• December 4, 2021

এন আর সি বিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের জামিনঃ স্বাগত জানালেন মানবাধিকার কর্মীরা

 এন আর সি বিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের জামিনঃ স্বাগত জানালেন মানবাধিকার কর্মীরা

পূর্বাঞ্চল নিউজ ব্যুরো: জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন এন আর সি ও সিএএ বিরোধী আন্দোলনের তিন সক্রিয় কর্মী আসিফ ইকবাল ( জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়) এবং নাতাশা নারওয়াল ও দেবাঙ্গনা কলিতা( জে এন ইউ ও পিঞ্জরা তোড় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত)। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে দিল্লি দাঙ্গায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে ও দানবীয় ইউ এ পি এ আইনে অভিযুক্ত করে।

দিল্লি হাইকোর্টের দুই বিচারপতি সিদ্ধার্থ মৃদুল ও অনুপ জয়রাম আসিফদের জামিনের রায়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন বিক্ষোভ ও বিরুদ্ধতা করা রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা জঙ্গি কার্যকলাপ নয়।যেভাবে রাষ্ট্র প্রতিবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের মধ্যেকার সীমারেখাকে মুছে দিচ্ছে, যথেচ্ছ ভাবে দানবীয় ইউএপিএ আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে, উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই প্রতিবাদীদের জেলে আটকে রাখা হচ্ছে তাতে বিচারপতিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মহামান্য আদালতের পর্যবেক্ষণ বক্তৃতা দেওয়া,চাক্কা জ্যাম সংগঠিত করা বা মহিলাদের প্রতিবাদে আহ্বান জানানো কখনোই ষড়যন্ত্রমূলক কাজ হতে পারে না। বিচারপতিদের মতে- ‘ সরকার ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ন্যায়সংগত এবং যদিও মনে করা হয় যে এই ধরনের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস হবে, তবে এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয় যে কখনো কখনো তা আইন নির্ধারিত সীমারেখাকে অতিক্রম করে।’।
পূর্বাঞ্চল নিউজ ব্যুরোর পক্ষ থেকে দিল্লি হাইকোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ রায় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলাম মানবাধিকার কর্মীদের কাছ থেকে।কমিটি ফর রিলিজ অব পলিটিক্যাল প্রিজনার্স এর সর্বভারতীয় সহ সভাপতি তথা বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অধ্যাপক সুজাত ভদ্র এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে মনে করিয়ে দিলেন কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রদ্রোহ আইন সংক্রান্ত প্রশ্নে উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও ন্যাশানাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংক্রান্ত অপর একটি মামলায় ( উত্তর প্রদেশে ডাঃ কাফিল খানের জামিন) মহামান্য আদালতের রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সরকার যখন নানা ভাবে বিচারবিভাগকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে তখন এই তিনটি রায় আশাপ্রদ। তার মতে সংবিধানে প্রতিবাদ ও বাকস্বাধীনতার যে রক্ষাকবচের কথা বলা হয়েছে এই রায় তারই স্বীকৃতি। সুজাতবাবুর আশা শুধু কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিই নয়,মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পশ্চিম বঙ্গ সরকার বা বিজয়নের কেরল সরকারেরও উচিত এই রায় থেকে শিক্ষা নেওয়া কারণ পূর্ব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সবরাজ্য সরকারই কমবেশি স্বৈরাচারী প্রবণতা দেখিয়ে বিক্ষোভকে এইভাবে স্তব্ধ করার চেষ্টা করে।সবার মনে রাখা উচিত স্বৈরাচারী রাষ্ট্র যে কোন বিক্ষোভ বা প্রতিবাদকে রাষ্ট্র বিরোধী অন্তর্ঘাত বলে দেগে দেয় কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিবাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।

ভারতের অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলির সমন্বয় মঞ্চ কো-অর্ডিনেশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস অর্গানাইজেশনের অন্যতম নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আশিষ গুপ্ত রায়কে স্বাগত জানিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করলেন উচ্চ আদালত এই পর্যবেক্ষণকে মান্যতা দেবে না।তার মতে সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের বিভিন্ন রায়ে সরকারের প্রভাব স্পষ্ট। প্রসঙ্গক্রমে তিনি ভীমা কোঁরেগাও মামলার কথা উল্লেখ করলেন যেখানে ভুয়ো মামলায় বয়স্ক, অসুস্থ সমাজকর্মীদের এই অতিমারীর সময়েও জামিন দেওয়া হয় নি।মামলার তিনবছর অতিক্রান্ত অথচ বিচার প্রক্রিয়া সেভাবে শুরুই হয় নি।আশীষবাবু সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির রায় উল্লেখ করে বলেন শতকরা ৯০ ভাগ মামলাই এদেশে ভুয়ো কিন্তু অভিযুক্তরা বিচার পাচ্ছেন না।

আসানসোল সিভিল রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সহ সম্পাদক ও প্রাবন্ধিক সুমন কল্যাণ মৌলিক এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন এই রায় মানবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘ দিনের বক্তব্যের স্বীকৃতি। তার মতে এই রাজ্যেও দীর্ঘ দিন ধরে বিনা বিচারে রাজনৈতিক বন্দীরা আটকে রয়েছেন। সরকারের উচিত অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়া।একই সঙ্গে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রদ্রোহ আইন বাতিলেরও তিনি দাবি তোলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related post