• June 29, 2022

হিন্দু মুসলমান

 হিন্দু মুসলমান

ড.স্বপনকুমার ঠাকুর

লোকে বলে হিন্দু মুসলমানের সবেতেই উল্টো।আর তাই দুই সম্প্রদায়ের ঝগড়া-ঝাঁটি লেগেই আছে সেই মধ্যযুগ থেকে আজও।কিন্তু রাঢ় অঞ্চলের লোকজীবনে লোকধর্মে লোকসংস্কৃতিতে যেন ‘একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু মুসলমান’।

মুসলমানরা হিন্দুদের কাঁচাদেবতা মানে মনসাকেই সব চেয়ে বেশী মানেন।মঙ্গলকোটের কাঁকোড়াগ্রামে কর্কটনাগের পুজো বিখ্যাত।মুসলমানরাও কর্কট নাগের পুজো দেয়।

কালনা থানার উদয়পুর গ্রাম।এখানকার বেহুলার ঝাঁপান বিখ্যাত।কিংবদন্তি আছে বেহুলা মৃত পতি লখীন্দরকে ভেলায় করে নদি পথে আসছিলেন।এই উদয়পুরে তিনি উদিত হন।প্রথমে এক সুন্দরি নারীর বেশে মুসলমান বাড়িতে ওঠেন বেহুলা।পরে তিনি পাষাণ হয়ে যান।এখন ঝাঁপানের দিনে সেই মুসলমান বংশধর কাংরু শেখের পুজো হয় সর্বাগ্রে।

ভাতার থানার মাহাতা গ্রামের অন্যতম জাগ্রতা দেবী বড়দুয়ারী নামে ব্যতিক্রমী দুর্গাপুজো।। মুসলমানরাও এই দেবির কাছে মানত করেন।পাঁঠা ছেড়ে দিয়ে যান।ক্ষীরগ্রামে মুসলমান বসবাস নিষিদ্ধ হলেও যবগ্রাম কারুলে বামুন্ডি শীতলগ্রাম কুরুম্বা প্রভৃতি গ্রামের মুসলমানদের কাছে দেবী যোগাদ্যা ‘জলেরমা’

।তারাও দেবির কাছে মানত করেন।আর পাঁঠা ছেড়ে দিয়ে যান যোগাদ্যাতলায়।ভাতার থানার কয়রাপুরের দেবী ত্রৈলোক্যতারিণী আবার মুসলমানপাড়ায় পুজো নিতে যান।সেখানে রয়েছে দেবীর সইএর বংশধর।

জ্ঞানদাস কাঁদরায় রয়েছে জগন্নাথপির।অনেক মুসলিম সাধক ছিলেন জগন্নাথ উপাসক।

নদিয়ার শিবনিবাসের কৃষ্ণপুর গ্রামের নদীয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সৈন্যবাহিনীর প্রধান ছিলেন মামুদজাফর খাঁ ।ইনি ছিলেন জগন্নাথ সাধক।ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলকাব্যে মামুদ জাফর খাঁ সম্পর্কে লেখা হয়েছে—-
সেহাফীর জমাদার মামুদ জাফর।
জগন্নাথ শিরপা করিলা যার পর।।

আজও তাঁর সমাধিস্থলে বাৎসরিক উৎসবে পাশাপাশি হিন্দু মুসলমান গীতা ও কোরাণশরীফ পাঠ করেন। এমন দৃশ্য অভূতপূর্ব!

ড.স্বপনকুমার ঠাকুর লেখক, গবেষক।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.