• June 29, 2022

পলাশী যুদ্ধ : চক্রান্ত , ট্র্যাজেডির ইতিহাস

 পলাশী যুদ্ধ : চক্রান্ত ,  ট্র্যাজেডির ইতিহাস

হাসিবুর রহমান

ভারতবর্ষের ইতিহাসে চক্রান্ত ও ট্র্যাজেডির সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হল ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধ । পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধ যুদ্ধ নামক প্রহসনের মধ্য দিয়ে ইংরেজরা ভারতে মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে তাদের দেড়শ ‘ বছরের বেশি সময়ের চক্রান্তের সফল বাস্তবায়ন করে । ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় । স্বাধীনতার বিমূর্ত প্রতীক দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে তারা নির্মম ও নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর দেহকে নিয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম তামাশায় লিপ্ত হয় । দেশ ও মানবতার শত্রুরা নবাবের পবিত্র চতুষ্পদ জন্তুর সাথে বেঁধে দিনভর মুর্শিদাবাদের রাজপথে টেনে হিঁচড়ে বেড়িয়েছিল । সবশেষে দেশপ্রেমিক নবাবের অসাড় দেহকে কেটে টুকরো টুকরো করে কুকুর – শৃগালের খাবার হিসেবে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলেছিল । বস্তুত , দেশ ও মানবতার ঐ শত্রুরা সেদিন বাংলা ও ভারতের স্বাধীনতা সূর্যকেই অতল অন্ধকারে ছুঁড়ে মেরেছিল । জুন মাস আমাদের ইতিহাসের সেই ট্র্যাজেডিকে স্মরণ করিয়ে দেয় ।
১৭৫৭ সালে ইংরেজ ও তাদের দালালদের চক্রান্তে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় । সে সাথে তাঁর জীবনে মহানুভবতা , বিচক্ষণতা , বীরত্ব ও মহত্ত্বকে ইচ্ছাকৃতভাবে ইতিহাসে বিকৃত করা হয়েছে । আর ভারতের মাটি রক্ষা করতে নিজের দেহের সমস্ত রক্তবিন্দু দিয়ে যিনি ভারতের মাটিকে রক্ত রঞ্জিত করলেন তাঁর ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য সামান্যতম চেষ্টার পরিবর্তে অসামান্য অপচেষ্টা করা হয়েছে । কিভাবে কেন তা করা হয়েছে , তাই আলোচনার প্রয়োজন ।


বঙ্গদেশকে ভারতের মস্তিষ্ক বলা যেতে পারে । বাংলার সম্পদ , সম্পত্তি ও অর্থ ইংরেজদের হাত শক্ত করেছিল তাই ইংরেজদের পরে ফরাসিদের পরাজিত করা সহজসাধ্য হয়েছিল । সম্রাটদের রাজ্যে বঙ্গদেশ একটা প্রদেশ বলে গণ্য ছিল । মুর্শিদ কুলী খান ছিলেন বাংলার প্রথম নবাব । পরে ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জামাতা সুজাউদ্দিন বাংলা বিহারের নবাব হন । এরপর ১৭৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর পুত্র সরফরাজ খাঁ সিংহাসনে বসেন । তিনি খুব উপযুক্ত ও শক্তিশালী ছিলেন । তাঁর অধীনস্থ গভর্নর আলিবর্দী খাঁ মারাঠা ও বর্গীদের লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন । এতে সরফরাজ খাঁ খুব একটা গুরুত্ব দেননি । ফলে বীর আলিবর্দীর বীরত্ব প্রকাশে বাধা সৃষ্টি হয় দেখে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং সরফরাজকে পরাজিত করে নিজে নবাব হন । আলিবর্দী খাঁ উপযুক্ত শাসক ও বীর ছিলেন । মারাঠা , বর্গী প্রভৃতি জাতির লুণ্ঠন ও অত্যাচারকে তিনি কঠোর হস্তে দমন করেন । ইংরেজরা আলিবর্দীর হাবভাবে চরম নীতির পরিবর্তে নরম নীতি অবলম্বন করে এবং তাঁর দরবারে জানানো হয় । যে , ‘ আমরা মহামতি আকবরের সময় থেকে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ মুসলমানদের অনুগ্রহে ব্যবসা করছি এবং ঘাঁটিও নির্মাণ করে থাকি । অতএব আশা করি আপনি আমাদের এ দুটি সুযোগই পুনর্বহাল রাখবেন । আলিবর্দী জানালেন ব্যবসা করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে কিন্তু দুর্গ নির্মাণের কোন সুযোগই নেই । যদি পর্তুগিজদের আক্রমণের ভয় আছে বলে অজুহাত দর্শান তাহলে জেনে রাখবেন যে কোন বহিশত্রুর জন্য নবাব আলিবর্দীই যথেষ্ট । আলিবর্দী খানের কোন পুত্র সন্তান ছিল না । তাই তাঁর প্রাণপ্রিয় নাতি সিরাজ উদ – দৌলাহ সিংহাসনে বসেছিলেন । সিরাজ এর পিতার নাম ছিল জয়নুদ্দিন আহমেদ । তিনি ছিলেন বিহারের গভর্নর । আর তাঁর মায়ের নাম ছিল আমিনা । এ সিরাজ – উদ – দৌলার রাজত্বকাল ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় । মিথ্যা দুর্নামে আসরে তাঁর ভূমিকা আধুনিক ইতিহাসে অতীব চিত্তাকর্ষক । সিরাজের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আছে তাঁর কিছুই যে সত্য নয় তা হয়ত এখানে বলার উদ্দেশ্য নয় ; কিন্তু এমন অনেক অভিযোগও ইতিহাসে আছে যার কোন উপযুক্ত ভিত্তিই নেই । যা হোক , সিরাজের সিংহাসনে বসার পরেই নবাবকে অযোগ্য মনে করে ইংরেজরা দুঃসাহসের সাথে কলকাতার ঘাঁটি ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করতে আরম্ভ করে । ইংরেজরা জানতো সারা ভারতের মিস্তষ্ক বাংলা । তাই কলকাতাতেই ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাকে রূপ দেয়ার চেষ্টা চলতে লাগল । সিরাজ সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ পাঠালেন , দুর্গ তৈরি বন্ধ করা এবং তা ভেঙ্গে ফেলা নবাবের আদেশ । ইংরেজরা নবাবের আদেশ অগ্রাহ্য করে দুর্গ তৈরির কাজ অব্যাহত রাখে । এক কথায় নবাবের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য তাঁরা আগে থেকেই তৈরি ছিল । সিরাজ পূর্ণ সাহসিকতার সাথে বিদেশী ইংরেজকে আক্রমণ করে এবং ভীষণভাবে পরাজিত করেন । এ যুদ্ধের সাথেই সংযুক্ত ( Black Hole ) বা অন্ধকূপের কাহিনী । সিরাজের কলকাতা অধিকারের সংবাদ মাদ্রাজে পৌছালে সাথে সাথে বৃটিশ সেনাপতি ক্লাইভ বিরাট সৈন্য সামন্ত নিয়ে কলকাতা পুনর্দখল করেন । সিরাজ বুঝতে পারলেন আর লড়াই করে পারা যাবে না । কারণ ইংরেজদের চক্রান্তে তাঁর বিশ্বাসভাজন হিন্দু ও মুসলমান বন্ধু – বান্ধবও ইংরেজকে জয়ী করার জন্যে সর্বস্ব পণ করে লেগেছেন । ফলে বাধ্য হয়েই তাঁকে ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সাথে সন্ধি করতে হয় । এ সন্ধির নাম হয় ‘ আলী নগররের সন্ধি ‘ । সন্ধির শর্তানুযায়ী কলকাতা ইংরেজরা ফিরে পায় এবং শুধু ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের মেরামত বা নির্মাণের অধিকার প্রাপ্ত হয় । কিন্তু কিছুকালের মধ্যে ইংরেজরাই বিশ্বাসঘাতকের ভূমিকায় হঠাৎ বঙ্গের চন্দননগর দখল করে এবং সিরাজ – উদ – দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয় । এ ব্যাপারে ইংরেজরা একটা বড় অস্ত্র হাতে পেয়েছিল । বঙ্গের বিখ্যাত জগৎশেঠ এবং কলকাতার বড় বড় ব্যবসায়ী উমিচাঁদ এবং রাজবল্লভ প্রমুখ দেশের শত্রু ও শোষক গোপন আলোচনায় স্ত্রীলোকের ছদ্মবেশে ইংরেজদের দূত মি . ওয়াট্স সাহেবকে পালকিতে করে আনানো হয় । এ সভায় মি:ওয়াটস প্রচুর পরিমাণে লোভ লালসায় মুগ্ধ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে , সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করা হবে এবং এর ফলে বঙ্গ তথা সারা ভারতের মুসলমানদের উত্তেজিত হয়ে ওঠার রাস্তা বন্ধ করতে তাঁরই আত্মীয় মীরজাফরকে সিংহাসনে বসানো হবে । মি . ওয়াট্স আরও জানালেন , সিরাজের সাথে লড়তে যে প্রস্তুতির প্রয়োজন এবং এর জন্য যে প্রচুর অর্থের আবশ্যক তা বর্তমানে আমাদের নেই । জগৎশেঠ সে কর্তব্য পালন করতে সদন্তে আশ্বাস দিয়েছিলেন , টাকা যা দিয়েছি আরও যত দরকার আমি আপনাদের দিয়ে যাব , এতে কোন চিন্তা নেই । ‘ এবার রাজবল্লভ সিরাজের বড় খালা ঘসেটি বেগমকে বোঝালেন- আমরা চেয়েছিলাম আপনি সিংহাসনে বসবেন । কিন্তু এখনও উপায় আছে , যদি আপনি আমাদের অর্থাৎ ইংরেজদের শুধু একটু সমর্থন দান করেন মাত্র । মীরজাফরকে একটু বোঝাতে বেগ পেতে হল । তিনি প্রথমে বলেছিলেন- ‘ আমি নবাব আলিবর্দীর শ্যালক ; অতএব সিরাজ – উদ – দৌলা আমার আত্মীয় , কি করে তা সম্ভব ? ‘ তখন উমিচাঁদ বুঝিয়েছিলেন- ‘ আমরা ত আর সিরাজকে মেরে ফেলছি না অথবা আমরা নিজেরাও নবাব হচ্ছি না , শুধু তাঁকে সিংহাসনচ্যুত করে আপনাকে বসাতে চাইছি । কারণ আপনাকে শুধু আমি নই , ইংরেজরা এবং মুসলমানদের অনেকেই আর অমুসলমানদের প্রায় প্রত্যেকেই গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখে । সুতরাং মীরজাফর উমিচাদের বিষপান করলেন । উমিচাদের জয় হলে তিনিও পুরস্কৃত হবেন আর মীরজাফর হবেন বাংলার নবাব ; এদিকে জগৎশেঠের শোষণের পথ নিষ্কণ্টক হবে আর ইংরেজদের লাভ হবে ভারত আসবে তাদের হাতের মুঠোয় । পক্ষান্তরে সিরাজ – উদ – দৌলার লাভ হলে তা হবে বাংলা তথা ভারতের লাভ । যা হোক , ষড়যন্ত্রের জাল বোনা যখন শেষ , ভারতের স্বাধীনতা সূর্যকে পরাধীনতার গ্লানিতে কবর দেয়ার সমস্ত পরিকল্পনা যখন প্রস্তুত সে সময় ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ১৩ জুন ক্লাইভ মাত্র তিন হাজার দুইশত সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ যাত্রা করেন । ১৯ জুন নবাবের অধীনস্থ কাটোয়া ক্লাইভের দখলে আসে । ২২ জুন গঙ্গা পার হয়ে ক্লাইভ মধ্য রাতে নদীয়া জেলার সীমান্তে পলাশীর প্রান্তরে পৌঁছেন । নবাবের প্রচুর সুদক্ষ সেনা প্রথম থেকেই তৈরি ছিল । ক্লাইভের তবুও ভয় নেই । কারণ তিনি জানেন এ যুদ্ধ যুদ্ধ নয় , পুতুল খেলার শামিল । আগে থেকেই পরিকল্পনা পাকাপাকি । উমিচাঁদ , রায়দুর্লভ , জগৎশেঠ প্রমুখের সাজানো সেনাপতি আজ ভিতরে ভিতরে ক্লাইভের স্বপক্ষে । ক্লাইভের সৈন্য যেখানে মাত্র তিন হাজার দুইশত সেখানে সিরাজের সৈন্য পঞ্চাশ হাজার । কিন্তু মীরজাফর , রায়দুর্লভ ও অন্যান্য সেনাপতি পুতুলের মত দাঁড়িয়ে রইলেন আর ইংরেজদের আক্রমণ ও গুলির আঘাতে নবাবের সৈন্য আত্মহত্যার মত মরতে শুরু করল । এ অবস্থায় সেনাপতির বিনা অনুমতিতেই সিরাজের জন্য তথা দেশ ও দশের জন্য মীর মর্দান ভয়াবহ বীরবিক্রমে যুদ্ধ পরিচালনা করে আর পরক্ষণেই গুলিতে বীরের মত শহীদ হলেন । নবাব সিরাজ এ সংবাদে দিশেহারা হয়ে পড়লেন । এ সময় যুদ্ধের গতি নবাবের অনুকূলে যাচ্ছিল । কারণ মীর মর্দানের বীরত্বে মোহনলাল ও সিনফ্রে তখন ইংরেজদের কাবু করে ফেলেছিলেন । এমন শুভ মুহূর্তে নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর যুদ্ধ বন্ধ করতে আদেশ দেন । এদিকে ক্লাইভ এ মুহূর্তটির অপেক্ষাতেই ছিলেন । নীরবে মুসলমান ও হিন্দু সৈন্যদের উপর গোলাবর্ষণ চলতে লাগল । অবশেষে নিরূপায় নবাবের সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করতে বাধ্য হন । নবাবও রাজমহলের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে গিয়ে ধরা পড়লেন এবং তাঁকে বন্দি করা হল । শেষে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় । সে অনেক ইতিহাসের ইতিহাস । বাংলার বিশ্বাসঘাতক সন্তানেরা এটা বোঝেনি যে , এ পরাজয় শুধু সিরাজের নয় , শুধু বাংলার নয়- সমগ্র ভারতের । আর এ বিজয় ইংরেজ ও ইংল্যান্ডের । কিন্তু সিরাজ পরাজিত ও নিহত কেন ? এর উত্তরে বলা যেতে পারে পলাশীর যুদ্ধ কোন যুদ্ধই ছিল না । কারণ এটা ছিল যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা মাত্র । আসলে যাঁদের তিনি বিশ্বাস করতেন উমিচাঁদ , সেনাপতি রায় দুর্লভ , প্রধান সেনাপতি মীরজাফর আর বঙ্গের শ্রেষ্ঠ ধনী জগতশেঠ , এরাই ছিল সিরাজের প্রতিদ্বন্দ্বী । শত্রু প্রকাশ্য হলে এর দ্বারা যত ক্ষতি হয় , বন্ধু শত্রু হলে ফল হয় আরও মারাত্মক । পলাশীর যুদ্ধে এ সত্যিই দারুণভাবে প্রমাণিত । তাই দেশহিতৈষী নিরপেক্ষ লেখক শ্রী নিখিলনাথ রায় লিখেছেন ‘ অষ্টাদশ শতাব্দীর যে ভয়াবহ বিপ্লবে প্লাবিত হইয়া হতভাগা সিরাজ সামান্য তৃণের ন্যায় ভাসিয়া গিয়াছিল এবং মীরজাফর ও মীরকাশিম ঊর্ধ্বক্ষিপ্ত অধক্ষিপ্ত কেহ বা অনন্ত নিদ্রায় কেহ বা ফরিকী অবলম্বনে নিষ্কৃতি লাভ করেন । জগতশেঠ ক্রোধ ঝটিকা সেই তুফানের সৃজনের মূল । দুঃখের বিষয় সে ভীষণ তুফানে অবশেষে তাহাদিগকেও অনন্ত গর্ভে আশ্রয় নিতে হয়েছিল । যে ব্রিটিশ রাজা রাজেশ্বরীর শান্তি ধারায় আসমুদ্র হিমাচল স্নিগ্ধ হচ্ছে জগতশেঠগণের সাহায্যই তাহার প্রতিষ্ঠাতা । একজন ইংরেজ লিখিয়াছেন যে , হিন্দু মহাজনের অর্থ আর ইংরেজ সেনাপতির তরবারি বাংলায় মুসলমান রাজত্বের বিপর্যয় । যে ব্রিটিশ রাজলক্ষ্মীর কিরিটি প্রভায় সমস্ত ভারতবর্ষ আলোকিত হইতেছে মহাপ্রাণ জগৎশেঠগণের অর্থ বৃষ্টিতে ও প্রাণপাতে তাহার অভিষেক ক্রিয়া সম্পাদিত হয় ।


আজকের যে কোন বালকও বুঝিতে পারে যে পলাশীর যুদ্ধ শুধু যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার মত অভিনয় ছাড়া কিছু নয় । ‘
ইংরেজরা যখন ক্লাইভের বিচার করেছিল তখন ক্লাইভ শাস্তিপ্রাপ্ত চোরের মত কোর্টে দাঁড়িয়ে যে উত্তর দিয়েছিলেন তা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ‘ চল্লিশ লাখ পাউন্ড স্টার্লিং কর এবং সে পরিমাণ ব্যবসায়ে লাভ হতে পারে এমন একটা সাম্রাজ্য আপনাদের জন্যই আমি জয় করেছিলাম । এর পারিশ্রমিক হিসেবে আপনারা আমার সাথে যে ব্যবহার করেছেন , আমি যেন একজন ভেড়া চোর । তাহলে ভারতের মানুষের এতবড় সর্বনাশ সাধন করার উদ্দেশ্য কি ? এর উত্তরে অনেকে অনেক কথা বলেন ।
ইংরেজদের লেখা উদ্ধৃতি থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে যায় পলাশী ট্রাজেডি কেবলমাত্র মুসলমানদের ভাগ্য বিপর্যয় ডেকে আনে নি পলাশীর যুদ্ধের পর গোটা ভারতবর্ষের ভাগ্য অস্তমিত হয়ে যায়।

হাসিবুর রহমান : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post