• May 29, 2022

আজকের প্রাসঙ্গিকতায় রবীন্দ্রনাথ

 আজকের প্রাসঙ্গিকতায় রবীন্দ্রনাথ

অরূপ ঘোষ

রবীন্দ্রনাথ ও লেনিনের মধ্যে কোনদিন সাক্ষাৎ হয়নি, কিন্তু লেনিনের মৃত্যুকালিন অবস্থায় তার ঘরটি ছিল ছোট্ট একটি লাইব্রেরি।সেখানে গীতাঞ্জলি এবং রবীন্দ্রনাথের আন্তর্জাতিক ভাবনা সম্পর্কের প্রবন্ধগুলি পাওয়া যায়।দুজনের মধ্যে মিলের জায়গাগুলি অনেক গভীরে।ঐ সময়ে দুজনেই জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকতাবাদের পক্ষে, দুজনেই ভূমিসংস্কারের ক্ষেত্রে ভূমি রাষ্ট্রীয়করণের পক্ষে।কিন্তু গভীর ঐক্যের স্থানটি হলো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের পক্ষে।লেনিন পরবর্তী রাশিয়ার প্রতি রবীন্দ্রনাথের অগাধ আস্তা থাকলেও রাশিয়ার চিঠিতে তিনি ছাঁচে ঢেলে মানুষ তৈরি করার পদ্ধতি সম্পর্কে সাবধান করেন।যে সাবধান বানী পরে মিলেও যায়।আর এই বিষয়ে লেনিন বারবার সর্তকবাণী শুধু দেননি, মার্কসদের রাষ্ট্র সম্পর্কে লেখা থাকলেও আলাদা করে ‘রাষ্ট্র ও বিপ্লব’ বইটি লিখে মানুষ, রাষ্ট্র,পুঁজি, রাজনীতি সবকিছুর দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক সামনে আনেন এবং দেখান প্রত্যেকটি relative এবং time-space এ বিলীন আর এর ভিতর দিয়েই মানুষের আন্তর্জাতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে।কিন্তু লেনিনের মৃত্যুর পর পার্টি, রাষ্ট্র সব কিছু আরো দৃঢ় ভাবে চেপে বসল মানুষের ঘাড়ে।এই পর্বে যেমন রাশিয়ার গুনগান করেও সমালোচনা করেছেন আবার বাজারী ইউরোপ সম্পর্কে কি বলছেন দেখা যাক। ‘I am not competent to say how Europe herself feels about this phenomenon produced by her science. It was an organised passion of greed that is stalking aboard in the name of European civilization…The impersonal pressure pressure which, from its aloofness,it is applying to our living soul in enormous,ever-narrowing our prospect of growth,smothering the power of initiative in our mind’. ইউরোপীয় সভ্যতার নামে বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত মানুষকে শেষ করে কি ভাবে ক্ষমতার উত্থান হচ্ছে তাতে এটি পরিষ্কার।আর এ সবের কারণকে তিনি দেখান বানিজ্য।”বানিজ্য আর নিছক বানিজ্য নহে, সাম্রাজ্যের সাথে তার গান্ধর্ব বিবাহ ঘটিয়া গিয়াছে।” তিনি আরো একটি বিষয়কে তিনি সামনে এনেছিলেন সেটা হলো সুখ ও সৃষ্টির আনন্দের মধ্যে তফাৎ দেখানো।সুখের আনন্দ বাহ্যিক কিন্তু সৃষ্টির আনন্দ আত্মিক। প্রকৃতির সাথে মানুষের মিলনের ভিতরে যে ছন্দের সৃষ্টি হয় সেটাই আনন্দের উৎস।কিন্তু মানুষ এই সম্পর্ককে অবহেলা করে প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে সুখ খুঁজতে গিয়েই হারিয়ে যায়।আজ রবীন্দ্র চিন্তার এই দিকটি কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা আমাকে ব্যাখ্যা না করলেও হবে, প্রকৃতিই ব্যাখ্যা করে দিয়েছে।তাই রবীন্দ্রনাথ ও লেনিনের মিলের যে যায়গা সেটা হলো মানুষের মাথায় সমস্ত ধরনের যে সংগঠ পরম হয়ে বসে আছে এর নৈতিকতায় প্রশ্ন তুলতে হবে।But personal man is not dead,only dominated by organised man. The world has become the world of jack & giant-the giant who is not a gigantic man, but a multitude of men turned into a gigantic system.রবীন্দ্রনাথ যেমনি এটাকে সামনে তুলে আনছেন। আর এটাকে ভাঙার জন্য লেনিন বিপ্লবের পরও হেগেল থেকে মার্কস কি ভাবে বেরিয়েছেন সেটাকে বোঝার জন্য নতুন ভাবে তত্ত্বের চর্চা শুরু করেছেন, যার উদাহরণ ‘philosophical note book’ এর comments “nonsense about absolute, I am trying to read Hegel materialistically. Hegel is materialism which has been stood on its head, that is to say, I cast aside for the most part god the absolute, the pure idea etc.”লেনিন যেমনি পথ দেখার চেষ্টা করছেন হেগেল থেকে বেরোবার জন্য।রবীন্দ্রনাথকেও দেখা যাচ্ছে তার ভাবনায় ঈশ্বরের স্থানে মানুষকে প্রতিষ্টা করছেন, এইজন্যই তিনি চেষ্টা চালাচ্ছেন বিশেষ মানুষকে কি ভাবে বিশ্ব মানুষে তুলে আনা যায়। তাই আজ দরকার নিজ নিজ পরম ভেঙে বেরিয়ে আসার।সেখানে উক্ত তিন মানুষের জীবন আমাদের সাহায্য করতে পারে।
এই তিনজনের মধ্যে একমাত্র আইনস্টাইন ও রবীন্দ্রনাথের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়েছিল।কিন্তু তিনজন তাদের পরস্পরের ভাবনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন।যেমন সুইজারল্যান্ড়ে থাকাকালিন একই রেষ্টুরেন্টে লেনিন ও আইনস্টাইন সন্ধ্যাবেলা কফি খেতে যেতেন কিন্তুু কোনদিন পরিচয় হয়নি।অথচ দুজনেই যে বিষয়টিকে নিয়ে লড়াই করছেন সেটা হলো ২০০ বৎসর ধরে চলে আসা যান্ত্রিক বস্তুবাদের বস্তু,স্থান ও কালের ধারণা যখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এবং মাখের নেতৃত্বে স্থান ও কালকে চূড়ান্ত করে যখন বস্তুকে অস্বীকার করে এক নতুন ধরনের ভাববাদের উত্থান হচ্ছে।প্রথমদিকে আইনস্টাইন মাখবাদের প্রতি আকৃষ্ট হলেও দ্রুত মাখের চিন্তার থেকে বেরিয়ে এসে বিজ্ঞানের মধ্যে স্থান,কাল ও বস্তু সম্পর্কে যে পরমের ধারণা ছিল তাকে ভেঙে পারস্পরিক এর অধীনে নিয়ে আসেন।এই সময়ে বিজ্ঞানী Abel Ray ছিলেন আইনস্টাইন ও লেনিন উভয়ের ই বন্ধু। তখনও আইনস্টাইন ব্যাংকে চাকুরী করেন।Abel ray এর কাছ থেকে আইনস্টাইনের তত্ত্ব সম্পর্কে শুনে লেনিন কি বলেছেন দেখা যাক – But however much both ray and the physicists of whom he speaks abjure materialism,it is nevertheless beyond question that mechanics was a copy of real motion of moderate velocity,while the new physics is a copy of real motion of enormous velocity. The recognition of theory as a copy, as an approximate copy of objective reality, is materialism।কথার থেকে চিন্তার সমতা পরিষ্কার।এখানে যে physicist এর কথা বলা হয়েছে তিনি আইনস্টাইন।এছাড়া দুজনেই ছিলেন মেহনতী মানুষের শুধু সমর্থক নয় তাদেরই মানুষ। দুজনেই জাতীয়তাবাদের উর্দ্ধে আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রবক্তা।একজনকে দেশত্যাগ করতে হয়, আর একজন বিশ্ব বিপ্লবের তত্ত্বকে সামনে এনে বিশ্ব মানবতার মুক্তির পথ দেখান।এরা যা করে গেছেন পুরোটাই বিশ্ব মানবতার জন্য,কোন জাত,জাতি বা দেশের জন্য নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post