• May 25, 2022

NRC ও BSF এর এলাকা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রচার, আটক ৫

 NRC ও BSF এর এলাকা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রচার, আটক ৫

পূর্বাঞ্চল নিউজ ডেস্ক :

আসন্ন এনপিআর কর্মসূচি এবং বিএসএফ এর এক্তিয়ার ৫০ কিমি বাড়ানোর বিরুদ্ধে প্রচার করতে গিয়ে গত শুক্রবার আটক হয়েছেন ৫ আন্দোলনকারী। আটক করেছে রানাঘাট আরপিএফ। আটক হওয়া ব্যাক্তিরা দলিত আদিবাসী মাইনরিটি আন্দোলন লিগ (দামাল) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিটি সেন্টার (আইইউসি) এর সদস্য।আন্দোলনকারীরা ৪ঠা ফেব্রুয়ারী সকাল থেকে উত্তর ২৪ পরগণা এবং নদীয়ার উদ্বাস্তু বহুল অঞ্চলে প্রচার করছিলেন। প্রচারপত্র বিলি এবং খালি গলায় ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত ইউনিয়ন সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছিলেন তারা। প্রচার চলাকালীন দুপুর ১টা নাগাদ রানাঘাট স্টেশনের আরপিএফ কর্মীরা তাদের বাধা দেন, প্রচারপত্র গুলো নিয়ে নেন এবং আটক করে রাখেন বলে অভিযোগ। আটক হওয়া ব্যাক্তিরা হলেন শিবব্রত শানা(৫৫), মানিক ফকির(৫৭), কিংশুক বিশ্বাস (২২), নাসির কাজি (২০), সৈয়দ জিয়াউল (২১)। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইপিসি ১৪৫,১৪৪(২),১৪৬,১৪৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টায় ধৃতদের আরপিএফ মুক্তি দিলেও সোমবার আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী রাংতা মুন্সি বলেন “ট্রেনে, প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক প্রচার বাংলার রাজনৈতিক ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে। এই ধরণের পুলিশি হয়রানি বেঁচে থাকা গণতান্ত্রিক পরিসর টুকু খতম করার প্রয়াস ছাড়া কিছু নয়।”

এনআরসি, এনপিআর নিয়ে ২০২০ সালের প্রথম লকডাউনের আগে নাগরিক সমাজ আন্দোলনে নামলেও বর্তমানে সরকার এবং নাগরিক সমাজের আন্দোলনকারীদের সাধারণভাবে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ প্রচার কর্মসূচির কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে দামাল নেতা শিবব্রত শানা বলেন “সরকার যতই বিভ্রান্ত করুক, সরকারি নথি থেকেই স্পষ্ট এনপিআর হল এনআরসির প্রথম ধাপ। এখনো নাগরিক আইনের ১৪এ ধারা বা এনআরসির ধারা বাতিল হয়নি। ফলত, এনআরসির খাঁড়া এখনো মাথার উপর ঝুলছে। সরকার নাগরিকদের ধোঁয়াশায় রেখে এনপিআর এর প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে। তাই মানুষকে সচেতন করতে আমাদের কর্মসূচি।” আরেক আন্দোলকারী কিংশুক বিশ্বাস বলেন “সিএএ এর নামে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি নমশূদ্র, মতুয়া উদ্বাস্তুদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে ভোটে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছে। আর নমশূদ্র, মতুয়া, উদ্বাস্তুরা ভেবেছে যে বিজেপির হাত ধরলে হয় তো নাগরিকত্বের নামে হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। সিএএ একটি ভাঁওতা সেটা আজ প্রমাণিত, উল্টে গরিব মুসলিম এবং তথাকথিত নিম্নবর্ণের উদ্বাস্তুদের হয়রানি বাড়াতে বিএসএফ এর এক্তিয়ার ১৫ কিমি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিমি করে দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতেই আমাদের প্রচার কর্মসূচী।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ইউনিয়ন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ তার একাধিক বক্তব্যে ক্রনোলজি বুঝিয়ে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন আগে সিএএ হিন্দুদের নাগরিকত্ব সুরক্ষিত করবে তারপর এনআরসি হবে। এর ফলে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী নাগরিক সমাজ এবং দেশের সংখ্যালঘু সমাজ ব্যাপক ভাবে আন্দোলনে নেমেছিল। কিন্তু ইউনিয়ন সরকার একের পর এক সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও দু বছরেও সিএএ এর রুল বের করে হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে নিতে পারেনি। অন্যদিকে করোনা এবং লকডাউনের ফলে থমকে থাকা এনপিআর কর্মসূচী ২০২২ সালে শুরু করার পরিকল্পনা ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে জানিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (https://www.business-standard.com/article/economy-policy/cabinet-approval-for-new-census-dates-including-npr-expected-soon-121111000810_1.html) ফলত, অবধারিত ভাবে বিপদে পড়বেন ২০০৩ সালের সিএএ তে নাগরিকত্বের অধিকার হারানো উদ্বাস্তু মানুষেরা, যাদের মধ্যে বড় অংশই নমশূদ্র। অন্যদিকে সীমান্তে বিএসএফ এর বিরুদ্ধে বারবার সীমান্ত সংলগ্ন মানুষদের উপর হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বলাবাহুল্য, সীমান্ত অঞ্চল গরিব মুসলিম এবং নমশূদ্র উদ্বাস্তু অধ্যুষিত। ফলে ইউনিয়ন সরকার বিএসএফ এর এক্তিয়ার ১৫ কিমি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিমি করে দেওয়ায় অনেকে এর পেছনে গায়ের জোরে এনপিআর করিয়ে নেওয়ার অভিসন্ধি দেখছেন এবং স্থানীয় গরিব বাসিন্দাদের উপর হয়রানি বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে বিএসএফ এর এক্তিয়ার বৃদ্ধিকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত হিসেবে দেখেছে বিরোধীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  

1 Comments

  • Thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post