• December 4, 2022

অনুব্রত রাজে বীরভূমে দূর্নীতিই যেন নিয়ম হয়ে উঠেছিল

 অনুব্রত রাজে বীরভূমে দূর্নীতিই যেন নিয়ম হয়ে উঠেছিল

অভিষেক দত্ত রায়

বীরভূম জেলায় দূর্নীতি মানেই সকলে বালি, কয়লা, পাথর, গোরু পাচার। মূলত এই বিষয়গুলিই জানেন। এতে তো অনুব্রতর রাশ ছিলই। এর বাইরেও একাধিক দূর্নীতি রয়েছে। সেগুলি একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন৷ যেমন, আবাসন যোজনার বাড়ি থেকে শুরু করে রাস্তা নির্মাণের ঠিকা, পঞ্চায়েতে গাছ লাগানো থেকে শুরু করে বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করে পুকুর ভরাট, থানা অনুযায়ী পুলিশ ওসি-অফিসার পোস্টিং থেকে শুরু করে টোল আদায় কেন্দ্রের ঠিকা, ড্রেন নির্মাণ থেকে শুরু করে বিলাশবহুল ফ্ল্যাট, আবাসন, রেস্তোরাঁ নির্মাণ, জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও আকাশছোঁয়া দূর্নীতি। ধার্য করে দেওয়া অঙ্ক দিলেই যা কিছু বেআইনি, বেনিয়ম সবই বদলে গিয়েছে নিয়মে। দেউচা-পাচামিতে জমি দিতে নারাজ আদিবাসী নেতাদের প্রথমে টাকার প্রলোভন, তাতে কাজ না হলে অনুব্রতর নিদানে শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে।

এত উপর উপর বিষয়গুলি বললে স্পষ্ট বোঝা যাবে না৷ বিস্তারিত ব্যাখ্যায় আসি। তার আগে সংক্ষেপে অনুব্রত মণ্ডল থেকে দোর্দণ্ডপ্রতাপ অনুব্রত মণ্ডলের রূপান্তরটা বলে নিই।

২০১১ সালে রাজ্যে পালা বদলের পরেও এই জেলার রাজনীতিক, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ছাড়া হয় তো গুটিকতক মানুষজন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে চিনতেন৷ ২০১২ সালে নানুরে একটি জনসভা থেকে ‘ওসিকে ন্যাংটো করে মারব’ বলে বিতর্কে জড়ান এই অনুব্রত৷ পরে ২০১৩ সালে পাঁড়ুই থানার কসবা গ্রামে ‘পুলিশকে বোম মারুন, আমি বলছি বোম মারতে’ বলে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কিত নেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাঁর। এরপর থেকে অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য একে অপরের পরিপূরক হয়ে সংবাদ শিরোনামে থেকেই গিয়েছে। এর পাশাপাশি অনুব্রতর দৈহিক গঠন, স্বভাব ভঙ্গি, আচরণ তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যগুলিকে আরও বেশি রাজনৈতিক খাদ্যে স্বাদ এনে দিয়েছে৷ এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় সময় অন্যান্য জেলার সভাপতিদের থেকে অনুব্রত মণ্ডলের পাশে থেকেছেন। আর এভাবেই অনুব্রত মণ্ডল ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ হয়ে উঠলেন।

এবার ব্যাখায় আসি বীরভূম জেলায় মাত্র ১০ বছরে অনুব্রত মণ্ডলের জামানায় দূর্নীতি কিভাবে নিয়মে পরিণত হল।

দলীয় কার্যাকয়ে বসে, কখনও বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছেন শাসক দলের একজন জেলা সভাপতি। যা সংবিধান অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ৷ সেই কাজ নিজেই করেছেন৷ এই জেলায় কোন শহরে কোথায় বাজার বসবে, কোথায় বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ হবে, কোথায় স্কুল, কোথায় কোন ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে সব কিছুরই সিদ্ধান্ত অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতেই হত৷ প্রশাসনিক ভবনগুলি থেকে কাজজপত্রের কাজগুলি হত মাত্র৷

এই জেলায় ৩ টি মহকুমা, ১৯ টি ব্লক, ১৯ পঞ্চায়েত সমিতি, ১৬৭ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৬ টি পৌরসভা, সাইবার ক্রাইম ও মহিলা থানা সহ ২৮ টি থানা রয়েছে।
পঞ্চায়েতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PMAY) বাড়ি আসে৷ সেই বাড়ি কারা পাবে, সেই তালিকা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পঞ্চায়েত প্রধান, সর্বোপরি গ্রামসভার মাধ্যমে ঠিক করা হয়৷ কিন্তু, বীরভূমে সেই তালিকা তৈরি হয়ে আসে তৃণমূলের বুথ সভাপতির কার্যালয় থেকে, অঞ্চল সভাপতির কার্যালয় থেকে, ব্লক সভাপতির কার্যালয় থেকে, সর্বোপরি বোলপুরে অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়ে। অর্থাৎ, আবাস যোজনার টাকার ভাগ ধাপে ধাপে দলের জেলা কার্যালয়ে পৌঁছে যাওয়াটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন কোন রকম ‘কাটমানি’ বরদাস্ত করব না৷ তখন এই জেলার বোলপুর, ইলামবাজার, সিউড়ি, রামপুরহাট, নানুর, খয়রাশোল, মুরারই, মল্লারপুর, লাভপুর, দুবরাজপুর প্রভৃতি এলাকা থেকে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষজনের ক্ষোভ সামনে এল৷ আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার নিরিখে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে ছিল এই বীরভূম। দিকে দিকে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, বাড়ি ঘেরাও শুরু হয়েছিল।
একই ভবে পৌরসভাগুলির ক্ষেত্রেও আবাস যোজনার বাড়ি পেতে স্থানীয় কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, সর্বোপরি বোলপুরে অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়ে পৌঁছে যেত টাকার ভাগ। এমনকি, পঞ্চায়েতে ও পৌরসভায় বাড়ি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন রূপ নিয়ম মানাই হয়নি। এই উদাহরণ ভুঁড়ি ভুঁড়ি রয়েছে। নিয়ম হল, যার জায়গা রয়েছে, অথচ কাঁচা বাড়ি, আয় কম এহেন মানুষজনই সরকারি আবাসন যোজনার বাড়ি পাবে। কিন্তু, দেখা গিয়েছে নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বাড়ি পেয়েছেন অপেক্ষাকৃত ধনী, দলদাস, নেতা ঘনিষ্ঠ লোকজন৷ প্রভাব খাটিয়ে একই পরিবারের দুজন বাড়ি পেয়েছে, কোথাও জায়গা নেই এমন ব্যক্তি আবাস যোজনার বাড়ি পেয়ে দ্বিতল বানিয়েছে।
এটা গেল শুধু মাত্র আবাস যোজনার বাড়ির দূর্নীতি। পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে ঠিকা দেওয়া হয়৷ পঞ্চায়েত এলাকায় ছোট রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ করে গ্রাম পঞ্চায়েত, একটি লম্বা রাস্তা পঞ্চায়েত সমিতি, অপেক্ষাকৃত বড় রাস্তা নির্মাণে জেলা পরিষদ বরাদ্দ করে৷ বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাস্তা নির্মাণের টেন্ডার হলেও, শাসক দলের বুথ, অঞ্চল, ব্লক সভাপতিদের ঘনিষ্ঠরাই বক্রপথে এই রাস্তা নির্মাণের ঠিকা পেয়ে এসেছে৷ এই ক্ষেত্রে বলে রাখা জরুরি পঞ্চায়েত এলাকায় বড় রাস্তা নির্মাণের ঠিকা পেতে অবশ্যই বকলমে অনুব্রত মণ্ডলের অনুমোদন আবশ্যক। উদাহরণ, অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে এক ঠিকাদারের মনোমালিন্যে বোলপুর থেকে সিঙ্গি যাওয়ার রাস্তা নির্মাণ দীর্ঘদিন থমকে ছিল। এখনও বোলপুর থেকে নানুর যাওয়ার রাস্তার কাজ অর্ধেক হয়ে পরে রয়েছে।
এছাড়া, একশ দিনের কাজেও অভাবনীয় দূর্নীতি। দলের মিটিং মিছিলে সক্রিয় ভূমিকা দেখালেই মেলে কাজ৷ তাও একশ দিনের কাজের জব কার্ডটি থাকে ঠিকাদারের কাছে। যেটা থাকার নিয়ম শ্রমিকের কাছে৷ অনেক ক্ষেত্রে কাজ করতে হয় না৷ কারন, খাতায় কলমে পুকুর কাটা, ফলের গাছ লাগানো, পশুপালন, ফল চাষ সবই দেখানো আছে। সেই মত ব্যায়ের খতিয়ান দিয়ে বোর্ডে লাগানোও রয়েছে। বাস্তবে নেই৷

বিজেপির জাতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা এই বোলপুর লোকসভা থেকে প্রথম তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হয়েছিলেন৷ পরবর্তীতে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে মতান্তর হওয়ায় তিনি বিজেপিতে যোগ দেন৷ অনুপম হাজরা বলেন, “আমি সাংসদ থাকাকালীন নিজের ইচ্ছে মত কাজ করতে পারিনি৷ কোথাও উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দ করব ভাবলেই আমাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ জেলা শাসক পর্যন্ত অনুব্রত মণ্ডলের কথায় চলতেন৷ বীরভূমে কোন বিধায়ক, সাংসদে গুরুত্ব ছিল না, নিজের ইচ্ছেয় তারা কাজ করতে পারে না। অনুব্রতর ইচ্ছেতেই সব কাজ করতে হবে, না করলেই দল বিরোধী তকমা দিয়ে দেবে। এটাই হয়ে এসেছে এতকাল।”

বালির ঘাট মানেই সকলের ধারনা বেআইনি৷ তা কিন্তু নয়৷ বৈধ বালির ঘাট আছে৷ সেই বালির ঘাটগুলি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে টেণ্ডার হয়৷ সরকারি খাতে শুল্ক জমা পরে৷ এক্ষেত্রেও, নিয়ম সেই খাতায় কলমে। কে বালির ঘাটের টেণ্ডার পাবে তাও ঠিক করে দিতেন অনুব্রত৷

অনুব্রত মণ্ডলের ঘোষণা অনুযায়ী যখন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক সভা হত৷ তখন দেখা গিয়েছে কোথাও স্কুল ছুটি দিয়ে সভা হচ্ছে, কোথাও পরীক্ষার সময় মাইক বাজিয়ে, কোথাও বা প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র বন্ধ করে দিয়ে৷ আতঙ্কে কেউ কথা বলতে পারত না৷ রাজনৈতিক সভার ক্ষেত্রে কখনও পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি তোয়াক্কা করেননি অনুব্রত৷ কর্তায় ইচ্ছেয় কর্মের মত।

এক কথায় অনুব্রত জামায় জন্ম শংসাপত্র থেকে শুরু করে মৃত্যু শংসাপত্র, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, বেকাত ভাতা, শিল্পী কার্ড, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এমনকি, রেসিডেন্স সার্টিফিকেট, ইনকাম সার্টিফিকেট পেতে গেলেও হয় টাকা দিতে হয়েছে, না হয় পার্টি কর্মি হতে হয়েছে৷ সঠিক জায়গা মত টাকা পৌঁছে দিতে পারলেই ফ্ল্যাটের প্ল্যান থেকে শুরু করে বাড়ি, রেস্টুরেন্ট, দোকান ঘর সব কিছুই অনুমোদন মিলেছে। অনুব্রতর জামানায় সব থেকে বেশি এই জেলায় বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ভাবে পুকুর ভরাট করা হয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান থেকে জেলা শাসক পর্যন্ত চিঠি পৌঁছেও কোন ফল হয়নি৷ সবার মুখেই কুলুপ৷

সিপিআইএমের পলিটব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র ডোম বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন, পরে বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “এই জেলায় গত ১০ বছরের দূর্নীতি মানুষের ঘরে ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুব্রতর ত্রাসের রাজত্বে মুখ খুলতে পারেনি কেউই৷ পুলিশ-প্রশাসনের লোকজন পর্যন্ত নিজের ইচ্ছেয় কাজ করতে পারেনি৷ ক্ষমতায় অন্ধ অনুব্রত সময়কালে সরকারি নিয়ম, সাংবিধানিক নিয়মের কোন বালাই ছিল না৷ সবই দলের পার্টি অফিস থেকে ঠিক হয়ে এসেছে।”

কাকে গাঁজা মামলা দিতে হবে তাও ঠিক করতেন অনুব্রত৷ তাই একবার প্রকাশ্যে বলেও ফেলেছিলেন৷ প্রকাশ্য আসায় সকলে জানতে পেরেছে ঠিকই৷ কিন্তু, এই কাজ দীর্ঘদিন ধরেই আইনকে হাতে নিয়ে করে এসেছেন এই অনুব্রত মণ্ডল। কোন নেতা দলের বিরোধিতা করলে বা অন্য দলের দিকে ঘেঁসলেই অনুব্রতর নিদানে মিলেছে বিভিন্ন মামলা। শুধু রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব নয়, সিণ্ডিকেটের বিরোধিতা করলেও মিলেছে মামলা৷ জেলা পুলিশ সুপারকে দলীয় নেতা-কর্মীদের সামনে থেকে ফোন করে বলতে শোনা গিয়েছে কাকে গ্রেপ্তার করতে হবে৷ এমনকি, কে কোন থানার ওসি হবেন তা জেলা পুলিশ সুপার ঠিক করার পর শেষ ছাড়পত্র অনুব্রতই দিয়ে এসেছেন৷ তাই ওসি হওয়ার দৌড়ে প্রায় সময় অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে উপঢৌকন নিয়ে আনাগোনা ছিল পুলিশ অফিসারদের৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্তমানে এক কর্তব্যরত ওসি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, “অনুব্রত মণ্ডল রুষ্ট হওয়ায় আমাকে ওসি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ এসপি স্যার চাইতেন আমি ফের ওসি হই৷ কিন্তু, তিনি কিছুই করতে পারছিলেন না৷ এক সিনিয়র অফিসারের কথা মত আমি বোলপুরে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে কথা বলি৷ তাঁর মানভঞ্জন হয়৷ দীর্ঘ ১ বছর পর আমি ফের ওসি হই৷ সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে।”

সব থেকে উল্লেখযোগ্য ও এই প্রতিবেদনের শেষ কলাম হল –
বীরভূমের দেউচা-পাচামিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খোলামুখ কয়লা খনি হতে চলেছে। তারজন্য প্রয়োজন জমি৷ এই এলাকায় কমপক্ষে ২১ হাজার মানুষের বাস৷ তাদের অধিকাংশ আদিবাসী ও সাঁওতাল জনজাতি। এছাড়া, রয়েছে বনাঞ্চল, জলাভূমি, চারণভূমি প্রভৃতি। তাই জল, মাটি, জমি দিতে নারাজ এই এলাকার অধিকাংশ মানুষজন৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়লা খনির কথা ঘোষণা করতেই শুরু হয়েছে খনি বিরোধী আন্দোলন। এই অনুব্রত মণ্ডলের নিদানে একের পর এক আদিবাসী নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়েছে পুলিশ৷ আজও তারা জেল হেফাজতে৷ প্রথমে টাকার প্রলোভন, তাতে কাজ না হলেই শ্রীঘরে বাস৷ এটাই অনুব্রতর।

যদিও, এই সকল অভিযোগের সাফাই হিসাবে রাজ্যের ক্ষুদ্র-মাঝারি ও কুটি শিল্প মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, “সিপিএমের অত্যাচার থেকে অনুব্রতর নেতৃত্বে এই বাম দুর্গ বীরভূমে ঘাস ফুল ফুটেছে৷ গত ১১ বছরের গ্রামে গ্রামে উন্নয়ন পৌঁছে গিয়েছে। মানুষ তার পরিষেবা পেয়েছে। বিরোধীদের কাজই কুৎসা রটানো। বীরভূম আজ ভালো আছে। আরও উন্নয়ন হবে, ভালো থাকবে বীরভূমবাসী।”

তবে ১০ থেকে ১২ বছরের অনুব্রত রাজে এভাবেই সব দূর্নীতি, বেনিয়ম, বেআইনি, নিষিদ্ধ কার্যকলাপ বদলে গিয়েছে নিয়মে৷

অভিষেক দত্ত রায়, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post