• September 27, 2022

|| আমরা যদি না জাগি মা ||

 || আমরা যদি না জাগি মা ||

রঙ্গন রায়

১৮৮২ সালের ৫ই আগস্ট বিকাল বেলা একটি ঘোড়ার গাড়ি বাদুড়বাগানের দিকে যাচ্ছিল। ভাদ্রমাস। গরমে যাত্রীরা দরদর করে ঘামছেন। রক্ষে এই যে মাঝে মধ্যেই হাওয়া দিচ্ছে। শ্যামবাজার হয়ে গাড়ি যখন আমহার্স্ট স্ট্রিটে এসে পড়ল তখন গাড়ির এক যাত্রী হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘আর একটু পরেই বাদুড়বাগান।”
গাড়িটি এসে থামল একটা দোতলা বাড়ির সামনে। চারিদিকে পাঁচিল দেওয়া। গাড়ি থেকে নেমে সদর ফটক পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে গেলেন তিনজন যাত্রী।
পরনে থান কাপড়, পায়ে চটি জুতা, গায়ে হাত-কাটা ফ্লানেলের জামা পরা একটি লোক উঠে দাঁড়িয়ে তিনজনকে অভ্যর্থনা জানালেন। যাত্রীদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠলেন, “আজ সাগরে এসে মিললাম। এতদিন খাল বিল হদ্দ নদী দেখেছি, এইবার সাগর দেখছি।”
বলাবাহুল্য এবার এই দুজনের যে কথোপকথন হবে তা ইতিহাস হয়ে থাকবে শ্রীম রচিত ‘রামকৃষ্ণ কথামৃত’র পৃষ্ঠায়। ৪৪ বছরের ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব ও ৬২ বছরের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম আলাপ রসিকতার মধ্য দিয়ে হচ্ছে। বিদ্যাসাগর ঠাকুরের উত্তরে বলছেন, “তবে নোনাজল খানিক নিয়ে যান।”
কিন্তু আমরা প্রায় কেউই তাঁর নোনাজল গ্রহণ করিনি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি কিছুকিছু মানুষ বিদ্যাসাগরকে ভগবানের আসনে তুলে দিয়ে পুজো আচ্চাও করে থাকেন, কিন্তু ‘বর্ণপরিচয়’ কার লেখা জিজ্ঞেস করলে মেলে পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ উত্তর, ‘জানি না’। কেন জানি না? কারণ মুখে আমরা তাঁর প্রাসঙ্গিকতার কথা বললেও নতুন প্রজন্মের হাতে একটাও বর্ণপরিচয় তুলে দিই না। বিদ্যাসাগরকে শুধু নামেই চিনি এখন, কাজে না। অথচ মানুষটি আমাদের জন্য, আমাদের দেশের জন্য, নারীদের জন্য যে যুদ্ধ করে গেছেন সারাজীবন তা অভাবনীয়। সাগর ছাড়া অত কাজ কেই বা করতে পারে!
আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ বিদ্যাসাগরকে বড় মানুষ বলে চিনলেন, জানলেন, শ্রদ্ধাও করলেন, কিন্তু সেটি তাঁর বাইরের আচরণ দেখে। অর্থাৎ তাঁর হাঁটুর ওপর কাপড় পরা আর মাথার টিঁকি দেখে। হ্যাঁ দেখতে তিনি তাই ছিলেন বটে। একজন ঝকঝকে তকতকে বাঙালি ব্রাহ্মণ। কিন্তু সমাজ ও দেশকে তিনিই প্রথম রেঁনেসার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে শিখেছিলেন। এবং শুধু দেখতে নয় দেখাতেও শিখিয়ে ছিলেন। বহিরাঙ্গে ব্রাহ্মণ এই মানুষটি ভিতরে ছিলেন তদানীন্তন ভারতীয় পরিবেশে একজন আদর্শ হিউম্যানিস্ট। সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের যুক্তিভিত্তিক সংযোগ সাধন করে নয়া মূল্যবোধের মাধ্যমে ন্যূব্জ হয়ে যাওয়া জাতির মেরুদন্ড খাঁড়া করলেন। আমাদের শিক্ষিত ও যুক্তিবাদী বানাতে সারাটা জীবন তিনি দিয়ে গেলেন, অথচ আজ আমরা তাকে চিনি না জানি না। কেউ কেউ এটাও বলেন বিদ্যাসাগরের চর্চা করলে আমরা পিছিয়ে যাব, কারণ তিনি পুরোনো ধ্যানধারণার মানুষ। আমার মনে হয় আমরা এখনও যা ভাবতে পারি না, বিদ্যাসাগর সেই সময়ে দাঁড়িয়ে একাই ভাবতে পেরেছিলেন।
বিদ্যাসাগরের জীবনী পড়লে অবাক হতে হয়। তিনি একজীবনে এত কাজ করেছিলেন কী করে? সমস্ত শাস্ত্র খুঁটিয়ে পড়ে সেখান থেকে প্রকৃত সত্য তুলে আনা, নারী শিক্ষার প্রসার, এত এত স্কুল কলেজ তৈরি করা, বিধবা বিবাহ প্রচলন, বাল্যবিবাহ রোধ, বাংলা ভাষাকে প্রাঞ্জল রূপদানের জন্য এত এত গ্রন্থ রচনা করা, সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে তার বিপুল দায়িত্ব পালন ইত্যাদি আরও কত কিছু যে করেছেন, বলতে গেলে যেন শেষ হবে না।
শিবনাথ শাস্ত্রী বলেছিলেন, “তিনি কখনও আত্মমর্যাদা ভুলেন নাই। কখনও সামান্য স্বার্থের অনুরোধে অপমান সহ্য করেন নাই। ধনী বা পদস্থ লোকের তোষামোদ করা তাঁহার কুষ্ঠিতে লেখা নাই।”
বাস্তবিকই বিদ্যাসাগর ছিলেন দৃঢ়চেতা মেরুদণ্ডী মানুষ। এই জন্য তিনি অনেকবার চাকরি ছেড়ে দিতেও পিছুপা হননি। পূর্ণেন্দু পত্রীর একটি ছড়ায় হিউমারের মাধ্যমে বিদ্যাসাগরের চরিত্র পরিস্কার ভাবে ফুটে ওঠে –
একযে ছিল বিদ্যাসাগর /দেমাকধারী ধাত /সাহেব যদি জুতো দেখায় /বদলা তৎক্ষণাৎ ।
সত্যি সত্যিই তিনি কোনওদিন আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেননি। মানুষকে ভালবেসেছেন অকুন্ঠ। কার্মাটারের দরিদ্র সাঁওতাল মানুষেরা তাঁকে ভগবানের মতো ভালবাসত। তিনি তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। শহরের নোংরামি বিষময় হয়ে গেলে, নির্মল ভালবাসার কাছে চলে যেতেন তিনি।
সেইসময়ের অনেক জ্ঞানীগুনি জন যেমন বিদ্যাসাগরকে ভালবাসতেন তেমনই বিদ্রুপ বিরোধীতা করবার লোকও কম ছিল না। বিধবা বিবাহ করাবার জন্য তিনি যে কাজ করেছেন তা তৎকালীন গোঁড়া হিন্দু সমাজ মেনে নেননি। তিনি সবাইকে উপযুক্ত জবাব যুক্তিসহকারে পেশ করেন তাঁর ‘বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিৎ কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১ম ও ২য়)’ পুস্তিকায়।
এই সময় সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি সেই উপন্যাসের এক চরিত্রের মুখ দিয়ে বলালেন, “শুনিয়াছি কলিকাতায় এক পণ্ডিত আসিয়াছেন, যিনি ধরিয়া ধরিয়া বিধবাদের বিবাহ দিতেছেন। তিনি যদি পণ্ডিত হন তবে মূর্খ কে?”
কিন্তু বিদ্যাসাগর বছর ৩৫এর তরুণ লেখক বঙ্কিমচন্দ্রকে কোনও জবাব দেননি। আসলে তিনি সম্ভবত সেই যুগে দাঁড়িয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের প্রশ্নশীল মনকে, যৌবনের তেজকে কোনওভাবেই নিরুৎসাহিত করতে চাননি। এখানেই তিনি বিদ্যার সাগর। এখানেই তিনি নবজাগরণের পুরুষ।
ভারতবর্ষে নবজাগরণ নিয়ে আসেন প্রথম আধুনিক পুরুষ রাজা রামমোহন রায়। কিন্তু তবুও তিনি সম্পূর্ণ ধর্মীয় প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেননি যেটা বিদ্যাসাগর পেরেছিলেন। ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের যুবকদের ইতিহাস, লজিক, আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং ইউরোপীয় বস্তুবাদী দর্শনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে বিদ্যাসাগর আমাদের মননে বিপ্লব আনতে চেয়েছিলেন। ধর্মীয় গোঁড়ামী ঘৃণা করতেন তিনি। ভারতীয় ট্র্যাডিশনের দুটি বড় দর্শন, ‘সাংখ্য’ ও ‘বেদান্ত’ প্রায় গুলে খেয়েছিলেন এবং এই দুটোরই বিরোধিতা করে বলেছিলেন, “না, ছাত্রদের ইংরেজী পড়াতে হবে এবং তার দ্বারা ইউরোপের জ্ঞান বিজ্ঞান সাধনার সঙ্গে এবং বস্তুবাদী দর্শনের সঙ্গে তাদের পরিচিত হতে হবে। তবেই দেশের মানুষ বস্তুজগতকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনে সত্যোপলব্ধি করতে এবং তার ওপর মানুষের নতুন জীবনবেদ বা মূল্যবোধ খাড়া করতে সক্ষম হবে।” আর বললেন, “ইউরোপের বার্কলের দর্শনও যেমন চাই না, তেমনি আমাদের দেশের সাংখ্য এবং বেদান্ত দর্শন পড়িয়েও কোনও লাভ হবে না। কারণ এগুলো সব ভ্রান্ত দর্শন। এ দিয়ে মানুষ আজ আর সত্যকে জানতে পারবে না। সত্যকে জানতে গেলে দেশের যুবকদের এবং মানুষের মনকে যুক্তিবাদী করে গড়ে তুলতে হবে।” অর্থাৎ মানুষের জন্য শাস্ত্র, শাস্ত্রের জন্য মানুষ নয়। যুগের প্রয়োজনে যদি মানুষের উপকারে কোনও শাস্ত্র না লাগে তবে সেই শাস্ত্রকেও ত্যাগ করা শিখতে হবে।
বিদ্যাসাগরের এই মহান মানবতাবাদী পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে নবজাগরণের শ্রেষ্ঠ চরিত্র বলা যেতে পারে।
সেই সময়কালের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্বচ্ছ ছবি জানা গেলে বিদ্যাসাগরের একা দাঁড়িয়ে লড়াই করা, নবজাগরণের পুরোধা ব্যাক্তিত্ব হয়ে ওঠার চিত্র পরিস্কার হয়ে উঠবে। এখনকার ইন্টারনেটের যুগের তুল্যমূল্য বিচার করলে তখন এক ক্ষয়িষ্ণু সময়। কলকাতার বাবুসমাজ সুরা, নারী ও বুলবুলি বিলাসে মগ্ন। নব্যযুবকেরা গ্রাম নিঃস্ব করে প্রজাশোষণের অর্থে চালাচ্ছে বিলাসিতা। কলকাতা শহর বাবুদের শহর। ইংরেজদের অনুকরণের চেষ্টায় হাজার হাজার টাকা ব্যয় করলেও প্রকৃত মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারছে না কেউই। হিন্দু সমাজ ক্ষয় হচ্ছে। জেগে উঠছে নতুন সম্প্রদায়। মধ্যবিত্ত। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে বিদ্যাসাগর রাত জেগে রেড়ির তেলের আলোয় তৈরি করছেন বাংলা গদ্যভাষা। পড়ে চলেছেন একেরপর এক শাস্ত্র। ভেবে চলেছেন সমাজের উন্নয়ন ও উন্নত মানসিকতা কীভাবে সকলের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া যায়। চিন্তা দিয়ে, দ্বন্দমূলক বস্তুবাদের মাধ্যমেই নতুন সমাজের কথা যখন কেউ ভাবেন সমস্ত প্রেক্ষিত বিচার করে, তখনই মনীষী জন্মায়। নতুন যুগের আলো নিয়ে আসে। অথচ সেই আলোয় আমরা আজও আলোকিত হতে পারলাম না। তিনি পথ দেখিয়েছেন, অথচ আমরা এখনও হাঁটতেই শিখিনি।
বর্তমান ভারতবর্ষের যে রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট তাতে করে তাঁর সেক্যুলার চিন্তাধারা, ধর্মীয় বিভেদ থেকে মুক্ত হওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমরা তাঁকে হৃদয়স্থ করতে পারিনি।
বিদ্যাসাগর যেন গ্রহান্তরের কক্ষপথ থেকে ছিটকে এসে পড়েছিলেন উনিশ শতকের বাংলাদেশে। উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কসম মহান মানবতাবাদী বিদ্যাসাগরের জন্মের পর আজ দুশো বছর পার হয়ে গিয়েছে। অথচ তাঁর প্রকৃত মূল্যায়ন আমরা কি করতে পারছি? পারছি না। নয়তো পঞ্চাশ বছরের মধ্যে দু-দুবার তাঁর মূর্তি ভাঙা হত না। দেশ স্বাধীনের পর ৭৫ বছর কেটে গেছে। দেশকে স্বাধীন করার পেছনেও বিদ্যাসাগরের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। অনেক বলবেন, কেন? উনি আবার কী করলেন? উনি তো সিপাহী বিদ্রোহের সম্পর্কেই কোনও উচ্চবাচ্য করেননি! কিন্তু আমরা গাছের কাণ্ড-পাতা দেখেই খুশি হয়ে যাই। গোঁড়া দেখি না। মানুষকে প্রকৃত মানুষ এবং উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে, জাতীয়তাবোধ গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য। ইউরোপীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের ভেতর মেরুদণ্ড তৈরি করে স্বাধীনতার বীজবপন তাঁর হাত ধরেই। অথচ দেশ স্বাধীনের পর আমরা কী করলাম? তাঁর মূর্তি ভেঙে ফেললাম। একবার নয় দুই দুইবার। কিন্তু কেন? বেছে বেছে যুগে যুগে তাঁর মূর্তিই ভাঙা হচ্ছে কেন?
চলুন পাঠক দেখা যাক।
মূর্তি মানে একটি প্রতীক। যেমন স্বদেশি আন্দোলনের সময় ষোল বছর বয়সী কিশোর সুশীল সেন ‘বন্দেমাতরম্’ ধ্বনি দিয়েছিল বলে ব্রিটিশ সরকার তাকে মেরেছিল। আসলে ব্রিটিশ সরকার তো সুশীল সেনকে ভয় পায়নি, ভয় পেয়েছিল তার জাতীয়তাবোধকে। তার চিন্তনকে। একই ভাবে এটা বলাই যায় যে বিদ্যাসাগরের এত শক্তিশালী চিন্তনকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে হলে তার প্রতীক মূর্তিতেই আঘাত করা যায়। আসলে বিদ্যাসাগরের যুক্তিবোধ এবং তার সহযোগিতায় মানুষের শিক্ষিত হয়ে ওঠাকে রাষ্ট্র ভয় পায়। মানুষ শিক্ষিত হয়ে গেলে সে প্রশ্ন করবে, যুক্তি চাইবে, এতে রাষ্ট্রের সমস্যা হবে। অতএব বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দাও। এর থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে আমরা এখনও প্রকৃত স্বাধীনতা পাইনি। বৃথা গেছে বিদ্যাসাগর সহ সকল মণীষি ও বিপ্লবীদের প্রচেষ্ঠা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বিদ্যাসাগর চরিতে’ লিখেছেন, “তাঁর দেশের লোক যে যুগে বদ্ধ হয়ে আছেন বিদ্যাসাগর সেই যুগকে ছাড়িয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।”
কিন্তু আজ তাঁর জন্মের দুশো বছর পরও আমরা সেই ছাড়িয়ে যাওয়া যুগে পৌঁছতে পারিনি। এখনও সেই তিমিরেই রয়ে গেছি, এ বিদ্যাসাগরের কাছে আমাদের লজ্জার। ডিজিটাল ইন্ডিয়া বলে উল্লসিত হয়ে ওঠা আমরা এখনও সত্যিকারের আপডেটেড হইনি একেবারেই।
১৮৮২ সালের ৫ই আগস্ট বিদ্যাসাগর যখন তাঁর নোনা জল খানিক নিয়ে যেতে বলেছিলেন তখন রামকৃষ্ণদেব শিশুর মতো হেসে ওঠেন। তারপর বলেন,”না গো! নোনা জল কেন? তুমি তো অবিদ্যার সাগর নও, তুমি যে বিদ্যার সাগর! তুমি ক্ষীরসমুদ্র!”
সেই রামকৃষ্ণ, যার সুযোগ্য শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দের দ্বিতীয় গুরু ছিলেন বিদ্যাসাগর। মহান এই দুই মানবের কথোপকথন আর কোনও দিন হয়নি। রামকৃষ্ণ বিদ্যাসাগরকে দক্ষিণেশ্বরে অনেকবার আসতে বলেছিলেন। মন্দির দেখতে নয়, রাসমণির বাগান পরিদর্শনের জন্যই আসতে বলেছিলেন। কিন্তু বিদ্যাসাগর কোনওদিন যাননি।
১৮৯১ সালের জুন মাসে বাদুড়বাগানের বাড়িতে প্রবল যন্ত্রণায় কাতর বিদ্যাসাগর। কিন্তু মুখে তার প্রকাশ নেই। তিনি যে অজেয় পৌরুষ। ডাঃ মহেন্দ্র লাল সরকার এসেছেন। ইংরেজ ডাক্তার বার্চ ও ম্যাকনেল লিভার ক্যানসার সন্দেহ করছেন। এমন সময় সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এলেন। মুখে হাসি টেনেই তিনি বললেন,”সে কি! এরমধ্যেই চুলে পাক ধরল কেন?”
বিদ্যাসাগর মুচকি হেসে বললেন, “মনে তো এখনও ধরেনি। ধরবেও না। তোমরাও ধরিও না।”

রঙ্গন রায়,উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর স্তরের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post