• June 29, 2022

Category : বিদেশ

বিদেশ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীন ড. মো. এরশাদুল হক অনুপম সৌন্দর্যবোধ, অপূর্ব মননশীলতা, মিত আদর্শের তেজদীপ্তি, দুর্নিবার মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত সৈনিক হিসেবে যে কয়েকজন প্রথিতযশা ক্ষণজন্মা ও বিদগ্ধ সঙ্গীতশিল্পীর বিচরণে উত্তরবঙ্গ ধন্য হয়েছে তাঁদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা কছিম উদ্দীন বিশেষভাবে অগ্রগণ্য। ভাওয়াইয়ার অঙ্গনে শিল্পী কছিম উদ্দীন এক বিস্ময়কর নাম। ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দীনের পর ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে শিল্পী কছিম উদ্দীন আজও নিষ্প্রভ হয়ে আছেন। তিনি ছিলেন একাধারে কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, দোহার এবং অভিনেতা। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ শিল্পী ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে এক নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেন। ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে যোগ করেন এক নতুন মাত্রা। বলা যায়, বিশ্বের দরবারে ভাওয়াইয়াকে পরিচিত করে তুলতে আব্বাস উদ্দীনের পর যে নামটি সর্বাগ্রে স্মরণীয় সেটি হলো কছিম উদ্দীন। Read More

বিদেশ

লোকসঙ্গীতে লিঙ্গবৈষম্য: গৃহবধূর গৃহবন্দীত্ব প্রসঙ্গ

লোকসঙ্গীতে লিঙ্গবৈষম্য: গৃহবধূর গৃহবন্দীত্ব প্রসঙ্গ ড. শিবলী চৌধুরী লিঙ্গবৈষম্য সময়ের অতি আলোচিত বিষয় সমূহের অন্যতম। এই বিশেষ 'শব্দবন্ধটি' বর্তমান সময়ের সমাজ-অনুশীলনের ক্ষেত্রে বহুলভাবে চর্চিত। অক্সফোর্ড অভিধানে 'লিঙ্গ' এর ইংরেজি প্রতিশব্দ 'gender' সম্পর্কে আমরা যে ব্যাখ্যা পাই তাহলো 'the fact of being male or female, especially when considered with reference to social and cultural differences, not Read More

বিদেশ

গোর্কির ‘মা’

গোর্কির ‘মা’ আমি পড়ি নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়। কার অনুবাদে মনে নেই। সেই বয়সেই পুরো বইটি দাগিয়ে দাগিয়ে লাল করে ফেলেছিলাম। এরপর গোর্কির গল্প সংকলন ‘গোর্কি অমনিবাস’, স্মৃতিকথার তিনখণ্ড- আমার ছেলেবেলা, পৃথিবীর পথে ও পৃথিবীর পাঠশালায় কিনে ফেলি। গোর্কির মা-প্রীতি থেকে আমি নোবেলজয়ী পার্ল এস বাকের মা, মহাশ্বেতা দেবীর হাজার চুরাশির মা, শওকত ওসমানের জননী ও আনিসুল হকের মা পড়ি।Read More

বিদেশ

বাওবাব এক আশ্চর্য গাছ

সুদীপ মিশ্র একটি সুবৃহৎ" বাওবাব "গাছের তলায় দু - টুকরো কেম্বিশ ঝুলিয়ে ছোট্ট একটা তাঁবু খাটানো হোলো। কাঠ কুটো কুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে রাত্রে খাবার তৈরী করতে বসল শঙ্কর। তারপর সমস্ত দিন পরিশ্রমের পরে দুজনেই শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।" - চাঁদের পাহাড় সাল 2005 সেপ্টেম্বর মাস। UN এ থাকাকালীন গোমা থেকে ভুনিয়া যাচ্ছিলাম আমাদের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার গ্রুপ ক্যাপ্টেন অজিত কুমারের সাথে। সেটাই ছিল কমান্ডারের প্রথম familiarisation trip.8 সিটের ছোট্ট এয়ারক্রাফটটা যখন "কিংশাসা"(Democratic republic of Congo র রাজধানী) ঢুকছে তখন শহরের বাইরে বেশ কিছু অদ্ভুত দর্শন গাছ দেখেছিলাম। অনেকটা জলের বোতলের মতন টেঁপা গোছের, কোনটা জলভর্তি কুঁজো র মতন। এয়ারপোর্টে দুএকজন কে জিজ্ঞাসা করতেই যা বলেছিলো ফ্রেঞ্চ ভাষায় তা আমার কৌতুহল নিভিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ ছিলো। বেশ কয়েকমাস পর একদিন আমার রাত্রিকালীন ডিউটি চলাকালীন ডেজিরে কে সময় কাটানোর জন্য গাছটা নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ডেজিরে ছিলো আমাদের airport coordinator. মাঝ রাত্তির, সন্ধ্যের একপশলা বৃষ্টির পর চারিদিকে সোঁদা সোঁদা গন্ধ, রানওয়ের ওপর স্তূপীকৃত লাভা অন্ধকারে ঢিপির মতন অবয়ব নিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে, ডানে উগান্ডা সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে "নিয়ারারঙ্গো"আগ্নেয়গিরি টগবগ করে ফুRead More

দেশবিদেশ

বাঁচতে চাইলে প্রকৃতি বাঁচান– হাতে আর সময় নেই বন্ধু।

প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদত ও সহযোগিতায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পাহাড়প্রমাণ লাভের কড়ি সচল রাখতে প্রকৃতি-পরিবেশকে করছে বিধ্বস্ত। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সমীক্ষা ও গবেষণার সূত্র ধরে জানাচ্ছেন– অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীটাই মানুষ সহ সকল জীবজন্তুর বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে। IPCC (Intergovernmental Panel on Climate Change) 'র ষষ্ঠ রিপোর্টে সারা বিশ্বের সাথে ভারতবর্ষের জন্যও ভয়ঙ্কর বিপদবার্তা জারি করা হয়েছে। রিপোর্টের ছত্রে ছত্রে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ স্পষ্ট– ভূউষ্ণায়ন, বরফের অতি দ্রুত গলন এবং সমুদ্রের জলস্তরের ফুলে-ফেঁপে ওঠার কারণে খুব বেশি হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের কম করে ৪০০ টি উপকূলবর্তী শহর জলের তলায় তলিয়ে যাবে। এই তালিকায় কলকাতা সহ ভারতের ১২ টি শহরও বিপর্যয়ের প্রহর গুনছে। কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি, নয়ডার মতো মেট্রো শহরগুলিকে বলা হচ্ছে ' আরবান হিট আইল্যান্ড'। Read More

বিদেশ

লুসাই নৃ-গোষ্ঠী

লুসাই নৃ-গোষ্ঠী মেঘের রাজ্য সাজেকের সবচেয়ে বৈচিত্রময় সৌন্দর্য হচ্ছে লুসাইগ্রাম। এই গ্রামের সৌন্দর্যে মুগ্ধতা আসবেই।পাহাড়ি সৌন্দর্যের সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার একেবারে উত্তরে মিজোরাম সিমান্তে অবস্থিত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে সাজেক। আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুড়া, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা অবস্থিত। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতার সাজেক ভ্যালি প্রাকৃতিক ভূ-স্বর্গ হিসেবে সকলের কাছে সমাদৃত। প্রকৃতি এখানে সকাল বিকাল রঙ বদলায়। মন যা চায় প্রকৃতি যেন সেইভাবেই উপস্থাপন হয়। সারি সারি পাহাড় আর পাহাড়ের গায়ে মেঘের চাদর দেখে যেকোনো বিষন্ন মন সৃষ্টির সৌন্দর্যে মেতে উঠে।নৈস্বর্গিক সাজেক ভ্যালিকে রাঙামাটির ছাদ বলা হয়। কর্ণফুলী নদীর উদ্ভূত সাজেক নদী থেকেই সাজেক ভ্যালির নাম এসেছে। সাজেকের কংলাক পাহাড় থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায় এবং হিলভিউ রুম থেকে সুউচ্চ সবুজের সমারোহ উপভোগ করা যায়। সাজেকে বাঁশের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী মানুষেরা তাঁদের বাড়িঘর বাঁশের মাচানের উপর তৈরি করে বসবাস করে। পর্যটকদের থাকার ঘরগুলো বাঁশের মাচান দিয়ে তৈরি। পাহাড়ের গায়ে তৈরি করা এই ঘরগুলো যেন পাহাড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিয়েছে বহুগুণ।Read More

বিদেশ

চীন-পাকিস্তান সংযোগকারী ঐতিহাসিক সেতুর সলিল সমাধি বনাম জলবায়ু পরিবর্তন

চীন-পাকিস্তান সংযোগকারী ঐতিহাসিক সেতুর সলিল সমাধি বনাম জলবায়ু পরিবর্তন। সন্তোষ সেন।। গত ৭ই মে, ২০২২ চীন-পাকিস্তান সংযোগকারী একটি ঐতিহাসিক ব্রিজ সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়ল, তলিয়ে গেল জলের তলায়। পাকিস্তানের কারাকোরাম হাইওয়ের সন্নিকটে চীনের সাথে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক এই ব্রীজটির নাম 'হাসানাবাদ সেতু'। ব্রীজটির ভেঙ্গে পড়ার কারণ সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে তা হলো– এপ্রিল মাস জুড়ে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা ছিল ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ওখানকার গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রার থেকে আট থেকে দশ ডিগ্রি বেশি। অত্যধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং তাপপ্রবাহের কারণে একটি বিশাল আকারের বরফের পাহাড় (Shisper glacier) সম্পূর্ণরূপে গলে যায়, যার ফলে নদীতে প্রবল জলস্ফীতি ভাসিয়ে নিয়ে গেল এই ব্রীজকে। বাজারী সংবাদপত্রে এইসব হাড়হিম করা খবর আমরা দেখতে পাব না তা নিশ্চিত। কিন্তু বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্রীজটির ধ্বংসসাধনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রচুর মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো থেকে জানা যাচ্ছে – প্রবল জলস্রোতের কারণে সেতুর সাথে সাথে দুটি জল-বিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রচুর বাড়ি, আবাসন, প্রশাসনিক ভবনও জলের তলায় তলিয়ে গেছে। আসলে এসবই মনুষ্যসৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ-ঘনঘটা, বলা ভালো প্রকৃতির মধুর প্রতিশোধ। বিগত কয়েক দশক ধরে নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস, সবুজ বনানী নিধন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অপরিমিত ব্যবহারের কারণে ভূউষ্ণায়ন, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং এসবের হাত ধরে অস্বাভাবিকহারে মেরু বরফের গলন বেড়েই চলেছে। তথাকথিত ছিন্নমস্তা উন্নয়ন, নগরায়ন এবং সভ্যতার (!) রথের চাকাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যেভাবে প্রকৃতির নিষ্পেষণ, অত্যাচার ও লুঠ বেড়েই চলছে, তারই বদলা নিচ্ছে এবার প্রকৃতি-মা। Read More

বিদেশ

“পাকিস্তানের জনগনের হাতেই পাকিস্তানের পরিবর্তন”

যারা ভাবছে ইমরান খান বিপুল ভোটে আগামী ২০২৩ এর ইলেকশনে ক্ষমতায় আসবে তাদের এই আশা নিয়ে আমি যথেষ্টই সন্দিহান। হ্যা এটা সত্যি জনগন ইমরান খানের পক্ষে। কিন্তু শুধু জনগনের ইচ্ছা আর ভোটের উপরে কি পাকিস্তানের ক্ষমতায় যাওয়া বা আসা নির্ভর করে? ১৯৪৭ থেকে এখন পর্যন্ত যা কিছু শোনা বা প্রত্যেক্ষ করেছে বিশ্ব তাতে স্পষ্ট পাকিস্তানের ক্ষমতার মসনদে কে থাকবে তা নির্ধারণ করে পশ্চিমা মদদপুষ্ট সেনাবাহিনী আর সর্বোচ্চ আদালত। তাই ইমরান খান যদি পশ্চিমা বিশ্বের অর্থাৎ আমেরিকার সামনে মাথা নত না করে তাহলে পাকিস্তানের জনগণের যাই ইচ্ছে থাকুক ক্ষমতায় বসবে তাদের অধিনস্ত শাসক নয়তো আবারও সামরিক শাসন জারি করা হবে এটা স্পষ্ট। এছাড়াও আরেকটা বিষয় খুব স্পষ্ট পাকিস্তানের যে মোল্লাতন্ত্র ধর্মের ধোঁয়া তুলে আমেরিকা কে গালাগালি দেয়, ধর্মনিরপেক্ষ পাকিস্তান গড়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়, নারী শিক্ষা এবং প্রগতির অন্তরায় তাঁরা কিন্তু এই পশ্চিমা মদদ পুষ্ট শাহবাজ শরীফের সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই ধর্মের ধোঁয়া তুলে বছরের পর বছর পাকিস্তান কে কোন অন্ধকারে পাঠানো হয়েছে তা বোঝা অসম্ভব নয়। তাই আজকের যুগে পাকিস্তানের ইয়াং জেনারেশন এবং সব বয়সের নাগরিকরাই খুব ভালো ভাবেই সেটা বুঝতে পারছে। তাই গতকাল রাতেই রাজপথে নেমে নজিরবিহীন প্রতিবাদ করেছে পাকিস্তানের জনগন। এই প্রথম পাকিস্তানের জনগনের মুখে তাদের সেনাবাহিনী কে টার্গেট করে বলতে শোনা গিয়েছে চৌকিদার চোর হে। অতএব এবারের হিসেবটা যে সহজ হবে না এটাও বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বর্বর ইতিহাস কারো অজানা নয়। ১৯৭১ এর সেই ভয়াবহতা প্রমান করে তাদের গণহত্যা চালানোর চরিত্র।Read More

পশ্চিমবঙ্গবিদেশ

কয়লাখনির বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের প্রতিরোধ তীব্রতর হচ্ছে

মলয় তেওয়ারি ৭ মার্চ সকালে বেশ কয়েক শত গ্রামবাসী মিছিল করে দেওয়ানগঞ্জে বনবিভাগের জমিতে নেমে নিজেদের অধিকার জাহির করেন। সমবেত হয়ে ঘোষণা করে জমিতে খুঁটি পুঁতে চড়কা দেওয়া হয়। আদিবাসী সমাজের সামাজিক-প্রশাসনিক প্রথা অনুসারে কোনও জমিতে চড়কা দিলে সে জমিতে নতুন করে কেউ কোনও কাজ করতে পারবেনা। দেওয়ানগঞ্জের সরকারি জমিতে গ্রামবাসীদের চড়কা দেওয়া প্রকৃতপক্ষে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে এক নতুন ঘোষণা, সরকার যদি ‘সরকারের হাতে থাকা’ জমিতে খনির কাজে নামে তাহলে গ্রামবাসীরাও সমবেতভাবে জমিতে নেমে প্রত্যক্ষভাবে বাধা দেবে। বারোমেসিয়া গ্রামের ধরণাস্থল থেকে মিছিল করে এসে সরকারি জমিতে চড়কা দিয়ে সরকারকে এই বার্তা দিল গ্রামবাসীরা। ২০ ফেব্রুয়ারির মহাসভা সমগ্র এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করায় পরদিন মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে দেউচা প্রকল্প সম্পর্কে কিছু ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রথমত, পুনর্বাসন প্যাকেজে জমির দাম বা ঘরের সাইজ একটু বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। এবং একথা উল্লেখ করেন যে, সরকারের হাতে যে জমি আছে সেখানেই প্রথম খনির কাজ শুরু হবে, সেখানে তো আর কারও সম্মতির প্রয়োজন নেই। মুখ্যমন্ত্রীর এই দুটি ঘোষণাকেই কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে প্রশ্নটা নিছক প্যাকেজের কমবেশির নয়। কোনওরকম প্যাকেজই তাঁদের ক্ষতি পূরণ করতে পারবেনা, কোনওরকম প্যাকেজের বিনিময়েই মানুষ নিজেদের জমি জায়গা ছেড়ে, ভিটেমাটি ও সমাজ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চাইছেন না। তড়িঘড়ি নবান্নে ডেকে দু’চারজনকে চেক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছুক চাষির কুমির ছানা দেখিয়েছেন মাত্র। ওইদিন জেলা দপ্তরে যারা এসেছিলেন তাঁদের অনেকেই আসলে খাস জমিতে বসবাসকারি মানুষ যারা জমির পাট্টা নিতে এসেছিলেন। সিঙ্গুরের মত এখানেও অ্যাবসেন্টি ল্যান্ডলর্ডদের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পের জমি দখল করতে চাইছে সরকার। গ্রামবাসীদের সিংহভাগই প্রতিরোধে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি কোনও পরিবারের একজন যদি চাকরির ফর্মে সই করে থাকে তাহলেও পরিবারের বাকি সদস্যরা, বিশেষত মহিলা সদস্যরা, প্রতিরোধে সামিল। দ্বিতীয়ত, নিজেদের জমি দেওয়া তো পরের কথা, সরকারি জমিতেও খনি করার অনুমতি যে তাঁরা দিচ্ছেন না, তা সরকারি জমিতে চড়কা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সংবাদ সম্মেলনে তৃতীয় একটি কথা বলেছিলেন। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন যে, দেউচা-পাঁচামীর অবৈধ পাথর খাদান মালিকরা মদত যোগাচ্ছে আন্দোলনকারীদের। এভাবে তিনি আন্দোলনকারীদের গায়ে কাদা ছুঁড়তে চেষ্টা করেন। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি যখন মুখ্যমন্ত্রী এই প্রেস কনফারেন্স করছেন তখন গ্রামবাসীদের মিছিল এলাকার খাদান ও ক্রাশারগুলি বন্ধ করতে করতে এগোচ্ছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি দেওয়ানগঞ্জ ফুটবল ময়দানে মহাসভা সংগঠিত হওয়ার পর থেকে মিটিং মিছিল সমাবেশ এক দিনও বন্ধ থাকেনি। প্রতিদিন সকালে আরও বেশি বেশি মানুষ ভয় কাটিয়ে প্রতিবাদে সামিল হতে থাকে। ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে লাগাতার ধরণা শুরু হয়, প্রথম দু’দিন হরিণসিঙায় চলার পর ধরণা বারোমেসিয়াতে স্থানান্তরিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ৭ মার্চ পর্যন্ত এলাকার সমস্ত খাদান ও ক্রাশার বন্ধ ছিল। এক দশক আগে পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিকে মান্যতা দেওয়ার দাবিতে খাদান-ক্রাশার মালিকদের বিরুদ্ধে এক লম্বা ‘আইন মানো’ আন্দোলন করেছিলেন এলাকার মানুষ। কিছু কিছু দাবি আদায় হয়েছিল। গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মেনে সরকার বীরভূমের মোট খাদান ও ক্রাশারের ৫% ইউনিটকে বৈধতার সার্টিফিকেট দেয়, যদিও সেই তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বর্তমানে এই স্টোন চিপসের কারবারে সুব্যবস্থিত মাফিয়া চক্র গড়ে উঠেছে যার ফুট সোলজার হিসেবে আদিবাসী যুবকদের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ করত নিজেদের বিকিয়ে দেওয়া কয়েকজন আদিবাসী নেতা। পাথর পরিবহনে নিযুক্ত প্রতিটা ট্রাক দৈনিক ৬ হাজার টাকা তোলা দেয় এই চক্রকে। রীতিমত রসিদ কেটে এই টাকা তোলা হয়। বীরভূমের সমগ্র পাথর বেল্টে দৈনিক অন্তত ৫ হাজার ট্রাক এরকম পরিবহনে নিযুক্ত। গ্রামবাসীরা খাদান-ক্রাশার বন্ধ রাখার মাধ্যমে নিজেদের এলাকায় এই মাফিয়া চক্রকে ভাঙতে চেয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি দেওয়ানগঞ্জে মহাসভার মাধ্যমে গ্রামবাসীদের যে উত্থান ঘটে তা সেই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। মলয় তেওয়ারি : রাজনৈতিক কর্মী।Read More