• June 29, 2022

Category :

পশ্চিমবঙ্গ

এই রক্তাক্ত সময়কে মনে রেখে তিনটি কবিতা

. আমাদের হাত-পা কাটা এই বেশ দিব্যি আছি। প্রতিবাদ কাব্যে দোলে আয়নায় বসলে মাছি। হাওয়াতে হাজার খেলা সারাদিন নজরদারি। ক্ষতি কি শিড়দাড়াঁতে শামুকের বসতবাড়ি। বেঁচে-থাক' বিজ্ঞাপনে মরামুখ শীর্ষ রেখা। আগুনের ফুলকি জানে ছাইপাঁশ নষ্ট লেখা। ৩. আট মাত্রার শূন্যতায় স্বরবৃত্তের চোখে আজও তোমার হাসি ঝরে পড়ছে চৈত্র হাওয়ায়। আজকাল কাঁকড়াদের স্কুলে কবিতার কোন গাছ নেই। মৃত্যুর দরজায় দাঁড়িয়ে শুধু দেখছি আহাম্মক ছায়ার জীবন। আর ভাবছি - আমার ফসিল আজ নয় কাল ছাপা হবে ঠিক নদীর পাতায়।Read More

দেশ

জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার ক্রমবিকাশ: এক সংক্ষিপ্ত পরিক্রমা

মানুষ কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই নক্ষত্রের অবস্থান পরিমাপ করা শুরু করে ছিলেন অজানাকে জানার ও অদেখাকে দেখার দুর্দমনীয় বাসনা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত মানুষের আকাশ পর্যবেক্ষণ, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দার্শনিকদের চিন্তা-কল্পনাকে আশ্রয় করে গড়ে উঠলো জ্যোতির্বিদ্যা, যা পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রাকৃতিক বিজ্ঞান। প্রাচীনকাল থেকেই ধর্মীয়, পৌরাণিক, মহাজাগতিক, ক্যালেন্ড্রিক্যাল, প্রাগৈতিহাসিক অনুশীলনে এর নিদর্শন পাওয়া যায়। টেলিস্কোপ আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই মানুষ আকাশের নক্ষত্রদের নিরীক্ষণ করতেন অসীম আগ্রহ নিয়ে। আকাশের তারা ও গ্রহের গতি নিরীক্ষণ করা ছিল সময় বোঝার ও দিক নির্দেশনের সর্বোত্তম হাতিয়ার। কৃষি ও ধর্মীয় আচার এই নিয়মকে ধরেই চলতো। পদ্ধতিগত জ্যোতির্বিদ্যা পর্যবেক্ষণের প্রথম নথিভুক্ত রেকর্ডগুলি প্রায় ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অ্যাসিরো-ব্যাবিলনীয়নদের সময়কালের। মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় দোলনা থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাকাশীয় বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং তাদের পর্যায়ক্রমিক গতি রেকর্ড করেছিলেন। তখনও গ্রহ-নক্ষত্র গুলির দূরত্ব সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা ছিল না। কিন্তু নাবিকরা সমুদ্রযাত্রাকালে নক্ষত্রের অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করতেন। যাযাবর জাতিরাও এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাত্রা করার সময় আকাশের নক্ষত্র দেখেই দিক নির্ণয় করতেন। যেমন ধ্রুবতারা আপাতভাবে স্থির, আসলে ধ্রুবতারাও ঘুরে চলেছে গতির নিয়ম মেনে। সহজ করে বলা যাক- একটি ছাতার ডান্ডিকে অক্ষ ধরে ছাতাকে বোঁ বোঁ করে ঘোরালে মাথাটি আপাতভাবে স্থির আছে বলেই মনে হয়। উল্লেখ্য-আগামী কয়েক হাজার বছর পর বর্তমান ধ্রুবতারার বদলে অন্য আর একটি তারা এই স্থান নেবে। মানুষ বিভিন্ন নক্ষত্রের অবস্থান দেখে মাস, বছর নির্ণয় করতেন। যেমন বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ মাস, জেষ্ঠ্যা থেকে জৈষ্ঠ্য, ধনু রাশির নক্ষত্র পূর্বাষাঢ়াও উত্তরাষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রবনা থেকে শ্রাবণ, ভদ্রা থেকে ভাদ্র, অশ্বিনী থেকে আশ্বিন, কৃত্তিকা থেকে কার্তিক, কালপুরুষের মাথার নক্ষত্র মৃগশিরা থেকে হয়েছে মার্গশীর্ষ বা অগ্রহায়ণ। কর্কট রাশিতে অবস্থিত পুষ্যা নক্ষত্র থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, পূর্ব ফাল্গুনী আর উত্তর ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন এবংRead More

পশ্চিমবঙ্গ

সৈফুদ্দিন থেকে সেলিম-একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হল

সিপিআই এর নেতারা কেন্দ্রীয় স্তরে বেশ কিছু বার দেখেছি প্রস্তাব দিয়েছেন যে সিপিআইএম সিপিআই দুই দল এক হয়ে যাক।কারণ তাঁদের মতে নীতি-আদর্শ রণনীতি কৌশল কোনো কিছুতেই যখন দুই দলের মধ‍্যে পার্থক‍্য নেই তখন এরকম এক সঙ্কটজনক সময়ে এক হলেই তো স্বাস্থ‍্য ভালো হবে।কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিলেও ভঙ্গী দেখে বোঝা যায় সিপিআইএম দলের অবস্থান এই প্রশ্নে নেতিবাচক। কারণটাও খুব সহজে অনুমেয়।কোনো রকেটসায়েন্স নেই।আজ যদি দুই দল এক হয়ে যায় তবে তাতে সিপিআইএর কোনো ক্ষতি নেই।কিন্তু সিপিআইএম দলকে নিজের জন্মকেই তাহলে প্রথম অস্বীকার করতে হয়।কারণ আজ সিপিআইএমের সাথে কংগ্রেসের সম্পর্ক যতই মধুর হোক না কেন ষাটের দশকে সিপিআই কংগ্রেসের মত বড় বুর্জোয়াদের পার্টির সাথে মিলে ও আঁতাত গড়ে বিপ্লবের রাস্তায় চলছে না এবং পুরোদস্তুর একটি পার্লামেণ্টারী সংশোধনবাদী পার্টি হয়ে গেছে-বিপ্লব করতে গেলে কংগ্রেসের সাথে আঁতাতের রাস্তা ছেড়ে পার্লামেণ্টের বাইরের লড়াইই জোরদার করতে হবে এই যুক্তি থেকেই পার্টির বিভাজন এবং সিপিএমের জন্ম।আন্তর্জাতিক স্তরে সোভিয়েত-চীন বিতর্ক, ভারত-চীন যুদ্ধ এসব নিশ্চয়ই ছিল কিন্তু মূল বিতর্কটি ছিল কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ককে ঘিরেই। দুই দল এক হলে জন্মেই যে ভুল ছিল তা প্রথম বলতে ও স্বীকার করতে হয়। Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

কুড়ুয়া পাখির ডাক

"কুড়ুয়া পাখির ডাক"। মুন্ডাদের জীবন-কাহিনি এই ক্ষীণতনু উপন্যাসের উপজীব্য। নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের গরিব বঞ্চিত লখাই পদ্মজবা ফুলমণি ফুলি মঙ্গল সরস্বতী রামদাস শীতল বুধন চরিত্ররা সততা সংস্কৃতি আলো অন্ধকার নিয়ে উঠে এসেছে। বুধন স্বতন্ত্র একটি চরিত্র, প্রতিবাদী। এদের ভালোবাসা সহজ। যৌনতা সরল। লখাই-সরস্বতীর না-ভূমিষ্ঠ সন্তান জীবনের কী বিচিত্র নিয়মে বাবা হিসেবে পেতে চলেছে মঙ্গলকে। আদিবাসীদের রীতি-নীতি পরবের বিবরণ সুন্দর ভাবে এসেছে। নগেন সাঁপুই বড়োলোক। অনেক জমির মালিক। সে কাজ দেয় মুন্ডাদের। এমন চরিত্র সাধারণত অত্যাচারী শোষক হয়। কিন্তু মানুষটা সৎ। আর একজন ভালো মানুষ উমানাথ। বাড়িভাড়া এবং খাওয়ার খরচ না-নিয়ে উমানাথ মাস্টার শুভঙ্করকে থাকতে দিয়েছে। শুভঙ্কর কাহিনির সবচেয়ে দামি চরিত্র। যদি মুন্ডা সমাজের মানুষগুলো সলতে আর তেল হয়, বুধন তাহলে প্রদীপ। শুভঙ্কর সেই প্রদীপে আগুন জ্বেলে আলো ছড়ানোর কাজটা করে দিয়েছে। পঞ্চায়েত মেম্বার নিশিকান্ত সাহা এবং তার ভাই নিখিল খলচরিত্র। তাদের মিথ্যাচারিতার নষ্টামির শোষণের শিকার মুন্ডারা। বুধনের নেতৃত্বে মুন্ডারা জেগে উঠেছে। দাবি জানাতে শিখেছে। ফলে নিশিকান্তর লোকেদের হাতে বুধন আক্রান্ত হয়েছে। নিশিকান্ত না-বুঝে আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। মুন্ডারা তীর ধনুক টাঙ্গি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। 'যাদের গন্তব্য নিশিকান্ত সাহার বাড়ি।' উপন্যাসটির সমাপ্তি ছোটোগল্পের মতো। দারুণ ইতিবাচক ইঙ্গিত তৃপ্তিকর প্রশান্তি দেয়। ভাষা ঝরঝরে। সংলাপ বিশ্বাসযোগ্য। চমৎকার প্রচ্ছদ, কাহিনির সঙ্গে মানানসই। লেটারিং-এ শিল্পের ছোঁয়া আছে। কাগজ বাইন্ডিং প্রিন্ট সুন্দর। কুড়ুয়া পাখির ডাক - গৌতম বিশ্বাস। প্রচ্ছদ - সুদীপ্ত জানা বহুবচন প্রকাশনী। মূল্য - ১৫০Read More

পশ্চিমবঙ্গ

বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রীরা দাবি আদায়ের লড়াইয়ে অনড়

আলোচনায় বসতে নারাজ বিশ্ব ভারতী কর্তৃপক্ষ।আদালতের রায় অবমাননা করে ছাত্রাবাস না খুলে অফলাইন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করায় স্বত:স্ফুর্ত ভাবে সেমিস্টার বয়কট এর সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। ইতিমধ্যে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ গতকাল একটি নোটিশ বের করে তাতে পরিষ্কার বলা হয়, যারা সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নেবে না তাদের অকৃতকার্য করা হবে। ১৫ দিন ধরে বিশ্ব ভারতীর কেন্দ্রীয় কার্য্যালয়ে অবস্থানরত পড়ুয়ারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিকেল ৪টের সময় বাংলাদেশ ভবনে সাধারণ সভা চলাকালীন কর্মসচিব, যুগ্মকর্মসচিব(এক্সাম) সহ একাধিক আধিকারিকদের ঘেরাও করা হয়। মধ্যরাতে শান্তিনিকেতন থানার ওসি, এস- ডি-পিও(বোলপুর)সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী বাংলাদেশ ভবনে আসে ঘেরাও হওয়া অধিকারীকদের মুক্ত করতে। কিন্তু ফল হিতে বিপরীত হয়। ছাত্র ছাত্রীদের বিক্ষোভের রোষে পুলিশ বাহিনীকে ফিরে যেতে হয়। শেষমেস চাপে পড়ে যুগ্মকর্মসচিবকে নোটিশটি প্রত্যাহার করতে হয়। আন্দোলনকারী ছাত্র ছাত্রীদের দাবি,যতক্ষণ না অবদি তিনটি দাবি- হোস্টেল খোলা,ইউজিসি গাইডলাইন অনুযায়ী ষাট শতাংশ সিলেবাস অনলাইনে পড়িয়ে অফলাইনে পরীক্ষা না নেওয়া এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো; মানা হবে তাদের ঘেরাও কর্মসূচি চলবে। আজ প্রানীবিদ্যা, ইন্ত্রিগ্রটেড সায়েন্স, গণনাশাস্ত্র, কলা ভবন, পার্সিয়ান বিভাগে পরীক্ষা বয়কট করে ছাত্র ছাত্রীরা। দুপুরে রেজিস্টার আশীষ আগরওয়াল ছাত্র আন্দোলনের চাপে পরে পদত্যাগ করলেও টা গ্রহণ করে নি কর্তৃপক্ষ। ঘেরাও এখনও অব্যহত। নাম প্রকাশে এক অনিচ্ছুক ছাত্রী জানায়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে অতি শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন চালাচ্ছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে আলোচনায় না বসে হাইকোর্টে যাচ্ছে মামলা করছে, ছাত্র ছাত্রীদের বহিরাগত তকমা দিচ্ছে। তাই আমরা এই ঘেরাও তত দিন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যত দিন আমাদের তিনটে দাবি মানা না হচ্ছে।Read More

পাঠপ্রতিক্রিয়া

কে শময়িতা সেন?

বাংলা কবিতামহলে নতুন প্রশ্ন ‘শময়িতা সেন কে?’ বনলতা সেনের কেউ নয়, উত্তর দিয়েছেন স্বয়ং কবি। কবি, প্রশান্ত হালদার। পশ্চিমবঙ্গ লিটিল ম্যাগাজিন মেলার প্রাক্কালে শ্যামল বৈদ্য অনুপ্রেরণা সিরিজে 'মুক্তাঞ্চল' থেকে বেরিয়েছে পাঁচটি বই। চারটি কবিতার, একটি গল্পের। তার মধ্যে শূন্য দশকের কবি প্রশান্ত হালদারের একফর্মা কাব্যপুস্তিকার নাম ‘শময়িতা সেন’। অনেকেই বলছেন শময়িতা সেন আছেন। কলকাতাতেই আছেন। কবিকে জিজ্ঞাসা করলে বলছেন, বইটা পড়ুন, টেক্সট নিয়ে কথা হোক। কিন্তু বাংলা কবিতা মহলে চর্চা বন্ধ হয়নি। কলকাতার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার শময়িতা সেন-কে উদ্দেশ করে লেখা কিনা প্রশ্ন অনেকের। কবি প্রশান্ত হালদারের ‘শময়িতা সেন’-এর সঙ্গে এবার মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত ‘ম্যাট ব্ল্যাক’ কাব্যগ্রন্থের লেখক অংশুমান ফেসবুকে ‘শময়িতা সেন’ সম্বন্ধে পোস্ট করেছেন, “আপাতভাবে শুনে মনে হবে বনলতা সেন টাইপ মিউজ ধরে প্রেমযাতনার টানাটানি... না তা নয়, এ দুই শ্রেণী অবস্থানে থাকা মানুষের মধ্যে একজনের রাজনৈতিক মনোলগ... এবং প্রেমও এখানে রাজনীতি, রোম্যান্স, আর্তি, খোঁজ-এর বহিঃপ্রকাশ। এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই বই লেখার ধ্বক অনেকের নেই...” ধ্বক কেন নেই, সে প্রশ্নের উত্তর একমাত্র মিলতে পারে সেই বইয়ের মধ্যেই। কবি প্রশান্ত হালদারকে কাস্ট-রাজনীতি নিয়ে প্রায়শ সরব হতে দেখা যায়। অথচ শময়িতা 'সেন' কেন? হালদার, মন্ডল বা গায়েনের পরিবর্তে একজন সেন পদবিধারীর নাম নিয়ে কবিতার বইয়ের নাম কেন, এ প্রশ্নও উঠে এসেছে। কবি জানিয়েছেন শময়িতা সেন-তো আছেন। তাঁর কথা ভেবেই লেখা। এহেন পরিস্থিতিতে, যে সব মানুষ প্রশান্ত ও শময়িতা উভয়েরই পরিচিত তারা পড়েছেন দ্বিধায়, কারণ, কবিতায় আগেও উঠে এসেছে নানান নারীচরিত্রের নাম, যেমন, জীবনানন্দের বনলতা সেন, সুরঞ্জনা, সুনীলের নীরা, আরো অনেক, কিন্তু সেগুলো ছিল কাল্পনিক নাম। হয়তো বা কোনো বাস্তব নারীচরিত্রের অনুপ্রেরণায় সেগুলো তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এইভাবে বাস্তব চরিত্রের নাম ব্যবহার করায় একপ্রকার রহস্যজনক কনফ্লিক্ট তৈরি হয়েছে, যা আরো গুঢ় হয়েছে কবি প্রশান্ত হালদারের সাথে শময়িতার কোনো সরাসরি সম্পর্ক না থাকায়। এমনকি তারা একে অপরের সাথে সমাজ মাধ্যমেও যুক্ত নন। তাহলে কেন প্রশান্ত তার এই সাম্প্রতিক কবিতায় শময়িতার নাম তুলে আনলেন, এর পেছনে কি কাজ করছে শুধুই রাজনৈতিক অবস্থানের সূচক নাকি এটা নিছক ধন্দ তৈরির কারসাজি, না প্লেটোনিক প্রেম নাকি কবিতার নিজস্ব চাহিদায় তৈরি হয়েছে এই চরিত্র যার সাথে বাস্তবের কোনো যোগাযোগ নেই? বইটি এই মুহূর্তে পাওয়া যাচ্ছে বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিয়ন সংলগ্ন শঙ্খ ঘোষ মঞ্চের পাশে মুক্তাঞ্চল-এর নম্বরবিহীন টেবিলে। আর অবশ্যই বইমেলার পরে অনলাইন অর্ডার করে পাওয়া যাবে, www.muktanchal.com-এ।Read More

পশ্চিমবঙ্গবিদেশ

কয়লাখনির বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের প্রতিরোধ তীব্রতর হচ্ছে

মলয় তেওয়ারি ৭ মার্চ সকালে বেশ কয়েক শত গ্রামবাসী মিছিল করে দেওয়ানগঞ্জে বনবিভাগের জমিতে নেমে নিজেদের অধিকার জাহির করেন। সমবেত হয়ে ঘোষণা করে জমিতে খুঁটি পুঁতে চড়কা দেওয়া হয়। আদিবাসী সমাজের সামাজিক-প্রশাসনিক প্রথা অনুসারে কোনও জমিতে চড়কা দিলে সে জমিতে নতুন করে কেউ কোনও কাজ করতে পারবেনা। দেওয়ানগঞ্জের সরকারি জমিতে গ্রামবাসীদের চড়কা দেওয়া প্রকৃতপক্ষে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে এক নতুন ঘোষণা, সরকার যদি ‘সরকারের হাতে থাকা’ জমিতে খনির কাজে নামে তাহলে গ্রামবাসীরাও সমবেতভাবে জমিতে নেমে প্রত্যক্ষভাবে বাধা দেবে। বারোমেসিয়া গ্রামের ধরণাস্থল থেকে মিছিল করে এসে সরকারি জমিতে চড়কা দিয়ে সরকারকে এই বার্তা দিল গ্রামবাসীরা। ২০ ফেব্রুয়ারির মহাসভা সমগ্র এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করায় পরদিন মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে দেউচা প্রকল্প সম্পর্কে কিছু ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রথমত, পুনর্বাসন প্যাকেজে জমির দাম বা ঘরের সাইজ একটু বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। এবং একথা উল্লেখ করেন যে, সরকারের হাতে যে জমি আছে সেখানেই প্রথম খনির কাজ শুরু হবে, সেখানে তো আর কারও সম্মতির প্রয়োজন নেই। মুখ্যমন্ত্রীর এই দুটি ঘোষণাকেই কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে প্রশ্নটা নিছক প্যাকেজের কমবেশির নয়। কোনওরকম প্যাকেজই তাঁদের ক্ষতি পূরণ করতে পারবেনা, কোনওরকম প্যাকেজের বিনিময়েই মানুষ নিজেদের জমি জায়গা ছেড়ে, ভিটেমাটি ও সমাজ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চাইছেন না। তড়িঘড়ি নবান্নে ডেকে দু’চারজনকে চেক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছুক চাষির কুমির ছানা দেখিয়েছেন মাত্র। ওইদিন জেলা দপ্তরে যারা এসেছিলেন তাঁদের অনেকেই আসলে খাস জমিতে বসবাসকারি মানুষ যারা জমির পাট্টা নিতে এসেছিলেন। সিঙ্গুরের মত এখানেও অ্যাবসেন্টি ল্যান্ডলর্ডদের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পের জমি দখল করতে চাইছে সরকার। গ্রামবাসীদের সিংহভাগই প্রতিরোধে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি কোনও পরিবারের একজন যদি চাকরির ফর্মে সই করে থাকে তাহলেও পরিবারের বাকি সদস্যরা, বিশেষত মহিলা সদস্যরা, প্রতিরোধে সামিল। দ্বিতীয়ত, নিজেদের জমি দেওয়া তো পরের কথা, সরকারি জমিতেও খনি করার অনুমতি যে তাঁরা দিচ্ছেন না, তা সরকারি জমিতে চড়কা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সংবাদ সম্মেলনে তৃতীয় একটি কথা বলেছিলেন। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন যে, দেউচা-পাঁচামীর অবৈধ পাথর খাদান মালিকরা মদত যোগাচ্ছে আন্দোলনকারীদের। এভাবে তিনি আন্দোলনকারীদের গায়ে কাদা ছুঁড়তে চেষ্টা করেন। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি যখন মুখ্যমন্ত্রী এই প্রেস কনফারেন্স করছেন তখন গ্রামবাসীদের মিছিল এলাকার খাদান ও ক্রাশারগুলি বন্ধ করতে করতে এগোচ্ছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি দেওয়ানগঞ্জ ফুটবল ময়দানে মহাসভা সংগঠিত হওয়ার পর থেকে মিটিং মিছিল সমাবেশ এক দিনও বন্ধ থাকেনি। প্রতিদিন সকালে আরও বেশি বেশি মানুষ ভয় কাটিয়ে প্রতিবাদে সামিল হতে থাকে। ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে লাগাতার ধরণা শুরু হয়, প্রথম দু’দিন হরিণসিঙায় চলার পর ধরণা বারোমেসিয়াতে স্থানান্তরিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ৭ মার্চ পর্যন্ত এলাকার সমস্ত খাদান ও ক্রাশার বন্ধ ছিল। এক দশক আগে পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিকে মান্যতা দেওয়ার দাবিতে খাদান-ক্রাশার মালিকদের বিরুদ্ধে এক লম্বা ‘আইন মানো’ আন্দোলন করেছিলেন এলাকার মানুষ। কিছু কিছু দাবি আদায় হয়েছিল। গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মেনে সরকার বীরভূমের মোট খাদান ও ক্রাশারের ৫% ইউনিটকে বৈধতার সার্টিফিকেট দেয়, যদিও সেই তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বর্তমানে এই স্টোন চিপসের কারবারে সুব্যবস্থিত মাফিয়া চক্র গড়ে উঠেছে যার ফুট সোলজার হিসেবে আদিবাসী যুবকদের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ করত নিজেদের বিকিয়ে দেওয়া কয়েকজন আদিবাসী নেতা। পাথর পরিবহনে নিযুক্ত প্রতিটা ট্রাক দৈনিক ৬ হাজার টাকা তোলা দেয় এই চক্রকে। রীতিমত রসিদ কেটে এই টাকা তোলা হয়। বীরভূমের সমগ্র পাথর বেল্টে দৈনিক অন্তত ৫ হাজার ট্রাক এরকম পরিবহনে নিযুক্ত। গ্রামবাসীরা খাদান-ক্রাশার বন্ধ রাখার মাধ্যমে নিজেদের এলাকায় এই মাফিয়া চক্রকে ভাঙতে চেয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি দেওয়ানগঞ্জে মহাসভার মাধ্যমে গ্রামবাসীদের যে উত্থান ঘটে তা সেই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। মলয় তেওয়ারি : রাজনৈতিক কর্মী।Read More

রবিবারের সাহিত্য

কন্যাসম

স্মৃতিকণা সরকার সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে, মর্নিং ওয়াক্ সেরে, বাজার করে, রান্না করে, পেটপুজা করে থানায় যাওয়াটা আমার ২২ বছরের অবিবাহিত জীবনের একলা সংসারে সত্যিই খুব যন্ত্রণাদায়ক। আজও ব্রেকফাস্ট সেরে তড়িঘড়ি রেডি হয়ে থানায় যাওয়ার জন্য বেরোতে যাচ্ছি, ঠিক তখনি হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল। থানা থেকে এসেছে দেখে একটু বিরক্তই হলাম। ফোনটা ধরে বলতে <a class="read-more" href="https://purbanchal.co/robibarersahitto/2755/">Read more</a>Read More

বিদেশ

রাশিয়া- ইউক্রেন- ন্যাটো ত্রিমুখী লড়াইয়ের আদ্যন্ত

তেলের বাজার দখল , যুদ্ধাস্ত্রের বাজার দখল কয়েক দশক ধরে পুঁজিবাদী বৃহৎ শক্তির শ্রীবৃদ্ধি ঘটিয়ে আসছে । পৃথিবীর সমস্ত তেলের মজুদ ও অন্যান্য সম্পদের ওপর বহুজাতিক কোম্পানির দখল প্রতিষ্ঠার জন্য কত নির্মম রক্তপাত হয়েছে, কত রাষ্ট্রপ্রধানকে যারা বিরোধিতা করেছিল তাদের চেয়ার থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। 'ওয়ারশ চুক্তি' অন্তর্ভুক্ত সোভিয়েত পতাকার নেতৃত্বে দেশগুলোর একটি সামরিক চুক্তির সাথে ন্যাটো অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির একবার দ্বন্দ্ব হয়েছিল। সোভিয়েত ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথে ওয়ারশ চুক্তি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু... ন্যাটো রয়ে গেছে, যখন বিশ্ব রাজনীতির নৈতিকতা দাবি করেছে যে এটিও ভেঙে দেওয়া উচিত। কিন্তু, বিশ্বকে নিজের মুঠোয় রাখার জন্য ন্যাটো বজায় রাখা দরকার ছিল। উপসাগরীয় যুদ্ধ ও ন্যাটোর বর্বরতা অনৈতিকতার ঐতিহাসিক দলিল হয়ে ওঠে।ন্যাটোকে শুধু রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, এর সম্প্রসারণ করতে গিয়ে নতুন নতুন দেশকেও এতে যুক্ত করা হয়েছে। ন্যাটো সম্প্রসারণ করতে গিয়ে এতে ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও হয়। রাশিয়া-বিরোধী এবং আরও বেশি পুতিন-বিরোধী ইউক্রেনের নেতা জেলেনস্কির আমেরিকার ওপর ভরসা ছিল যে সংকটে পাশে থাকবে ,ন্যাটোর ক্ষমতার মায়া এমনই ছিল যে তিনি পুতিনের চ্যালেঞ্জকে হালকাভাবে নিয়েছিলেন।অন্যদিকে পুতিন, যিনি মূলত একজন স্বৈরশাসক, তাকে তার প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার জন্য, রাশিয়ার ক্ষমতা ধরে রাখতে কিছু কৌশল করতে হয়।ইউক্রেনের পাওয়ার, রুশ-বিরোধী রাজনীতির ফসল। রাশিয়া কীভাবে মেনে নেবে যে সে ন্যাটো সুরক্ষা পাবে? পুতিন রাশিয়াকে অর্থনৈতিক স্তরে অনেক কম, সামরিক স্তরে বেশি শক্তিশালী কRead More