জান্নাতুল মাওয়া ড্রথি :- আমার মতে দুই বাংলা একদিন এক অখন্ড বাংলা হবে এটাই ভবিতব্য এবং এই বাঙালি জাতি একদিন পথ দেখাবে পুরো ভারতবর্ষ সহ পুরো এশিয়াকে আর এশিয়া পৃথিবীকে। আজ যাদের কথাটা হাস্যকর মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে বেঁচে থাকলে মিলিয়ে নেবেন।বাঙালির একা বাঁচার উপায় নেই কারন তাঁর দায়িত্ব সবাইকে নিয়ে বাঁচা। যেদিন বাঙালি শুধু নিজের কথা ভাবতে শুরু করে ছিল সেদিনই সে ভেঙে দুই খন্ড হয়েছিল।আজ আমরা যতই শুধু ব্রিটিশ কে গালি দেই না কেন আমাদের অজ্ঞতাই আজ ব্রিটিশ কে সফল করেছে। ব্রিটিশ আমাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছিল আমাদের একতা এবং জ্ঞান এই দুটোকে নষ্ট করে দিয়ে। আমরা ধর্মের দোহাই দিয়েছি কিন্তু আমরা ভুলে গিয়েছিলাম ধর্ম এবং জ্ঞান দুটোই পারস্পরিক স্তম্ভ, একটা ছাড়া আরেকটা কোন কাজেই আসে না। জ্ঞানহীন ধর্মবোধ একতা কে সবার প্রথমে ভেঙে ফেলে, যেমন হিন্দু মুসলিম দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেদিন ভাঙন এসেছিল জ্ঞানহীন ধর্মবোধে। আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলে মুসলিম তো আরব থেকে এসেছে আবার অনেক মুসলিম বলে তোমরা তো আর্য সম্প্রদায় ভারতীয় নয় ইউরোপ আফ্রিকা থেকে এসেছো, কিন্তু এরা কেউ ভাবে না আর্যরা বা আরবরা এখানে আসেনি,এসেছিল তাদের ধর্মজ্ঞানীরা, যাদের আমরা সাদরে গ্রহণ করেছিলাম। এই বঙ্গজাতি কোথাও হারিয়ে যায়নি বরং তাঁর মাঝে পৃথিবীর প্রায় সকল সভ্যতা এসে মিশে গিয়েছে। হ্যাঁ এই সভ্যতার মাঝেই একটা অসভ্য এসেছিল সেটাই হচ্ছে ব্রিটিশ।এই জাতি মহামতি আলেকজান্ডার কে ফেরাতে পেরেছিল কিন্তু ব্রিটিশ কে পারেনি।এটাই তাঁর ব্যর্থতা। এই বাঙালি জাতির হাজার হাজার বছরের একতা,জ্ঞান এবং অস্তিত্বের মধ্যে একটু একটু করে ঘুণ ধরিয়েছে ব্রিটিশ, তাদের বিশ্বাস কে নষ্ট করেছে, একতার মাঝে ধরিয়েছে ভাঙন,কারন তাঁরা জানত বাঙালি একথাকা মানে সারা পৃথিবীতে অশুভ সাম্রাজ্যেবাদীদের জন্য সেটা চ্যালেঞ্জ।

তবে আমার বিশ্বাস বাংলা এবং ভারতবর্ষ আবার একদিন এক হবে কারণ তাদের ভাঙনটা ছিল ষড়যন্ত্রের অংশ এবং ভুল সিদ্ধান্ত।পৃথিবীর আজকে যে করুন অবস্থা তাঁর পরিবর্তন এর শুরু এই ভারতবর্ষ থেকেই শুরু হবে। কারণ এই অবস্থা তৈরি হয়েছিল ভারত কে পদদলিত করেই।আর ভারতের পদদলন শুরু হয়েছিল বাংলাকে পরাজিত করে এবং এর স্থায়িত্ব আনা হয়েছিল বাংলাকে দুই খন্ডে বিভেদ করে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বানিয়ে এবং আজ পর্যন্ত এটা অক্ষুণ্ন রাখতে একটার পর একটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। যেমন সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এ বাঁধা, আধুনিক এই যুগে সারা পৃথিবীর খবরাখবর আমাদের দোড়গোড়ায় কিন্তু পাশাপাশি দুই বাংলা একে অপরের কাছে অনেকটাই অজানা আজকের এই মুহূর্তে। যে সমস্যার সমাধান একটা আলোচনার টেবিলে মুহূর্তেই করা যায় অথচ তা যুগ যুগ জিইয়ে রাখা হচ্ছে কেন? কারন এগুলোই দুই পাড়ের মানুষ কে একেঅপরের প্রতি ঘৃণা, বিভেদ আর বিদ্বেষী মনোভাব কে টিকিয়ে রাখবে। এই নোংরা রাজনীতির খেলা যতদিন দুই পাড়ের মানুষ বুঝতে অক্ষম থাকবে ততোদিন স্বাধীনতা, স্বাধিকার, ধর্ম আর উন্নতির নামে ধোঁকা খাবে। আগেই বলেছি বাঙালির একা বাঁচার উপায় নেই, বাঙালি কে সবার কথাই ভাবতে হবে। বাঙালি যতোদিন মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়াবে ততোদিন এই উপমহাদেশে শান্তি, শৃঙ্খলা আর আত্মশক্তির সেই ক্ষমতা ফিরবে না, পশ্চিমা আধিপত্য থেকেও মুক্তি মিলবে না।।

(লেখকের নিজের মতামত পোর্টালের সাথে এই মতামতের কোন সম্পর্ক নেই)