• December 4, 2021

ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে মুর্শিদাবাদের ইরানী সম্প্রদায়

 ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে মুর্শিদাবাদের ইরানী সম্প্রদায়

ফারুক আব্দুল্লাহ :- নবাবী আমলে বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী শহর মুর্শিদাবাদে মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া থেকে ভাগ্যান্বেষনে বহু বিদেশী জাতী প্রবেশ করেছিল।এই সব বহিরাগত জাতী গুলির মধ্যে অন্যতম ছিল ইরানীরা।এদের অনেকেই আসত ব্যাবস্য-বানিজ্য করতে,কেউ আসত কারিগর হিসেবে, এদের মধ্যে অনেকে আবার প্রাদেশিক শাসন ব্যাবস্থায় উচ্চপদ লাভ করেও বাংলা তথা মুর্শিদাবাদে আসত।নবাবী আমলে ইরানীদের বাংলাতে নিয়মিত আসা যাওয়া চালু ছিল।আজ বাংলায় সেই নবাবী আমল নেই।বিদেশ থেকে কর্মসুত্রে বাংলায় আগত বহু জাতী আজ তাদের নিজস্বতা ভুলে স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিলে মিশে এক হয়ে গেছে।তবুও একদা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ শহরে এখনও কিছু ইরানী সম্প্রদায়ের মানুষের দেখা মেলে।

মুর্শিদাবাদ শহরের ‘চক’ বাজার এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার ইরানী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই কিছু প্রশ্ন উঠে আসে।মুর্শিদাবাদে বসবাসকারী এই ইরানী সম্প্রদায় কবে, কেন,কিভাবে মুর্শিদাবাদে এলো?নবাবী আমলে তাদের অবস্থাই বা কেমন ছিল? বর্তমানে তারা কেমন অবস্থায় রয়েছে?সমগ্র আলোচনায় এই প্রশ্ন গুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হলো।

এগারো শতকের প্রথমার্ধে মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি শাসকদের নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে বহু ইরানী শিয়া মুসলিম ইরান থেকে ভারতের কারগিল,দিল্লী,হাইদ্রাবাদ,লক্ষৌ,আমরোহা প্রভৃতি স্থানে এসে বসতী স্থাপন করে।এছাড়া পরবর্তী আমলে বিশেষ করে ইরানের সাফাভিদ বংশের রাজত্বকালে সব থেকে বেশি সংখ্যক ইরানী জনগণ নানান কারণে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ষোল এবং সতেরো শতকে ইরান ছিল সবদিক দিয়েই সমৃদ্ধশালী একটি দেশ। কিন্ত তবুও একটি প্রশ্ন থেকেই যায় যে সমৃদ্ধশালী দেশের নাগরিক হওয়া সত্তেও কিছু ইরানী জনগণ ইরান ছেড়ে কেন ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিল?এ প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে ভারতে ইরানীদের আগমনের পেছনে নানান কারণ ছিল।যেমন,কিছু সংখ্যক ইরানী ব্যাবস্যা বানিজ্যের জন্য ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করেছিল, তেমনি আবার কিছু ইরানী জনগণ এসেছিলো বিদ্রোহজনিত কারণে,কিম্বা সাফাভিদ রাজত্বকালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে।যেহেতু শেরশাহের কাছে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মুঘল বাদশাহ হুমায়ূন ইরানের সাফাভিদ বংশীয় রাজাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাদের সাহায্যেই তিনি পুনঃরায় দিল্লীর সিংহাসন লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে হুমায়ূনের রাজত্বকালে কাজের সন্ধানে ইরানিরা খুব রাজনুগ্রহ লাভের আশায় ভারতে আসতে থাকে। অন্যদিকে মুঘল বাদশাহরাও ইরানের দক্ষ অভিজাতদের মুঘল দরবারে আমন্ত্রন জানাতেন এবং তাদের উচ্চপদে নিয়োগ করতেন।অনেক সময় আবার কিছু ইরানী জনগণ ইরানের বাদশাহদের অনুগ্রহ লাভে ব্যার্থ হয়ে মুঘল ভারতে প্রবেশ করত চাকুরী পাবার আশায়।

ইরানীদের সম্পর্কে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে ইরানীরা অস্থায়ীভবে কিম্বা কোন নিদৃষ্ট সময়ের জন্য ভারতে আসেনি।অধিকংশ ইরানীরাই ভারতে এসেছিল চিরস্থায়ী ভাবে বসবাস করার জন্য। ভারতে এসে তারা স্থানীয় মেয়েদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা ভারতীয়দের সাথেই মিশে যেত। মুঘল যুগে ইরানীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সমস্ত দিক দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। যে সব ইরানী পরিবার ষোল,সতেরো শতকে ভারতে এসেছিল তাদের বংশধরদের অনেকেই আঠেরো শতকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে বহাল ছিল। মুঘল অভিজাতদের একটা অংশ ছিল ইরানী।এছাড়া মুঘল যুগে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উচ্চপদ গুলিতেও ইরানীদের নিযুক্ত করা হত।

বণিক হিসেবে বাংলায় ইরানীদের প্রবেশ ঘটতে থাকে ষোল শতকের প্রথম দিকে।
সতেরো শতকে বাংলা ও পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলির মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছিল।বহু সংস্কৃতিবান উচ্চ-শিক্ষিত ইরানী পন্ডিত,চিকিৎসক,কারিগর,কবি বাংলায় প্রবেশ করেছিল কাজের সন্ধানে।তৎকালীন সময়ে আফগান গিরিপথ গুলি দিয়ে কিম্বা সুরাট বন্দর হয়ে উত্তর ভারতের মধ্যে দিয়ে স্থলপথে ইরান থেকে বাংলায় আসার চেয়ে ইরানের আব্বাস বন্দর অথবা ইরাকের বসরা থেকে সমুদ্র পথে বাংলার হুগলিতে আসা ছিল সহজতর।

আঠেরো শতকের প্রথমদিকে বিশেষ করে নবাব মুর্শিদকুলী খাঁনের আমলে ইরান থেকে বহু শিয়া মুসলিম বাংলায় আসে এবং বাংলার বিভিন্ন শহর যেমন ঢাকা,মুর্শিদাবাদ,চট্টগ্রাম,হুগলী প্রভৃতি তে বসবাস করতে শুরু করে।বাংলার প্রথম দিকের নবাবদের সাথে ইরানের খুব ভাল যোগাযোগ ছিল ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই ইরান থেকে বাংলায় আগত জনগণদের অনেকেই নবাবী পৃষ্টপোষকতা লাভ করেছিল এবং বাংলার শাসনব্যাবস্থায় বড় বড় পদে চাকুরী পেয়েছিল।নবাবী আমলে সমগ্র বাংলা তথা রাজধানী শহর মুর্শিদাবাদে ইরানীদের প্রভাব ছিল খুব বেশি। বাংলায় ইরানীদের কার্যকলাপ দেখে অনুপ্রানিত হয়েও ইরান থেকে আরও অনেক ভাগ্যান্বষনে মুর্শিদাবাদ শহরে আসতে থাকে।

এই সব ইরানীদের মধ্যে যারা নবাবদের দ্বারা উচ্চপদে নিযুক্ত ছিলেন তারা মুর্শিদাবাদেই বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে এখানেই স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে শুরু করে।আবার কিছু সংখ্যক যাযাবর ইরানী গোষ্ঠী ছিল যারা নানান কারনে দেশ ত্যাগ করে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং বাংলা সহ সমগ্র ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাবসা-বানিজ্য করে বেড়াত। এরা কোথাও স্থায়ী ভাবে বসবাস করতনা।প্রতি বছর নবাবী পৃষ্টপোষকতায় আয়োজিত রাজধানী মুর্শিদাবাদের রাজকীয় মহরমে অংশগ্রহন করতে ইরানী যাযাবরদের বেশ কিছু গোষ্ঠী মুর্শিদাবাদে আসত এবং মহরম শেষে তারা মুর্শিদাবাদ ত্যাগ করত।এই সমস্ত ইরানী যাযাবর গোষ্ঠীই ছিল বর্তমানে মুর্শিদাবাদ শহরে বসবাসকারী ইরানী সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষ।

বর্তমানে মুর্শিদাবাদ বা লালবাগ শহরের প্রাণকেন্দ্র চকে এবং চকের পার্শ্ববর্তী কিলা রাজা বাজার,বাকরি গালি, দৌলতমাদার এলাকায় ইরানী সম্প্রদায়ের মানুষরা বসবাস করে।তবে বর্তমানে প্রায় ছয়শটি পরিবার মুর্শিদাবাদের চকে রয়েছে তাদের পূর্বপুরুষদের নবাবী আমল থেকেই মুর্শিদাবাদে আসা যাওয়া চালু ছিল মহরম উপলক্ষে।ইরানীদের একটি বড় গোষ্ঠী প্রতিবছর মুর্শিদাবাদে মহরমে যোগ দিতে আসত এবং দশদিন তারা হাজারদুয়ারী সংলগ্ন মাঠে তাঁবু লাগিয়ে থাকত।এই দশদিন নবাবরাই তাদের খাওয়ার ব্যাবস্থা করত। মহরম শেষ হলেই আবার তাদের যাযাবররে জীবন শুরু হয়ে যেত।

ইরানের এই যাযাবর জনগোষ্ঠী মুর্শিদাবাদ বা লালবাগ শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে খুব সম্ভাবত নবাব ওয়াসেফ আলী মির্জা এবং নবাব ওয়ারেশ আলী মির্জার আমল থেকে।প্রথমদিকে তিরিশ থেকে চল্লিশটি পরিবার মুর্শিদাবাদে প্রথম বসতি স্থাপন করে।তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীতে অন্যান্য ইরানীরাও মুর্শিদাবাদে স্থায়ী ভাবে বসবাস করার জন্য আসতে থাকে।পরবর্তী সময়ে নবাবী এস্টেটেই তাঁদের বসবাসের জন্য জায়গা বরাদ্দ করা হয়। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ শহরেই প্রায় ছয়শটি পরিবারে আড়াই থেকে তিন হাজার ইরানী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে।

ইরানীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, তাদের পূর্বপুরুষরা বহু বছর আগে ইরান থেকে আফগানিস্থান,পাকিস্থান হয়ে ভারতে প্রবেশ করে,এর কারন হিসেবে বলে যে তাদের পূর্বপুরুষরা নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান ত্যাগ করে এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে থাকে।এখনও ভারতবর্ষের নানা প্রান্তে ইরানীরা বসবাস করছে। বাংলাতে শুধু মুর্শিদাবাদেই নয় বর্ধমানের জেলা শহরে,আসানসোলে, বীরভূম জেলার নলহাটিতে এবং কলকাতাতেও এরা রয়েছে। বর্ধমানে মুঘল আমলের জায়গীরদার শের আফগান আলী কুলী খাঁনের বেগম মেহের-উন-নিসা বা নুরজাহানও ছিলেন ইরানের মেয়ে।ফলে খুব সম্ভাবত তখন থেকেই বর্ধমানে ইরানীদের যাতায়াত শুরু হয়।

মুর্শিদাবাদ শহরে বসবাসকারী ইরানী সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করার পরও তারা তাদের মাতৃ ভাষা ফার্সি কে ভুলে যায়নি।ফার্সি ভাষা দীর্ঘদিন ধরে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে পরিচিত ছিল।বাংলার নবাবাদের প্রশাসনিক এবং কথ্য ভাষাও ছিল ফার্সি।কিন্ত সময়ের সাথে সাথে বাংলার নবাব বংশের সদস্যরা ফার্সি ভাষা ত্যাগ করে উর্দু ভাষাকেই আঁকড়ে ধরেছে।কিন্ত মুর্শিদাবাদ শহরের ইরানীরা আজও নিজেদের পরিবারের এবং নিজ গোত্রের মানুষদের সাথে ফার্সিতেই কথা বলে।সেই সাথে বাংলা,হিন্দি, উর্দু এবং ইংরেজিতেও তারা কথা বলতে শিখছে ধীরে ধীরে।

এখনও তাদের খাদ্যাভ্যাসে ইরানী সংস্কৃতির পরিচয় মেলে।মুর্শিদাবাদের ইরানী সম্প্রদায়ের প্রধান খাবার বিরিয়ানি এবং পোলাও জাতীয় ‘পাগুষ্টি’।যেটি চালের সাথে মাংস,মসলা,ঘি সহযোগে তৈরি করা হয়।এছাড়াও ঘিয়ে ভাজা রুটি বা পরোটা তাদের খুব প্রিয়।ইরানীদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে মাংস খুব গুরুত্বপূর্ণ।মুর্শিদাবাদে বসবাসকারী ইরানীরা এখনও স্থানীয় বাঙালী খাদ্যাভ্যাসের সাথে তেমন অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি। ইরানীদের মধ্যে পান খাওয়ার খুব চল রয়েছে। ছোট অথবা বড়, নারী কিম্বা পুরুষ প্রত্যেকেই পান খেতে অভ্যস্ত।

মুর্শিদাবাদ শহরের ইরানী সম্প্রদায়দের মধ্যে সাধারণত নিজ গোত্রের মধ্যেই বিবাহ দেওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে।শহরে বসবাসকারী প্রায় ছয়শটি ইরানী পরিবার আবার কতগুলি কাবিলা বা গোত্রে বিভক্ত।এবং প্রতিটি গোত্রে রয়েছে একজন সর্দার যিনি সেই গোত্রের অভিভাবক। গোত্রের সর্দার বা গোত্র প্রধানরাই গোত্রের মানুষদের সুবিধে-অসুবিধের দিকে লক্ষ্য রাখেন। এমনকি সর্দাররাই গোত্রের মধ্যে সংঘটিত নানান বিবাদের মীমাংসা করেন।

মুর্শিদাবাদ বা লালবাগ শহরে বসবাসকারী ইরানী সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে শিক্ষার হার অত্যন্ত কম। তবে এর পেছনে বিভিন্ন কারনও রয়েছে যেমন অধিকাংশ ইরানীদের মাতৃ ভাষা ফার্সি।ফলে তারা বাংলা কিম্বা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গুলিতে খুব একটা সুবিধে করতে পারে না।অন্যদিকে বেশিরভাগ অশিক্ষিত ইরানী বাবা মা তাদের সন্তানদের শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ব্যার্থ হয়।অধিকাংশ ইরানী বাচ্চাদের বুনিয়াদী শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় মসজিদের ইমামের কাছে আরবি,ফার্সি ও উর্দু ভাষা এবং কোরান শিক্ষার মাধ্যমে।তবে বর্তমানে কিছু ছেলে মেয়ে আধুনিক শিক্ষা গ্রহন করছে।এমন অনেক ইরানী ছেলে মেয়ে রয়েছে যারা বর্তমানে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য কলেজেও যাচ্ছে।

মুর্শিদাবাদ শহরে বসবাসকারী ইরানী সম্প্রদায়ের পেশার ভিত্তিতে দুটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। কিছু সংখ্যক ইরানীরা মূল্যবান পাথর ব্যাবসার সাথে জড়িত।এরা উত্তর ভারত থেকে মূল্যবান পাথর কিনে সেগুলি পূর্ব ভারত বিশেষ করে আসামে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। এদের জীবনযাত্রারমান খুব উন্নত।এই পাথর ব্যাবসায়ীদের অনেকেই বর্তমানে অন্য ক্ষেত্রেও অর্থলগ্নি করেছে।অন্যদিকে মুর্শিদাবাদেই রয়েছে কিছু ইরানী জনগোষ্ঠী যারা মূলত চশমা বিক্রি করে কোন রকমে বেঁচে আছে।এদের জীবনযাত্রারমানও খুব নিচু।এদের অধিকাংশ মহিলারা লালবাগের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান গুলিতে এবং পুরুষরা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে চশমা ফেরি করে কোনোরকমে রোজগার করে।

ইরানীদের আর্থিক অবস্থা যেমনই হোকনা কেনো তাদের আত্মসম্মানবোধ যে খুব উঁচুমানের সে প্রমান তাদের সাথে কথা বলেই পাওয়া যায়।তাদেরকেই বলতে শোনা গেল যে ’হাম ইরানী লোগ কিসিকা গুলামি নেহি কারতে’। মুর্শিদাবাদ বা লালবাগ শহরে বসবাসকারী ইরানীরা কোন দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেনা।সে তাদের অর্থনীতিক অবস্থা যত করুণই হোক না কেন।
ইরান,সৌদি আরব, ইরাক, ব্রিটেন, এবং আমেরিকার বিভিন্ন ট্রাস্ট থেকে মুর্শিদাবাদের ইরানিদের অবস্থার উন্নতির জন্য,এবং তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ বাবদ প্রচুর টাকা পাঠানো হয়।কিন্তু সম্প্রতি সেই টাকা ইরানীদের হাতে ঠিকমতো এসে পৌঁছয়না।এই কাজে যুক্ত দালালরা তাঁদের প্রাপ্য টাকার একটা বড়ো অংশের ভাগ নেয় বলে অনেকের অভিযোগ।

মুর্শিদাবাদ শহরের ইরানীদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে তাঁরা ফার্সি ভাষী ভারতীয় নাকি ভারতে বসবাসকারী ইরানী।ইরানী সম্প্রদায় হিসেবে তাদের পৃথক ভাবে কোনদিনই তাদের চিহ্নিত করা হয়না।মুর্শিদাবাদের শিয়া মুসলিমদের সাথেই একত্রেই তাদের ধরা হয়। ফলে খাতা কলমে ইরানী বলে কোন জাতীর খোঁজ পাওয়া যায়না।কোন একদিন হয়তো আমাদের অজান্তেই মুর্শিদাবাদ শহরে বসবাসকারী এই ইরানী সম্প্রদায় তাদের স্বকীয়তা ভুলে বাকি বহিরাগত জাতী গুলির মতোই সবার সাথে মিলে-মিশে একাকার হয়ে যাবে।হয়তো সেদিন খুব বেশী দূরে নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  

Related post