• June 29, 2022

Category : রবিবারের সাহিত্য

রবিবারের সাহিত্য

লাল পিঁপড়েদের আস্তাবল,দ্বিতীয় পর্ব

“আঁচলের মিল ঠোঁটে তিল ত্বকরেখা মেরুর আকাশে পেলব কুয়াশা খুঁজে খুঁজে এখনো তিমিরা ফিরে আসে।” - নবারুণ ভট্টাচার্য তিলপাহাড়ির চেনা জল-হাওয়া এখন ঝিনুককে অনেকটা সুস্থ করে তুলেছে। গ্রামের মেটে রঙের দেওয়ালগুলিতে এখন ঝিনুকের আঁকা ছবি দেখা যায়। যাকে শহুরে ভাষায় বলে আদিবাসী দেওয়াল চিত্র। মন ভালো না থাকলে ঝিনুক খড়ি মাটির সাথে বচ ফলের আঠা মিশিয়ে, কিংবা এলে মাটি বা পোড়া খড়ের ছাই আবার কখনো কখনো বাজারি রঙ দিয়ে দেওয়ালগুলিকে ভরিয়ে তোলে। ফাঁকা সময়ে শালপাতা বোনে। নিম কাঠি কিংবা মহুয়া কুড়োতে যায়। বাড়ির টুকটাক কাজ করে। মাঝে মাঝে বাবা মা এর সাথে মাঠের কাজেও যায়। তবে এখানে সে লোকের জমিতে কাজ করতে যায় না। আজ দুবছর ধরে সে নিজেকে নিমমহলি থেকে সরিয়ে রেখেছে। মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্নের মত সেই পৈশাচিক রাতটা তাকে তাড়া করে। তবে মাঝে মাঝে তপনের সাথে সুখের স্মৃতিগুলোও ক্ষততে প্রলেপ বুলিয়ে দিয়ে যায়। তবে এই সময়টা ধরে ঝিনুক একেবারে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। এখন সে কোন উৎসবে প্রাণ খুলে যায় না। মেলাতেও যায় না। ভয় হয় তাঁর। যদি নিমমহলির কোন মানুষের সাথে দেখা হয়ে যায়। এমনটা নয় যে নিমমহলি থেকে কোন মানুষ তিলপাহাড়িতে আসে না। অনেকেরই যাওয়া আসা আছে।Read More

রবিবারের সাহিত্য

নাবিক আলির রিক্সা

নাবিক আলির রিক্সা শুভনাথ এশিয়া মহাদেশের প্রায় বেশিরভাগ শহর কিংবা শহরতলির মানুষের যাতায়াতের লাইফলাইন বলতে রিক্সার নাম প্রথমেই উঠে আসে। এই রিক্সা বড় রাস্তা থেকে অলিগলি পৌঁছে গিয়ে সচল রাখে আস্ত একটা ট্রাফিক সিস্টেমকে। ভোরের আলো ফোটার আগেই উঠে পড়ে তমাল মিয়াঁ। টর্চের আলো জ্বেলে সুইচ অন করে ইলেকট্রিক আলো জ্বেলে নেয়। বিছানা গুটিয়ে একপাশে রাখে। বাইরে টুলগুলো বের করে দেয়। মুখ হাত ধুয়ে বাইরের টেবিলে গ্লাসগুলো সাজিয়ে নেয়। গ্যাসওভেন ও সিলিন্ডার ঠিক জায়গায় বসায়। রাতে ধুয়ে রাখা সশপ্যানে চা বসায়। অন্য দিকে কাঠের উনুনে চপ-ঘুগনির আলু ও কলাই সেদ্ধ করতে বসিয়ে দেয়। এই হল তার রোজের রুটিন। সূর্য ওঠার আগে থেকে রাত পর্যন্ত যে জায়গাটি তাঁর দোকান রাতের কিছুক্ষণের জন্য সেই দোকানটি হয়ে ওঠে তাঁর ঘর। বিশ্রামের জায়গা। তমালের ঘর আছে তবে সেখানে সে যায় না। স্টেশনে দোকান হওয়ার কারণে ফার্স্ট ট্রেন থেকে লাস্ট ট্রেন পর্যন্ত তাঁর ডিউটি। তমালের দুই ছেলে শহরে কাজ করে। বউ ছেড়ে চলে গেছে অনেক বছর আগে। আর বিয়ে করেনি তমাল। তাই অসুস্থতা ছাড়া তমালের ছুটি নেই। এই মফঃস্বলের স্টেশনে তমালের কাছের মানুষ বলতে একজনই। নাবিক।Read More

রবিবারের সাহিত্য

এক গুচ্ছ আঙ্গুর

জাপানি সাহিত্যিক তাকেও আরিশিমা এর গল্প বাংলায় অনুবাদ করেছেন শ্রেয়া চক্রবর্তী ছোটবেলায় ছবি আঁকতে আমার খুব ভালো লাগতো। আমার স্কুল ছিল ইয়াকোহামার ইয়ামানো তে বলে একটি শহরে। শহরটিতে পশ্চিম দেশীয় লোকজনই কেবল বসবাস করত, এমনকি আমার স্কুলেও সকল শিক্ষকই ছিলেন বিদেশি। সমুদ্র তীরের সার বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা হোটেল আর বিদেশী কোম্পানীর ইমারত পেরিয়ে যেতে হতো স্কুলে। সাগরের তীর থেকে গাঢ় নীল সমুদ্রের উপর সারি সারি যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্য তৈরীর চিমনি থেকে অনর্গল বেরোনো ধোঁয়া এবং প্রায় ব্রিজের মতোই এক মাস্তুল থেকে অপর মাস্তুল পর্যন্ত জোড়া জাতীয় পতাকার চোখধাঁধানো অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য দেখা যেত। আমি পাড়ে দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য দেখতাম। তারপর বাড়ি এসে আমার মনের সেই দৃশ্য যতদূর সম্ভব ছবিতে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আমার রঙ পেন্সিল দিয়ে কোনোভাবেই সমুদ্রের জলের ওই ইন্ডিগো রং, কিংবা সাদা সাদা পালতোলা নৌকার নিচের দিকে, জলের ধারে ওই লাল রং সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারতাম না।Read More

রবিবারের সাহিত্য

মাতৃত্ব

শুরু তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম। দুর্গাপুজোর রাতে পাড়ার মণ্ডপে যাত্রা দেখাটা ( বয়স্করা বলতেন - 'যাত্রা শোনা' ) খুব পছন্দের বিষয় ছিল। একবার 'রাজা দেবিদাস' নামে একটা জমজমাট যাত্রা হয়েছিল। তখন তো ছেলেরাই মেয়ে সাজতেন। রানি যিনি হয়েছিলেন, তাঁর চেহারাটা ছোটখাটো হলেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় অভিনয় করেছিলেন  এবং গলায় জোরও ছিল। একটা জায়গায় ছিল - রাজার সেনাপতি ইসলাম খাঁর বিবিকে শত্রুপক্ষ ধরে নিয়ে গেছে শুনে তিনি খুব রেগে গিয়েছেন। ওই জায়গায় তাঁর সংলাপ ছিল এই রকমঃ  ( নিজের বড় ছেলেকে ) 'আমার আঠারোটা ছেলে তোমরা। সবাই বলে আমি রত্নগর্ভা। আজ আমি তার প্রমাণ চাই। এই ভুঁইফোড় আফগানকে (=বাংলার নবাব সোলেমান কররানি, যার নির্দেশে নারী হরণ হয়েছিল।) বুঝিয়ে দাও, যে ছাতকের মেয়ের গায়ে হাত তুললে মাথা দিয়ে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়।' শিল্পী বলেছিলেনও অত্যন্ত উদ্দীপক ভঙ্গিতে। আমার তো সারা শরীর গরম হয়ে উঠেছিল। যাত্রা দেখছিলাম, তাই; নইলে হয়তো যারা সেনাপতির বিবিকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের লক্ষ্য করে দু/তিনটি পাটকেল ছুঁড়তাম। সেই সময়ে আমি তো বটেই, এমন কি আমি নিশ্চিত, ছোট বড়ো অন্য সব দর্শকই অপহারকের উপর বিষম ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। অথচ দর্শকদের বারো আনাই ছিলেন আমার মতো অমুসলমান আর অপহৃত হয়েছিল সোফিয়া, এক বিবাহিতা মুসলমান নারী। হ্যাঁ, অপহারক ছিল এক ব্রাহ্মণ।Read More

রবিবারের সাহিত্য

কন্যাসম

স্মৃতিকণা সরকার সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে, মর্নিং ওয়াক্ সেরে, বাজার করে, রান্না করে, পেটপুজা করে থানায় যাওয়াটা আমার ২২ বছরের অবিবাহিত জীবনের একলা সংসারে সত্যিই খুব যন্ত্রণাদায়ক। আজও ব্রেকফাস্ট সেরে তড়িঘড়ি রেডি হয়ে থানায় যাওয়ার জন্য বেরোতে যাচ্ছি, ঠিক তখনি হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল। থানা থেকে এসেছে দেখে একটু বিরক্তই হলাম। ফোনটা ধরে বলতে <a class="read-more" href="https://purbanchal.co/robibarersahitto/2755/">Read more</a>Read More

রবিবারের সাহিত্য

মার্জিত-ঋণ

সীমিতা মুখোপাধ্যায় ১ — বৃষ্টিস্নাতা? — হ্যাঁ, বলো, মার্জিত। — আমাকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিতে পার? সামনের বৃহস্পতিবার ফেরত দিয়ে দেব। — হ্যাঁ, দিতে পারি। — ঠিক আছে। কাল তাহলে যাদবপুর এইট-বি বাসস্ট্যান্ডে দেখা করছি। — ক'টার সময়? — সন্ধ্যে ৭টা নাগাদ যদি যাই? — ওকে। এসো। কল রেকর্ডটা শুনে গল্ফগ্রিন থানার মেজোবাবু বললেন— ক্যাশ দিয়েছিলেন? কল রেকর্ড ছাড়া এই টাকা লেন-দেনের আর কোনো প্রমাণ নেই? — না। — টাকাটা কবে দিয়েছিলেন? — ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। — তারিখ? — ৪ঠা সেপ্টেম্বর। — আর কোনো কল রেকর্ড? — হ্যাঁ আছে। পরেরটা শুনুন। বৃষ্টিস্নাতা পরের কল রেকর্ডটা চালাল। — মার্জিত, তুমি সেই আমার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছিলে, মনে আছে? — হ্যাঁ, মনে আছে। — চারমাস হতে চলল। এবার ফেরত দাও। — ঠিক আছে। কাল পার্কস্ট্রিটে এশিয়াটিক সোসাইটির সামনে পাঁচটা নাগাদ চলে এসো। টাকা ফেরত পেয়ে যাবে। — ওকে। কথার খেলাপ যেন না হয়। শুনে মেজোবাবু বললেন— তারপর? — শুনে নিন পরের কল রেকর্ডটা। — আপনার ফোনটা একবার দিন। বৃষ্টিস্নাতা তার আইফোনটা মেজোবাবুর দিকে এগিয়ে দিল। মেজোবাবু বললেন— এরপর কোনটা? — ওপর থেকে তৃতীয় কল। মেজোবাবু কল রেকর্ড চালালেন। — হ্যালো, মার্জিত? আমি পার্কস্ট্রিটে দাঁড়িয়ে আছি। আজ তো টাকাটা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তুমি আসবে না? — আমি টাকাটা আজ দিতে পারছি না। তুমি বাড়ি ফিরে যাও। শুনে মেজোবাবু বললেন— এইভাবে ভদ্রলোক দুবছর ধরে ঘোরাচ্ছেন? — হ্যাঁ। পরের কল রেকর্ডটা শুনুন। চতুর্থ কল রেকর্ড শুরু হল। — মার্জিত, তুমি কি টাকাটা ফেরত দেবে না? এক বছর তো হতে চলল। — হ্যাঁ হ্যাঁ, দেব না কেন। এতদিন লকডাউন চলল তাই যেতে পারিনি। — লকডাউন তো কী? ইচ্ছে থাকলে ঠিকই ফেরত দেওয়া যায়। ফোন পে, গুগল পে কত কী উপায় আছে। — আমি তোমার বাড়ি গিয়ে ক্যাশ দিয়ে আসব। — কবে? — দুদিন সময় দাও। দেখছি। মেজোবাবু বললেন— তারপর তিনি আর দেখে উঠতে পারলেন না। লাস্ট কলটা কবেকার? — পরশু রাতের। — শুনি। মেজোবাবু প্লে বাটনটায় টাচ করলেন। — মার্জিত, তুমি ওই পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দেবে কি দেবে না বলে দাও। — দেব না। — কেন? তুমি তো ধার হিসেবে নিয়েছিলে। — হ্যাঁ, তা নিয়েছিলাম। কিন্তু, ফেরত দেব না। — আমি এবার পুলিসে যেতে বাধ্য হব। — সে তুমি যা পার করে নাও। মেজোবাবু বললেন— তা ভদ্রলোক করেন কী? বেকার? — না, ডাব্লিউবিসিএস অফিসার। — বলেন কী! তিনি পাঁচ হাজার টাকার জন্য এই রকম করছেন? — হ্যাঁ, শুনলেন তো। — দু-বছর ধরে মার্জিতবাবুর সঙ্গে আপনার এই পাঁচ বারই কথা হয়েছে? — না, আরও অনেকবার টাকার জন্য তাগাদা দিয়েছি। সব কল রেকর্ড করা হয়নি। — ভদ্রলোকের ফোন নাম্বার দিন। বৃষ্টিস্নাতা মার্জিতর ফোন নাম্বার দিল। মেজোবাবু ফোন করলেন। — মার্জিত চট্টোপাধ্যায় বলছেন? — হ্যাঁ, আপনি কে? — আমি গল্ফগ্রিন থানা থেকে বলছি। — বেশ। বলুন। — মিস বৃষ্টিস্নাতা বসুকে চেনেন? — চিনি। — তাঁর কাছ থেকে বছর দুই আগে পাঁচ হাজার টাকা ধার করেছিলেন। — হ্যাঁ। — টাকাটা ফেরত দিয়েছিলেন? — না। — আপনি থানায় নিজে আসবেন? না, গাড়ি পাঠিয়ে নিয়ে আসতে হবে? — নিজেই আসব। — কাল বিকেল পাঁচটা নাগাদ টাকাটা নিয়ে থানায় চলে আসুন। মিটিয়ে ফেলুন। — আমি টাকা দেব না। — কারণ? — আমার কাছে এখন টাকা নেই। — আপনার তো সরকরি চাকরি। জেল-হেফাজত হলে তো চাকরিতে সাসপেনশন হয়ে যাবে। — গেলে যাবে। কী করব? ঠিক আছে। কাল বিকেল পাঁচটায় গল্ফগ্রিন থানায় যাচ্ছি। ফোন কেটে দিয়ে মেজোবাবু বৃষ্টিস্নাতাকে বললেন— এভাবে বলা হয়তো উচিত নয়, তাও বলছি, আপনাকে দেখে তো বেশ উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে বলেই মনে হচ্ছে, হঠাৎ পাঁচ হাজার টাকার জন্য এত মরিয়া হয়ে উঠলেন কেন? অবশ্যই আপনার হকের টাকা, ফেরত পাইয়ে দেবার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব, তাও জানতে ইচ্ছে হয়। — দেখুন, ও যদি গরিব-দুঃখী হত, আমি মাফ করে দিতাম। কিন্তু, ওর যথেষ্ট রেস্ত আছে। তাছাড়া, টাকা ফেরত দেবার নাম করে ও আমাকে যথেষ্ট হ্যারাস করেছে। আজ দিচ্ছি, কাল দিচ্ছি করে অনেক ঝুলিয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী, আমি আর টাকাটা ফেরত চাই না। ওর শাস্তি চাই। আমি চাই ওর একটা শিক্ষা হোক। — মার্জিতবাবুর কি এইরকম লোকের টাকা মেরে বেড়ানো স্বভাব? — সে জানি না। জানলে কি আর টাকা ধার দিতাম? — বটে। আপনি কী করেন? — আমি শর্ট ফিল্ম বানাই। — বাবা কী করেন? — বাবা কী করেন তাই দিয়ে কী হবে? আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে। নিজস্ব পরিচয় আছে। বাবার পরিচয়ে বাঁচতে চাই না। — আর মা? — সেটাও বলব না। — বেশ। নিজের ঠিকানা আর ফোন নাম্বারটা দিয়ে বাড়ি চলে যান। বৃষ্টিস্নাতা তাই করল। বৃষ্টিস্নাতা বেরিয়ে যাবার পর অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর আলেখ্যর প্রবেশ। মেজোবাবুর কামরায় ঢুকে আলেখ্য বলল— মেয়েটি হেব্বি স্মার্ট, দেখতেও … হি হি, চমৎকার! মেজোবাবু আলেখ্যকে বেশ পছন্দ করেন, এটাও জানেন আলেখ্যর একটু আড়ি পাতা স্বভাব আছে। মেজোবাবু বললেন— তা, সব শুনে কী মনে হল? — খটকা। — পুরো কেস জন্ডিস। — ঠিকানা তো দিয়ে গেছে, চলুন না একটু এনকোয়েরি করে দেখি। — দুর দুর! কোন যুগে পড়ে আছ এখনো। ফেসবুকটা খোলো। সব ইনফরমেশন ওখানেই পাওয়া যায়। বৃষ্টিস্নাতার প্রোফাইল খুঁজে পেতে বিশেষ বেগ পেতে হল না। সাড়ে চার হাজার ফলোয়ার! মেজোবাবু আলেখ্যকে বললেন— মেয়ে যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে ফিল্ম স্টাডিতে পিএইচডি করেছে। বেশ কয়েকটা শর্ট ফিল্ম বানিয়েছে। কী আবার পুরস্কার-টুরস্কার পেয়েছে, দেখছি। — বাবার নাম, নিখিলেশ রায়, তিনি যাদবপুর ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। — মেয়ে বসু আর বাবা রায়! — মা, পুণ্যলতা বসু। বিজয়কৃষ্ণ গার্লস কলেজের অধ্যাপক। — মেয়ে তার মানে মায়ের পদবী ব্যবহার করে। — ডিভোর্স কেস না নারীবাদী কেস? — দাঁড়াও দেখছি। আমার ক্লাসমেট রাজা তো বিজয়কৃষ্ণ গার্লস কলেজে পড়ায়। ওকে একটা ফোন করি। মেজোবাবু রাজাকে ফোন করলেন। আলেখ্য চুপচাপ বসে শুনতে লাগল। — হ্যালো, রাজা? — আরে তুই! কতদিন বাদে! কেমন আছিস? — আমি বিন্দাস। তোর থেকে একটা ইনফরমেশন নেওয়ার ছিল। — বল। — তুই পুণ্যলতা বসুকে চিনিস? তোদের কলেজেরই অধ্যাপিকা। — চিনব না মানে! উনি তো আমাদের প্রিন্সিপাল! — কোথায় থাকেন জান? — গল্ফগ্রিনে। ওঁর স্বামী তো যাদবপুরের প্রফেসর। — আচ্ছা। — ভীষণই ভদ্রমহিলা। পরিবারও ভালো। ওঁর বিষয়ে হঠাৎ পুলিস এনকোয়েরি কেন? — আরে, ব্যাপারটাকে পুলিস এনকোয়েরি হিসেবে দেখছিস কেন? আমি কি তোর কাছে পারসোনালি কিছু জানতে চাইতে পারি না? তাছাড়া, পুলিসের কাজ কি শুধু চোর-ডাকাত ধরে বেড়ানো? কত রকমের ভেরিফিকেশন করতে হয়, জানিস? পাসপোর্ট বল, ভিসা বল, চাকরি বল … — ও আচ্ছা, বুঝেছি বুঝেছি। — তবে, কথাটা পাঁচ কান করিস না। দুনিয়ায় উজবুকের তো অভাব নেই। কী না কী ভেবে বসবে। — না না। তুই তো জানিস, আমি সাতে-পাঁচে থাকি না। — আর তোর খবর বল। — ভালো রে। আরও দু-একটা কথা চালাচালি করে মেজোবাবু ফোনটা কেটে দিলেন। এবার আলেখ্যর উদ্দেশ্যে বললেন— ডিভোর্স নয়। মা-বাবা একসঙ্গেই থাকেন। পিওর নারীবাদী কেস। — এদিকে দেখুন, দু-সপ্তাহ আগে বৃষ্টিস্নাতা ঢাকুরিয়া আমরি-তে ভর্তি ছিল। লোকেশন দিয়ে স্ট্যাটাস। — কী লিখেছে? — "রিলিজড"। — হয়েছিলটা কী? — চলুন না, ঢাকুরিয়া আমরি-তে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। — কমেন্টগুলো পড়ো। সব উত্তর পেয়ে যাবে। মিনিট খানেক পরে, আলেখ্য বলে উঠল— এই দেখুন স্যার, ঋত্বিক বসু লিখেছে— "বাড়ি আয়, তোর জন্য অনেক ক্যালানি অপেক্ষা করে আছে।" — ঋত্বিক বসু কোনো আত্মীয় হবেন হয়তো। আর অস্বাভাবিক কিছু? — হ্যাঁ, মেঘাবৃতা মিত্র লিখেছে— "আর যেন কোনোদিন না শুনি।" — মেঘাবৃতাটা কে? — এও অপরূপ সুন্দরী। মনে হয় বৃষ্টিস্নাতার স্কুল ফ্রেন্ড। দুজনেই 'কারমেল'-এ পড়ত দেখছি। — আর কিছু পাও নাকি দেখো। — পেয়েছি। স্বর্ভানু কর্মকার, পেশা— ফিল্ম এডিটিং, লিখেছে— &Read More

রবিবারের সাহিত্য

আবদুস সালামের কবিতা

মা নিরব অভিমান পিষে পিষে মশলা বানায় রোজ অধিকারের হাঁড়িতে রান্না হয় নিঃশব্দ অন্ধকার যন্ত্রণা আর বিষাদগুলো ঘুরঘুর করে সারাদিন উল্লাসের বাজপাখি ছোঁ মেরে তুলে নিচ্ছে সব সুখ চলেছে বিবেকের লাশ বয়ে সভ্যতার বক নড়বড়ে সেতু দিয়ে পার হয় হাঁটাহাঁটির গল্প ভাঙ্গা নৌকায় দাঁড় টানে সফলতার ঘাটে দ্বান্দ্বিক চাঁদ ঝলসে দেয় মফস্বল সংসার পুরুষ বিশ্বাস সেবনে উপশম হয় নৈতিক বিলাস খুলে যায় বিবর্ণ দুয়ার মৃত শবের উপর ভনভন করে মাছি বসবাসের ঠিকানায় গড়ে ওঠে সভ্যতার কবরস্থান প্রহসন করোনা মাখানো দীর্ঘশ্বাস গুনছে প্রহর শব্দহীন যাতনা গুলো ধূপের মতো জ্বলে বৃষ্টির সময় চুমু খায় বিপন্ন বিশ্বাস শব্দের আলনায় টাঙ্গিয়ে রাখি স্বপ্ন রক্তাক্ত বিবেক জীবনের পিঠে চড়ে আত্মক্ষরণের পুকুরে সেরে নিই স্নান সময়ের শৃগাল শোনায় অন্ধকারের ভাষণ খসে যায় পলেস্তারা বসবাসের ঠিকানায় সভ্যতার দাফন হয় ভাবের ঘরে রুদালীরা সাজায় কান্নার প্রহসন মৃত শবের উপর ভন ভন করছে মাছি প্রহর গুনে প্রত্যাশার বক আশ্বাস গুলো ঢেউয়ে ঢেউয়ে হয় মাতোয়ারা পাথরের ভগবান বসে আছে প্রার্থনার ঘরে বিশ্বাসের চাতালে মাথা ঠুঁকি রোজ সিঁদুরে চোখে পুরোহিত ছিটিয়ে দিচ্ছে শান্তিজল রূপকথার পাতালপুরীতে তলিয়ে যাচ্ছে বৈভবের নিয়মকানুন অসময় তীরে বসে গুনছি প্রহর গাইছি বেলা শেষের গান ফুলেরা সব ঝরে গেছে ফুরিয়ে গেছে দখিনা হাওয়ার প্রাণ ফুল পাখিরা গাইছে এখন ঝরা পাতার গান বেলা শেষের করুন রোদ মুখে এঁকেছে আল্পনা উঠোন জুড়ে দেয় পাহারা দেয় জীবন মৃত্যুর ছানা সব যুদ্ধ থেমে গেছে ফিরে চলো ডেরায় থামুক বন্দুকের কলরব সন্ধ্যা নামছে পাড়াজুড়ে মৌনকঙ্কালের উৎসব আশংকা যত মৌন অন্তরে নদী দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে মৃত্যু দূত হানা দেয় জাগরণের ধারে নদী তখন অজান্তেই মাটির গান ধরে আরোগ্য হীন অন্ধ পৃথিবীর ইতিহাস একটা দেশের সব ঘৃণার মুখ এই দিকে ঘৃণার উপসংহার টানতে টানতে লেলিয়ে দিচ্ছে মৃত্যুদ‍্যূত কবরের আঙিনায় চেয়ে আছে শূন্যতা অশ্লীল ঈগলনখ আঁচড়ে দিচ্ছে দেশের আত্মা বিশ্বাসের নৌকা চলেঅবিশ্বাসের নদীতে হাবুডুবু খায় নিম্নবর্গীয় মানুষ রাত গভীর হলে ঈশ্বরেরা পাড়ায় আসে বিষন্ন দিন,বিপন্ন হয় মা বোনদের সম্ভ্রম বিষন্ন রাত নেমে আসে পাড়ায় সীমাহীন বাধা নিয়ে সূচক বাড়ে বিচ্ছিন্নতার নিস্তেজ শূন্যতা নিয়ে কবরখানার কবিতা লিখি ভুলে যায় শৈশবের গল্প ভুলে যায় ঝঞ্ঝা বিধ্বস্ত মায়ের মুখ ঘুমের ভিতর দুঃস্বপ্নের চলে আনাগোনা ধর্ষিত হয় সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে ঈশ্বর ও জানতে চাই বংশ ঠিকুজি কুলুঙ্গি হাঁতড়ে আনতে বলে বাসস্থানের দলিল চেনা মুখগুলো ডেকে উঠছে হুক্কাহুয়া সুরে সুরক্ষা বাহিনী পাহারা দেয় সীমানা বদলের রাস্তাRead More

রবিবারের সাহিত্য

আফজল আলির কবিতা

আমার শহরে কবে আসছেন ডানা মেলে চলে গেছে রোদ্দুর, স্বপ্ন দেখা বারণ তবু যেন মনে হয় বলছে -আমার শহরে কবে আসছেন মেঘ ছায়া পার হয়ে অনেক দূর , মন ব্যক্ত করে সিঁড়ি সিঁড়ি সন্ধ্যা প্রচণ্ড ব্যাকুল ওই তো দিগন্ত , নিরামিষ করিডোর হয়ে মাখন মাখন সরগম তুলে ,মনে হয় তবু যেন বলছে - আমার শহরে কবে আসছেন যাব একদিন হাতছানি দিয়ে ছন্দ শহরের বুকে বিরাম যেখানে ঘুম থেকে তোলে ,কুয়াশার কাচ চোখে মাথার ভিতরে জাল বোনে দৃশ্যের বিনুনি কথা রূপালি ব্যথার ফেস-ওয়াশ তুলতুলে গালখানা হৃদয় ভেঙেছে জ্যোৎস্না শায়েরী অমোঘ কথার প্রত্যয় কারবারি ভুলে যাই সব, ভুলে যাই সব শিকল ছিঁড়ে উড়িয়ে দেওয়া পাখির কলরব সময় সরছে , ঘাড় ঘুরিয়ে তবু যেন বলছে আমার শহরে কবে আসছেন , কবে আসছেন শহরে হাতের দাগ এবং চায়ের কাপ আজ সকালে দেখলাম কাপটা ঠিক জায়গাতেই আছে জলের বোতল এবং চামচ রাখার পটটিও এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে ওগুলো সরে যেতে পারে তবু চা খাওয়ার সময় হাতের দাগটা আমি দেখতে পেলাম হাতের দাগ এবং চায়ের কাপ আজ দিনটা কি একটু অন্যরকম হতে পারে কেন নিজেকে define করতে পারছি না বড়ো জোর আমি চাইছিলাম বান্ধবীকে নিয়ে ঘুরতে আমাকে পাহারা দিচ্ছিল একটি (a+b)² এর ফর্মুলা এখন শীতকাল, সিলিং ফ্যান নিয়ে আলোচনা মুলতুবি নিম্নচাপে গরম ফিরে আসতে পারে , এসেছেও গতকাল অনেক ছবি ওকে দিয়েছিলাম, একটা ভিডিও ক্লিপ ও তবু মনে হচ্ছে এ সময়টা আমাকে থাপ্পড় দেবেই তখন আমি কোথায় যাব , জ্যামিতি নাকি পরিমিতি চায়ের কাপটা কিছু বলছে না দেখে একটু অবাক-ই হচ্ছিRead More

রবিবারের সাহিত্য

মানস মণ্ডলের কবিতা

মুহূর্তটা মানস মণ্ডল আমি সেই মুহূর্তটা যাকে উষাপর্ব বলে ভুল করে লোকে সূর্যও করে ইশারার কয়েকটুকরো তুলে নিয়ে সকালের কোলে মাথা রেখে বিকেলের গায়ে হেলান দেওয়া বুকে করে মুহূর্তটা পাশ ফেরে পৃথিবী ডেকেছে পৃথিবীর হাঁটা ব্যাপারে একটা চমৎকার আছে ওলট-পালট আছে একটা নতুন সন্ধ্যা আর আকাশের দোলাচলের মাঝে একটুকরো আবার এসো মাঝে মাঝে ফিরে আসে দাঁড়ায় একটু সুধাদির পুরনো চাঁদের জানলায় Read More