• August 18, 2022

Category :

দেশপশ্চিমবঙ্গ

হুল দিবসের অঙ্গীকার

হুল দিবসের অঙ্গীকার মলয় তেওয়ারি সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, চুয়াড় বিদ্রোহ, ফরিদপুরের দিদুমীর, চিটাগাঙের চাকমা বিদ্রোহ, কোল ও ভূমিজ সহ অসংখ্য বিদ্রোহের পথ বেয়ে এসেছিল ১৮৫৫’র হুল বা সাঁওতাল বিদ্রোহ যা এক তীব্র সশস্ত্র গণসংগ্রামের রূপ নিয়েছিল। হুল বিদ্রোহ সাঁওতাল সমাজকে বিপ্লবী জাতীয়তাবাদে ঐক্যবদ্ধ করে এবং অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠিকে উজ্জীবিত করে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালানোর যে দৃষ্টান্ত ও সম্ভাবনা হুলের মধ্যে দিয়ে সাঁওতাল জাতি সামনে এনেছিল তা সমগ্র ভারতে স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে জাগিয়ে তুলেছিল। হুRead More

পশ্চিমবঙ্গ

সীমান্ত বঙ্গের হাট

লোকসংস্কৃতি- লোকযানের নিরিখে সমগ্র বাংলাকে প্রধানত চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করা যায় ---পশ্চিম, উত্তর, উত্তরপূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত । পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রাম এলাকা তথা অধুনা ঝাড়্গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, বিনপুর, শিলদা থেকে শুরু করে শালবনি , গোদাপিয়াশাল পর্যন্ত । বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণ অংশ ---রাণীবাঁধ, সিমলাপাল, রাইপুর, তালডাংরা, বিবড়দা, হাড়মাসড়া, খাতড়া, সুপুর, হাতীরামপুর, ইঁদপুর ,ছাতনা, শালতোড়া ইত্যাদি আর কাশীপুর-বেগুনকোদর -বাগমুন্ডি -ঝালদা -বরাবাজার- মানবাজার- রঘুনাথপুর- বান্দোয়ান সহ সমগ্র পুরুলিয়া জেলা । এছাড়া পুরুলিয়া ছোঁয়া ঝাড়খন্ডের পূর্বাঞ্চল । ভাষাতত্ত্বের বিচারে এই এলাকার মানুষ প্রধানত বাংলাভাষী কিন্তু সে ভাষা একটি স্বতন্ত্র উপভাষার বৈশিষ্ট্য সমুজ্জ্বল , তা-ও আবার দশ-বারো কিলোমিটার এলাকা পর পর ভিন্ন ভিন্ন রূপে অংশত রূপান্তরিত । সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল রূপেও Read More

পশ্চিমবঙ্গ

পটলডাঙ্গার টেনিদা

আমহার্স্ট স্ট্রিটের মোড় থেকে পোস্ট অফিসের দিকে একটু এগোলেই পড়বে পটলডাঙা স্ট্রীট। অবশ্য পঞ্চাশ ষাট দশকের পটলডাঙার সঙ্গে আজকের আকাশছোঁয়া বহুতলের ঘুপচি গলিতে পরিণত হওয়া পটলডাঙা স্ট্রীটের সাযুজ্য নেই বললেই চলে। তবু একটু কষ্ট করে উঁকি ঝুঁকি মারলে দু একটা জরাজীর্ণ রকের মধ্যে থেকে হয়তো আবিষ্কার করে ফেলবেন সেদিনের চাটুজ্জের রক। বাংলা সাহিত্যের রক কালচারের অন্যতম পীঠস্থান। এখানেই টেনিদার মুখেন মারিতং জগতং' এর সঙ্গী ছিলো প্যালা, হাবুল ও ক্যাবলা। চেনা চেনা মুখ, চেনা চরিত্র যেন পাশের বাড়ির ছেলেগুলোর মতোই আর তাদের গুরু হলো ঐ বখাটে টেনিদা ( সে ম্যাট্রিক দিয়েছে, কে জানে এন্ট্রান্সও দিয়েছে কিনা। মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালির কাছে এ হেন ছেলে বখাটে তো হবেই)Read More

বিদেশ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীন ড. মো. এরশাদুল হক অনুপম সৌন্দর্যবোধ, অপূর্ব মননশীলতা, মিত আদর্শের তেজদীপ্তি, দুর্নিবার মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত সৈনিক হিসেবে যে কয়েকজন প্রথিতযশা ক্ষণজন্মা ও বিদগ্ধ সঙ্গীতশিল্পীর বিচরণে উত্তরবঙ্গ ধন্য হয়েছে তাঁদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা কছিম উদ্দীন বিশেষভাবে অগ্রগণ্য। ভাওয়াইয়ার অঙ্গনে শিল্পী কছিম উদ্দীন এক বিস্ময়কর নাম। ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দীনের পর ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে শিল্পী কছিম উদ্দীন আজও নিষ্প্রভ হয়ে আছেন। তিনি ছিলেন একাধারে কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, দোহার এবং অভিনেতা। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ শিল্পী ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে এক নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেন। ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে যোগ করেন এক নতুন মাত্রা। বলা যায়, বিশ্বের দরবারে ভাওয়াইয়াকে পরিচিত করে তুলতে আব্বাস উদ্দীনের পর যে নামটি সর্বাগ্রে স্মরণীয় সেটি হলো কছিম উদ্দীন। Read More

দেশ

গ্রেপ্তার Alt News এর মহম্মদ জুবেইর

সৌরভ রায় তিস্তা শেতলাবাদ, আর. বি শ্রীকুমারের পরে এবার গ্রেফতার মহম্মদ জুবেইর, Alt Newz এর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা। সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির আইটি সেল প্রতিদিন নামে বেনামে যেসব নির্জলা মিথ্যে ছড়িয়ে মুঠোফোন ভর্তি করে দেয় সেসবের ভাণ্ডা ফোঁড় করে এই Alt Newz। হিন্দুত্ববাদীদের কত শত দাঙ্গার উস্কানিতে যে জল ঢেলে প্রকৃত সত্য সামনে এনেছেন এই জুবেইর আর তাঁর বন্ধু ও সহকর্মী প্রতীক সিনহা। স্বাভাবিক, এতে সংঘ পরিবারের অসুবিধা হবেই। তাই অন্য একটা কেসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে কোত্থেকে একটা "ধর্ম অবমাননার" কেস দিয়ে এবার তাঁকেও তুলে নেওয়া হল; নুপুর শর্মা কিন্তু এরেস্ট হয়নি, বরং সাসপেনশনের নাটক সাজিয়ে কিছুটা রেস্ট দেওয়া গেছে- অক্লান্তভাবে ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য আবার মাঠে নামাতে হবে কিনা। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা প্রতীক সিনহা জানাচ্ছেন, আচমকা গ্রেফতার করে জুবেইরকে কোনো একটা অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখানে যারা পুলিশের উর্দিতে আছে তাদের কারোর পোশাকে নেমপ্লেট নেই! বুঝতে পারছেন? এই দৃশ্য মুলত দিল্লির ছাত্র নাজিবের কথা মনে করিয়ে দেয়।Read More

আসামদেশ

আমাদের পরিবেশ, আমাদের ভাবনা

আমাদের পরিবেশ, আমাদের ভাবনা। আ,ফ,ম, ইকবাল পোশাকী ভাষায় কোনাে একটি স্থানে নগর সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বা জনসংখ্যাগত দিক থেকে শহরের আয়তন বৃদ্ধিজনিত প্রক্রিয়াকে নগরায়ণ বা Urbanisation বলা হয়। গ্রাম বসতি কিংবা অনুন্নত শহর থেকে মানুষ যখন জীবিকার সন্ধানে বা বিলাসিতার কারণে, শিক্ষা কিংবা আর্থসামাজিক কারণে কোনাে বড় শহরে গিয়ে বসবাস করে, সেখানকার জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। জনসংখ্যার অধিকাংশ মানুষ যখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত হয়, তখন তাকে নগরায়ণ বলা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের চারপাশ থেকে গাছপালা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশ ও জীবজন্তুর জীবনধারণ দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তন, গ্রিন হাউস ইফেক্ট, ওজোন স্তরের ক্ষয়, মেরু অঞ্চলের বরফ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মরুকরণ, খরা ও বনাঞ্চলের পরিমাণ হ্রাস সহ বিভিন্ন কারণে আজ আমরা মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেRead More

রবিবারের সাহিত্য

লাল পিঁপড়েদের আস্তাবল,দ্বিতীয় পর্ব

“আঁচলের মিল ঠোঁটে তিল ত্বকরেখা মেরুর আকাশে পেলব কুয়াশা খুঁজে খুঁজে এখনো তিমিরা ফিরে আসে।” - নবারুণ ভট্টাচার্য তিলপাহাড়ির চেনা জল-হাওয়া এখন ঝিনুককে অনেকটা সুস্থ করে তুলেছে। গ্রামের মেটে রঙের দেওয়ালগুলিতে এখন ঝিনুকের আঁকা ছবি দেখা যায়। যাকে শহুরে ভাষায় বলে আদিবাসী দেওয়াল চিত্র। মন ভালো না থাকলে ঝিনুক খড়ি মাটির সাথে বচ ফলের আঠা মিশিয়ে, কিংবা এলে মাটি বা পোড়া খড়ের ছাই আবার কখনো কখনো বাজারি রঙ দিয়ে দেওয়ালগুলিকে ভরিয়ে তোলে। ফাঁকা সময়ে শালপাতা বোনে। নিম কাঠি কিংবা মহুয়া কুড়োতে যায়। বাড়ির টুকটাক কাজ করে। মাঝে মাঝে বাবা মা এর সাথে মাঠের কাজেও যায়। তবে এখানে সে লোকের জমিতে কাজ করতে যায় না। আজ দুবছর ধরে সে নিজেকে নিমমহলি থেকে সরিয়ে রেখেছে। মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্নের মত সেই পৈশাচিক রাতটা তাকে তাড়া করে। তবে মাঝে মাঝে তপনের সাথে সুখের স্মৃতিগুলোও ক্ষততে প্রলেপ বুলিয়ে দিয়ে যায়। তবে এই সময়টা ধরে ঝিনুক একেবারে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। এখন সে কোন উৎসবে প্রাণ খুলে যায় না। মেলাতেও যায় না। ভয় হয় তাঁর। যদি নিমমহলির কোন মানুষের সাথে দেখা হয়ে যায়। এমনটা নয় যে নিমমহলি থেকে কোন মানুষ তিলপাহাড়িতে আসে না। অনেকেরই যাওয়া আসা আছে।Read More

পশ্চিমবঙ্গ

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এর পঞ্চাশ বছর পূর্তিঃপায়ে পায়ে পঞ্চাশ

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এর পঞ্চাশ বছর পূর্তিঃপায়ে পায়ে পঞ্চাশ। এভাবেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে দেশের প্রমুখ মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এর দীর্ঘ পথচলাকে।জরুরি অবস্থার সেই নিকষ কালো দিনে যখন বিরুদ্ধ স্বর নিষিদ্ধ, বাক স্বাধীনতা বিপন্ন তখন গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ কিছু মুক্ত মনা মানুষ গড়ে তুলেছিলেন এই সমিতি। তারপর বহু সময় পার হয়েছে,এপিডিআর হয়ে উঠেছে মানুষের প্রতিবাদের ভাষা।আজ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সমিতির বহু ইতিহাসের সাক্ষী অফিস ঘর ১৮,মদন বড়াল থেকে শুরু হল এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। সূচনা করলেন অমিতদ্যুতি কুমার,সঙ্গে ছিলেন দেবপ্রসাদ রায়চৌধুরী, কৃষ্ণা বন্দোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতিনিধিরা।এই মিছিল যায় হেদুয়া পর্যন্ত। মুসলিম ইন্সটিটিউটের অপর একটি অনুষ্ঠানে মানবাধিকার আন্দোলনের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বিভিন্ন বক্তারা।তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল মহাবোধি সোসাইটির অনুষ্ঠান। উপচে পড়া মানুষের ভিড়ে বক্তব্য রাখেন বোলান গঙ্গোপাধ্যায়, অরুনাভ ঘোষ,সুমন কল্যাণ মৌলিক, আশিষ গুপ্ত, মিলন দত্ত, অমিতদ্যূতি কুমার প্রমুখ।আজ উত্তর বঙ্গে শিলিগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও এই পঞ্চাশ বছর উৎসব পালন করে সেখানকার এপিডিআর কর্মীরা।আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান আওয়াজ ছিল ঐক্যবদ্ধ অধিকার আন্দোলনের।Read More

আসাম

শুধুই আমাকে দেখো

শুধুই আমাকে দেখো জয়শ্রী ভূষণ রাজনীতি থেকে সংস্কৃতি, ফেইসবুক এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই এক হয়েছে নমুনা। শুধুই আমাকে দেখো। ছবি, গান, বন্যা, রাজনীতি, কূটনীতি, হেন তেন, যাই কিছু হোক, মূল বিষয় ছেড়ে শুধুই আমাকে দেখো। চব্বিশ ঘন্টা যেন নিজেকে নিয়ে মডেলদের মত র‍্যাপিং এ ব্যস্ত। দেখতে দেখতে এই সব নমুনা মাথাছাতা খারাপ হয়ে গেছে । এই দুর্যোগেও কিছু নমুনাদের নমুনার শেষ নাই। আজকাল আমি আর লিখি না তেমন। ভাবি লিখে কি হবে। ধুত্তোরিকা বলে যা লিখি তাও পড়ে থাকে আমার মোবাইল ফাইল বন্দী হয়ে। জানি না আজও এই লেখার বন্দীদশা ঘুচাতে পারবো কি না। হয়তো পড়েই থাকবে। আসলে এই লেখাগুলো লিখে আমি আমার মন মেজাজ হালকা করি। রাগে গা রিরি করলে এই লেখাগুলো কিছুটা রিলিফ দেয়। না বন্যার রিলিফ নয়, মনের রিলিফ। বন্যার কথায় আসি। রগরগে বিষয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এবার আমরা নিজেরাই এতটাই বন্যাক্রান্ত যে অনেকেরই ফেইসবুকে সেলফি, তারপরে খিচুড়ি রান্না করে ইলিশ মাছ ভাজা খেতে খেতে গল্প কবিতা সংস্কৃতি, গান এসব আর তেমন করে করা হয়ে উঠলো না, বন্যা ঘুরে দেখাটাও তেমন জমলো না, মানে মানুষ কেমন জলে ডুবে ঘর বাড়ি ছেড়ে রান্নাবান্না করছে রাস্তায় সেসব আর চুটিয়ে উপভোগ করা হলো না, দেখা হলো না ওমা কি নোংরা এই রিফিউজিরা, যারা স্কুল, কলেজ এর আশপাশের সব কিছু যাচ্ছেতাই করে রাখে তবুও তাদের বাড়ি মানে বস্তিতে ফিরে যেতে চায় না বন্যার পরেও, এবার দেখা হলো না । কে কিভাবে মরলো কিছুই সেভাবে এনজয় করা হলো। যাহোক তবুও অনেকেই চেষ্টা করছেন এবং তা ছবি ও ভিডিও দেখে বোঝা যাচ্ছে। তো যে বিষয়ে ছিলাম আর কি, আমিও বিষয়ের থেকে বেরিয়ে পড়ি ছিটকে। তারপর বিষয়ের পর বিষয় মিশিয়ে আমার লেখারা অক্ষরের বন্যায় হারিয়ে যায়। আসলে ভালো করে লিখে 'আমাকে দেখো শুধুই আমাকে দেখানোটা' শিখতে পারলাম না আজও। তাই আজ নিজেকেই ধুরছাই। বিষয় বন্যা, হ্যাঁ আসামের বন্যা। আমি যতটুকু জানি আসামে ব্যাঙে হিসু করলেও বন্যা হয় এমন জায়গার অভাব নেই। আমাদের এই বরাকেও তাই। কিন্তু আমরা যারা বাবুবিবিরা আছি, যারা দূর থেকে বন্যা পীড়িতদের রিফিউজি বলে চিরকাল ক্ষমাঘেন্নার চোখে দেখি, সেই আমরা এবার জলবন্দী, ঘরবন্দী, আমাদের বাড়ি ঘর সব অথৈ জলের নীচে, ঘরে খাবার নেই, জলের মাঝে থাকলেও খাবার জল নেই, বিদ্যুৎ নেই, নেটওয়ার্ক নেই, মোবাইলে চার্জ নেই, আমরাও আছি কি নেই অনেকেই নিজেরাও জানি না। আসলে আমরা কেউ রাজনীতি করি না, আমরা সবাই শুধু নিরাপদ দূরত্বে থেকে কি হতে পারে আর কি হতে পারে না তাই নিয়ে বুলি কপচিয়ে আরামে আমাদের দৈনন্দিন রোজনামচায় অতিব্যস্ত। আমাদের সবাই এক বোতামের টিপে সরকার নামক সর্বংসহা বিশ্বপরিত্রাতার হাতে নিজেদের সবকিছু সমর্পণ করে আমরা দিবা নিদ্রায় অভ্যস্ত। আমরা তর্জনী তুলে অন্যের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে করতে ভুলেই গেছি যে বাকি আঙুলগুলো আমাদের নিজেদের দিকেই তাক করা। সে হুঁশ আমাদের নেই। আমরা আসলে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে বেঁচে থাকতেও বেশ ভালো ভাবেই রপ্ত করে নিয়েছি, বড্ডই সুখের কথা। এবার আবার বন্যায় মানে বিষয়ে ফিরে আসি। দেখছি কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ খুব খাপ্পা, কেন সর্বভারতীয় স্তরে এই যে শিলচর তথা আমাদের শহর বরাক ডুবে আছে তা কেন খবর হলো না, কেন কলকাতায় খবর হলো না। তা ভাই খবরটা করবে কে। তা এই বরাক উপত্যকার কোন খবর কোনদিন সর্বভারতীয় স্তরে নিউজ হয়েছিল, যদি কেউ মনে করান বড্ড উপকৃত হই। এই বরাক তথা বরাক উপত্যকার মানুষ কোন হরিদাস পাল। একদম সবাই তেলেবেগুনে জ্বলে শেষ আমাদের এই জলে চোবানি অবস্থা কেন নিউজে এলো না, নিদেনপক্ষে আমার বাড়িটাও যদি এন ডি টিভিতে দেখা যেতো তাহলে তো কেল্লা ফতে আরকি। বরাকের বন্যার জল হুউউস করে সব উবে যেত মনে হচ্ছে। বিষয় হচ্ছে বন্যা এবং বন্যা কবলিত মানুষ এবং তাদের জন্য কি করা যায়, এটাই আজকে আমাদের সবার বিবেচ্য হওয়া উচিত। তা না বন্যা নিয়েও শুরু করে দিয়েছেন দূরদর্শিতা । এইসব চিন্তা ধারা গুলি আরেকটু বের করুন তারপরে বন্যা বিষয়টিকে হাওয়া করে দিয়ে বন্যায় চোবানো মানুষগুলোর চিন্তা ভাবনাকে চোবানি খাইয়ে দেখুন গোটা বন্যা বিষয়টিকেও আমাদের মন থেকে উৎখাত করা যায় কিনা। যত্তসব…। আচ্ছা এই যে এত এত নিউজ খবর যাই বলুন না কেন , এই অঞ্চলের ছেলে মেয়েরা করছে তাদের একটু উৎসাহিত করুন না, তাদের বাহবা দিন, চলুন না এনডিটিভির থেকেও বড় এবং দূরন্ত কিছু আমরা তো আমাদের এই ছোট সাধন দিয়েও করে নিতে পারি কিনা সেই ভাবনাটা ভাবুন না। করছে তো, অনির্বান রায় চৌধুরীরা তো করছে। খবর গুলো হলুদ মিডিয়ায় নাই বা যাক, মানুষের কাছে পৌঁছে দিক সেই ব্যবস্থা করি চলুন সবাই মিলে। সাংবাদিক প্রণবানন্দ দাস এর যে ভাইরেল নিউজটি সেই রাতের এন ডি এফ আর এর টিমকে নিয়ে, সেইসব যাতে আর কখনো না হয়, আসুন না সবাই সেই চেষ্টা করি। প্রণবানন্দ দাসের মত প্রশাসনের খামতি গুলো তুলে ধরার মানে এই নয় যে তিনি দেশদ্রোহী, বা সরকার বিরোধী কথা বলছেন, সাংবাদিক এবং জনগণের কাজই হচ্ছে প্রশাসন এবং সরকারের কাজের পুঙখানুপুঙখ বিশ্লেষণ করে সেই কাজের মান আরও উন্নত থেকে উন্নততর করে তোলা যাতে দেশবাসী আরও ভালো থাকে। তাই তো আসল সরকারি কাজ এবং সরকারি আমলাদেরও তাই কাজ । সাংবাদিক অরিজিৎ আদিত্য বাবুর যে দুষ্কৃতিদের দ্বারা বাঁধ ভাঙ্গা এবং প্রশাসনের অদূরদর্শীতা নামক লেখাটি ভাইরাল হয়েছে, যে লেখাটি তিনি লিখেছেন, সেটির অন্তর্বতী বিষয় বন্যা তথা বন্যার কারণ দর্শানো নিয়ে বিশদ হলেও, উনার লেখাটি ভাইরাল হয়ে শিরোনামে দুষ্কৃতিদের বাঁধ কাটা ও প্রশাসনিক অদূরদর্শীতার লেখাটি ভেতরের খবরকে বন্যার জলের ভাসিয়ে দিয়ে শুধু "দুষ্কৃতির বাঁধ কাটা" ভাইরেল এবং বন্যা বিষয়টি হাপিস হয়ে এবার বিষয় দুষ্কৃতি এবং অবশ্যই সেই দুষ্কৃতি কারা হতে পারে আজকের ভারতবর্ষে সহজেই অনুমেয়। এই লেখাটি লিখে তিনি কাদের সুবিধা বেশি করলেন ভাবছি।তাই আমার মত সাধারণ মানুষের বিনীত অনুরোধ থাকবে ছোট বড় সবার কাছে বিশেষ করে বরিষ্ঠ সাংবাদিক অরিজিৎ আদিত্য বাবুদের মত মানুষের প্রতি, যে শিরোনামটি একটু ভেবে চিন্তা করেই দেবেন। আমাদের এই অঞ্চলের জ্ঞানী গুণী মানুষ শুধু শিরোনাম পড়েই অনেক কিছু বুঝে নেন। যাই হোক আবারও আমার আসল কথা বানের জলে ভেসে গিয়ে বন্যা বিষয়টি ভেসে যাচ্ছে। তা যা বলছিলাম, ব্যাঙে হিসু করলেও শিলচর শহরের সব ইয়া ইয়া মানুষের বসবাসের অঞ্চল আর আর সোম রোড যেটি সব থেকে আগেই গলা জলে ডুবে থাকে, সেইখানের একটি মেয়ে এনাক্ষী এবং তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুরা, সবাই মিলে অনবরত যারা বন্যার গোটা শহরে আটকে আছেন তারা তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছে ঘরে বসেই। যাদের মা বাবা শিলচরে, যারা চাকুরী বাকুরীর জন্য বাইরে আছে, পরিবার মা বাবা বা চেনা জানা বন্ধুবান্ধবরা জলবন্দী তারা তাদের খবর নেবার চেষ্টা করছে এবং বরাকের বাইরে ভারতের বাইরে পরিবার পরিজনের থেকে ঠিকানা নিয়ে তাদের জলবন্দী অবস্থার মধ্যে জল, ওষুধ এবং এরা যে ভালো আছে তার খবর পৌঁছে দিচ্ছে প্রিয়জনের কাছে। যারা উদ্ধার কাজে নিয়োজিত তাদের সাথে তারা যোগাযোগে আছে, যদিও তারা নিজেরাও জলবন্দী। একদল ছেলে মিলে গোটা শহরে স্বেচ্ছাসেবকের মত ঘুরে ঘুরে জল, খাবার মেডিসিন পৌঁছে দেবার কাজ করছে, তার কোনো ফেইসবুক আপডেট দিতে পারছে না কারণ তারা গুরুত্বপূর্ণ কাজ মানুষের জানমালের হেফাজতে ব্যস্ত। কৃশানু ভট্টাচার্য , জয়দীপ ভট্টাচার্যদা, সাংবাদিক অনির্বাণ রায় চৌধুরী, মোকসদুল ভাই, নীল ভাই, রাহুল দেব, সায়নরা, প্রণবানন্দ দাসেরা, আরও নাম না জানা কয়েক শো, কয়েক হাজার ছেলেমেয়েরা অনবরত নীরবে এই অঞ্চলের বন্যার্তদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই দলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে শুধু শহর নয়, উধারবন্দ, পয়লাপুল, ফুলেরতল, লক্ষ্মীপুর, গ্রামেগঞ্জের, করিমগঞ্জ হাইলাকান্দি এবং বাইরের অনেক আছে যারা মানুষের জন্য সব বিপর্যয়ের মাঝেও অনেক ঝুট ঝামেলার মধ্যে এই কাজগুলো নীরবে করে যাচ্ছে। বন্যার আশ্রয় নেওয়া পরিবার নিয়ে একটি ছেলে যে আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে এবং আমার ছেলেটি দূরে থেকেও এই কাজে নিজেদের নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। কিছু মানুষ অনবরত গরীব দুখীদের খাবার বানিয়ে দেওয়া থেকে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত হাটু জল ভেঙ্গে মানুষের ঘরে জল খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। শুধু মাত্র একজন রাজনৈতিক পিতা বা এককভাবে কাউকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেবার আগে এই অজানা অচেনা বাচ্চা বুড়োদের কথাও জানুন। এই পৃথিবীতে একা কিছুই করা যায় না। ধ্বংস করা যায় কিন্তু বেঁচে থাকতে হলে একে অপরের সাহচর্য খুব দরকার এবং আজও মানবতা, মানবিকতা,মানুষ আছে বলেই আমরা আশায় বাঁচি। তাই যদ্দিন আমরা সাধারণ মানুষ পাশাপাশি থাকবো সব বাধাঝঞ্জা পেরিয়ে যাবার প্রয়াস করতে পারবো। আমি ও আমরা যারা অনেক কিছুই করবার ইচ্ছা আছে, খুব সীমিত আমাদের করণীয় কর্মক্ষমতা এই দুর্দিনে, তার যন্ত্রণা কুরেকুরে খাচ্ছে। তবু যারা করছেন তাদেরকে ভালোবাসা এক আকাশ। সেই সমস্ত কেন্দ্রীয় এবং আসামের রাজ্যিক কর্মচারী, কর্মকর্তারা যারা এই যুদ্ধে সেনার ভূমিকায়, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কুর্ণিশ। সবাই যে যার মত কাজ করে গেলেই হয়তো আমরা তীরের দেখা পাবো। আর যারা এক মিনিটের এক চুটকির ম্যাজিকে বিশ্বাসী, তাদের প্রতি আমার করুণা। তাদের জানান দেই, আসামের ধলপুরের এক হাজার পাচশো পরিবারের আট হাজার মানুষ যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল, এই বন্যায় আমরাও কি তাদের খোঁজ করেছি। ওই আট হাজার মানুষও এই আসামের বাংলাভাষী মানুষ। যে ২০০ টা বুলডোজার দিয়ে ১২ মে ২০২২ শের এক সকালে বিশাল ডলু চা বাগান, জলাশয়, হাজার হাজার চা বাগানের শ্রমিকের আর্তনাদকে উপেক্ষা করে প্রায় আড়াই লক্ষ চাগাছ, সেই সঙ্গে অগুনতি বিশাল বিশাল ছায়া গাছ অবলীলায় কেটে ফেলা হয়েছিল পরিবেশের চিন্তা না করেই, তখন এই বরাকবাসীরা কোথায় ছিলেন, কোথায় ছিলেন যখন গত মাসের বন্যার রংপুর করাতিগ্রাম, শিমূলতলা, ইটখোলার বাঁধের নীচের ঘরগুলো জলের তলায় চলে গেছিল, অগুনতি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল কাটিগড়া অঞ্চলে, বাচ্চা, শিশু মহিলারা জলে ডুবে মারা পরেছিলেন, গোটা ডিমা হাসাও যখন ধসে ধূলিসাৎ হয়েছিল,তখন কেরালা, কলিকাতা, দূরের কথা এই শহরের বাবুবিবিরা কি করেছিলেন আপনাদের গ্রামের মানুষের জন্য, একটু ভেবে দেখা দরকার। আগের নিজের মানুষদের দেখুন অন্যদের জন্য উদাহরণ তৈরি করুন দেখবেন দেশদশ আপনাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠবে। এন ডি এফ আর সূদুর উড়িষ্যা থেকে একশ কেন দুশো জন এলেও,আমাদের নিজের মানুষ থাকতে হবে বাইরের মানুষের পাশে, কোথায় বেশি জল, কোথায় পানীয় জল একেবারে নেই, কোথায় বিপদ বেশি এই কথাগুলো আমাদের মানুষ এসে প্রশাসন এবং উদ্ধারকাজে কর্মরত মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে, হেলিকপ্টার থেকে তিনি আমাদের হাহাকার আমাদের দুঃখ কষ্ট উবে নিতে পারবেন না, সব বানের জল, চোখের জল শুষে নিতে পারবেন না এটা আমাদের বুঝতে হবে। এক লহমায় সব ধ্বংস করা সহজ, কিন্তু প্রকৃতির ধ্বংস লীলার তাণ্ডবের সমাধান ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের সবাইকে হাত হাত রেখে আমাদের এই বরাকের সহজাত সম্প্রীতি বজায় রেখে আগেও যেভাবে করেছি এবারও করবো। আমরা এই অঞ্চলে যুদ্ধ করেই বেঁচে আছি, এই নতুন যুদ্ধেও আমরা জয়ী হবো এই আশায় আমিও আশাবাদী। এই কথাগুলো এই জন্য লিখছি যে বাইরের মানুষরা আমাদের সাহায্য করতে এলেও হয়তো পারবে না, কারণ তারা জানে না, কোনটা নদী আর কোনটা রংপুর কোনটা ন্যাশনাল হাইওয়ে। সবই তো জলমগ্ন। একে অপরের শ্রাদ্ধ না করে চলুন অন্তত আমরা সাধারণরা এক হয়ে মানুষের জন্য আমাদের জন্য কাজ করি। যারা আগে থেকেই বিভিন্ন স্কুল কলেজে গরীব মানুষেরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মের মানুষরা এক সাথে আছে, শোনা যাচ্ছে ত্রান যথেষ্ট এলেও বণ্টনে অনিয়ম হচ্ছে, অনুরোধ থাকবে যারা প্রশাসন ও সাংবাদিকরা আছেন, তারা যেন সচেষ্ট হন, বন্যার্তরাই যেন ত্রান পান। এই কাজগুলো মুখ্যমন্ত্রী একা করতে পারবেন না। আমাদের থেকে কিছু মানুষ প্রশাসনের সাথে মিলে মিশে মানুষের পাশে যেন থাকে এই আশা করছি। সুষ্ঠু বন্টন ব্যবস্থা করতে ভলান্টিয়ারদের সাহায্য নিক প্রশাসন, কারণ প্রশাসন কিছু মুষ্টিমেয় মানুষের দ্বারা মানুষের জন্যই প্রচলিত একটি ব্যবস্থা। ওরাও মানুষ, ওদেরও ক্ষমতা সীমিত, ওদের মধ্যেও ভালো মন্দ আছে। আমরা যারা সাধারণ তাদের উচিত নিরপেক্ষ ভাবে প্রশাসন এবং সরকারের সাহায্য করা। সেই সাথে সরকার ও প্রশাসনেরও যে কোন প্রতিবাদ, অনু্যোগের জন্য পুলিশ লেলিয়ে না দিয়ে বোঝা উচিত যে তাদের কাজই জনগণের সেবা। মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে এই সংবিধান দেশের সেবা করার জন্যই ওই সব পদে বসিয়েছেন। ওদের ভগবান ভাবা বোকামি এবং নিরর্থক। এবারের বন্যায় বরাক ছাড়াও, হোজাই, বরপেটা, নগাঁও, এবং আসামের প্রায় বত্রিশটি জেলা ও আরও অন্যান্য জায়গা সব ডুবে গেছে। এই আসামের প্রায় চুয়ান্ন লক্ষ মানুষ বন্যাক্রান্ত। মানুষ নিজেদের ফসল,খাদ্য, গরু বাছুর, বাড়িঘর কিছুই বাঁচাতে পারেনি। এত বিশাল সংখ্যক মানুষের পাশে কে দাঁড়াবে। কেউ নেই আমরা সাধারণ ছাড়া এই কথা গত কয়েকদিনে গৌহাটির রেডিসন ব্লু এর খবরে নিশ্চয়ই দেখেছেন বুঝেছেন। আর না বুঝলে কি করা কচুপাতার জলে ডুবে মরুন। ন্যাশনাল নিউজ কি করবে আপনার যদি দিল্লিতে খবর না যায়, আসামের বন্যা কেন রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় ঘোষিত হয় না, এই প্রশ্নগুলো কে করবে কলকাতাবাসীরা না দিল্লিবাসীরা। আর আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কি দোষ, ভোটই তো দিয়েছেন যাতে ব্যক্তিগত উন্নতি হয়, যদি সমাজ এবং দেশের উন্নতি চান তাহলে নিজেরাই আসুননা সরাসরি রাজনীতিতে, না আমরা রাজনীতি করিনা এই ন্যাকামি বাদ দিয়ে । না তখন নিরাপদ দূরত্বে থেকে হয় নাটক নয় কবিতা গল্পের সংস্কৃতি। তখন পাশের বাড়ি ছেলে হবে ক্ষুদিরাম আর আমার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। এবারের বন্যার চোবানিতে যদি এইসব স্বভাব ত্যাগ কিঞ্চিৎ পরিমাণেও না বদলাতে পারেন তাহলে পরের বন্যায় কাউকে এক্সপেক্ট করবেন না৷ তার আগে অবশ্য দিল্লি,মুম্বাই বা ব্যাঙ্গালোরের চৌদ্দ তালায় প্রবাসী হয়ে চলে যাবার প্রয়াস শুরু হবে অনেকেরই । আর এবার অন্তত বুঝুন, এক বন্যার ঠেলায় বাবুবিবিরা শহরে থেকে গাড়ি বাড়ি ফ্রিজ টিভি জলের তলায় গেলে কেমন লাগে, সারা জীবন সেই নীচু এলাকায় গোটা আসামে বানভাসি মানুষগুলো কিভাবে বাস করে আর কিভাবে এন আর সি এর জন্য কাগজপত্র গুলো গুছিয়ে রাখে। তাদের ছাদ আকাশ, তারা বেঁচে থাকার জন্যই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করে। সেই সাথে নুন পান্তা অমৃত সমান। এবার একটু শুধুই নিজের দিকে দেখবো ভাবছি। না বিষয় বন্যাই সেই সাথে নিজেকেই গুলিয়ে একটা ককটেল বানানোর চেষ্টা। গত মাসের বন্যায় ফিরে তাকাই চলুন। আমার বাড়িতে আশি বছরের শ্বশুর এবং সত্তর পার হওয়া অসুস্থ শাশুড়ী দুদিন বাড়ির ভালোবাসায় জল মগ্ন হয়ে থাকলেও তৃতীয় দিন বাথরুম ডুবে যাওয়ায় এবং জলস্তর বাড়ায় বাধ্য হয়েই পাখির বাসা চারতলার ফ্ল্যাটে আসেন। প্রায় পাঁচ দিন পর বাড়ির মায়ায় বাড়ি দেখতে গিয়ে পড়ে হার্ট এট্যাক, তারপর আরো বারো দিন নার্সিংহোম বেড়িয়ে বন্যার জল পরিষ্কার করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে এলেও বাই পাস সার্জারির জন্য গৌহাটি যেতে যেতেই আবার বন্যা। এবার শাশুড়ী বাড়ির ভালোবাসায় আরো গোঁ ধরলেন ইবার আর বাড়ি ছাড়িয়া যাইতাম না জল আউক। পাখির বাসায় বিছানায় শয্যাশায়ী অসুস্থ মা, অসুস্থ শাশুড়ী বাড়িতে জলের বাড়বাড়ন্ত দেখে ভয়ে এলেন। এবার বাড়ির সবই প্রায় জলে ডোবানো। নোয়াস আর্কের মত মনে হচ্ছে একমাত্র আমিই ডাঙায়। বাকি সব জলের নীচে। গত শনিবার দিন শেষ অফিসে গেছিলাম, যাবার সময় রাঙ্গিরখারি এলাকার জল দেখেই বুক ধুকপুক করছিল। প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টা করে একটি অটো চড়ে রাঙ্গিরখাড়ি থেকে কাঠাল পয়েন্ট অব্ধি জলে মগ্ন রাস্তা পেরিয়ে শিলচর মেডিকেল এর দিকে গেলেও ফেরার সময় এন আই টির ওদিকে বাইপাস হয়ে তারাপুর করিমগঞ্জ রোড হয়ে ঘুরে ঘরে আসতে পেরেছি। সেদিন রাঙ্গিরখারি, দাস কলোনিতে যারা কলিগরা, যাদের ঘরে কোনদিন জল উঠেনি, রবিবার থেকেই সবার একতালা ডোবানো, গলির গলা জল পার হয়ে কোনমতে প্রশান্তদা পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জেনেছি। জল বাড়ার সাথে আজ অব্ধি কোন যোগাযোগ করতে পারিনি। আমার পেনশনার দিদিরা যারা সব সময় আমার খোঁজ খবর নেই, মায়াদির খবর পাচ্ছি না। এল আই সি তে কাজ করে, সীমান্ত শহরের স্কুলের ছোটবোন অর্পিতা মা বাবাকে বাচ্চাদের কে নিয়ে ন্যাশনাল হাইওয়েতে কিভাবে আছি জানি না। পাব্লিক স্কুলের সত্তর ছুঁই ছুঁই অবিবাহিত একলা ভাস্বতীদির পরিচর্যাকারী মায়ার সঙ্গে হোটেল মারুতীতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, আজও জানি না কেমন আছেন। অনেকেই অনবরত বিভিন্ন ভাবে আমার খবর নিচ্ছেন আমি ও আমরা এখনো নোয়াস আর্কে ভেসে আছি। এটিমে টাকা নেই, বাজারে আগুন, তবু দুই বৃদ্ধাকে নিয়ে ভালো আছি। পরশু বিকেল থেকে গতকাল সন্ধ্যে অব্ধি বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক কিছুই ছিল না। রাতে সব স্বাভাবিক হয়েছে। আমাদের আশেপাশের সবাই ঠিকই আছি।জানি না কি হবে একটু আগেই খবর পেলাম মিজোরামের একটি বাঁধ ভেঙ্গেছে। সব সাংবাদিক বন্ধুদের বলবো সজাগ থাকুন। মানুষ যাতে আর বিপদে না পড়ে সেই চেষ্টা করি সবাই মিলে। আর যারা আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না সবাইকে জানাই আমি ও আমরা ভালো আছি। ও হ্যাঁ আর একটি কথা, বলছি টেঁ ফু হলেই এখন সবাইকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু বেথুকান্দির বাঁধ সম্বন্ধে মহিষাবিল ও আশেপাশের মানুষের দীর্ঘদিনের অনুযোগ, অসুবিধা এমনকি শুনেছি ও পড়েছি বাঁধের মেরামত নিয়ে প্রশাসনের এই নিস্পৃহতা নিয়েই প্রশ্নটা জোরালো হওয়া উচিত এবং আমাদেরও সবাইকে ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা জানার পরপরই নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশাসনকে চাপ দেওয়া উচিত যাতে নদী এসে শহরকে গ্রাস না করে। হ্যাঁ আরও একটা কথা জল, আগুন কাউকে ছেড়ে কথা কয় না। এই বন্যার তোড়ে হিন্দু মুসলমান ক্রিশ্চিয়ান, প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। তাই দুষ্কৃতি বলে আবার নতুন যুদ্ধ থেকে অতি জ্ঞানীরা এবার অন্তত বিরত থাকবেন এই নিয়েও আমি খুবই আশাবাদী যদিও পত্রিকার হেডলাইনে আলতোভাবে আসা শুরু হয়ে গেছে। আসলে এই হচ্ছে আমাদের চরিত্রগত কু অভ্যাস। বিষয় থেকে বেরিয়ে যাবার প্রবণতা। একটা কথা মানে একটা গানের কথা খুব মনে পড়ছে। আমিও শুনছি আপনারাও ইচ্ছে হলে শুনে দেখতে পারেন "….পরের জায়গা পরের জমিন ঘর বানাইয়া আমি রই…আমি তো সেই ঘরের মালিক নই.."। এই পৃথিবীটা সবার। কারও বাপের সম্পত্তি নয়। আর এই পৃথিবী থাকলেই আমরাও থাকবো। আমাদের যা কিছু প্রয়োজনীয় সব এই প্রকৃতি থেকেই পাচ্ছি আর দুদিনের এই পৃথিবীতে আজ ভালোভাবে বেঁচে থাকাটাই পরম প্রাপ্তি এটা মনে থাকলে এই জিনিসপত্র টাকাপয়সার মায়া কমে যায় আর নিজেও অনেক বেশি ভালো থাকা যায়। আর আমরা ভালো থাকলেই আমাদের ভগবান আল্লা ঈশ্বর যেশাস ক্রাইস্ট সবাই ভালো থাকবেন, মন্দির মসজিদ গীর্জা গমগম করবে ভক্তদের ভীড়ে। ও হ্যাঁ আর একটা কবিতা আমার খুব প্রিয়, বিপদ এলেই আর বেশি জ্ঞানীদের সমাবেশ দেখলেই এই কবিতাখানির কথা আমার মনে পড়ে,প্রিয় কবি সুকুমার রায়ের কবিতা "জীবনের হিসাব"। পড়ে দেখতে পারেন। জয়শ্রী ভূষণ : আসামের শিলচরের বাসিন্দা। নাট্যকর্মী ও প্রাবন্ধিক।Read More

বিদেশ

লোকসঙ্গীতে লিঙ্গবৈষম্য: গৃহবধূর গৃহবন্দীত্ব প্রসঙ্গ

লোকসঙ্গীতে লিঙ্গবৈষম্য: গৃহবধূর গৃহবন্দীত্ব প্রসঙ্গ ড. শিবলী চৌধুরী লিঙ্গবৈষম্য সময়ের অতি আলোচিত বিষয় সমূহের অন্যতম। এই বিশেষ 'শব্দবন্ধটি' বর্তমান সময়ের সমাজ-অনুশীলনের ক্ষেত্রে বহুলভাবে চর্চিত। অক্সফোর্ড অভিধানে 'লিঙ্গ' এর ইংরেজি প্রতিশব্দ 'gender' সম্পর্কে আমরা যে ব্যাখ্যা পাই তাহলো 'the fact of being male or female, especially when considered with reference to social and cultural differences, not Read More