• May 25, 2022

গভঃ আর্ট কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে বিশিষ্ট শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া

 গভঃ আর্ট কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে বিশিষ্ট শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া

‘গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ পেইন্টিং ডিপার্টমেন্টে শিক্ষক চাই’ এই দাবি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করেছে। শোনা যাচ্ছে ঐ বিভাগের অবশিষ্ট একমাত্র শিক্ষক কিছুদিন আগে অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে প্রায় বিভাগটি বন্ধ যাওয়ার মতনই অবস্থা।ঠিক সেই কারণ নতুন শিক্ষকের দাবি এবং বেশ কিছু অন্যান্য দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা।পূর্বাঞ্চল নিউজ ডেস্কের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট শিল্পীদের সাথে যোগাযোগ করলে তাঁরা তাঁদের মতামত জানান…

হিরণ মিত্র

আর্ট কলেজের প্রাক্তনীদের একটা অ্যাসোসিয়েশন আছে,আমি তার সভাপতি। সেখান থেকে আমরা বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুকাল ধরে কথা বলেছি বিভিন্ন দপ্তরে।আমরা প্রিন্সিপালের সঙ্গে বারবার এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছি।কিন্তু যে কোন কারণে এটা ঘটে ওঠেনি,এক বছরের বেশি সময় ধরে এটা নিয়ে আমরা নাড়াচাড়া করছি।আমরা জানতাম ২০২২ সালে ৩১ জানুয়ারি রতন আচার্য রিটায়ার করে যাবেন।রতন আচার্য ইতিমধ্যে দুবার এক্সটেনশন পেয়েছেন,যেহেতু আর কোন টিচার ছিলোনা তাই দুবার এক্সটেনশন পেয়েছেন। হয়তো আমি জানিনা তার তৃতীয়বার এক্সটেনশন পাওয়ার গোপন বাসনা ছিলো কিনা কারণ এই বিষয়টি নিয়ে রতন আচার্য কোন বিবৃতি দেয়নি গত এক বছর ধরে এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিল। আর সত্যিই যে এই ডিপার্টমেন্টটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ এর জন্য খবরের কাগজে লেখার কথাও ভাবি এবং বিষয়টি বিভিন্ন খবরের কাগজকে বলি।তারা উৎসাহ দেখায় কিন্তু তারা বলেন আপনার বক্তব্যের পাশাপাশি প্রিন্সিপাল এবং ডিপার্টমেন্টাল হেডের বক্তব্যও চায়।তবে প্রিন্সিপাল ও ডিপার্টমেন্টাল হেড কোন উৎসাহ দেখাননি। প্রিন্সিপাল ও রতন আচার্য উৎসাহ না দেখানোর ফলে খবরের কাগজে আর লেখা হয়ে ওঠেনি।শেষ পর্যন্ত প্রিন্সিপাল ডিসেম্বর মাসে একটা প্রতিক্রিয়া দেয় যে উনি নাকি শিক্ষাদপ্তরে কথা বলেছেন এবং বলেন এটার একটা পজেটিভ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।এটা শুনে আমরা আশ্বস্ত হই। কিন্তু পরে দেখা গেলো বিষয়টি ভিত্তিহীন।তারপর এই ঘটনা ঘটে গেলে প্রাক্তনীদের পক্ষ থেকে আমি সভাপতি হিসেবে এবং অসিত পাল সেক্রেটারি হিসেবে আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মাননীয় ব্রাত্য বসুকে চিঠি দিই। এই চিঠিটি পাওয়ার পরে শিক্ষামন্ত্রী প্রতিক্রিয়া জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো এবং আপাতত অস্থায়ী ভাবে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সেটাও করবো।’আমাদের বক্তব্য ছিলো, ইউজিসি যে সমস্ত গাইডলাইন দিয়েছে সেটা(পিএইচি থাকতে হবে,ইউ জি সি অ্যাফিলেটেড থেকে করতে হবে)বেশিরভাগই খুব অবাস্তব।কিন্তু যদি তেমন কেউ থেকেও থাকে সেরকম কাউকে পাওয়া যাচ্ছেনা।দ্বিতীয়ত ৩৫ বছর কাট অফ ডেট করা হয়েছে। এই বয়সের বিষয়টিও অবাস্তব যেহেতু নিচের দিকে যে কাট অফ ডেট ছিলো আমাদের সময় ষাটের দশকে (কুড়ি)সেটা এখন তেইশ বছর হয়েছে।তেইশ বছর হওয়ার ফলে কেউ যদি মাস্টার্স করে দুবছর পর তার বয়স পঁচিশ বছর হয়ে যাবে।পি এইচ ডি করবে আরো দুবছর চলে যাবে সাতাশ বছর হয়ে যাবে।এই ধরনের সমস্যার ফলে এই শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা পাওয়ার যে সময় সেটা আর থাকছেনা, তার ফলে আমরা বলেছিলাম বয়সের উর্ধ্বসীমা ৩৮-৪০ বছর করা হোক, তাহলে হয়তো পাওয়া যেতে পারে।তার ফলে আর নিয়োগ হয়নি।তাই শিক্ষাদপ্তরকে বলেছিলাম ইউ জি সি কে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে যাতে সুষ্ঠ সমাধান হয়।কিন্তু এক বছর ধরে সেই বিষয় নিয়ে আগ্রহ দেখাইনি। আসলে অনেকের হয়তো সুপ্ত বাসনা ছিলো ডিপার্টমেন্টটি যাতে বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি হয়তো সেই দিকেই এগোচ্ছে। কিন্তু আমরা বিতর্ক চাইনা আমরা সুষ্ঠ সমাধান চাই,যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা পুনরায় পঠন-পাঠন করতে পারে।

সমীর আইচ

আমি নিজে গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র।আমাকে ছাত্র-ছাত্রীরা জানালো দীর্ঘদিন দিন ধরে ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ পেন্টিং ডিপার্টমেন্ট টিচার নেই। (এই ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ পেন্টিং ডিপার্টমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্ট।খুব কম কলেজে এই ডিপার্টমেন্ট আছে।)রতন আচার্য যিনি ছিলেন তিনিও এক্সটেনশন করেছিলেন কিন্তু বর্তমান সময়ে তিনি রিটায়ার করেছেন।আমার বক্তব্য হলো ডিপার্টমেন্ট যাতে কিছুতেই বন্ধ না হয়ে যায়।ইতিমধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে পরীক্ষা, কারোর থার্ড ইয়ার, কারোর ফাইনাল ইয়ার।আশা করি প্রিন্সিপাল এই বিষয়টি বিবেচনা করবেন।যে কোন কারণেই হোক ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজের দিক থেকে এখনও কোন ইতিবাচক ইঙ্গিত পায়নি। প্রিন্সিপাল নিজেও একজন ভালো শিল্পী এবং উনি এটা নিশ্চয় বুঝবেন।আশা করবো এই ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি পূরণ হবে এবং ডিপার্টমেন্ট যেনো কিছুতেই বন্ধ না হয়ে যায়।

প্রদোষ পাল

ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ পেইন্টিং-এর মতো ঐতিহ্যবাহী বিভাগটি হঠাৎ বন্ধ করার পরিকল্পনা যদি সত্যিই করা হয় তা হবে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই বিভাগে এমন কিছু টেকনিক্যাল দিক শেখানো হয় যা ভারতবর্ষে আর কোথাও হয়না। তা থেকে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের বঞ্চিত করার কথা কেন ভাবা হচ্ছে?
দেড়শো বছরের বেশি ঐতিহ্যশালী কলেজে ঐতিহ্যবাহী এই বিভাগ বন্ধ করার স্পর্ধা আসে কি করে ভাবছি!
টেকনিক্যাল কিছু সমস্যা থাকলে তা মেটানো যায়না আমি বিশ্বাস করিনা। আসল কথা সদিচ্ছা!

শুভাপ্রসন্ন

প্রিন্সিপাল যদি নিজে উদ্যোগী হন এবং প্রিন্সিপাল যদি ‘শিক্ষক নেই’ এই মর্মে এডুকেশন সেক্রেটারিকে চিঠি লেখেন।সেই চিঠির কপি যদি ভাইসচ্যান্সেলর ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি তাঁকে একটা কপি দিয়ে দেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ হবে। কারণ এটা ব্রাত্য বসুর কানে গেছে সুতরাং না হওয়ার কোন কারণ নেই।এইজন্য প্রিন্সিপালকে উদ্যোগী হতে হবে,অন্য জায়গায় ঢিল মেরে তো লাভ নেই।আমরা কাজের কাজ করবো। আন্দোলনটা দরকার কিন্তু আন্দোলন করতে যাবো কেন?এটা তো ন্যায্য, সেই অধিকারটা তো প্রিন্সিপালের উপর বর্তায়। প্রিন্সিপাল যদি এখন মিস্টার মনীশ জৈন কে চিঠি লেখেন,যিনি প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এডুকেশন। এই মর্মে লিখিত দিক ‘আমার শিক্ষক নেই’ ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস করতে পারছে না তাহলেই কাজ হয়ে যাবে।কারণ আমি জানি এটা ব্রাত্য বসুর কানে গেছে এবং দরকার হলে আমরাও কথা বলবো।

প্রদীপ মৈত্র

ইন্ডিয়ান পেইন্টিং-এ আমদের নিজস্ব একটা ধারা ছিল যেটা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর করেছিলেন।এবং নন্দ বাবুও এই কাজটা করেছিলেন।এটা একটা ধারা ছিল।এই ধারা তে শেষ পর্যন্ত রতন আচার্য,এরপর অপূর্ব সেনগুপ্ত এই ডিপার্টমেন্টটা দেখতেন । কিন্ত সেই ভাবে আর চললো না ।কারন ইন্ডিয়ান পেইন্টিং নিয়ে যারা পড়াশোনা করেছিলেন তাঁরা প্রতেকেই পরবর্তী কালে স্ট্রীম পরিবর্তন করে ফেলেন , এর ফলে মুস্কিল যেটা ছাত্রছাত্রীরা টিচার কোথাই পাবে । আগে একটা ধারা ছিল, চর্চা হতো, ইন্ডিয়ান পেইন্টিং কে এ্যাওয়ার্ড তার ওপর।এখন সেগুলো না থাকা তে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পুশ করে দেওয়া হচ্ছে যে ইন্ডিয়ান পেইন্টিং কে মডার্নাইজ করো, স্টাইল টা একই থাক কিন্তু নতুন করে ভাবো। আসলে ইন্ডিয়ান পেইন্টিং-এ ল্যান্ডস্কেপ,দেব-দেবী,এই বিষয় গুলো নিয়ে চর্চা হতো। পরবর্তী কালে কিছু ছাত্রছাত্রী এটা ভাঙ্গার চেষ্টা করে কিন্তু কাজগুলো ঠিকঠাক হয়ে ওঠেনি ।আসলে জলরঙের মধ্যে একটা টেকনোলজি আছে। এটা তো আসলে মিডিয়াম আক্র্যলিক বা অন্য মাধ্যমের মধ্যে টেকনোলজি অনেকটা অফ হয়ে যায়।আসলে আমরা বলি যে সাবজেক্ট এর টেকনোলজি যদি একসাথে চলে আসে তবে ছবি টা অনেক বেশি উতরাই ,অনেক বেশি প্রানবন্ত হয়। আবার এও দেখা গেছে সাবজেক্ট শুধুমাত্র টেকনোলজি মানে ভাব এবং তার যে এক্সপ্রেসন। সেই এক্সপ্রেসনে সারা পৃথিবী বিখ্যাত হয়েছে যেমন এভার্টমুঙ্ক তার সেই ছবি টার মধ্যে কতটা স্কিল বা টেকনোলজি আছে তার থেকেও তার ভাব ভঙ্গিটা এমন একটা আত্মচিৎকারের আছে যেটা দেখলে পরে গা শিউরে ওঠে তার মানে দুটোই আছে আবার যখন রেমরান্ডের আলো ছায়া সেটাতেও আছে ।এখন ইন্ডিয়ান পেইন্টিং এর ক্ষেত্রে গুরুমুখী শিক্ষা( পদ্ধতিগত দিক) সেই পদ্ধতিটা যদি গুরু না দেখিয়ে দেন তাহলে পরবর্তী জেনারেশন সেটা কিছুতেই ধরতে পারবেনা গভমেন্ট কলেজে যে আন্দোলন হচ্ছে লোক কোথায় সত্যি সত্যি যদি অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দেওয়া হয় ইন্ডিয়ান পেইন্টিং এমপ্লয়ি নিয়োগের জন্য তাহলে আমরা কি সেই লেভেলের লোক পাব যারা সঠিক শিক্ষা দিতে পারবেন।
যত দিন যাচ্ছে ততো আর্টস কলেজ এর মান তত নিম্নমুখী হচ্ছে।যে গুরুমুখী শিক্ষা আমাদের ছিল যেটা আমরা অ্যাকাডেমিক শিক্ষা বলতাম। কিছু কিছু সেকশন এই অ্যাকাডেমিক শিক্ষা টা কে এড়িয়ে চলছেন, তারা ভাবছেন অ্যাকাডেমিক শিক্ষা নয় আমরা অনেক বেশি উচ্চ মানের শিল্প তৈরি করবো।সেই জন্যই এরা ইনস্টলেশন থেকে শুরু করে আবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং এর ওপর বেশি জোর দিয়েছে ।কিন্তু অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং যারা সারা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত বিখ্যাত কাজ করেছেন তাদের আপনি অ্যাকাডেমিক কাজ দেখুন সাংঘাতিক স্কিল। সেই স্কিল থেকে তারা অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং এ গেছেন।এখন যারা অ্যাবস্ট্রাক্ট পেন্টিং করছেন তারাই অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং থেকে শুরু করছেন ।তারা কিন্তু নিজেদের স্কিল তৈরির সময় একজন ভালো মাস্টারও পাননি যারা তাদের হাতে ধরে দেখিয়ে দিতে পারে।
এখন মাস্টার মশাইরা দেখিয়ে দেননা বা পারেন না বা চাননা।অনেক ছাত্র-ছাত্রী ও মাস্টারমশাই এর থেকেও ভালো কাজ করেন যাদের কাজের ওপর হাত দিতে মাস্টারমশাইয়ের হাত কাঁপে। অনেক ছাত্র-ছাত্রী ছিলেন যারা স্বভাব সিদ্ধ ভাবেই নিজেদের ডেভলপ করতেন। কিন্তু তাদেরও দেখিয়ে দেওয়ার মতন মাস্টারমশাই ছিল। তখন বিকাশ ভট্টাচার্যের মতন মতো নামকরা শিল্পীরা তাদের শিক্ষা দিতেন। কিন্তু এখন সে নামকরা শিল্পীরা কোথায় গভর্নমেন্ট কলেজে? যারা আছেন তাদেরও তো সময় নেই কাজ করার তারা তো কাজ করেন না তাহলে তারা কিভাবে নতুন নতুন জিনিস শেখাবেন। তখন শিক্ষকরা নিজেরাই কাজ করতেন ছাত্র-ছাত্রীদের সেগুলোই শেখাতেন এখন সেগুলো কোথায়। এইভাবে অন্যান্য স্ট্রিম চলতে পারে কিন্তু ইন্ডিয়ান পেইন্টিং এর মতন স্ট্রিম এইভাবে চলবেই না। ইন্ডিয়ান পেইন্টিং টা ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ পেইন্টিং নামেই এস্টাবলিশ ছিল জলরং পেন্টিং এর মধ্যে। যারা ফাইন আর্ট করত তারা জল রং,তেল রং করত। কিন্তু ইন্ডিয়ান পেইন্টিং আলাদা একটা বিভাগ ছিল যেখানে কাংরা পেন্টিং হতো।তারপর ওই পেন্টিং গুলোর সুক্ষ সুক্ষ ,লাইন,ওয়াশ হাতে ধরিয়ে শেখানো হতো। এখন দক্ষ শিক্ষকও নেই এবং দক্ষতা বিচার করে শিক্ষক নিয়োগ করার মতো লোকও নেই।

দীপ্তীশ ঘোষদস্তিদার

কোন একটা জিনিস নতুন করে তৈরি করা বা যে জিনিসটা আছে সেই জিনিসটা ধ্বংস করে ফেলা দুটোর মধ্যে তো অনেক পার্থক্য আছে। যে জিনিসটা এতদিনের ঐতিহ্য ১০০ বছরের বেশি যদিও ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজ ১৯৬৫ কিন্তু এই ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ আর্টস যেটা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হ‍্যাভেলের সময় বা পার্সি গ্রাউন্ড এই ডিপার্টমেন্টে আলাদা হয়েছে। প্রথমে এটা ছিল অ্যাডভান্স ডিজাইন ডিপার্টমেন্ট নামে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আন্ডারে ছিল এটা। পরবর্তীকালে ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ পেইন্টিং বলে এটা শুরু হয়েছে। সম্ভবত এটা ছিল পার্সি গ্রাউন্ড এর সময়। কিন্তু এতদিন ধরে যেটা আছে সেটা উঠিয়ে দেওয়ার মধ্যে কোন বাহাদুরি আছে?কিছুদিন আগে বেশ কিছু টিচার রিক্রুটেড হয়েছিল। গভার্নমেন্ট আর্ট কলেজের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে যেখানে রতন আচার্যর রিক্রুটমেন্ট এর ব্যাপারটা পাঁচ বছর ধরেই সবাই জানেন যে তিনি শীঘ্রই রিটায়ার করছে তবে কেন সেই ডিপার্টমেন্টের টিচার নেওয়া হলো না?সেখান থেকেই মনে হচ্ছে যে এই ডিপার্টমেন্টে কি কেউ চাইছেনা! আর ছাত্রের এটা ন্যায্য দাবি। শুধুমাত্র একটা ডিপার্টমেন্ট থাকবে আর তার টিচার থাকবে না এটা কোন কথার কথা না। যদি এই মুহুর্তে রিক্রুটেড নাও হয় তাহলে কি এই ডিপার্টমেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে? এর আগে বরুণ দাস গভারমেন্ট আর্ট কলেজের টিচার ছিল। সে কিন্তু সিরামিক ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে সেই ডিপার্টমেন্টকে শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও শিখেছিলেন । তিনি তো কোন ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ পেন্টিং থেকে শেখেননি। তিনি তার মেধা দিয়ে বা অন্য কিছু দিয়ে সেটাকে অ্যাডাপ্ট করেছিলেন। এবং তার হাতেই নন্দলাল বসু, ক্ষিতীশ মজুমদার, অসিত হালদারের মত স্টুডেন্ট তৈরি হয়েছে। সুতরাং আজকে যদি গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের রিক্রুটমেন্ট আছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ দায়িত্ব নিক না। সে যদি সত্যিই শিল্পী হয় তবে ডিপার্টমেন্ট চালাক না। ডিপার্টমেন্ট পুরো উঠে যাওয়া বা টিচার না হওয়া এটা কোন কাজের কথা না।

শুভেন্দু সরকার

ভারতবর্ষের আর্ট কলেজগুলোর মধ্যে গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যাণ্ড ক্রাফট একটি অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এখানে বেশ কিছুকাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে থাকতেন এবং সেই সময় বেশ কিছু ছবি তিনি এঁকে ছিলেন। এছাড়াও এই মহান কলেজটিতে বহু শিল্পীদের পদধুলি ছড়িয়ে রয়েছে।অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কলেজে বহুদিন অধ্যক্ষ ছিলেন। এছাড়া বহু শিল্পী যেমন গোপাল ঘোষ,যামিনী রায় শিক্ষকতা করেছেন।শুধু তাই নয়,বেঙ্গল আর্টস অফ স্কুল মুভমেন্টের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র এই গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ। এই রকম একটি কলেজে একটি ডিপার্টমেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে, এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপে সুষ্ঠ সমাধান হোক।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post