• February 2, 2023

হিটলারের পদ্ধতি অনুসরণ করে বিশ্বভারতীর উপাচার্য।

 হিটলারের পদ্ধতি অনুসরণ করে বিশ্বভারতীর উপাচার্য।

সায়ন সরকার

বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আজ যেভাবে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে তার জন্য একমাত্র দায়ী বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিভিন্ন দাবী নিয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা পূর্বেও দীর্ঘ আন্দোলন করেছে। বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী তাঁর নিজস্ব গুণ্ডাবাহিনী দ্বারা ছাত্রছাত্রীদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে বারবার।
গত ২৩শে নভেম্বর সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা সেন্ট্রাল অফিসে উপাচার্যের কাছে বেশ কিছু নৈতিক দাবী নিয়ে দেখা করতে যায়। কিন্তু উপাচার্য তাঁর অহংকার ও দম্ভের কারণে ছাত্রছাত্রীদের সাথে দেখা করেনি। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় ছাত্রছাত্রীরা উপাচার্যকে সেন্ট্রাল অফিসে ঘেরাও করে রাখে। দুপুর ৩টে থেকে পরের দিন ভোর ৩টে অব্দি টানা ১২ ঘন্টা। এর মধ্যে মাঝরাতে উপাচার্যের নির্দেশে বহিরাগত গুন্ডাবাহিনী মদ্যপ অবস্থায় হাতুড়ি, শাবল ও লাঠি নিয়ে গেট ভেঙে আক্রমণ করে ছাত্রছাত্রীদের ওপর। এমনকি উপাচার্য তাঁর নিরাপত্তারক্ষীকে নির্দেশ দেয় ছাত্রছাত্রীদের ওপর গুলি চালানোর। এবং এর সাথে সাথে আমরা দেখেছি ছাত্রছাত্রীদের ওপর উপাচার্যর নিজের হাতে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা।
অবশেষে ২৪শে নভেম্বর ভোর ৩টে নাগাদ উপাচার্য তাঁর বাহিরাগত গুন্ডা বাহিনীরা সাহায্যে ছাত্রছাত্রীদের মারধর করে ঘেরাও মুক্ত হয়।
এরপর ২৪ তারিখ থেকে শুরু হয় অবস্থান মঞ্চ উপাচার্যের বাড়ির সামনে। টানা ২০ দিন চলে এই অবস্থান। ২০ দিনের মাথায় হঠাৎ মাঝরাতে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের নির্দেশে এবং তাঁর উপস্থিতিতে সিকিউরিটি ও বহিরাগত গুন্ডা বাহিনী অবস্থান মঞ্চ ভাঙচুর করে এবং অবস্থানরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে মারধর শুরু করে ।

এরপর শুরু হয় প্রতিরোধ মঞ্চ যা গড়ে ওঠে সেন্ট্রাল অফিসের বাইরে বলাকা গেটের সামনে। অবস্থান মঞ্চ ও প্রতিরোধ মঞ্চ ৩০ দিনের মাথায় হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশ প্রতিরোধ মঞ্চ তুলে দেয়। এবং তার সাথে সাথে সাসপেন্ড করা ৬ জন ছাত্রকে। বেশ কিছু মূখ্য দাবি নিয়ে ও বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য লড়াই করা ৬ জন ছাত্রছাত্রীকে সাসপেন্ড করেছে এই উপাচার্য। তাঁরা কেউ নিজের জন্য লড়াই করেনি। তাঁরা লড়াই করেছে বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ‌ , তাঁরা লড়াই করেছে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাবি আদায়ের জন্য। যতদিন না এই দাবি আদায় হচ্ছে ততদিন লড়ে যেতে হবে শত আঘাত সত্ত্বেও। তাই আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য এই লড়াইয়ে সামিল হওয়া।

সায়ন সরকার

বিশ্বভারতীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাস্টার্স সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন কেন্দ্র

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post