• May 29, 2022

জাতীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে “নেতাজি গবেষণা পর্ষদ, বাংলাদেশ”

 জাতীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে “নেতাজি গবেষণা পর্ষদ, বাংলাদেশ”

পূর্বাঞ্চল ডেস্ক

২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের আজকের দিনে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সালাম, রফিক, বরকত, শফিক ও জব্বার সহ নামজানা আরও অনেকে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়ে গিয়েছেন। আমরাই পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। বাংলা ভাষার মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য।

নেতাজি গবেষণা পর্ষদের আহবায়ক সাজিদ হাসান কামাল বলেন- “ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘নেতাজি গবেষণা পর্ষদ’ ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যদিয়ে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ভাষা শহীদদের ত্যাগের মহিমান্বিত ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পূর্ব বাংলার বাংলা ভাষাভাষী ৪ কোটি ৪০ লাখ জনগণ পাকিস্তান অধিরাজ্যের অংশ হয়ে যায়। পাকিস্তানের সরকার, প্রসাশন, সামরিক বাহিনীতে পাকিস্তানের পশ্চিম প্রান্তের আধিপত্য দেখা দেয়। করাচিতে জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনে শুধুমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা এবং স্কুল ও মিডিয়াতে ব্যবহার করার প্রস্তাব করা হয়। এই সমস্ত ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে রক্তাক্ত আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এই গৌরবান্বিত ইতিহাস আমাদেরকে বিশ্ব দরবারে অনন্য জাতি হিসেবে তুলে এনেছে।”

সদস্য সচিব নূর জান্নাতুল মাওয়া ড্রথি বলেন, “আমরাই বিশ্বে সেই জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। বাঙালি তার অধিকার আদায়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে এক পা ভয় করে না। নেতাজি গবেষণা পর্ষদের মূল লক্ষ্য সত্যিকারের ইতিহাস তুলে আনা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেই ইতিহাসকে পৌঁছে দেওয়া। এই আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৪৭ সালের ৮ ডিসেম্বর। ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জমায়েত হয়। এজন্য ছাত্ররা ঢাকায় মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। সেই থেকে চলতে থাকে আন্দোলন। ১৯৫২ সালে এই আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেঐ যায়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল নয়টায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জড়ো হতে শুরু করে। এরপর পুলিশ গুলি চালায়। নিহত হয় সালাম, রফিক, শফিক, বরকত সহ অনেকে। অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের ভাষা বিশ্বের দরবারে মাথ উঁচু করে দাঁড়াবে এটাই প্রত্যাশা।”

এছাড়া বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে বাংলায় রায় লেখা শুরু করাকে স্বাগত জানানো হয়।

নেতাজি গবেষণা পর্ষদ, বাংলাদেশ সংগঠনটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বাঙালির সত্যিকারের ইতিহাসকে তুলে ধরা এবং জাতীয় জীবনে সঠিক মূল্যায়ন করার প্রয়াস নিয়ে কাজ করে যাওয়া।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post