যা। আমরা যেন এক বাক্স বন্দী আলপিন। কোন পিন কখন কার সাথে গেঁথে যাবো বা বাক্সে মরিচাধরা হয়ে পরে থাকবো, আবার এই মরিচাধরা আলপিন থেকেই হয়তো এক সময় নতুন প্রাণের জন্ম হয়ে যেতে পারে। এক কথায় এই পৃথিবীতে সব কিছুই সম্ভব আবার একই সাথে কিছু জিনিস যেন আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এইসব ভাবনা থেকেই ভার্চ্যুয়াল ওয়ার্ল্ড নিয়ে কিছু ভাবনা চিন্তারা ভার্চুয়ালি মনে অনেকদিন ধরেই বাসা বেঁধেছে। ভাবলে অবাক লাগে আমরা আজকাল শত সহস্র হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও সবাই যেন সবার খুবই কাছাকাছি। আবার খুব কাছে থেকেও, একই বাড়িতে থেকেও, একই পরিবারের হয়েও, একই ছাদের নীচে, এক শহরে থেকেও একে অপরের থেকে সহস্র যোজন দূরেই থাকে অনেকে।

আশ্চর্য হলেও সত্যি যে ইন্টারনেট, মোবাইল, ফোন, টিভি, এইসব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার আমাদের মানব সভ্যতায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। আমাদের মানব সভ্যতায়,সমাজের মানুষ হিসেবে, স্বাস্থ্য, পরিবহন, শিক্ষা, বিনোদন ইত্যাদি সব কিছুতেই এক নতুন অধ্যায় যোগ হচ্ছে প্রতিনিয়তই।যে কল্পবিজ্ঞান নিয়ে আর্থার সি ক্লার্ক,আইজ্যাক অ্যাসিমভ থেকে অদ্রীশ বর্ধন কিংবা সত্যজিত রায় আর অন্যান্যদের লেখা পড়ে রোমাঞ্চিত হতাম, নাইট রাইডার,ওয়ান্ডার চাইল্ড, স্টার-ট্রেকের মত টিভি শো গুলো দেখে শিহরিত ও চমকিত হতাম, সেই সব রীতিমতো বাস্তব হয়ে উঠেছে৷ আজকাল কল্পনা বলতে প্রায় কিছুই নেই। ইন্টারনেট, ক্যামেরা, রোবট এবং বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব নিত্যনতুন নিত্তনৈমিত্তিক আবিষ্কার কল্পবিজ্ঞানকেও যেন হার মানিয়ে আমাদের কাছে সব জলভাত করে দিয়েছে।

আমার এখনো মনে আছে, খুব ছোটবেলায় কোন এক মহালয়ার ভোরে, আমাদের মিশন রোডের বাড়ি থেকে দুই ভাই বোন বাপির হাত ধরে অন্ধকারে টিমটিমে ল্যাম্পপোস্টের উপরে ঝোলানো মাইকে বীরেন্দ্র ভদ্রের স্তোত্রপাঠ শুনতে শুনতে করিমগঞ্জের সেই আমাদের এম এম এম সি স্কুলের উল্টো দিকের সরু গলিতে ঢুকে, বড়পিসীর বাড়িতে ছোট গেইট পেরিয়ে লাল বালবের আলোতে বাদিকের ছোট্ট ঘরে ঢুকে ইয়া বড় নীল রেডিও সামনে বসে বসে ভাবছিলাম এত গান এতজন মিলে কি করে এই ছোট রেডিওর ভেতরে বসে বসে করছে । কে হারমোনিয়াম বাজাচ্ছে, কে তবলচি? কৌতূহল আটকাতে না পেরে সেই বড় ঢাউস রেডিও এর পেছনে চুপিচুপি গিয়ে লাল লাইটের পাশের ফাঁক দিয়ে অনেক চেষ্টা করেও সেই রেডিওর ভেতরে কাউকে না পেয়ে খুবই নিরাশ হয়েছিলাম সেদিন ।

মোবাইলের জমানার শুরুতেও সনটা ২০০৪ বা ২০০৫ হবে, আমার মনে আছে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত কর্মচারীদের জন্য Rs.99/- এর একটা প্ল্যান এসেছিল বি এস এন এল থেকে। প্রায় সবার কাছে যখন মোবাইল ছিল, তখনো মোবাইল ব্যবহার শুরু করিনি কারণ মনে হয়েছিল কি দরকার অযথা এই উপরি উপদ্রবে। এমনিতেই সময় পাই না, আবার নতুন ঝামেলার কি দরকার। আস্তে আস্তে তখন আমরা ল্যান্ডলাইন ফোনে অভ্যস্ত। মোবাইলে কথা বলাটা অদরকারী মনে হতো। তাই প্রথম কয়েক বছর আমি মোবাইল ছাড়াই ছিলাম।

বিশ্বাস না হলেও সত্যি একটি ইমেইল আইডি খুলতে গিয়ে ইন্টারনেটের ব্যবহারে শুরুর দিকে এক সময় হাঁসফাঁস অবস্থা ছিল। কিছুতেই পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পারতাম না। কয়েকটি ইমেইল আইডি খুলেও সেই একই সমস্যা। শেষমেশ অর্পিতা আমার এক বান্ধবী যে কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনা করেছিল, আমায় কি করে আই ডি পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয় বুদ্ধি বাতলে দিয়েছিল। তখন থেকেই শুরু। আস্তে আস্তে চিঠি লেখা কমে গেল । আমাদের বন্ধু এবং পরে কলিগ ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কথা বলাবলি ইমেইল মারফৎ করা শুরু করি। কিছুদিন পরে চিঠিপত্র চিরকালের জন্য বন্ধ হলো, কথা বলাবলির জন্য ফোন, মেসেজ, মেসেঞ্জার, হোয়াটসাপ ইমেইল, জিমেইল ইয়াহু বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে শুরু করে দিয়েছিলাম এবং এখনো করি।

তারপরেই এলো অরকূট। অরকূট আসার পরই এক সাথে নিজেদের ছবি কথাবার্তা চ্যাট ইত্যাদি অনলাইনে শুরু হলো একটু একটু করে। ইন্টারনেট এর দুনিয়ায় নিজের ছবি, অন্যদেরকে সাথে নিয়ে একই সময়ে অনলাইনে আড্ডার অনেকেরই হাতেখড়ি অরকূটেই। মনে আছে সনটা ২০০৯ -২০১০ হবে। আন্দামান গেছিলাম ঘুরতে। অনেক ছবি টবিও শেয়ার করেছিলাম। যাই হোক খুব একটা সাবলীল আমি হতে পারিনি, আমার জন্য জরুরী কোন উপপাদ্য তাতে ছিল না।

দিনদিন অফিসে কাজের চাপ বাড়ছে, ল্যাপটপ এসে গেছে। আমার আবার হাতে লেখায় ভীষণ বিরক্তি, স্পন্ডেলাইটিস এর ব্যাথার জন্য বেশি লেখালেখি কাজটির জন্য প্রায়ই ভুগতে হতো শারীরিক ভাবে। ২০০৭ এই ল্যাপটপ কেনার পর থেকেই কাজের সুবিধে হলো। অফিসের রিপোর্ট থেকে শুরু করে কাজকর্মতে ডুপ্লিকেট বা ডাবল ওয়ার্ক কমে গেল। কপি পেস্ট এর সুবিধে থাকায় সব কিছু আগের থেকে বেশি সহজ হয়ে গেল। এম এস অফিস, এক্সেল ইত্যাদির ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় সফট কপি ও হার্ড কপি দুটোই নেবার সুবিধে থাকার ফলে আমাদের মত মানুষের কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পেল, এবং একই সাথে কম সময়ে বেশি কাজ করার সুবিধা হলো। পি.সি ও ল্যাপটপের জন্যেও বিভিন্ন এপ, সফটওয়্যার আসতে শুরু করলো। তখনো আমি মোবাইল সেভাবে ব্যবহার করা শুরু করিনি। বাড়িতে আসার পর ইন্টারনেট চালু করার পরই ইমেইল, অরকূট, জিমেইল ইত্যাদি ব্যবহার করতাম। তখনই জানতে পারলাম ল্যাপটপে অভ্র নামের একটি সফটওয়্যার আছে যা গুগলে গিয়ে ডাউনলোড করলেই নাকি বাংলা লেখা যায় কম্পিউটারে। ভীষণ আগ্রহী হলাম। আমার জন্যে তো পোয়াবারো। আমার নিজস্ব ল্যাপটপে সব ইন্সটল করে নিলাম। তারপর আর আমাকে পায় কে। তখন থেকেই আমার বাংলা লেখালেখির শুরু। এই অভ্রতেই আমার প্রথম লেখা ” থিয়েটারে নারী- Women in Theatre” লিখে ইমেইল করে আগরতলায় লক্ষ্মণ ঘটক দাদার কাছে পাঠিয়েছিলাম। সেই লেখাই প্রথম অভিনয় ত্রিপুরা পঞ্চম সংখ্যায় শারদ ২০১২ তে প্রকাশিত হয়েছিল। ভীষণ রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম। ভালোলাগায় অভিভূত হয়েছিলাম নিজের ভাবনাগুলো অক্ষরে প্রকাশ করতে পেরে এবং নিজের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছিল। এসব কিছু সম্ভব হবার মূলে ছিল ল্যাপটপে বাংলা লেখার সফটওয়্যার “অভ্র”, ইমেইল ল্যাপটপ ইত্যাদি সবকিছুর সম্মিলিত ভাবে আমার ভাবনা ও লেখালেখির কাজকে সহজ করে তোলার জন্য ইন্টারনেট ও তৎসঙ্গে জড়িত সকল মিলিত শক্তির প্রভাব আমার মগজের উপরে।

কিছুদিন পরেই বন্ধুবান্ধব যারা বিদেশ বিভুঁইয়ে থাকে যাদের সাথে জিমেইল, ই-মেইলেই বেশি কথাবার্তা, মেসেজ আদানপ্রদান হতো, তারা বললো ফেসবুকে আয়৷ তখনো জানি না ফেসবুক কি। আবারও আগের মত আমি একদমই আগ্রহী নই, জানিয়ে দিলাম। আমার বান্ধবী পাপিয়া শিলচর ডিস্ট্রিক্ট জাজ এর চাকুরীতে রিজাইন করে তখন সবেমাত্র আমেরিকা শিফট করেছে, আমায় বুঝিয়ে বললো, তুই ফেবুতে আয়। বিদেশে ফোনে যোগাযোগ করা খুবই অসুবিধে ছিল তখন। বুঝিয়ে বললো কিভাবে প্রায় নূন্যতম খরচে আমাদের সুবিধা হবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে এবং তাছাড়াও এই ফেবুতে অনেক অন্য সুবিধা আছে। তুই তোর আইডি বানা। নিজেই বুঝতে পারবি। আমিও সঙ্গে সঙ্গেই আমার আই ডি পাসওয়ার্ড বানিয়ে ফেবুতে যোগ দিলাম। এই ফেসবুকে আমি আমার সমস্ত বাইরের বিশেষ করে বিদেশে এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন,পুরনো হারিয়ে যাওয়া অনেক পরিচিত কাছের মানুষদের আস্তে আস্তে ফিরে পেলাম। মনে হলো যেন সত্যি এক নতুন অন্য ভার্চ্যুয়াল সমাজ। খুব সহজেই যে কোনো কাউকেই যোগাযোগ করা যায়। মোবাইল নং জানা নেই, হারিয়ে গেছে, বাড়ির ঠিকানা জানা নেই, ফেবুতে থাকলেই হলো। ভীষণ সুবিধা এবং আস্তে আস্তে নতুন নতুন ফিচারগুলো যোগ হতে শুরু হলো। আমরা যারা অনেকটা এক রকম,আমাদের ভালো লাগা, ভালোবাসার বিষয়, রাজনৈতিক বোধ, সম-মনস্ক , সেই মানুষগুলোর সাথে, বিভিন্ন সংস্থার সাথে আস্তে আস্তে যোগাযোগ এর পরিধির ব্যাপ্তি ঘটলো প্রচণ্ডভাবে।

এরই মধ্যে চলে এলো ঢাউস ঢাউস মার্কা স্মার্ট ফোন। নোকিয়ার পরেই স্লিক এল জি এর একটি স্মার্ট ফোন কিনেছিলাম। কিন্তু সেটাতে ফোন বা মেসেজ এবং কিছু ছবি ছাড়া তেমন কিছু বেশি ফিচার ছিলো না। তাছাড়া এইসব স্মার্ট ফোন এবং এসবের নানা বিষয়ে গোবর গনেশই ছিলাম। যাই হোক আস্তে আস্তে মনে হলো, অফিস, ল্যাণ্ডলাইন, মোবাইল, ল্যাপটপ, ফেবু, ইমেইল জিমেইল, লেখালেখি সব কিছু নিয়ে এবার ল্যাজেগোবরে অবস্থা। কারণ সব কিছুর জন্য ল্যাপটপ খুলতে হয়। ফোনাফুনিতেও বেশ সময় নষ্ট। ফোটো টোটোগুলোও জরুরি হলেও ঠিক যেন গুছিয়ে রাখতে পারছিলাম না। সব কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। তাই সব কিছুর সমাধান হিসেবে ইয়া বড় ঢাউস স্যামসাং এর স্মার্ট ফোন কিনলাম গ্যালাক্সি । ফোটো, ফোন মেসেজ, ফোটোগুলো সেইভ করে রাখা বা কি করে ডাটা কেবল দিয়ে কম্পিউটারে বা অন্য সিস্টেমে সেভ করে রাখা যায় অনবরত শিখছি শুধুও শিখছি প্রতিনিয়ত আজও। যাইহোক স্মার্ট ফোন অনেক মুস্কিল আসান করে দিল। আস্তে আস্তে ফোন, মেসেজ, ফেসবুক, এম এস অফিস, ইমেইল, গুগল থেকে শুরু করে বাকি সব অনলাইন এপ স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করার সুবিধা হয়ে গেল। এই ফেবুতেই বিভিন্ন গ্রুপ তৈরী হতে শুরু হলো। এমনই একটি গ্রুপ ছিল এবং এখনো আছে ” ঈশানের পুঞ্জমেঘ “। এই গ্রুপের এডমিন শ্রী সুশান্ত কর দাদার কাছেই প্রথম জানতে পারলাম এন্ড্রয়েড ফোনেও বাংলা লেখা যায়। গাইড করে দিলেন। রিদ্মিক এপ ডাউনলোড করে নিলাম। আমাকে আর পায়কে। ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ল্যাণ্ডফোন সব কিছুর পরিবর্তে এক স্মার্ট ফোন একাই একশ হয়ে উঠলো। বিভিন্ন ধরণের আধুনিক নতুন প্রযুক্তি সম্পন্ন বিভিন্ন নতুন নতুন মডেলের স্মার্ট ফোন ভিডিও, ফোটো, ফোটো এডিট, পড়াশোনা, সব কিছুর জন্যই আজকাল স্মার্ট ফোন একটি আবশ্যিক বস্তুতে পরিণত হয়ে গেল বিগত কিছু বছরের মধ্যেই। আজকাল একটি স্মার্ট ফোন এবং অবশ্যই তাতে ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই পৃথিবী হাতের মুঠোয়। সারা দুনিয়ার সাথে আপনি যে কোন জায়গায় থেকেও ঘর পরিবার, বন্ধু বান্ধব, যে কোন অনুষ্ঠান, যে কোন কিছুর সাথেই জুড়ে থাকতে পারবেন ।

গত কিছু বছর ধরে সংবাদমাধ্যম এবং টেলিভিশন মিডিয়ায় আমূল-পরিবর্তন এসেছে। অনেকদিন হয়ে গেছে পত্রিকা পড়ি না। ইচ্ছে করে না। সব হলদে হয়ে গেছে। নিউজ চ্যানেল গুলো কেমন যেন যাত্রা করছে মনে হয়। অনবরত মিথ্যে কথা সারাদিন ধরে বারবার রিপিট টেলিকাস্ট করতে থাকে। বমি এসে যায়। একদিন হঠাৎ দেখলাম ফেবুতে অরিন্দম গুপ্ত বলে একটি ছেলে যে আসাম ট্রিবুনে আগে নিউজ করতো, তার একটি লাইভ ফেবুতে। নিউজ সংক্রান্ত। দারুণ লাগলো দেখে। মনে হলো এই তো, অন্তত ফেসবুকে সত্যি সত্যি ঘটনা গুলো সংবাদ হিসেবে পরিবেশিত করা যেতে পারে ।সত্যটা সত্য হিসেবে কিছু মানুষ অন্তত জানবে জেনে যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলাম। আজকাল অনেক ফেসবুক লাইভ নিউজ চ্যানেল আছে। প্রচুর ভিডিও, লাইভ ভিডিও, বিভিন্ন সমস্যা, দেশ বিদেশে কি হচ্ছে, কোথায় আগুন লাগলো, কে কাকে মারলো, ব্ল্যাক লাইভ মেটারস, বিভিন্ন চুরি চামারি, অশ্লীলতা, দুই নম্বরী সব কিছুই মূহুর্তের মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দেওয়া যায়। রবীশ কুমার এমনই একটি নিউজ কাভারেজ করেন রেগুলার। আজকাল ফেবু নিউজ, ফেবু লাইভ, অডিও, বিভিন্ন রেকর্ডেড ভিডিও, বিভিন্ন জায়গার সমস্যা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আমরা ফেবুর মাধ্যমে উপভোগ করা যায়, জানাও যায় শেখাও যায়।

গতবছর লকডাউনের সময় হঠাৎ করেই ঘরবন্দী হয়ে পড়ে সবাই অতিমারীর ফলে। করোনা ভাইরাসের বিশ্ব জুড়ে তাণ্ডবের ফলে কার্যত মানুষ এই প্রথম প্রায় গৃহবন্দী হয়ে পড়েছিল। ছোট ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে যুবক যুবতী বয়োজ্যেষ্ঠ সবাই ঘরে। বাইরের দুনিয়ার দরজা যেন হঠাৎ করেই যেন দুম করে বন্ধ হয়ে গেল মানুষের জন্য। এই অবস্থায় মানুষের বাইরের দুনিয়ার জানালার কাজ করেছে এই ইন্টারনেট, সামাজিক মাধ্যমগুলো। ফেসবুক, হোয়াটসাপ, গুগল মিট, স্ট্রীম ইয়ার্ড, জুম, ইত্যাদি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে মানুষ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। বস্তুত এই অতিমারীর সময় আমরা বুঝতে পেরেছি অনলাইন এবং ইন্টারনেটের মাহাত্ম্য।

ঘরে থেকেই গোটা দুনিয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি কি, চীনের রাস্তায় সারি সারি মৃতদেহ, ইতালিতে লাশের ঢের,হাস্পাতালের বাইরে রোগিদের লাইন, আমাদের দেশে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের পথচলা, অভুক্ত থাকার ফলে ছোট ছোট বাচ্চাদের রাস্তাতে ক্ষিদেয় মৃত্যু, রাষ্ট্রযন্ত্রের খোকলামো, অনেক কিছুর কঙ্কালই সোসিয়েল মিডিয়ার দৌলতে সাধারণ শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের নজরে পড়েছে। যে বিশাল সংখ্যক মানুষের দুর্বিষহ ভোগান্তি কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের দিনে ঘুমোনোর জন্যে, সেই সব কিছুই আম জনতা, এবং বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেবার কাজ করেছেন জুকারবার্গ মহাশয় তাঁর ফেসবুক এবং আরও নানা সোসিয়েল সাইটগুলি। বস্তুত এই ভয়ংকর অতিমারীর সময় এই ভাবে লকডাউনে খাঁচাবন্দী থাকলেও অনলাইন, ইন্টারনেট, হোয়াটসাপ, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, সিগনাল, টেলিগ্রাম, ইউটিউব,ক্লাব হাউস, টুইটার, এছাড়াও আরও নানা রকমের সোসিয়েল সাইটগুলোর মাধ্যমে মানুষ ঘরে থেকেও অনেক নতুন নতুন কিছু করার রসদ বের করে নিয়েছে। মধ্যবিত্ত যারা, যাদের ঘরে খাবার আছে, তারা বিভিন্ন খাবার রেসিপি নিয়ে বিভিন্ন পেইজ,গ্রুপ,ব্লগ করেছেন। যারা লেখালেখি করেন তারাও নিজেদের লেখাজোখা এইসব ভার্চ্যুয়াল গণমাধ্যমের সাহায্যে, প্রিন্টেড বই এর বিকল্প হিসেবে,সাহিত্য কবিতা, প্রবন্ধ,গল্প ইত্যাদির নিত্যনতুন সম্ভার প্রস্তুত করছেন। অনেকে আবার ঠিক একই ভাবে, বিভিন্ন বিনোদন মূলক গ্রুপ বানিয়ে ঘরে থেকেই নাচ,গান, শরীর চর্চা থেকে শুরু করে অনলাইন বিজনেস, কাপড় চোপড় শাড়ি, গয়না কেনা বেচার কাজও করছেন। বিভিন্ন এপ এর মাধ্যমে বড় বড় ব্র‍্যাণ্ডেড কোম্পানি গুলো তাদের বিক্রি বাট্টা দিব্যি বাড়িয়ে চলছে। আজকাল অনলাইনের দৌলতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ঘরের মানুষরা ঘরে বসেই কেনা কাটা, বিনোদন আড্ডা, শরীর চর্চা, খাবারের অর্ডার দিয়ে রেডিমেড তৈরী খাবার আনিয়ে মৌজ করছেন। আর নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরীবরা সস্তা শ্রমিক হয়ে বড় বড় নামকরা খাবারের ডেলিভারি বয় হয়ে বেগার খাটছে। তবুও মন্দের ভালো এই অতিমারীর সময়ে এই অনলাইন বিজনেস চালিয়ে যেতে পেরেছেন। সত্যি কথা বলতে কি এই লকডাউন ও অতিমারীর ফলে অনলাইন ব্যাপারটা খুব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

লকডাউনে স্কুল কলেজ টিউশন এসব বন্ধ থাকায় অনলাইনে ক্লাস, অফিস আদালতে অনলাইন মিটিং, সেমিনার গোটা ব্যাপারটাই আমাদের সমাজের অনেক চেনা চিত্র পালটে দিয়েছে। এই অনলাইন অপশনটি করোনা অতিমারীর আগেও ছিল, কিন্তু এতটা জনপ্রিয় ছিল না, কারণ মানুষ চিরাচরিত প্রথায় বেশিরভাগ কাজ কর্ম নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল। একটি মাত্র ছোট স্মার্টফোন ইন্টারনেট সহযোগে, কারো জন্য ক্লাস, কারো জন্য দোকান, কারোর সাহিত্য আড্ডা, কারোর আবার কবি আসর, আবার কারোর জন্য অফিসে মিটিং এর স্থান হিসেবে কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। ঘরে বসেই অন্য কাজ এর সাথে সাথে খুব সহজেই বাইরের দুনিয়ার সাথে জুড়ে যাওয়া এমন সুন্দর অভিজ্ঞতা অতিমারী ও করোনার যোগফল। এর ফলে সময়ের সাথে সাথে যোগাযোগ এবং যাতায়াতের খরচও প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে গেছে যারা এই মাধ্যমটি ব্যবহার শুরু করেছেন। আমরা খুব সহজেই বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও একই সাথে একই সময়ে একে অপরের সাথে ভারচ্যুয়ালি দেখা সাক্ষাৎ কথাবার্তা মিটিং, ক্লাস, নাচ, গান, রান্না, পরিবারের সবার সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছি, এই অনলাইন ইন্টারনেট ভার্চ্যুয়াল ওয়ার্ল্ডকে আমাদের হাতের মুঠোয় মুঠোফোন এর সাহায্যে করায়ত্ব করতে পেরেছি তাই। ঘরে বসে রোজগারের সুব্যবস্থা করে দিয়েছে এই অনলাইন সিস্টেম। গোটা বিশ্বে তথা আমাদের দেশেও রাজনৈতিক অঙ্কের সমীকরণ বদলে দিতেও এই অনলাইন সোসিয়েল সাইট, ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসাপ এদের ভূমিকা অপরিসীম। মুহুর্তের মধ্যেই আমরা এই সব অনলাইন সোসিয়েল সাইটের সুবিধা নিয়ে যে কোনো কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছি, কোথায় কি ভালো মন্দ হচ্ছে তার অনলাইন নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ অনলাইনে সরাসরি সারাবিশ্বে মূহুর্তে ছড়িয়ে দিয়ে ভুল আর শুদ্ধের মূল চিত্র প্রকাশ করা যায়।

আজকাল তো আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে সরাসরি লাইভে এসে নানা অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে পারি, দেখতে পারি। যার যখন খুশি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভা সমিতি আনন্দ অনুষ্ঠান এমনকি আজকাল নাটকও করার চেষ্টা চলছে। টুইটার, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসাপ গ্রুপ সব রাজনৈতিক নেতাদের আছে। এই সোসিয়েল সাইটের মাধ্যমে নিজেদের বিদ্যে এবং নিজেদের জাহির করাও চলে। একদল আছে যারা সোসিয়েল সাইটে মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য ফেইক জিনিসও প্রচার করে। সব কিছু মিলিয়ে এক বিশাল মিডিয়া এই ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া। এখানে সবাই নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি শো অফ করার জন্য রীতিমতো নিয়োগ করা হয় চাকুরির মত।

টুইটার, ক্লাব হাউজ, ফেসবুক এবং হোয়াটসাপ না থাকলে আপনি আজকালকার যুগে রাজনীতি করতে পারবেন না। এগুলোর মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের মানুষের সাথে জুড়ে থাকা যায় নানা ভাবে। লকডাউনের সময় অস্তিত্ব লিটল ম্যাগাজিনের কাজকর্ম চালিয়ে যাবার জন্য আমরাও অস্তিত্ব নামের ফেসবুক পেইজ খুলে সেই পেইজের মাধ্যমে লাইভে এসে আমরা আমাদের লেখালেখি, আমাদের ভাবনাচিন্তা নিয়ে আমাদের সাথে অন্যান্য জ্ঞানী গুণীদের সাথে আড্ডার অনুষ্ঠানের আয়োজন করি আমরা প্রায়শই। বিশেষ করে লকডাউনে এই ধরনের লাইভ অনুষ্ঠান অনেকটাই আমাদের মানসিক ভারমুক্ত করেছিল। ঘরে থেকেও অনলাইন সোসিয়েল সাইটের সুবিধা থাকায় অনেক জনকল্যাণমুখী এবং সামাজিক কাজকর্মও অনেক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার কর্মীরা চালিয়ে যেতে পেরেছেন।

তাছাড়াও দূরে থেকেও বন্ধু বান্ধব ও পরিবারের সাথে যোগাযোগ ও সংযোগ রাখা যায় অনলাইন সোসিয়েল সাইট এবং এই ধরনের বিভিন্ন এপের মাধ্যমে। পাপিয়া আমেরিকা থাকে, সুস্মিতা কাতারে, আমি শিলচরে। কিছু ব্যাঙ্গালোরে, কলকাতায়, আমার সীমান্ত শহর করিমগঞ্জের সবাই আমরা সব বন্ধুরা এক সাথে অনেকদিন পরপর একসঙ্গে অনলাইন হই, ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে ছোটবেলায় ফিরে যাই। ছেলেমেয়েরা অনবরত ল্যাপটপ, মুঠোফোনে নিজেদের পড়াশোনা, টিউশন, ইউটিউবে কোচিং করছে ভবিষ্যৎ কম্পিটিটিভ পরীক্ষা,চাকুরীর জন্য। যারা ইতিমধ্যেই চাকুরীরত আইটি সেক্টরে, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, ঘরে থেকেই অফিস করছে ঘরে বসে নিজের ল্যাপটপে। এই ফেসবুক, হোয়াটসাপের ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া অনেকটা খোলা ব্ল্যাকবোর্ড এর মত। যখন যা মনের হচ্ছে লিখছি,যার ইচ্ছে হচ্ছে পড়ছে, তারপর সেই ভাবনা চিন্তার পাতাগুলো ভাসতে ভাসতে এ পার না হয় ওপারে ঢেউ এর মত দুলছে। যারা এই ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে তাদের যার ভালো লাগছে পড়ছে, কেউ আবার অন্য কোন ব্লগে, বা গ্রুপে পোস্ট করে দিচ্ছে। এমনি করেই আমাদের ভাবনাদের আদানপ্রদান হয় আসমুদ্রহিমাচল সেই ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায়। সবই অনলাইন ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ার বরদান। আরও অনেক অনেক দিক আছে এই যেমন অনলাইন গেম, ফেবু গেইম গুলো, বিভিন্ন বিষয়ে দেশে বিদেশের সেমিনার, কর্মশালা, ইত্যাদি হাজার রকম পাঁচমিশালিতে উপচে আছে আজকের ভার্চ্যুয়াল জগত। আপাতত মুঠোফোনে ভার্চ্যুয়াল ভাবনাদের অক্ষরের খাঁচায় বন্দী করে হোয়াটসাপে চড়িয়ে পাঠিয়ে দিলাম পাঠকদের জন্য । অন্য কোন দিন এ নিয়ে আরও হবেখন। ততদিনে আরও অনেক নতুন নতুন সব ব্যাপার স্যাপার যোগ হবে। ততদিন সবাই ভালো থাকবেন।

জয়শ্রী ভূষণ : নাট্যকর্মী ও প্রাবন্ধিক।

1 Comments

  • Thought provking article. Very much absorbing. Thanks for addressing the issue you encountered.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post