• May 25, 2022

ইতিহাসের পাতায় প্রায় অনুচ্চারিত বেগম সালিহা বানু

 ইতিহাসের পাতায় প্রায় অনুচ্চারিত বেগম সালিহা বানু

সহেলি চক্রবর্তী :- সালিহা বানু বেগম ছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রধানা বেগম।তিনি বেঁচে থাকাকালীন নূরজাহান প্রধান বেগমের মর্যাদা পাননি।সালিহা বানু পাদশাহ বেগম এবং পাদশাহ মহল নামেও পরিচিত ছিলেন।
সালিহা বানু ছিলেন কাইম খানের কন্যা।কাইম খান ছিলেন মুঘল যুগের একজন অভিজাত।সালিহা ছিলেন উচ্চ শিক্ষিতা ও উচ্চ সংস্কৃতি মনস্কা নারী। তিনি দরবারী ও হারেমের নিয়ম রীতিনীতি সম্পর্কে ছিলেন ওয়াকিবহাল। সালিহা বানুর ভাই তরবিয়াৎ খান উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। অপরদিকে তাঁর পিতামহ ছিলেন মুকিম খান।
জাহাঙ্গীর তাঁর সিংহাসন আরোহনের তিন বছরের মাথায় ১৬০৮সালে সালিহা বানু বেগমকে বিবাহ করেন। বিবাহের সাথে সাথেই আব্দুর রহিমের পদমর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তিনি তরবিয়াৎ খান উপাধিতে ভূষিত হন। সালিহা বানু বিবাহের পরে প্রধানা বেগম বা পাদশাহ বেগমের স্বীকৃতি লাভ করেন। মুঘল সম্রাজ্ঞী রূপে তিনি পাদশাহ মহল নামেও পরিচিত ছিলেন। সালিহা বানু ছিলেন জাহাঙ্গীরের জীবনে এবং মুঘল হারেমে নূরজাহানের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী।যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন নূরজাহান অপেক্ষা সালিহা বানুই ছিলেন বেশী প্রভাবশালী।সালিহা বানু তাঁর ভাই আব্দুর রহিমের পুত্র মিয়ান জোহকে পুত্রবৎ স্নেহ করতেন। কিন্তু মহাবৎ খাঁ তাঁকে ঝিলাম নদীর তীরে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু তখন সালিহা বানু জীবিত ছিলেন না।ফলে মহাবৎ খাঁ বেঁচে যান।
সালিহা বানু ১০ই জুন ১৬২০সালে কাশ্মীরের শ্রীনগরে মারা যান। জ্যোতিষী জোটক রাই সালিহা বানুর মৃত্যুর বহু আগেই জাহাঙ্গীরের কুষ্ঠি বিচার করে সালিহা বানুর মৃত্যুর ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। জাহাঙ্গীর ভবিষ্যৎ বাণী হুবহু মিলে যাওয়ায় যথেষ্ট অবাক হয়েছিলেন। সালিহা বানু বিবাহের পর থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের পাদশাহ বেগম। সালিহা বানু নিঃসন্তান ছিলেন, তবু মুঘল হারেমে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ত্ব।কিন্তু আজ সালিহা বানু বেগমের কথা সেইভাবে কোথাও উচ্চারিত হয়না। আজ সবাই নূরজাহানের কথা জানে কিন্তু জাহাঙ্গীরের প্রথম পাদশাহ বেগমকে কেউ সেভাবে চেনেই না। তাই একসময় মুঘল হারেমে নূরজাহানের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী আজ ইতিহাসের পাতায় প্রায় অনুচ্চারিত।সহেলি চক্রবর্তী

  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post